বিশ্বনাথে আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশনের ৪র্থ মেধা বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
সিলেটের বিশ্বনাথে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘৪র্থ মেধা বৃত্তি পরীক্ষা’। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকালে বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় অবস্থিত রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
উপজেলার ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫ম ও ৭ম শ্রেণির মোট ৪০৮ জন শিক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রের আশপাশে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে উচ্ছ্বসিত থাকলেও তাদের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ফাউন্ডেশন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
বৃত্তি পরীক্ষা চলাকালে হল পরিদর্শন করেন উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নেছার আহমদ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল হামিদ, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ, সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী, আলহাজ্ব তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ। তারা প্রশ্নপত্র, পরীক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৃত্তি পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক ও ফাউন্ডেশনের সদস্য আহমদ আলী হিরন জানান, উপজেলা জুড়ে মোট ৯২টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করে, যার মধ্যে ৪০৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। তিনি বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সবার সহযোগিতা থাকলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।”
পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, “সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছে। ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, আগ্রহ এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে অভিভাবক ও শিক্ষকরা মন্তব্য করেছেন।

