আজকের সময়ের সেরা খবর
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সারা দেশে শোক: তাহসিনা রুশদীর লুনা ও বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির গভীর শোক প্রকাশ

এইসময় ডেস্ক:


বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট-২ আসনের (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা ও দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে এম. ইলিয়াস আলীর একান্ত সচিব মো. ময়নুল হকের মাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় ইলিয়াসপত্নী লুনা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের জন্য একটি অন্ধকার সকাল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্ব এদেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের পথ দেখিয়েছে। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন, নানা চড়াই-উৎরাই পার করেও নিজের আদর্শ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন অবিচল। দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন নেত্রী। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ইলিয়াসপত্নী লুনা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি সংকটে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, শক্তি ও আশা জুগিয়েছেন। পৃথিবীর নিয়মে আজ তাঁর যাত্রা শেষ হলেও একজন প্রধানমন্ত্রী, একজন নেত্রী, একজন মা ও একজন দেশনেত্রী হিসেবে তিনি আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। তাঁর মৃত্যু শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি একটি জাতির অপূরণীয় ক্ষতি।’

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রেরিত এক শোকবার্তায় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের অবসান।’

তারা বলেন, ‘গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন এক নেত্রী। তাঁর প্রয়াণে রাজনীতির মাঠ হারালো এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। তাঁর মৃত্যু শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের নয়, পুরো জাতির ক্ষতি।’

শোকবার্তায় তারা মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর পরিবার, সন্তান ও শোকাহত সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসনের মৃত্যু উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে সারা দেশে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় দোয়া মাহফিল ও কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য নেতাকর্মীসহ উপজেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং বুধবার সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে।


নতুন করে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রক্ষার অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের

এই সময় ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহল নতুন করে হত্যাকাণ্ডের পথে হাঁটছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সামনে আরও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে, যা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শনিবার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আবারও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করা এবং জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।

তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তাদের আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র, যুব ও নারী সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ আলোচনা সভা ও স্মরণসভা আয়োজন করছে।