আজকের সময়ের সেরা খবর
সিলেটের ছয় আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা: পাঁচটিতে বিএনপি, একটিতে খেলাফত মজলিস

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-মনোনীত প্রার্থীরা। অন্যদিকে একটি আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর নেতা মুফতি আবুল হাসান, যিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ২টার দিকে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে; পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত যাচাই শেষে সরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

আসনভিত্তিক ফলাফল

সিলেট-১ আসন:
বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মাওলানা হাবীবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন ৩১৪, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মাহমুদুল হাসান ২ হাজার ৭০১, বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল ১ হাজার ১১৩, সিপিবির আনোয়ার হোসেন সুমন ৯০৮ এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাস ৮০১ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-২ আসন:
বিএনপির তাহসীনা রুশদির লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুনতাসির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।

সিলেট-৩ আসন:
বিএনপির এম এ মালিক পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট।

সিলেট-৪ আসন:
বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদিন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।

সিলেট-৫ আসন:
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৬১৪ ভোট।

সিলেট-৬ আসন:
বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ১০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৫৯ ভোট।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব কেন্দ্রের ফল সংগ্রহ শেষে এ বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।

বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সঙ্গে ১০ দলীয় জোট প্রার্থী মুনতাছির আলীর মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১০ দলীয় জোট থেকে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাছির আলী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

এর আগে একইদিন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন মুনতাছির আলী। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরের একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি, জোটের অবস্থান ও রাজনৈতিক ভাবনা তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় মুনতাছির আলী বলেন, ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ৮ দলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ১০ দলীয় জোটে রূপ নিয়েছে। এ কারণে কিছু আসনে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। সব আসনের বণ্টন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে একসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত খেলাফত মজলিস যে কয়েকটি আসন পেয়েছে, তার মধ্যে সিলেট-২ আসন অন্যতম। এ আসনে তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন, সেখানে সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন। এতে করে জোটের প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

নির্বাচনী রাজনীতি প্রসঙ্গে মুনতাছির আলী বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের আগেই নিজেকে বিজয়ী ভাবা সঠিক নয়; বরং জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের মাধ্যমেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি সুস্থধারার রাজনীতির স্বার্থে সবার জন্য সমান রাজনৈতিক মাঠ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই প্রতিহিংসার স্থান থাকতে পারে না।

মুনতাছির আলী বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ ভোট’কে বিজয়ী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০ দলীয় জোট কাজ করছে। জনগণের ভোটে জোটের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করা হবে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জনগণের প্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১০ দলীয় জোট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আমাকে কোনো একক দলের প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং ১০ দলীয় জোটের একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে আমি শাসক হয়ে নয়, একজন সেবক হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাব—এই অঙ্গীকার করছি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন, বিশ্বনাথ উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলানা আশরাফুল হক, পৌর খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি অধ্যক্ষ গৌছ উদ্দীন, সহসভাপতি মুহাম্মদ ছালিক মিয়া মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিত, সহসম্পাদক মুহাম্মদ শরীফ উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক আহমদ, অর্থ সম্পাদক এনামুল হক, সংগঠক হাসান আহমদ চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সিলেট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী দিচ্ছে না, খেলাফত মজলিসকে সমর্থন

এইসময় ডেস্ক:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) সংসদীয় আসনে প্রার্থী দিচ্ছে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দশ দলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে এই আসনটি ছেড়ে দিয়ে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে দলটি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-২ আসনটি বিরোধী রাজনীতির একটি আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বিএনপির প্রভাব ও ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় আসনটি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় রয়েছে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসীনা রুশদীর লুনা। তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। ২০১৭ সালে ইলিয়াস আলীর রহস্যজনক নিখোঁজের পর থেকেই সিলেট-২ আসনটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ইলিয়াস আলীর আসন’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এখনো তার সন্ধান না মেলায় এ আসনটি রাজনৈতিক ও আবেগী গুরুত্ব বহন করছে।

উল্লেখ্য, সিলেট-২ আসন থেকে জামায়াত ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সোমবার সিলেটের বাকি পাঁচটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে তিনিও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পরবর্তীতে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা উত্তরের আমীর ও সিলেট-৬ আসনে দলটির প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই সিলেট-২ আসনটি খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর ঐক্য ও আন্দোলনের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “সিলেট অঞ্চলের অন্যান্য আসনগুলোতে ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার ফলে সিলেট-২ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জামায়াতের সমর্থন পাওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শক্ত অবস্থানে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক আবেগ ও জনসমর্থনও এই আসনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।