আজকের সময়ের সেরা খবর
সিলেট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইর সম্ভাবনা

তৌফিকুর রহমান হাবিব:

সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। বাকি দুই আসনের একটি নিয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ওই আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ নিজ মতো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপর আসনটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জোটসঙ্গী জমিয়ত উল উলামাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে জোরালো হয়েছে। ফলে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি-জামায়াত এবং আরও একটিতে জমিয়ত-জামায়াত মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর), যা বিএনপির গুম হওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখনো এ আসনের সাধারণ মানুষের কাছে ইলিয়াস আলী একটি আবেগের নাম। তাঁর সেই জনপ্রিয়তা ও স্মৃতিকে ধারণ করে বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লুনাকে ঘিরে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এই আসনে লুনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান। মাঠপর্যায়ে তার ছাত্র এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সমর্থকরা মনে করেন, এলাকায় হান্নানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্ত অবস্থানে দাঁড় করাবে।

একই আসনে তৃতীয় শক্তি হিসেবে লড়াই করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলেম ও গবেষক ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী। তিনি রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় শিক্ষা এবং প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করে ক্বাসিমী নিজস্ব জনভিত্তি গড়ে তুলেছেন। বিশ্বনাথ উপজেলা রাজনগর গ্রামের সন্তান ক্বাসিমী একটি সম্মানিত ধর্মীয় পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব মৌলভী আলতাফুর রহমান এবং বড় ভাই মাওলানা শায়েখ হাবিবুর রহমান ফারুক্ব—উভয়েই জামেয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল ছিলেন।

সব মিলিয়ে সিলেট-২ আসনে তিন প্রার্থীর উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই ত্রিমুখী আকার নিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আড্ডা—সব স্থানেই এখন আলোচনায় লুনা, হান্নান এবং ক্বাসিমীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ভোটযুদ্ধ।

ক্ষমতায় গেলে মানুষের দুঃখ–দুর্দশা দূর হবে, সকলেই পাবেন ন্যায়বিচার-অধ্যাপক আব্দুল হান্নান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বলেছেন, “আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এই দেশের মানুষের দুঃখ–দুর্দশা দূর হবে। সকল ধর্মের মানুষই সমানভাবে ন্যায়বিচার পাবেন। ক্ষমতায় না গেলেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত কাজ করে যাবে—যেমনটি করেছে করোনাকালীন সংকটে।”

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের সমসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘দেওকলস ইউনিয়ন ও ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়ন’ জামায়াতে ইসলামীর যৌথ উদ্যোগে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ও ‘তাঁর’–এর সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক হান্নান বলেন, “করোনা মহামারির সময় দেশের মানুষ যখন চরম অনিশ্চয়তায় ছিল, তখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অনেকেই নিজেকে নিরাপদ রাখতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সেবায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। জামায়াত কখনো কাউকে খুশি করার রাজনীতি করে না—জামায়াত কাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোন কর্মী কখনো মানুষের সম্পদ বা হক আত্মসাৎ করবে না। আমাদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে পাঁচ বছর পরও তাঁদের অবস্থা আগের মতোই থাকবে—সম্পদ বাড়বে না, বরং কমতেও পারে। যারা নির্বাচিত হবেন, তারা কেবল জামায়াতের এমপি নন; তারা হবেন নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধি।”
এসময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দেওকলস ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আব্দুর রহিম এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি শামীম আহমদ মেম্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, বিশ্বনাথ উপজেলা আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, পৌর আমীর এইচ এম আক্তার ফারুক, ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমীর রেদওয়ানুর রহমান চৌধুরী শাহীন, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি শাফির আহমদ, তাজপুর ইউনিয়ন আমীর জাহেদ আহমদ, জেলা উলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা সাদিক সিকান্দার, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজিজুর রহমান জিলু, শাহ নেছাওর আলী, শাহ রেদুয়ান খানসহ আরও অনেকে।

সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য আলমগীর হোসেন এবং ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন আব্দুল মতিন ও জসিম উদ্দিন কাওছার। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী–পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।