আজকের সময়ের সেরা খবর
আজ ইসির বৈঠকে তফসিল চূড়ান্তের সম্ভাবনা: ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সংশয়

এইসময় ডেস্ক:

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জটিলতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আজ তফসিল নির্ধারণে বৈঠকে বসছে, সম্ভবত আজই চূড়ান্ত হবে ভোটের তারিখ। তবে রাজনৈতিক মহলে শঙ্কা—উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের সরকারি আশ্বাসের মধ্যেও ভেতরে ভেতরে কিছু মহল নির্বাচন পেছানো বা বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে গণভোট—দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বারবার বলেছেন যে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকারের পরামর্শক পরিমণ্ডলের একটি অংশ এতে অনাগ্রহী বলে একাধিক সূত্রের দাবি। প্রথমবার ক্ষমতার সুযোগ পাওয়া কিছু ব্যক্তি ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চান বলেও মত রয়েছে বিশ্লেষকদের।

জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি করে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত নিয়ে গণভোট কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। “সহজ প্রশ্ন–কঠিন উত্তর”—এ ধরনের প্রশ্নে তৃণমূল জনগণ কতটা সাড়া দেবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই মাসের প্রস্তুতিতে গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনমনে পৌঁছে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দল, সরকার বা ইসির পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে দৃশ্যমান প্রচার-প্রসার বা প্রস্তুতি নেই।

এরই মধ্যে কয়েকটি দল গণভোটে ‘ইতিবাচক রায়’ মিলবে কি না, সে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, গণভোটকে কেন্দ্র করেই কিছু মহল নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নতুন সমীকরণ তৈরি করছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। উন্নত চিকিৎসায় দ্রুত লন্ডনে নেওয়া হতে পারে তাঁকে। এই পরিস্থিতিকে উল্লেখ করে নতুন একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছে, একই দিনে আদালতেও এ নিয়ে আবেদন করা হয়েছে। এমন সময়ে বিএনপি ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, যা বিএনপির সমমনা জোটগুলোর মধ্যে ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়নি।

তাদের বক্তব্য, আগামী কয়েক দিন দেশের রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সময় পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

দেশি-বিদেশি প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা, জটিলতা ও শক্তির লড়াই দেখা যায়। দেশি-বিদেশি স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা যেমন থাকে, তেমনি সরকারের ভেতরেও একাধিক পাসপোর্টধারী কিছু ব্যক্তি নির্বাচন বিলম্বের পক্ষে সক্রিয় থাকতে পারেন। কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ অভিযোগ তুললেও এখনো নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ করেনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি এবং সম্ভাব্য সংকট

১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেন—জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট একই দিনে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু যদি তিনি নির্ধারিত সময়সূচি ধরে রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।