আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ২১তম মেধা বৃত্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত ২১তম মেধা বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার রামসুন্দর অগ্রগামী মডেল স্কুল কেন্দ্রে এ পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টায় শেষ হয়।

এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত চার শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। উপজেলার ১৩৩টি প্রাথমিক, ৩৪টি মাধ্যমিক ও ১৬টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কেন্দ্রজুড়ে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার লুৎফুর রহমান। তিনি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং আয়োজকদের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করেন।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মাফিজ খান সরাসরি পরীক্ষার বিভিন্ন দিক তদারকি করেন। এছাড়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও হল সুপার লুৎফুর রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক আব্দুল হামিদ পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন। তাঁরা আয়োজকদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন। শিক্ষাবান্ধব এ উদ্যোগকে তাঁরা সাধুবাদ জানান।

আয়োজকরা জানান, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে নিয়মিতভাবে মেধা বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে আসছে। এ বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করছে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নতুন করে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রক্ষার অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের

এই সময় ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহল নতুন করে হত্যাকাণ্ডের পথে হাঁটছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সামনে আরও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে, যা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শনিবার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আবারও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করা এবং জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।

তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তাদের আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র, যুব ও নারী সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ আলোচনা সভা ও স্মরণসভা আয়োজন করছে।

“তারেক রহমান দেশে ফিরলে সারা বাংলাদেশ কেঁপে উঠবে” — মির্জা ফখরুল

এই সময় ডেস্ক:


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “তারেক রহমান যেদিন বাংলাদেশে পা দেবেন, সেদিন যেন সারা দেশ কেঁপে ওঠে—সেদিনই বদলে যাবে বাংলাদেশের চেহারা।”

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে নানা বাধা-বিপত্তি ও প্রচারণা চললেও দল কখনও পরাজিত হয়নি। “বিএনপি জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল। আমাদের সাফল্য আসবে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী দর্শন থেকে,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আজ নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। জনগণের অংশগ্রহণে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তার নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।

দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের দৃঢ় মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন নয়; এটি সত্যিকারের নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করেই বিএনপিকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।”

মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাদের অযথা উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন সময় এসেছে জনগণের সামনে বিএনপি কী দেবে, তা তুলে ধরার। তরুণদের করা সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বিএনপিই দেশে বড় বড় সংস্কারের জন্ম দিয়েছে।

এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, খালেদা জিয়ার সময় নারীর শিক্ষা বিস্তার, যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ এবং অর্থনীতির আধুনিকায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ অন্যান্য নেতারা।

ঐক্যবদ্ধ না হলে সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি—নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন তারেক রহমান

এই সময় ডেস্ক:
ঐক্যবদ্ধ হতে ব্যর্থ হলে দলের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কতা দেন।

দলের ভেতর মনোনয়নকে ঘিরে ক্ষোভ–অসন্তোষের বিষয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যা ভালো মনে হয়েছে, সেটাই করা হয়েছে। তোমার এলাকায় যে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে, তাকে হয়তো তুমি চেনো না— কিন্তু তুমি তো কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, কাজ করছ দলের জন্য, ধানের শীষের জন্য। এখানে প্রার্থী মুখ্য নয়; মুখ্য দল, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, মুখ্য ধানের শীষ।”

তিনি আরও বলেন, “সামনের লড়াই অত্যন্ত কঠিন। ঐক্যবদ্ধ না হতে পারলে সামনে ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে। আন্দোলনের সময় যেমন জনগণকে বোঝাতে পেরেছ, তেমনি দেশ গড়ার পরিকল্পনাও তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”

আগামী দুই মাসের কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। আমরা আজ সে প্রতিশ্রুতিই করছি। আশা করি, তোমরা বিশেষ করে ছাত্রদল নেতারা এটি বাস্তবায়নে সফল হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে বিশ্বনাথে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নারী শান্তি সহায়ক দল (ওয়েভ) বিশ্বনাথ এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন শেষে কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি বেগম স্বপ্না শাহীনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাজেরা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ পিএফজির পিস-অ্যাম্বাসেডর আফিয়া রশিদ।

তিনি বলেন, “নারীবান্ধব সমাজ গঠনে বৈষম্য ও সহিংসতা দূর করতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা জরুরি। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ আজ বৈশ্বিক আন্দোলন, আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়।”

তিনি আরও জানান, ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রতিনিধি কুদরত পাশা।

মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল মোনিম, প্রভাষক সালমা আক্তার, বিশ্বনাথ পিএফজির নারী অ্যাম্বাসেডর নাসরিন জাহান, কো-অর্ডিনেটর ও সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, ইয়ুথ ফোরামের শাহ টিপু, আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সথে নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুরি’র মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বিশ্বনাথে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।

সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ মতবিনিময়ে অংশ নেন।

সভায় ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি উপজেলার অন্যতম চ্যালেঞ্জ বাসিয়া নদী দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাসিয়া নদীকে পুনরুদ্ধার করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, প্রয়োজনে নদীর উৎসমুখ খননের কর্মপরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হবে।

এ ছাড়া তিনি উপজেলা সদরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একটি সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য উপজেলা গড়তে প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন নবাগত ইউএনও।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ গঠনমূলক লেখনী প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক নেতারা ইউএনও’র উদ্যোগ ও পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্বনাথের সার্বিক উন্নয়ন কাজে প্রশাসনের সঙ্গে সবসময় সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বিজয় দিবস উদযাপনে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: সিলেটের বিশ্বনাথে আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দিবস দুটি উদযাপনে ব্যাপক আলোচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে দিবসগুলো পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির।

রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাবেক আহবায়ক গৌছ খান, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিন মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, নায়েবে আমীর মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, সেক্রেটারি মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতের আমীর এইচ এম আখতার ফারুক ও নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহান।

এছাড়াও সভায় দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশলী আবু সাঈদ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহিমা আক্তার, প্রাণীসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন আব্দুল মজিদ উজ্জ্বল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র, বিআরডিবি কর্মকর্তা ওয়ারেসাত আল আমিন ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা শোয়েব আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি’কে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ফুলেল শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বিশ্বনাথে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি’কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাস্টের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি মাফিজ খানের নেতৃত্বে ইউএনও’র দপ্তরে গিয়ে নবাগত কর্মকর্তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পদাধিকার বলে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের স্থানীয় অ্যাডভাইজার কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবিকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাস্ট নেতৃবৃন্দ বিশ্বনাথের শিক্ষা উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন ও সামাজিক সেবায় সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, বিশ্বনাথের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি এবং প্রবাসীদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা বাড়াতে ট্রাস্ট অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নবাগত ইউএনও’র দক্ষ নেতৃত্বে শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং প্রশাসন–প্রবাসী কমিউনিটির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি মাফিজ খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক আব্দুল হামিদ, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুর রহমান, ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর নিশীকান্ত পাল, রামসুন্দর অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ, একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ ও ট্রাস্টের কম্পিউটার প্রশিক্ষক সালেহ আহমদ সাকী।

নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি বিশ্বনাথে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ট্রাস্টের ইতিবাচক অবদানকে আন্তরিকভাবে স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন—উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে ট্রাস্টের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সহযোগিতামূলক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলো।

যেসব বিশেষ আমলে দ্বিগুণ সওয়াব পওয়া যায়

মহাদাতা আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কমতি নেই। সাধারণত বান্দা একটি নেক আমল করলে আল্লাহ তার বিনিময়ে কমপক্ষে দশ গুণ সওয়াব দান করেন। তবে হাদিস শরিফে এমন কিছু বিশেষ আমল ও পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বান্দার কষ্ট, ত্যাগ এবং দ্বিমুখী দায়িত্ব পালনের কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে সাধারণের চেয়ে আলাদা মর্যাদা দেন এবং দ্বিগুণ সওয়াব দান করেন। এই আমলগুলো মুমিনের আখিরাতের ঝুলি ভারী করার এক সুবর্ণ সুযোগ।

আল্লহ তাআলার এক নাম ‘আল-ওয়াহহাব’ বা মহাদাতা। তিনি তাঁর বান্দাদের দান করতে ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন,

“যে ব্যক্তি একটি সৎকর্ম নিয়ে আসবে, তার জন্য থাকবে তার দশ গুণ প্রতিদান।” (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬০)

তবে কিছু কাজ আছে, যার বিনিময় আল্লাহ বিশেষভাবে দ্বিগুণ করে দেন। নিচে এমন কিছু আমল আলোচনা করা হলো:

১. আত্মীয়-স্বজনকে দান করা

সাধারণ কোনো মিসকিনকে দান করলে শুধু সদকার সওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু নিজের গরিব আত্মীয়-স্বজনকে দান করার মর্যাদা অনেক বেশি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মিসকিনকে দান করা হলো সদকা। আর আত্মীয়কে দান করা হলো দুটি আমল, ১. সদকা এবং ২. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০০)

সুতরাং দানের ক্ষেত্রে আপন ভাই-বোন, চাচা-ফুফু বা নিকটাত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া বুদ্ধিমান মুমিনের কাজ।

২. কষ্ট করে কোরআন তিলাওয়াত করা

অনেকে আছেন যাঁরা কোরআন পড়তে গিয়ে তোতলামি করেন বা আটকে যান। অথচ তাঁদের জন্যই রয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে সুসংবাদ।

তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে এবং তোতলায় (অর্থাৎ পড়তে খুব কষ্ট হয়), তবু চেষ্টা চালিয়ে যায়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯৩৭)

এখানে একটি সওয়াব তিলাওয়াতের জন্য, আর দ্বিতীয় সওয়াবটি তাঁর এই কঠোর প্রচেষ্টার জন্য।

৩. আল্লাহর হক ও মালিকের হক আদায়কারী

কর্মজীবনে যাঁরা সততা বজায় রাখেন, তাঁদের জন্যও রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার। যে কর্মচারী, শ্রমিক বা অধীনস্থ ব্যক্তি নিজের মালিকের অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন এবং একই সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত ঠিকমতো আদায় করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি অত্যন্ত খুশি হন।

হাদিসে এসেছে, “ওই ক্রীতদাস বা কর্মচারীর জন্য দ্বিগুণ সওয়াব, যে আল্লাহর হক আদায় করেন এবং তাঁর মনিবের বা মালিকের হকও নিষ্ঠার সঙ্গে আদায় করেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৫৪)

৪. আহলে কিতাবের ইসলাম গ্রহণ

পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারী (যেমন ইহুদি বা খ্রিস্টান) কেউ যদি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে তিনি দ্বিগুণ সওয়াবের অধিকারী হন।

হাদিসে এসেছে, “আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে মুমিন ব্যক্তি যে তাঁর নবীর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। তারপর নবী (সা.)-এর প্রতি ঈমান এনেছেন। তাঁর জন্য দিগুণ সওয়াব আছে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০১১)

কারণ তিনি প্রথমত তাঁর নিজের নবীর ওপর ঈমান এনেছিলেন এবং দ্বিতীয়ত শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর ঈমান এনেছেন।

৫. সত্য সন্ধানী বিচারক বা মুজতাহিদ

বিচারক বা আলেম যখন কোনো জটিল বিষয়ে সঠিক সমাধান বের করার জন্য ‘ইজতিহাদ’ বা গভীর গবেষণা করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তিনি দুটি সওয়াব পান। একটি তাঁর গবেষণার কষ্টের জন্য, অন্যটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো বিচারক ইজতিহাদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর জন্য রয়েছে দুটি পুরস্কার। আর যদি কোনো বিচারক ইজতিহাদে ভুল করেন তাঁর জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৫৫২)

৬. নবীপত্নী ও নেককার নারীদের বিশেষ মর্যাদা

যাঁদের আল্লাহ সমাজে উচ্চ মর্যাদা বা দ্বিনি জিম্মাদারি দিয়েছেন, তাঁদের সওয়াবও আল্লাহ বাড়িয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা নবী করিম (সা.)-এর স্ত্রীদের উদ্দেশ করে কোরআনে ইরশাদ করেন,

“আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি অনুগত থাকবে এবং নেক আমল করবে, আমি তাকে তার প্রতিদান বা সওয়াব দুবার দেব।” (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩১)

এই আয়াত প্রমাণ করে যে দ্বীনের পথে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী নারীদের আল্লাহ বিশেষভাবে সম্মানিত করবেন।

৭. ভালো কাজের সূচনা করা

সওয়াব শুধু দ্বিগুণ নয়, বরং তা হাজার গুণ বা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকার একটি চমৎকার উপায় হলো কোনো ভালো কাজের সূচনা করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো প্রথা বা রীতির প্রচলন ঘটাবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে, তাদের সওয়াবও সে পাবে; অথচ তাদের সওয়াব থেকে কোনো কিছুই কমানো হবে না।” (সহিহ মুসলিম, হদিস : ১০১৭)

অর্থাৎ কেউ যদি কোনো দ্বিনি প্রতিষ্ঠান, পাঠাগার বা জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু করে যান, তবে অন্যরা আমল করার কারণে সেই সওয়াবও তাঁর আমলনামায় যোগ হতে থাকবে। এটি আল্লাহর এক বিশাল রহমত।


কেন এই দ্বিগুণ প্রতিদান?

আমরা লক্ষ করলে দেখব, উপরোল্লিখিত প্রতিটি আমলের সঙ্গে অতিরিক্ত কষ্ট বা দ্বিমুখী দায়িত্ব জড়িত। আত্মীয়কে দান করতে গেলে মনের সংকীর্ণতা দূর করতে হয়। কষ্ট করে কোরআন পড়তে গেলে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। চাকরি ও ইবাদত একসঙ্গে চালাতে গেলে সময়ের কোরবানি দিতে হয়।

আল্লাহ তাআলা ন্যায়বিচারক। তিনি বান্দার এই অতিরিক্ত কষ্টটুকু বিফলে যেতে দেন না। তাই তিনি তাঁর বিশেষ রহমতে এদের সওয়াব দ্বিগুণ করে দেন।

আজ ইসির বৈঠকে তফসিল চূড়ান্তের সম্ভাবনা: ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সংশয়

এইসময় ডেস্ক:

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জটিলতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আজ তফসিল নির্ধারণে বৈঠকে বসছে, সম্ভবত আজই চূড়ান্ত হবে ভোটের তারিখ। তবে রাজনৈতিক মহলে শঙ্কা—উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের সরকারি আশ্বাসের মধ্যেও ভেতরে ভেতরে কিছু মহল নির্বাচন পেছানো বা বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে গণভোট—দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বারবার বলেছেন যে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকারের পরামর্শক পরিমণ্ডলের একটি অংশ এতে অনাগ্রহী বলে একাধিক সূত্রের দাবি। প্রথমবার ক্ষমতার সুযোগ পাওয়া কিছু ব্যক্তি ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চান বলেও মত রয়েছে বিশ্লেষকদের।

জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি করে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত নিয়ে গণভোট কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। “সহজ প্রশ্ন–কঠিন উত্তর”—এ ধরনের প্রশ্নে তৃণমূল জনগণ কতটা সাড়া দেবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই মাসের প্রস্তুতিতে গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনমনে পৌঁছে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দল, সরকার বা ইসির পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে দৃশ্যমান প্রচার-প্রসার বা প্রস্তুতি নেই।

এরই মধ্যে কয়েকটি দল গণভোটে ‘ইতিবাচক রায়’ মিলবে কি না, সে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, গণভোটকে কেন্দ্র করেই কিছু মহল নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নতুন সমীকরণ তৈরি করছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। উন্নত চিকিৎসায় দ্রুত লন্ডনে নেওয়া হতে পারে তাঁকে। এই পরিস্থিতিকে উল্লেখ করে নতুন একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছে, একই দিনে আদালতেও এ নিয়ে আবেদন করা হয়েছে। এমন সময়ে বিএনপি ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, যা বিএনপির সমমনা জোটগুলোর মধ্যে ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়নি।

তাদের বক্তব্য, আগামী কয়েক দিন দেশের রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সময় পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

দেশি-বিদেশি প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা, জটিলতা ও শক্তির লড়াই দেখা যায়। দেশি-বিদেশি স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা যেমন থাকে, তেমনি সরকারের ভেতরেও একাধিক পাসপোর্টধারী কিছু ব্যক্তি নির্বাচন বিলম্বের পক্ষে সক্রিয় থাকতে পারেন। কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ অভিযোগ তুললেও এখনো নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ করেনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি এবং সম্ভাব্য সংকট

১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেন—জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট একই দিনে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু যদি তিনি নির্ধারিত সময়সূচি ধরে রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।