আজকের সময়ের সেরা খবর
সবসময় অজু অবস্থায় থাকা: কুরআন ও হাদিসের আলোকে পবিত্রতার এক অনন্য সাধনা

ইসলামে পবিত্রতার ধারণা অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীর। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বারবার মুমিনদের পরিচ্ছন্নতা, শুচিতা ও আত্মিক পবিত্রতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ইবাদতের পূর্বশর্ত হিসেবে অজুর বিধান রাখার মাধ্যমে ইসলাম মুসলমানের জীবনযাত্রাকে সুসংগঠিত, পরিচ্ছন্ন এবং সময়ানুবর্তী করে তুলেছে। সেই পবিত্রতার ধারাবাহিকতায় বহু আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব সবসময় অজু অবস্থায় থাকার অভ্যাস তৈরি করেছেন। এই অভ্যাস আত্মার পরিশুদ্ধি, নৈতিকতা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।

কুরআনের আলোকে অজুর গুরুত্ব

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।”
—সূরা বাকারা (২:২২২)

এই আয়াত প্রমাণ করে যে শারীরিক ও আত্মিক পবিত্রতা আল্লাহর ভালোবাসা লাভের একটি পথ।

আরো বলা হয়েছে—
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন সালাতের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধুয়ে নাও।”
—সূরা মায়েদা (৫:৬)

ইসলামের এই সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রমাণ করে, অজু শুধু ইবাদতের জন্য নয়; বরং পবিত্রতার একটি ধারাবাহিক মান বজায় রাখার নির্দেশনা।

হাদিসের আলোকে অজুর স্থায়ী অভ্যাসের ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সা.) অজুকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। অসংখ্য সহিহ হাদিসে অজুর ফজিলত, পাপ মোচন এবং সবসময় অজুতে থাকার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

১️⃣ পাপ মোচনের মাধ্যম
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“যখন একজন মুমিন অজু করে, তখন তার চোখ, হাত, পা দিয়ে যে গুনাহ হয়েছে, অজুর পানির সঙ্গে তা ঝরে যায়।”
—সহিহ মুসলিম

২️⃣ ঘুমানোর সময় অজু অবস্থায় থাকার ফজিলত
রাসুল (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (অজু করে) রাত কাটায়, তার সাথে এক ফেরেশতা থাকে। সে ব্যক্তি রাতে জেগে উঠলে ফেরেশতা বলে— ‘হে আল্লাহ! এ বান্দাকে তুমি ক্ষমা করো, কারণ সে পবিত্র অবস্থায় ঘুমিয়েছে।’”
—সহিহ ইবন হিব্বান

৩️⃣ অজু অবস্থায় মৃত্যুবরণ
মহানবী (সা.) বলেন—
“যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (অজু সহ) দিন-রাত কাটাতে থাকে এবং অজুর ওপর অজু গ্রহণ করে, সে মুমিনদের তালিকায় লেখা হয়।”
—তিরমিজি

৪️⃣ অজু রাখা ঈমানের অংশ
রাসুল (সা.) বলেন—
“পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক।”
—সহিহ মুসলিম

এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে, অজু শুধু ইবাদত নয়; বরং চরিত্র, নৈতিকতা, আচরণ ও ঈমানকে পরিশুদ্ধ রাখার প্রশিক্ষণ।

সবসময় অজু অবস্থায় থাকার বাস্তব ও আধ্যাত্মিক উপকার

১. সর্বদা আল্লাহর স্মরণে থাকা

অজু মানুষকে আল্লাহর উপস্থিতি ও পবিত্রতার কথা স্মরণ করায়। অজু রাখা মানে নিজের জীবনকে আল্লাহর পথে নিয়োজিত রাখা।

২. পাপ থেকে দূরে থাকার প্রেরণা

অজু অবস্থায় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই পাপ করতে লজ্জা পায়। মনে থাকে– “আমি এখন পবিত্র অবস্থায় আছি, আল্লাহ আমাকে দেখছেন।”

৩. মানসিক প্রশান্তি ও সতেজতা

বিজ্ঞান বলছে, নিয়মিত পানির স্পর্শ মানুষকে মনস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়। ইসলামের অজু সেই প্রক্রিয়াকে আরও শান্তিময় করে।

৪. স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

মুখ, হাত, নাক, পা নিয়মিত ধোয়ার মাধ্যমে জীবাণু কমে, রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৫. অতিরিক্ত সওয়াব ও ফেরেশতাদের দোয়া

অজুতে থাকা মানুষের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন। রাসুল (সা.) বলেছেন যে, অজু করার পর দুই রাকাত নামাজ পড়লে পূর্বের ছোট গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়।

আচার–আচরণে শুদ্ধতার প্রতিচ্ছবি

অজু অবস্থায় থাকা মানুষ—

  • কথা বলায় সংযমী হন
  • মনকে খারাপ চিন্তা থেকে বিরত রাখেন
  • দেহ–মন উভয়ই পরিচ্ছন্ন রাখেন
  • ইবাদত সহজ হয়ে যায়
  • আকস্মিক মৃত্যু হলেও পবিত্র অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার সম্ভাবনা থাকে— যা বিশাল সৌভাগ্য

সবসময় অজু অবস্থায় থাকা—একজন মুসলমানের জীবনে সাফল্যের পথ

অজুকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা এই শুচিতা ও পবিত্রতা একজন মুসলমানের জীবনমান, নৈতিকতা, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতা সবকিছুকেই প্রভাবিত করে। দৈনন্দিন অভ্যাসে যদি একজন মানুষ অজু রাখেন—
তাঁর জীবনে:

  • আল্লাহর ভালোবাসা,
  • বারাকাহ,
  • মন শান্তি,
  • গুনাহ দূর হওয়া
    সবকিছুই একে একে বর্ষিত হয়।
ক্ষমতায় গেলে মানুষের দুঃখ–দুর্দশা দূর হবে, সকলেই পাবেন ন্যায়বিচার-অধ্যাপক আব্দুল হান্নান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বলেছেন, “আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এই দেশের মানুষের দুঃখ–দুর্দশা দূর হবে। সকল ধর্মের মানুষই সমানভাবে ন্যায়বিচার পাবেন। ক্ষমতায় না গেলেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত কাজ করে যাবে—যেমনটি করেছে করোনাকালীন সংকটে।”

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের সমসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘দেওকলস ইউনিয়ন ও ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়ন’ জামায়াতে ইসলামীর যৌথ উদ্যোগে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ও ‘তাঁর’–এর সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক হান্নান বলেন, “করোনা মহামারির সময় দেশের মানুষ যখন চরম অনিশ্চয়তায় ছিল, তখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অনেকেই নিজেকে নিরাপদ রাখতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সেবায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। জামায়াত কখনো কাউকে খুশি করার রাজনীতি করে না—জামায়াত কাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোন কর্মী কখনো মানুষের সম্পদ বা হক আত্মসাৎ করবে না। আমাদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে পাঁচ বছর পরও তাঁদের অবস্থা আগের মতোই থাকবে—সম্পদ বাড়বে না, বরং কমতেও পারে। যারা নির্বাচিত হবেন, তারা কেবল জামায়াতের এমপি নন; তারা হবেন নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধি।”
এসময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দেওকলস ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আব্দুর রহিম এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি শামীম আহমদ মেম্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, বিশ্বনাথ উপজেলা আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, পৌর আমীর এইচ এম আক্তার ফারুক, ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমীর রেদওয়ানুর রহমান চৌধুরী শাহীন, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি শাফির আহমদ, তাজপুর ইউনিয়ন আমীর জাহেদ আহমদ, জেলা উলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা সাদিক সিকান্দার, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজিজুর রহমান জিলু, শাহ নেছাওর আলী, শাহ রেদুয়ান খানসহ আরও অনেকে।

সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য আলমগীর হোসেন এবং ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন আব্দুল মতিন ও জসিম উদ্দিন কাওছার। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী–পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

জগন্নাথপুরে শিক্ষিকার অভিযোগে শিক্ষক স্বামী কারাগারে

এই সময় ডেস্ক:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শিক্ষিকা বন্যা রানী দাশের ওপর যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তার স্বামী সহকারী শিক্ষক দ্বিপক দাশকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) জগন্নাথপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দ্বিপক দাশ কচুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্যা রানী দাশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জগন্নাথপুর থানায় মামলা (নং–৮/২০২৫) দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অসিত দাশ বলেন, “আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ন্যায়বিচারের সঠিক প্রতিফলন।”

রসুলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বন্যা রানী দাশ বলেন, “আমি সঠিক বিচার পেয়েছি। আমার ওপর বহু নির্যাতন করা হয়েছে। আমার সন্তান নষ্ট হয়েছে। আদালত আমাকে ন্যায়বিচার দিয়েছেন।”

কৈলাশটিলা-১ কূপে নতুন গ্যাসস্তর, শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে দৈনিক ৫ এমএমসিএফটি

এই সময় ডেস্ক:

সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ডের ১ নম্বর কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শেষে নতুন করে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। খুব শিগগিরই এই কূপ থেকে দৈনিক পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রে মোট ৯টি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬১ সালে ১ নম্বর কূপে প্রথম গ্যাস আবিষ্কৃত হয় এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন অব্যাহত ছিল। পুরোনো কূপগুলোকে সক্রিয় করতে বাপেক্স ২০২৩ সাল থেকে সারাদেশে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শুরু করে। সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের আওতাধীন ১৪টি কূপের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতটির কাজ শেষ হয়েছে—সব কটিতেই নতুন গ্যাসস্তর শনাক্ত হয়েছে।

কৈলাশটিলা-১ কূপে গ্যাস মজুদ নিশ্চিত করে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে গ্যাস পাওয়া গেছে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। কাজ শেষ হলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন।’

সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের সূত্র জানায়, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কূপটিকে উৎপাদনে আনা সম্ভব হবে। প্রায় চার মাস ধরে চলা ওয়ার্কওভার কার্যক্রমে কূপের প্রায় ২২ হাজার ফুট গভীরে নতুন গ্যাসস্তর পাওয়া যায়।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রশিদপুর গ্যাসফিল্ডের ৩ নম্বর পুরোনো কূপ পুনঃচালুর মাধ্যমে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের কূপগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

গত বছরের ২২ অক্টোবর হরিপুর গ্যাসফিল্ডের ৭ নম্বর কূপে খনন শেষে দৈনিক ৭–৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান মেলে। তারও আগে ওই বছরের ২৪ মে কৈলাশটিলা-৮ কূপে পাওয়া যায় ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেট গ্যাসফিল্ডের বিভিন্ন কূপে চলমান অনুসন্ধান ও ওয়ার্কওভার কাজ দ্রুত শেষ হলে শুধুমাত্র এ কোম্পানি থেকেই দৈনিক ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান রয়েছে এসব প্রকল্প।

গত বছর রশিদপুর-২ কূপে ১৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাসস্তরের সন্ধান মিলেছিল। তারও আগে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর হরিপুরের ১০ নম্বর কূপে এবং ২২ নভেম্বর কৈলাশটিলা-২ পরিত্যক্ত কূপ পুনঃচালু করার পর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় গ্যাস আবিষ্কৃত হয়।

উল্লেখ্য, দেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র হরিপুরে ১৯৫৫ সালে গ্যাস পাওয়া যায়। বর্তমানে সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে—হরিপুর, রশিদপুর, ছাতক, কৈলাশটিলা এবং বিয়ানীবাজার; এর মধ্যে ছাতক গ্যাসফিল্ড পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জাতিসংঘের

এই সময় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে মুসলিম রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে, যেখানে ১০৫টি দেশ যৌথ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনে গভীর উদ্বেগ

২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর গৃহীত এ প্রস্তাবে এবারও রাখাইন রাজ্যে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে নিপীড়ন, মানবিক সহায়তায় বাধা এবং বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশে রোহিঙ্গাদের অব্যাহত অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সম্পৃক্ততার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের হতাশা প্রকাশ

প্রস্তাব গ্রহণের পর বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানালেও গত আট বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ জানায়, ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে চলা বাংলাদেশের পক্ষে আর সম্ভব নয়।
অতএব, রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে ফেরাতে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ এখনই প্রয়োজন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত: ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করল আপিল বিভাগ

এই সময় ডেস্ক:


বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পূর্বের রায়কে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত বলেন, “আপিল বিভাগের পূর্বের রায়টি একাধিক ত্রুটিতে ত্রুটিপূর্ণ বলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ রায়টি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো।”

এছাড়া আদালত উল্লেখ করেন, সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছদ ২(ক)–এর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কিত বিধানাবলী, যা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত হয়েছিল, আজকের রায়ের মাধ্যমে তা পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্বহাল হলো।

তবে আদালত স্পষ্ট করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কেবল ভবিষ্যতের নির্বাচনসমূহে প্রয়োগযোগ্য থাকবে।

পুনর্বিবেচনার প্রেক্ষাপট

এর আগে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে গত ২৭ আগস্ট আপিলের অনুমতি দেন আদালত। পরে শুনানি সম্পন্ন করে আজ ২০ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল, এবং নির্ধারিত সময়েই পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে।

দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এমন এই রায়কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।