আজকের সময়ের সেরা খবর
তিন দাবিতে তিন দিনের কর্মবিরতিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা

এই সময় ডেস্ক:
একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার থেকে ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’–এর ব্যানারে গঠিত বারোটি শিক্ষক সংগঠনের এই কর্মসূচি চলছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহীনুর আল আমিন জানান,
“১১তম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ পদোন্নতির নিশ্চয়তার জন্য সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় রোববার ও সোমবার অর্ধদিবস কর্মবিরতির পর আজ থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।”

ঢাকার কেরানিগঞ্জের বাঘাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরান ঢাকার সুরীটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

ঐক্য পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন,
২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না এলে ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন শুরু করা হবে।

সিলেট, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কর্মবিরতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে ‘দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এখনো ক্লাস চালু রেখেছে

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দাবিতে আন্দোলনকারী আরেক মোর্চা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’–এর শিক্ষকরা এখনও কর্মবিরতি পালন করেননি।

নোয়াখালী সদর উপজেলার ত্রিপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মাসুদ জানান,
“সরকার ১১তম গ্রেডের বিষয়ে অগ্রগতির আশ্বাস দিয়েছে। এজন্য আমরা ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। দাবি আদায় না হলে ৩০ নভেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করব।”

এই মোর্চার শিক্ষকরা গত ৮ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শাহবাগ এলাকায় পুলিশের বাধা, জলকামান, কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। পরে ১০ নভেম্বর সরকারের আশ্বাসের পর তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

আগের কর্মসূচি ও আলোচনার প্রেক্ষাপট

ঐক্য পরিষদের শিক্ষকরা গত মে মাসে ধারাবাহিকভাবে কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। সরকার আলোচনা শুরু করলে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত হয়। পরবর্তীতে শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ ও আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণাও হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সরকারের অনুরোধে স্থগিত রাখা হয়।

১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের উদ্যোগ চলছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চালু আছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান,
“সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তারা বিষয়টি বেতন কমিশনে পাঠিয়েছে। আমরা কেবিনেট ডিভিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় নিয়মিত তদবির করছি।”