ভূমিকম্প: যেভাবে পাল্টে দিতে পারে পৃথিবীর
এই সময় ডেস্ক:
ভূমিকম্প এক প্রাকৃতিক শক্তি, যা মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর ভূত্বককে বদলে দিতে সক্ষম। ভূত্বকের ভেতরে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফলে সৃষ্ট এই কম্পন কখনও ভূমিতে সৃষ্টি করে গভীর ফাটল, কখনও ঘটায় ভয়াবহ ভূমিধস। অনুকূল পরিস্থিতিতে এর প্রভাবে মাটির তরলীকরণও দেখা দিতে পারে, যা সমতল ভূমির স্থিতিশীলতাকে বিপর্যস্ত করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষই ভূমিকম্পের মূল উৎস। দুটি প্লেট যখন একে অপরের দিকে সরে আসে, তখন ভূত্বকের গভীরে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। এই চাপ নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে শিলাস্তর ভেঙে যায় বা ভাঁজ হয়ে ওপরে উঠে আসে। ঠিক এই ভাঁজ প্রক্রিয়া থেকেই সৃষ্টি হয় ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণী। ফলে ভূমিকম্পকে শুধু ধ্বংস নয়, নতুন ভূ-আকার সৃষ্টিরও অনুঘটক বলা যায়।
ভূমিকম্পের শক্তি ভূ-উপরিস্থ রূপ বদলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রভাব ফেলে জলভাগেও। শক্তিশালী ভূকম্পনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে, এমনকি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায়ও দেখা দিতে পারে ওঠানামা। আর সমুদ্রের নিচে বড় ধাক্কা তৈরি হলে সেখান থেকে উৎপন্ন হতে পারে ভয়াবহ সুনামি, যা অল্প সময়েই উপকূলীয় জনপদকে প্লাবিত করে দিতে সক্ষম।
শহরাঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বড় মাত্রার ভূকম্পনে ধসে পড়ে ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতু, সড়ক ও নানান অবকাঠামো। বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় মানুষের জীবনযাত্রায়। যেমন—একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাশিয়ায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছিল।
স্বল্প সময়ের এই বিপর্যয় দীর্ঘমেয়াদে রেখে যায় গভীর প্রভাব—সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত সব ক্ষেত্রেই। তাই ভূমিকম্পকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, পৃথিবীর দীর্ঘকালীন রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হয়। ধ্বংসের মধ্য দিয়েই পৃথিবী কখনো কখনো পায় নতুন ভূ-রূপ।
সূত্র: আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি অবলম্বনে
ভারতের কাছে শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পুনরায় পাঠালো বাংলাদেশ সরকার
এই সময় ডেস্ক:
চব্বিশের জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
রবিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত পরশু (শুক্রবার) দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ নোট পাঠানো হয়।”
এর আগেও ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনার জন্য নয়াদিল্লিকে চিঠি দিয়েছিল সরকার। সে বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “আগের চিঠির জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের সাজা ঘোষণা করেছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিও রয়েছে। ফলে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে।”
গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠিত হয়। চলতি বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উভয়কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
বাংলাদেশ সরকারের নতুন করে পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বনাথে প্রবাসী গোলাম রাব্বানীর উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
রাব্বানী ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইন্কের প্রতিষ্ঠাতা ও আমেরিকা প্রবাসী গোলাম রাব্বানী-র উদ্যোগে সিলেটের বিশ্বনাথে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে লামাকাজী ইউনিয়নের কোনাউরা গ্রামস্থ প্রবাসীর নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে এলাকার ২৭ জন কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ১ কেজি ধানের বীজ ও ৩ কেজি সার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল পাল। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য মানুষকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। কৃষিখাতে সাফল্য আনতে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসী, সমাজসেবক ও বৃত্তবানদের স্বেচ্ছাসেবামূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি যাতে অনাবাদি না থাকে, এজন্য ধানের পাশাপাশি ‘সরিষা, ভূট্টা, পরাস’সহ বিভিন্ন শস্য ও সবজি চাষ বাড়াতে হবে। জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি। কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় প্রস্তুত—“কৃষক হাসলে দেশ হাসবে”—যোগ করেন বুলবুল পাল।
সমাজসেবক মুরব্বী আমির উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে এবং ধারাভাষ্যকার জয়নাল আবেদীন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘বীজ ও সার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক সমুজ মিয়া ও কবির উদ্দিন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কাওছার আহমদ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে এলাকাবাসী আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় এবং প্রবাসী গোলাম রাব্বানীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
জুলাই বিপ্লব-২০২৪ নিয়ে বিশ্বনাথে মতবিনিময়
প্রবাসীদের ভূমিকা ছিল ইতিহাসগড়ার: এম আর আজিজ
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এর গুরুত্ব, প্রবাসীদের অবদান এবং আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্কের সাধারণ সম্পাদক ও টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা কানাডা প্রবাসী এম আর আজিজ।
রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় তার নিজ বাসভবনে এই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় এম আর আজিজ বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব-২০২৪’ কোনো রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়; এটি সমগ্র বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, ঐক্য ও সাহসিকতার ফসল। তিনি বিশেষভাবে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশে-বিদেশে একই সময়ে গণআন্দোলনের ঢেউ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মানববন্ধন, আন্দোলন, লবি, প্রচারণা ও গণতন্ত্র সচেতনতা তৈরিতে নিরন্তর কাজ করেছেন। এসময় এম আর আজিজ বলেন, “জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এ প্রবাসীদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে”।
তিনি বলেন, প্রবাসীরা শুধু আন্দোলনের সময় নয়, যেকোনো জাতীয় সংকটে প্রথমেই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ান। সিলেট বিভাগের মানুষকে নিয়ে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণে মানবিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। করোনা মহামারি, ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা যেকোনো দুর্যোগে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করেছে। তিনি জানান, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেও, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তারা দেশে-বিদেশে ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছেন।
এম আর আজিজ বলেন, টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডা-র মাধ্যমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠিত করা হচ্ছে। নতুন কেউ কানাডায় গেলে তাদের থাকার জায়গা, তথ্য-উপাত্ত, চাকরি অনুসন্ধানসহ সব ধরণের সহায়তা প্রবাসীরা একাত্মতার ভিত্তিতে দিয়ে থাকেন। “দেশকে নিয়ে আমাদের টান আজীবন”।
আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এটি হবে একটি স্মরণীয় ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দেশের মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।” তিনি আরও ঘোষণা দেন, জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হলে পরবর্তী স্থানীয় নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে চান। বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা সভায় প্রকাশ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রফিজ আলী। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আন্দামান সাগরে লঘুচাপ ঘনীভূত, উত্তর বঙ্গোপসাগরে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
এই সময় ডেস্ক:
দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে আজ সকাল ৬টায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি একই এলাকায় অবস্থান করছে এবং পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পরিস্থিতি যেহেতু দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই সমুদ্রবন্দরের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হলো।
হবিগঞ্জের প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন উন্নয়ন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব: সচিব জাবের
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেছেন, হবিগঞ্জ জেলার প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এ অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের লীলাভূমি হবিগঞ্জে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে, তেমনি গড়ে উঠছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে এ জেলার সম্ভাবনা আরো প্রসারিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সিলেট মহানগরীতে বসবাসরত হবিগঞ্জবাসীর প্রাণের সংগঠন ‘হবিগঞ্জ সমিতি সিলেট’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সম্প্রীতি, মানবতা ও সমাজকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে সুনিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান সচিব জাবের।
হবিগঞ্জ সমিতি সিলেটের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও ‘খোয়াই নদীর বাঁকে’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর দরগাগেইটস্থ হোটেল স্টার প্যাসিফিকের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ সমিতি সিলেটের নবনির্বাচিত সভাপতি, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী অধ্যাপক ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী।
সমিতির সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল, ঢাকা হবিগঞ্জ সমিতির সভাপতি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান তরফদার, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী।
এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা ড. মো. শাহাব উদ্দিন, ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কালাম, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. এসএম হাবিবউল্লাহ সেলিম, আবু মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মো. আবুল ফজল এবং সমিতির সাবেক সভাপতি ও সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মাহমুদুল আলম মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা শফিউল আলম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন গাজী আব্দুল মাবুদ মমশাদ, অ্যাডভোকেট জোৎস্না ইসলাম, মহানগর হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ আহমদ, মো. আবু সালেহ আহমদ ও মো. আব্দুল আউয়াল।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বারবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে সিলেট: ২৩ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনের
এই সময় ডেস্ক:
ভূমিকম্পে বারবার কেঁপে উঠছে সিলেট। কখনো সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি ফল্ট, কখনো আবার উৎপত্তিস্থল সিলেট বিভাগের ভেতরেই। এমনকি ঢাকাকেন্দ্রিক ভূমিকম্পও অনুভূত হচ্ছে সিলেটে। একের পর এক কম্পনে আতঙ্কে দিন কাটছে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা স্থানীয় ফল্টগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় ভূমিকম্পের হার দ্রুত বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে ‘ডেঞ্জার জোন’-এ থাকা সিলেটে বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকিও তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শহরের বহু পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে ‘যমদূতের মতো’ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বড় ভূমিকম্প হলে এসব ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, নগরীর ২৩টি বিপজ্জনক ভবন ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো খুব শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের ভবনই রয়েছে। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই এসব ভবন অপসারণের কাজ শুরু হবে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, নগরীর বহু পুরনো ভবনের নকশায় ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি নেই। তীব্র ভূকম্পনে এসব ভবনেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা। ঝুঁকির মধ্যে থাকা ভবনগুলোয় রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও আবাসিক ভবন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন দফা ভূমিকম্পের পর সিলেটসহ আশপাশের জেলাগুলোর মানুষ আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প (৩.৭ ও ৪.৩ মাত্রা) এবং সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়।
এর ঠিক আগের দিন শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দুই শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় কয়েকশ মানুষ।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, “চিহ্নিত ভবনগুলোতে এখনো অনেকে বসবাস করছে বা ব্যবসা পরিচালনা করছে। দ্রুত অপসারণ না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নাগরিকদের সুরক্ষার জন্যই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা শহরের সংকীর্ণ রাস্তা—ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে না পারলে রেসকিউ কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
২০১৯ সালে সিসিক নগরীর মোট ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করেছিল। এর মধ্যে ৬টি সংস্কার করে ঝুঁকিমুক্ত করা হলেও ১৮টি ভবন এখনো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে—সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মধুবন মার্কেট, সুরমা মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন, নবপুষ্প-২৬/এ, আজমীর হোটেলসহ বেশ কিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন।
এ ছাড়া পূর্বের তালিকা থেকে কালেক্টরেট ভবন-৩, বন্দরবাজার সিটি সুপার মার্কেটের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ, কিবরিয়া লজ, বনকলাপাড়ার নূরানী-১৪, ধোপাদিঘীর পাড়ের পৌর শপিং সেন্টারসহ কয়েকটি ভবন অপসারণ বা সংস্কার করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিহ্নিত ভবনগুলোতে বড় বড় ফাটল, হেলে পড়া দেয়াল, নড়বড়ে সিঁড়ি—সব মিলিয়ে বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সিলেট ও মেঘালয় অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল একাধিকবার সিলেট বিভাগই ছিল, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

