আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথের হাবড়া বাজারে মানবতার দৃষ্টান্ত—ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা পেলেন ১৫ শতাধিক অসহায় মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিশ্বনাথ:


সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হাবড়া বাজারে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে প্রায় ১৫ শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমানের অর্থায়নে আয়োজিত এই ক্যাম্পে প্রায় ১৫ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, “মানুষের সেবা করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। এলাকার গরিব, অসহায় ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষ যাতে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পায়, সেই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ। প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু ভোটের রাজনীতি নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার অঙ্গীকার। সুস্থ সমাজ গড়তে হলে আগে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে—আমি সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।”

সাংবাদিক রুহেল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিক আহমদ পিয়ার, জগন্নাথপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সুজাতুর রহমান রেজা, দৌলতপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি নেতা ছমির আলী এবং সমসর আলী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা হাজী ছমির আলী।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু মানবসেবাই নয়, বরং সমাজে সচেতনতা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল রোগীদের সেবা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেন। চিকিৎসা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং অসহায় মানুষ উপকৃত হবে বহুলাংশে।

বিশ্বনাথের গর্ব তানভীর, বাংলাদেশের রত্ন: এমপি লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, ব্যাডমিন্টনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণপদক জয় করে আব্দুল জাহির তানভীর শুধু বিশ্বনাথের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের গর্বে পরিণত হয়েছেন। তাঁর এই অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ-২০২৫’ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় ডাবলসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করায় তানভীরকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সিলেটের আরেক কৃতিসন্তান গৌরব সিং-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেন।
এমপি লুনা বলেন, তানভীরের সাফল্য বিশ্বনাথের জন্য গর্বের, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্যও সম্মানের। তার নিরলস পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং একাগ্রতা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, একসময় রাজনীতির কিংবদন্তি এম. ইলিয়াস আলী বিশ্বনাথকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দিয়েছিলেন, আর আজ ক্রীড়াক্ষেত্রে তানভীর সেই গৌরবকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপরাধ ও বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সরকার ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে আব্দুল জাহির তানভীর বলেন, নিজের জন্মভূমিতে এমন সম্মান পেয়ে তিনি গর্বিত ও অনুপ্রাণিত। তিনি জানান, বড় ভাই আব্দুল বাছিতের অনুপ্রেরণাই তাকে এ পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তানভীর বলেন, এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি বিশ্বনাথ ও বাংলাদেশের সম্মিলিত সাফল্য।
তিনি ব্যাডমিন্টনের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বিশ্বনাথে একটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ব্যাডমিন্টন একটি ব্যয়বহুল খেলা হওয়ায় নিয়মিত অনুশীলনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবির সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাহমুদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এমাদ উদ্দিন খান।
উল্লেখ্য, বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের টুকেরকান্দি গ্রামে ১৯৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল জাহির তানভীর। মদনমোহন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর ২০১৬ সালে তিনি জাতীয় দলে যোগ দেন। ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে ২০২০ সালে জাতীয় প্রতিযোগিতায় ডাবলসে রানার্সআপ, ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৪ সালে আবারও রানার্সআপ হন।

বিশ্বনাথে আমন্ত্রণমূলক ফুটবল টুর্নামেন্টে জমজমাট লড়াই, শেষ হাসি আদর্শ ফুটবল একাদশের

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে দৌলতপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আকর্ষণীয় আমন্ত্রণমূলক ফুটবল টুর্নামেন্ট।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত এই খেলায় স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

খেলা শুরুর আগে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধারাভাষ্যকার লিটনের সঞ্চালনায় এবং বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী রেজাউল করিম রাজুর সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিক আহমদ পিয়ার, ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া এবং ভাই ব্রাদার্স জুগননগরের অধিনায়ক মহির উদ্দিন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দুর রহমান ফরহাদ, রুহেল আহমদ সাদ্দাম, আমিনুর রহমান, সাইদুর রহমান পলাশ (যুক্তরাজ্য প্রবাসী), জুবেল মিয়া, দিলু মিয়া, রিপন মিয়া, আনহার মিয়া, কামরুজ্জামান, হেলাল, রেজাউল করিম, রাসেলসহ অনেকে।

টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় আদর্শ ফুটবল একাদশ মুখোমুখি হয় ভাই ব্রাদার্স জুগননগর দলের। দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় একমাত্র গোলটি করে আদর্শ ফুটবল একাদশকে ১-০ গোলের জয় এনে দেন ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় সাদেক মোল্লা।

খেলায় পরাজিত দল থেকে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ভাই ব্রাদার্সের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় আসাদ ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।

খেলাটি পরিচালনা করেন সিলেট রেফারি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী রেফারি নাজিম উদ্দিন ও জাকির ডন।

পুরো আয়োজনটি স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বিশ্বনাথের একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে বার্ষিক মিলাদ ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ মাহফিলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং আইসিটি সিনিয়র শিক্ষক আলিম উল্লাহর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নওধার পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সাবেক ইমাম কারী ইসলাম উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও ধর্মীয় চেতনা ছাড়া একজন মানুষ কখনো পূর্ণতা পায় না। বর্তমান প্রজন্মকে সৎ, আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক আছির উদ্দিন বলেন, “ইলম অর্জনের পাশাপাশি আমল ও চরিত্র গঠনে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।”

দক্ষিণ কাঠলিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু বকর তাঁর বক্তব্যে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীদের জীবনে শৃঙ্খলা, সততা ও আল্লাহভীতি প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অনিয়ম দূর হবে।”

নওধার মাঝপাড়া জামে মসজিদের ইমাম সুয়েব আহমদ বলেন, “বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে।”

বৈরাগী বাজার জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আব্দুল খালিক বলেন, “এ ধরনের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা ও সহমর্মিতার বীজ বপন করে।”

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না, তাদেরকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৈরাগী বাজার বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ লোকমান হোসেন, অভিভাবক সভাপতি ও বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ, বৈরাগী বাজার বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন ছাত্র ডা. হোসেন আহমদ, প্রক্তন ছাত্র ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুর রশিদ ইউসুফ, একলিমিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজিবুর রহমান, বিএনপি নেতা সেবুল মিয়া, একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ফয়জুন নূর, ইসলাম উদ্দিন, ফিরোজ আলীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সবশেষে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং দেশ-জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

বিশ্বনাথে অপরাধ দমনে সর্বমহলের সহযোগিতা চাইলেন ওসি

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া ও মাদক ক্রয়-বিক্রয় প্রতিরোধে সর্বমহলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে থানা কমপাউন্ডে পুলিশের উদ্যোগে স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, “আপনাদের নিজ নিজ এলাকায় যারা চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা আমাদের কাছে দিন। বিশ্বনাথকে অপরাধমুক্ত করতে পুলিশের পাশাপাশি আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় শতভাগ গোপন রাখা হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণই পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটন, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবিবুল ইসলাম মেম্বার, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাংবাদিক আশিক আলী, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণঞ্জয় বৈদ্য অপু, মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্বাস হোসেন ইমরানসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

এসময় বিশ্বনাথের বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নতুন ও পুরাণ বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ-জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্বনাথে জমজমাট ‘বিজ্ঞান মেলা’র উদ্বোধন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘বিজ্ঞান মেলা’। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি।

‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তারা ১২টি স্টলের মাধ্যমে নিজেদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প ও মডেল প্রদর্শন করে উপস্থিত দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

উদ্বোধন শেষে ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা ছাড়া আধুনিক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বদিউজ্জামান, আইসিটি কর্মকর্তা শোয়েব আখতার, একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল হামিদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, সদস্য সুজিত দেব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

মেলাটি আগামী কয়েকদিন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

বিশ্বনাথে ভক্তি-ভাবগম্ভীর পরিবেশে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন, আলোচনা সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান

বিশ্বনাথপ্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক আবহে উদযাপিত হয়েছে মহান আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেব-এর ১৯১তম আবির্ভাব তিথি ও  শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্রের ৩য় বার্ষিক উৎসব। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, ধর্মীয় পাঠ ও ভক্তিমূলক আয়োজন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিশ্বনাথ মডেল মন্দির প্রাঙ্গণে “শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্র, বিশ্বনাথ”-এর উদ্যোগে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির এলাকা। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠ, প্রার্থনা ও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন।

“শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্র, বিশ্বনাথ”-এর সদস্য সুব্রত ধর বাপ্পির সভাপতিত্বে এবং একান্ত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবা সমিতি-এর অধ্যক্ষ স্বামী বেদময়ানন্দ মহারাজ।

তিনি বলেন,“রামকৃষ্ণ পরমহংস মানবতার কথা বলেছেন, ভালোবাসার কথা বলেছেন। তাঁর জীবন ও দর্শন আমাদেরকে ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবসেবা এবং আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। বর্তমান বিশ্বে তাঁর আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।”

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে—এটাই ছিল রামকৃষ্ণের মূল বার্তা।

সম্মানিত অতিথিদের বক্তব্যে ময়মনসিংহ রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম-এর উপাধ্যক্ষ স্বামী হরিপ্রেমানন্দ মহারাজ বলেন, “রামকৃষ্ণের জীবন আমাদের দেখায় কিভাবে সরলতা ও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরপ্রাপ্তি সম্ভব। তাঁর আদর্শ তরুণ সমাজকে নৈতিকতার পথে পরিচালিত করতে পারে।” এ সময় তিনি আরো বলেন, “মানুষের সেবাই পরম ধর্ম—এই শিক্ষা ধারণ করলেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

এছাড়া সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম-এর স্বামী পরতরানন্দ মহারাজসহ অন্যান্য বক্তারা রামকৃষ্ণের জীবন, কর্ম ও দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কথামৃত পাঠচক্রের সিনিয় সদস্য শ্রী নিশী কান্ত পাল ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কথামৃত পাঠচক্রের সদস্য ঝুটন চৌধুরী,প্রমূখ।

এছাড়া বিশ্বনাথ, উসমানীনগর, জগন্নাথপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে রামকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। ভক্তদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়, যেখানে ছড়িয়ে পড়ে শান্তি, ভক্তি ও মানবতার বার্তা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন আসন্ন উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল আড়াইটার দিকে পৌর শহরের বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ রোডের একটি পার্টি সেন্টারে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি তিনি পরিবারকেও সুশিক্ষিত করেছেন। এখন ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বাইরে গিয়ে তিনি বিশ্বনাথবাসীর কল্যাণে কাজ করতে চান। এ লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও পরামর্শকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকরাই জাতির বিবেক। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়েই বিশ্বনাথকে এগিয়ে নিতে চাই।”

নিজেকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর একজন একনিষ্ঠ কর্মী দাবি করে তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর সময়কালে এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে, পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। তিনি পুনরায় উন্নয়নের সেই ধারা ফিরিয়ে আনতে চান। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানান।

মুজিবুর রহমান আরও বলেন, তিনি দৌলতপুর ইউনিয়নের পুরাণ হাবড়া বাজারে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং যুক্তরাজ্যে আরও একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা ক্রয় করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, নির্বাচিত হলে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দের শতভাগ কাজ নিশ্চিত করবেন। প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত অর্থ থেকেও উন্নয়ন কাজে ব্যয় করতে প্রস্তুত আছেন।

সভায় বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রার্থীর ঘনিষ্ঠজন আব্দুর রুপ ও মো. শফিকও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

নিজ অর্থায়নে উন্নয়ন: আমতৈল নিয়ে বড় পরিকল্পনায় শেখ মুজিবুর রহমান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি নিজের অর্থায়নেও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হিসেবে পরিচিত আমতৈল এলাকার উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বাদ মাগরিব আমতৈল বাজারে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমতৈল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। ইনশাল্লাহ আগামীতে এই অপবাদ আর থাকবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে যেকোনো মূল্যে এ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করব।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বনাথ একটি প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হওয়ায় এর উন্নয়নের সম্ভাবনা অনেক বেশি। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের মাধ্যমে এই উপজেলাকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব। সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান বলে জানান।

বৃহত্তর আমতৈল পঞ্চায়েতের সভাপতি বাবুল মিয়ার সভাপতিত্বে এবং যুবদল নেতা গৌছ মিয়া ও হুমায়ুন রশিদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন রামপাশা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার বাদুল্লা মিয়া, যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন, যুবদলের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি আলাউদ্দিন, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি হুশিয়ার আলী, ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুল কাইয়ুম, লাল মিয়া, আব্দুর রব, তালেব আলী, আতিক মিয়া, ফয়জুল হোসেন, খছরু মিয়া, শাবাজ উদ্দিন, নানু মিয়া প্রমুখ।

সভায় বক্তারা শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়নমুখী পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

বিশ্বনাথে বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলাধামের মন্দির চুরি, অভিযোগ দায়ের

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুরস্থ ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরে’ দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি মানিক লাল দে।
লিখিত অভিযোগে মানিক লাল দে উল্লেখ করেছেন, গত ২৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরের পুরোহিত ও লিখিত অভিযোগের স্বাক্ষী অনন্ত পাঠক পুজারী মন্দিরের পূজা শেষে মন্দির বন্ধ করে নিজের বাড়িতে চলে যান। পরদিন (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অভিযোগের ৩নং স্বাক্ষী রবিন্দ্র দেব নাথ ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান মন্দিরের পুরোহিত অনন্ত পাঠক পুজারীর শয়ন কক্ষের বেন্ডিলেটর ভাঙ্গা ও ভিতরের সকল দরজা খোলা এবং মন্দিরে থাকা ১টি সিলিং ফ্যান, ১টি ইলেকট্টিক কেটলি, ১টি ছরতা, ১টি পেশার মাফার মেশিন ও মন্দিরের বাহিরে থাকা স্ট্রীলের ১৯টি পানির ট্যাব, বৈদ্যুতিক ওয়ার নেই।
পরবর্তিতে মন্দিরে চুরির বিষয়টি অভিযোগের বাদী জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে এবং দেশের বাহিরে থাকা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রল্লাদ চন্দ দেব’র সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা শেষে তদন্ত সাপেক্ষে চুরির সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে বাদী নিজের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
মন্দিরে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।