আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে প্রবাসী গোলাম রাব্বানীর উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
রাব্বানী ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইন্কের প্রতিষ্ঠাতা ও আমেরিকা প্রবাসী গোলাম রাব্বানী-র উদ্যোগে সিলেটের বিশ্বনাথে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে লামাকাজী ইউনিয়নের কোনাউরা গ্রামস্থ প্রবাসীর নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে এলাকার ২৭ জন কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ১ কেজি ধানের বীজ ও ৩ কেজি সার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল পাল। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য মানুষকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। কৃষিখাতে সাফল্য আনতে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসী, সমাজসেবক ও বৃত্তবানদের স্বেচ্ছাসেবামূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি যাতে অনাবাদি না থাকে, এজন্য ধানের পাশাপাশি ‘সরিষা, ভূট্টা, পরাস’সহ বিভিন্ন শস্য ও সবজি চাষ বাড়াতে হবে। জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি। কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় প্রস্তুত—“কৃষক হাসলে দেশ হাসবে”—যোগ করেন বুলবুল পাল।

সমাজসেবক মুরব্বী আমির উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে এবং ধারাভাষ্যকার জয়নাল আবেদীন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘বীজ ও সার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক সমুজ মিয়া ও কবির উদ্দিন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কাওছার আহমদ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে এলাকাবাসী আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় এবং প্রবাসী গোলাম রাব্বানীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

জুলাই বিপ্লব-২০২৪ নিয়ে বিশ্বনাথে মতবিনিময়

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এর গুরুত্ব, প্রবাসীদের অবদান এবং আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্কের সাধারণ সম্পাদক ও টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা কানাডা প্রবাসী এম আর আজিজ।

রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় তার নিজ বাসভবনে এই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এম আর আজিজ বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব-২০২৪’ কোনো রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়; এটি সমগ্র বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, ঐক্য ও সাহসিকতার ফসল। তিনি বিশেষভাবে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশে-বিদেশে একই সময়ে গণআন্দোলনের ঢেউ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মানববন্ধন, আন্দোলন, লবি, প্রচারণা ও গণতন্ত্র সচেতনতা তৈরিতে নিরন্তর কাজ করেছেন। এসময় এম আর আজিজ বলেন, “জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এ প্রবাসীদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে”।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা শুধু আন্দোলনের সময় নয়, যেকোনো জাতীয় সংকটে প্রথমেই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ান। সিলেট বিভাগের মানুষকে নিয়ে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণে মানবিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। করোনা মহামারি, ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা যেকোনো দুর্যোগে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করেছে। তিনি জানান, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেও, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তারা দেশে-বিদেশে ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছেন।

এম আর আজিজ বলেন, টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডা-র মাধ্যমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠিত করা হচ্ছে। নতুন কেউ কানাডায় গেলে তাদের থাকার জায়গা, তথ্য-উপাত্ত, চাকরি অনুসন্ধানসহ সব ধরণের সহায়তা প্রবাসীরা একাত্মতার ভিত্তিতে দিয়ে থাকেন। “দেশকে নিয়ে আমাদের টান আজীবন”।

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এটি হবে একটি স্মরণীয় ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দেশের মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।” তিনি আরও ঘোষণা দেন, জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হলে পরবর্তী স্থানীয় নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে চান। বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা সভায় প্রকাশ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রফিজ আলী। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

হবিগঞ্জের প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন উন্নয়ন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব: সচিব জাবের


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেছেন, হবিগঞ্জ জেলার প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এ অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের লীলাভূমি হবিগঞ্জে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে, তেমনি গড়ে উঠছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে এ জেলার সম্ভাবনা আরো প্রসারিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সিলেট মহানগরীতে বসবাসরত হবিগঞ্জবাসীর প্রাণের সংগঠন ‘হবিগঞ্জ সমিতি সিলেট’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সম্প্রীতি, মানবতা ও সমাজকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে সুনিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান সচিব জাবের।

হবিগঞ্জ সমিতি সিলেটের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও ‘খোয়াই নদীর বাঁকে’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর দরগাগেইটস্থ হোটেল স্টার প্যাসিফিকের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ সমিতি সিলেটের নবনির্বাচিত সভাপতি, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী অধ্যাপক ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী।

সমিতির সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল, ঢাকা হবিগঞ্জ সমিতির সভাপতি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান তরফদার, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী।

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা ড. মো. শাহাব উদ্দিন, ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কালাম, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. এসএম হাবিবউল্লাহ সেলিম, আবু মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মো. আবুল ফজল এবং সমিতির সাবেক সভাপতি ও সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মাহমুদুল আলম মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা শফিউল আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন গাজী আব্দুল মাবুদ মমশাদ, অ্যাডভোকেট জোৎস্না ইসলাম, মহানগর হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ আহমদ, মো. আবু সালেহ আহমদ ও মো. আব্দুল আউয়াল।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বারবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে সিলেট: ২৩ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনের

এই সময় ডেস্ক:

ভূমিকম্পে বারবার কেঁপে উঠছে সিলেট। কখনো সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি ফল্ট, কখনো আবার উৎপত্তিস্থল সিলেট বিভাগের ভেতরেই। এমনকি ঢাকাকেন্দ্রিক ভূমিকম্পও অনুভূত হচ্ছে সিলেটে। একের পর এক কম্পনে আতঙ্কে দিন কাটছে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা স্থানীয় ফল্টগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় ভূমিকম্পের হার দ্রুত বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে ‘ডেঞ্জার জোন’-এ থাকা সিলেটে বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকিও তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শহরের বহু পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে ‘যমদূতের মতো’ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বড় ভূমিকম্প হলে এসব ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, নগরীর ২৩টি বিপজ্জনক ভবন ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো খুব শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের ভবনই রয়েছে। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই এসব ভবন অপসারণের কাজ শুরু হবে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, নগরীর বহু পুরনো ভবনের নকশায় ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি নেই। তীব্র ভূকম্পনে এসব ভবনেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা। ঝুঁকির মধ্যে থাকা ভবনগুলোয় রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও আবাসিক ভবন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন দফা ভূমিকম্পের পর সিলেটসহ আশপাশের জেলাগুলোর মানুষ আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প (৩.৭ ও ৪.৩ মাত্রা) এবং সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়।
এর ঠিক আগের দিন শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দুই শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় কয়েকশ মানুষ।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, “চিহ্নিত ভবনগুলোতে এখনো অনেকে বসবাস করছে বা ব্যবসা পরিচালনা করছে। দ্রুত অপসারণ না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নাগরিকদের সুরক্ষার জন্যই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা শহরের সংকীর্ণ রাস্তা—ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে না পারলে রেসকিউ কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

২০১৯ সালে সিসিক নগরীর মোট ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করেছিল। এর মধ্যে ৬টি সংস্কার করে ঝুঁকিমুক্ত করা হলেও ১৮টি ভবন এখনো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে—সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মধুবন মার্কেট, সুরমা মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন, নবপুষ্প-২৬/এ, আজমীর হোটেলসহ বেশ কিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন।

এ ছাড়া পূর্বের তালিকা থেকে কালেক্টরেট ভবন-৩, বন্দরবাজার সিটি সুপার মার্কেটের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ, কিবরিয়া লজ, বনকলাপাড়ার নূরানী-১৪, ধোপাদিঘীর পাড়ের পৌর শপিং সেন্টারসহ কয়েকটি ভবন অপসারণ বা সংস্কার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চিহ্নিত ভবনগুলোতে বড় বড় ফাটল, হেলে পড়া দেয়াল, নড়বড়ে সিঁড়ি—সব মিলিয়ে বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সিলেট ও মেঘালয় অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল একাধিকবার সিলেট বিভাগই ছিল, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছাতকে হাজী মদরিছ আলী একাডেমীতে বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ছাতক প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সোনালী বাংলাবাজারে অবস্থিত হাজী মদরিছ আলী একাডেমীতে হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় ছাতক ও বিশ্বনাথ উপজেলার মোট ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে পুরো পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল উৎসবমুখর।

পরীক্ষা চলাকালে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হল পরিদর্শনে যান হাজী মদরিছ আলী একাডেমীর পরিচালক আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি আছলম আলী, হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সদস‌্য সালেহ আহমদ সাকী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাদ্দাম হোসেন জুনেদ, অভিভাবক ডা. বিভাংশু গুন বিভু, সাংবাদিক আহমদ আলী হিরন। তারা পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং পরিচালকদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরীক্ষা পরিচালনায় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এসময় দায়িত্ব পালন করেন হাজী মদরিছ আলী একাডেমীর প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফাহমিদ আক্তার মিশু, সহকারী শিক্ষক এখলাছ আলী, মোছা. সুমাইয়া আক্তার, শিফা বেগম, মোছা. লাভলী বেগম, ছাইমা বেগম এবং আকলিমা বেগম। তাদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাকেন্দ্র জুড়ে ছিল শৃঙ্খলা ও মনোযোগী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছরই এই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফাউন্ডেশনের কর্তারা জানান, ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পরীক্ষা আয়োজন এলাকাবাসীর মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এতে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বনাথে ‘বিলাতের বৃষ্টি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

বহুল প্রতীক্ষিত গ্রন্থ ‘বিলাতের বৃষ্টি’ অনাড়ম্বর ও বর্ণিল অনুষ্ঠানের মাধ‌্যমে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ প্রকাশনা উৎসব।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নানা শ্রেণি–পেশার সাহিত্যপ্রেমী, গবেষক, লেখক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রন্থটি রচনা করেছেন প্রবাসী লেখক ও গবেষক সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি কবি মোঃ রহমত আলী। যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিলাতের সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রবাসজীবনের বাস্তবতা নিয়ে লেখালেখি করছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মোঃ আশরাফুজ্জামান পিপিএম-সেবা। তিনি বলেন, “আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, প্রবাস জীবনের সংগ্রাম এবং আগামীর সম্ভাবনাকে অত্যন্ত সুন্দর, মার্জিত ও বাস্তবধর্মী লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। ‘বিলাতের বৃষ্টি’ কেবল একটি গ্রন্থ নয়, এটি প্রবাসী জীবনের জীবন্ত দলিল।” বইটির ভাষা ও উপস্থাপনাকে তিনি সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার মতো বলেও মন্তব্য করেন।

গ্রন্থের লেখক কবি মোঃ রহমত আলী বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও অনুভূতির বাস্তব রূপ হলো ‘বিলাতের বৃষ্টি’। বইটির প্রতিটি লেখায় চেষ্টা করেছি প্রবাসজীবনের আনন্দ–দুঃখ, সংগ্রাম–সাফল্য এবং স্মৃতি-বেদনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে। এসময় তিনি বলেন,মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার মতো কিছু রেখে যেতে চাই। এসময় তিনি পাঠকদের ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের এবং সঞ্চালনা করেন তরুণ উপস্থাপিকা সুইটি আক্তার রুনা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী দয়াল উদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশ পয়েন্টস ক্লাবের সভাপতি কবি মুস্তাফিজুর রহমান, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তজম্মুল আলী রাজু। লেখকের জীবনী পাঠ করেন কবি জুবের আহমদ সার্জন। অনুষ্ঠানে এলাকার সাংবাদিক, লেখক, সংগঠকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষমতায় গেলে মানুষের দুঃখ–দুর্দশা দূর হবে, সকলেই পাবেন ন্যায়বিচার-অধ্যাপক আব্দুল হান্নান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বলেছেন, “আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এই দেশের মানুষের দুঃখ–দুর্দশা দূর হবে। সকল ধর্মের মানুষই সমানভাবে ন্যায়বিচার পাবেন। ক্ষমতায় না গেলেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত কাজ করে যাবে—যেমনটি করেছে করোনাকালীন সংকটে।”

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের সমসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘দেওকলস ইউনিয়ন ও ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়ন’ জামায়াতে ইসলামীর যৌথ উদ্যোগে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ও ‘তাঁর’–এর সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক হান্নান বলেন, “করোনা মহামারির সময় দেশের মানুষ যখন চরম অনিশ্চয়তায় ছিল, তখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অনেকেই নিজেকে নিরাপদ রাখতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সেবায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। জামায়াত কখনো কাউকে খুশি করার রাজনীতি করে না—জামায়াত কাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোন কর্মী কখনো মানুষের সম্পদ বা হক আত্মসাৎ করবে না। আমাদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে পাঁচ বছর পরও তাঁদের অবস্থা আগের মতোই থাকবে—সম্পদ বাড়বে না, বরং কমতেও পারে। যারা নির্বাচিত হবেন, তারা কেবল জামায়াতের এমপি নন; তারা হবেন নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধি।”
এসময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দেওকলস ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আব্দুর রহিম এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি শামীম আহমদ মেম্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, বিশ্বনাথ উপজেলা আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, পৌর আমীর এইচ এম আক্তার ফারুক, ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমীর রেদওয়ানুর রহমান চৌধুরী শাহীন, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি শাফির আহমদ, তাজপুর ইউনিয়ন আমীর জাহেদ আহমদ, জেলা উলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা সাদিক সিকান্দার, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজিজুর রহমান জিলু, শাহ নেছাওর আলী, শাহ রেদুয়ান খানসহ আরও অনেকে।

সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য আলমগীর হোসেন এবং ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন আব্দুল মতিন ও জসিম উদ্দিন কাওছার। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী–পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

জগন্নাথপুরে শিক্ষিকার অভিযোগে শিক্ষক স্বামী কারাগারে

এই সময় ডেস্ক:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শিক্ষিকা বন্যা রানী দাশের ওপর যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তার স্বামী সহকারী শিক্ষক দ্বিপক দাশকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) জগন্নাথপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দ্বিপক দাশ কচুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্যা রানী দাশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জগন্নাথপুর থানায় মামলা (নং–৮/২০২৫) দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অসিত দাশ বলেন, “আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ন্যায়বিচারের সঠিক প্রতিফলন।”

রসুলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বন্যা রানী দাশ বলেন, “আমি সঠিক বিচার পেয়েছি। আমার ওপর বহু নির্যাতন করা হয়েছে। আমার সন্তান নষ্ট হয়েছে। আদালত আমাকে ন্যায়বিচার দিয়েছেন।”

কৈলাশটিলা-১ কূপে নতুন গ্যাসস্তর, শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে দৈনিক ৫ এমএমসিএফটি

এই সময় ডেস্ক:

সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ডের ১ নম্বর কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শেষে নতুন করে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। খুব শিগগিরই এই কূপ থেকে দৈনিক পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রে মোট ৯টি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬১ সালে ১ নম্বর কূপে প্রথম গ্যাস আবিষ্কৃত হয় এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন অব্যাহত ছিল। পুরোনো কূপগুলোকে সক্রিয় করতে বাপেক্স ২০২৩ সাল থেকে সারাদেশে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শুরু করে। সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের আওতাধীন ১৪টি কূপের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতটির কাজ শেষ হয়েছে—সব কটিতেই নতুন গ্যাসস্তর শনাক্ত হয়েছে।

কৈলাশটিলা-১ কূপে গ্যাস মজুদ নিশ্চিত করে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে গ্যাস পাওয়া গেছে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। কাজ শেষ হলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন।’

সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের সূত্র জানায়, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কূপটিকে উৎপাদনে আনা সম্ভব হবে। প্রায় চার মাস ধরে চলা ওয়ার্কওভার কার্যক্রমে কূপের প্রায় ২২ হাজার ফুট গভীরে নতুন গ্যাসস্তর পাওয়া যায়।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রশিদপুর গ্যাসফিল্ডের ৩ নম্বর পুরোনো কূপ পুনঃচালুর মাধ্যমে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের কূপগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

গত বছরের ২২ অক্টোবর হরিপুর গ্যাসফিল্ডের ৭ নম্বর কূপে খনন শেষে দৈনিক ৭–৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান মেলে। তারও আগে ওই বছরের ২৪ মে কৈলাশটিলা-৮ কূপে পাওয়া যায় ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেট গ্যাসফিল্ডের বিভিন্ন কূপে চলমান অনুসন্ধান ও ওয়ার্কওভার কাজ দ্রুত শেষ হলে শুধুমাত্র এ কোম্পানি থেকেই দৈনিক ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান রয়েছে এসব প্রকল্প।

গত বছর রশিদপুর-২ কূপে ১৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাসস্তরের সন্ধান মিলেছিল। তারও আগে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর হরিপুরের ১০ নম্বর কূপে এবং ২২ নভেম্বর কৈলাশটিলা-২ পরিত্যক্ত কূপ পুনঃচালু করার পর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় গ্যাস আবিষ্কৃত হয়।

উল্লেখ্য, দেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র হরিপুরে ১৯৫৫ সালে গ্যাস পাওয়া যায়। বর্তমানে সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে—হরিপুর, রশিদপুর, ছাতক, কৈলাশটিলা এবং বিয়ানীবাজার; এর মধ্যে ছাতক গ্যাসফিল্ড পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সিলেটে মাদরাসাছাত্র অপহরণচেষ্টা: প্রাইভেটকার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, যুবক আটক

এই সময় ডেস্ক:
সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন নবাবরোড এলাকায় প্রাইভেটকার থেকে এক মাদরাসাছাত্রকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় লামাবাজার ফাঁড়ি পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে পুলিশ অভিযানে নামে।

আটককৃত যুবক হলেন সিলেট মহানগরীর লালাদিঘীর এলাকার আলিম মিয়ার ছেলে হিসাম আহমদ (২০)।

পুলিশ সূত্র জানায়, লামাবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলী খানের নেতৃত্বে একটি টিম মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে অপহরণচেষ্টার ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে লালাদিঘীরপারের মাহমুদ ভিলা-৯ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে হিসাম আহমদকে আটক করা হয়।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অপহরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও পুলিশ বলছে, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।