আজকের সময়ের সেরা খবর
ভীতি ছড়াতেই হামলা, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চক্রান্তের জবাব দেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

এইসময় ডেস্ক:

তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এ ধরনের হীন, কাপুরুষোচিত ও চক্রান্তমূলক আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি নির্বাচনমুখী হচ্ছে, ততই একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনের পরিবেশকে ভীতিকর করে তুলতে সহিংসতা ও আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছে। জনগণ যেন আতঙ্কে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে সরে আসে—সে লক্ষ্যেই এসব অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের গণমাধ্যম প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। যদিও গণমাধ্যম বরাবরই গণতন্ত্র চর্চায় একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে এসেছে, তবে ওই সময় সঠিক তথ্য জনগণের সামনে আসেনি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তথ্য প্রচার করা যায়নি, কিংবা প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তথ্য অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে, কোনোভাবেই বিকৃত বা খণ্ডিত নয়। সরকার একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও গণমুখী গণমাধ্যম দেখতে চায়। তথ্য উপস্থাপনায় যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয় এবং জনগণ সঠিক সত্য জানতে পারে—সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

অজামিনযোগ্য মামলায় অপরাধীদের জামিন প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আইনের আওতায় বিচারকের স্বাধীনতা রয়েছে। বিচারক পরিস্থিতি ও মামলার প্রকৃতি বিবেচনায় জামিন দিতে পারেন কিংবা আসামিকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি বলেন, একদিকে বলা হয় বিনা বিচারে মানুষকে কারাগারে রাখা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে জামিন দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

নতুন করে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রক্ষার অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের

এই সময় ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহল নতুন করে হত্যাকাণ্ডের পথে হাঁটছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সামনে আরও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে, যা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শনিবার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আবারও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করা এবং জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।

তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তাদের আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র, যুব ও নারী সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ আলোচনা সভা ও স্মরণসভা আয়োজন করছে।