আজকের সময়ের সেরা খবর
ভূমিকম্প: যেভাবে পাল্টে দিতে পারে পৃথিবীর

এই সময় ডেস্ক:

ভূমিকম্প এক প্রাকৃতিক শক্তি, যা মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর ভূত্বককে বদলে দিতে সক্ষম। ভূত্বকের ভেতরে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফলে সৃষ্ট এই কম্পন কখনও ভূমিতে সৃষ্টি করে গভীর ফাটল, কখনও ঘটায় ভয়াবহ ভূমিধস। অনুকূল পরিস্থিতিতে এর প্রভাবে মাটির তরলীকরণও দেখা দিতে পারে, যা সমতল ভূমির স্থিতিশীলতাকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষই ভূমিকম্পের মূল উৎস। দুটি প্লেট যখন একে অপরের দিকে সরে আসে, তখন ভূত্বকের গভীরে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। এই চাপ নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে শিলাস্তর ভেঙে যায় বা ভাঁজ হয়ে ওপরে উঠে আসে। ঠিক এই ভাঁজ প্রক্রিয়া থেকেই সৃষ্টি হয় ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণী। ফলে ভূমিকম্পকে শুধু ধ্বংস নয়, নতুন ভূ-আকার সৃষ্টিরও অনুঘটক বলা যায়।

ভূমিকম্পের শক্তি ভূ-উপরিস্থ রূপ বদলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রভাব ফেলে জলভাগেও। শক্তিশালী ভূকম্পনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে, এমনকি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায়ও দেখা দিতে পারে ওঠানামা। আর সমুদ্রের নিচে বড় ধাক্কা তৈরি হলে সেখান থেকে উৎপন্ন হতে পারে ভয়াবহ সুনামি, যা অল্প সময়েই উপকূলীয় জনপদকে প্লাবিত করে দিতে সক্ষম।

শহরাঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বড় মাত্রার ভূকম্পনে ধসে পড়ে ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতু, সড়ক ও নানান অবকাঠামো। বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় মানুষের জীবনযাত্রায়। যেমন—একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাশিয়ায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছিল।

স্বল্প সময়ের এই বিপর্যয় দীর্ঘমেয়াদে রেখে যায় গভীর প্রভাব—সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত সব ক্ষেত্রেই। তাই ভূমিকম্পকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, পৃথিবীর দীর্ঘকালীন রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হয়। ধ্বংসের মধ্য দিয়েই পৃথিবী কখনো কখনো পায় নতুন ভূ-রূপ।