আজকের সময়ের সেরা খবর
তাহসিনা রুশদীর লুনার বিজয়ে বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিষ্টি বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ আনন্দঘন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয়ের উচ্ছ্বাসে তারা সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং গণমানুষের এই রায়কে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগান, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জামাল উদ্দিন ও আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আশিকুর রহমান রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ আহমদ, আব্দুল মোমিন ও শেখ আরিফ আলী, সদস্য ফারুক আহমদ, আমির আলী, আওলাদ হোসেন, তাজেখ আলী, হেলাল আহমদ, দিলাল আহমদ, ইসলাম উদ্দিন, সাইদুল ইসলাম, সাধন চন্দ্র দে সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মিষ্টি বিতরণকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বলেন, এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নয়; এটি বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরের আপামর জনসাধারণের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার বিজয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ত্যাগ ও সংগ্রামের পর জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রতি আস্থা রেখে ধানের শীষের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের এই রায় অন্যায়, অবিচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক সুস্পষ্ট প্রতিবাদ এবং ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ় প্রত্যয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তাহসিনা রুশদীর লুনা এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের অত্যন্ত আপনজন। সুখে–দুঃখে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তাঁর সুযোগ্য, দূরদর্শী ও মানবিক নেতৃত্বে অবহেলিত এই জনপদে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি খাতে বাস্তবমুখী উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপ নেবে।

তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নিখোঁজ জননেতা এম. ইলিয়াস আলী-এর অসমাপ্ত স্বপ্ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এই বিজয়ের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে। তাঁর আদর্শ, ত্যাগ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার রাজনীতিকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা হবে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারায়।

নেতারা আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—তারা বিভাজন নয়, সম্প্রীতি চায়; প্রতিহিংসা নয়, শান্তি ও উন্নয়ন চায়; দুঃশাসন নয়, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব চায়। এখন সময় ঐক্য, সহমর্মিতা ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরকে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার।

সিলেটের ছয় আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা: পাঁচটিতে বিএনপি, একটিতে খেলাফত মজলিস

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-মনোনীত প্রার্থীরা। অন্যদিকে একটি আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর নেতা মুফতি আবুল হাসান, যিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ২টার দিকে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে; পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত যাচাই শেষে সরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

আসনভিত্তিক ফলাফল

সিলেট-১ আসন:
বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মাওলানা হাবীবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন ৩১৪, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মাহমুদুল হাসান ২ হাজার ৭০১, বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল ১ হাজার ১১৩, সিপিবির আনোয়ার হোসেন সুমন ৯০৮ এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাস ৮০১ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-২ আসন:
বিএনপির তাহসীনা রুশদির লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুনতাসির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।

সিলেট-৩ আসন:
বিএনপির এম এ মালিক পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট।

সিলেট-৪ আসন:
বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদিন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।

সিলেট-৫ আসন:
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৬১৪ ভোট।

সিলেট-৬ আসন:
বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ১০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৫৯ ভোট।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব কেন্দ্রের ফল সংগ্রহ শেষে এ বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।

দোষারোপের রাজনীতি ছাড়তে তরুণদের পরামর্শ চান তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:

দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ গড়তে তরুণদের পরামর্শ চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে আয়োজিত ‘পলিসি টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে সরে এসে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের ভাবনা ও প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তরুণদের পরামর্শ নিয়ে বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা হবে।

তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সময় অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

জলাবদ্ধতা ও পানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, খাল খননের মাধ্যমে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির মজুত বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে ক্ষমতায় গেলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা না করলে রাজনৈতিক দলের কোনো লাভ নেই। জনগণ তখন সেই দলের পাশে দাঁড়ায় না।

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। চাঁদাবাজির মতো সমস্যা সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, তাহলে এসব অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।

ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে বৈশ্বিকভাবে কোন কোন ভোকেশনাল দক্ষতার চাহিদা বাড়বে, তা চিহ্নিত করে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানো গেলে মানসম্মত শ্রমশক্তি রফতানি সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তিনি বলেন, শুধু জেলায় জেলায় হাসপাতাল নির্মাণ করলেই টেকসই সমাধান আসে না। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগে। বরং হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।

শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্কুলগুলোকে অডিও-ভিজ্যুয়াল সংযোগের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা শিক্ষকদের পাঠদান নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক ডিভাইস সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাহরাইনে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

বাহরাইন প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বাহরাইনে গায়েবানা জানাজা, খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বাহরাইনের হামাদ টাউনের আয়েশা মসজিদের হলরুমে বিএনপি বাহরাইন আহবায়ক কমিটি ও জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বাহরাইনে অবস্থানরত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। পুরো আয়োজনটি ছিল ভাবগম্ভীর ও শোকাবহ পরিবেশে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি বাহরাইনের সক্রিয় নেতৃবৃন্দ মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ মহিউদ্দিন, আবুল বাশার, মোঃ মানিক মিয়া মনির, আক্তারুজ্জামান মিয়া, আব্দুস সালাম, সিরাজুল ইসলাম চুন্নু, রবিউল ইসলাম রবি, মো: সিরাজ, জাহাংগির আলম, কামাল উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম আকন, ক্যাপ্টেন হুমায়ুন কবির,ফিরোজ আলম কিরন, মো: বেলাল হোসেন, মনির হোসেন বেপারী, মো: ফারুক হোসেন,শাহ আলম সওদাগর,সুলতান হাওলাদার, শরিফুল ইসলাম রিপন,নজরুল ইসলাম,আবুল কালাম,মো: রুবেল, আলাউদ্দিন, আব্দুল হান্নান,মো: মোশাররফ হোসেন,মো: মিজান,জাহাংগির আলম, হাফেজ শাহজাহান, মো: মফিজ,নওশাদ, এখলাজ উদ্দিন,আব্দুর রহিম মজুমদার,মো: আলম,ইউনুস হোসেন,ইমরান হোস্রন,শামসুল আলম। আবুল কাশেম,রাজু আহমেদ সহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্যরা। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য তার ত্যাগ ও অবদান স্মরণ করেন।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আয়েশা মসজিদের খতিব মাওলানা মনিরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির জন্য তার অবদান আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার জন্য বিশেষ দোয়া করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন আপোষহীন, সাহসী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীকে হারিয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কঠিন সময়েও তিনি জনগণের পক্ষে আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা, তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভোটার হতে শনিবার নির্বাচন ভবনে যাচ্ছেন তারেক রহমান


এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে যাবেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সিনিয়র সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার বেলা ১১টায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত শেষে দুপুর ১২টায় নির্বাচন ভবনে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন করবেন তারেক রহমান।

ভোটার নিবন্ধন শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের খোঁজখবর নিতে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন তিনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফেরেন তারেক রহমান। বিএনপি আগেই জানিয়েছিল, শনিবার তিনি ভোটার হবেন। এরই মধ্যে তাকে বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে যেকোনো এলাকার ভোটার হওয়াই যথেষ্ট। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। সে কারণে তার আগেই ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, তারেক রহমানের ভোটার নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

তারেক রহমানের রাজনীতিতে রজত জয়ন্তী

সালেহ আহমদ সাকী:


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সক্রিয় রাজনীতিতে ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক অধ্যায়ের রজত জয়ন্তী উদ্‌যাপন করছে দলটি। দলীয় ও বিরোধী রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি বর্তমানে দেশে ফিরে সশরীরে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

২০০১ সালের পর বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমানের সক্রিয় ভূমিকা দৃশ্যমান হলেও দলীয় সূত্র অনুযায়ী ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নেন।

২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে যান এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় প্রবাসে থেকে ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করেন। ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তাঁর দেশে ফেরা দলকে নতুন করে সংগঠিত করবে এবং রাজনীতিতে গতি আনবে। সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি নতুন পথচলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে বিএনপির অভ্যর্থনা কমিটি গঠন

এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে একটি অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করেছে দলটি। সোমবার গঠিত এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভ্যর্থনা কমিটিতে বিএনপির ১০ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে অভ্যর্থনা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।

এর আগে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে অভ্যর্থনা জানানো ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, যেখানে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

এছাড়া ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। উল্লেখ্য, ওই বাসার পাশের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বেগম খালেদা জিয়া।

মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মধ্যেই এগোচ্ছে নির্বাচন: তাহসিনা রুশদীর লুনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি গভীর অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপপ্রচার।

তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকেই এসব তথ্য যাচাই না করেই বিশ্বাস করছেন।” এমন পরিস্থিতিতে মূলধারার গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীরা যদি প্রতিটি মিথ্যা সংবাদের বিপরীতে সত্য তুলে ধরে কাউন্টার নিউজ করেন, তাহলে জনগণ উপকৃত হবে।”

লুনা আরও বলেন, “ফেসবুক ও ইউটিউবজুড়ে যেভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা যাচাই করার ক্ষেত্রে জনগণের একমাত্র ভরসা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। তাই মূলধারার সাংবাদিকদের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, সাংবাদিকরা সাধারণত নির্ভীকভাবে সত্য প্রচারে অটল থাকেন। তবে সাংবাদিকতার সঙ্গে দলীয়করণ যুক্ত হলে সত্য প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করেছে। এমনকি বিচার বিভাগকেও দলীয়করণ করায় গত ১৫ বছর দেশবাসী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল।”

আগামী নির্বাচনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “সিলেট-২ আসনে বিএনপি আমাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। আমি মাঠে থেকে মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। দেশবাসী জানেন, আমার স্বামী এম. ইলিয়াস আলীর সাহসী ভূমিকা, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার তাঁকে গুম করে রেখেছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আমি এম. ইলিয়াস আলীর প্রতিনিধি হয়ে আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গঠনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্পষ্ট ভিশন ঘোষণা করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ভিশন বাস্তবায়ন করা হবে। কারণ প্রকৃত উন্নয়নের একমাত্র রাজনৈতিক দল হলো বিএনপি।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোনায়েম খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গৌছ খান, যুক্তরাজ্যস্থ নিউহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিন খান মুন্না, দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

নতুন করে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রক্ষার অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের

এই সময় ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহল নতুন করে হত্যাকাণ্ডের পথে হাঁটছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সামনে আরও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে, যা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শনিবার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আবারও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করা এবং জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।

তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তাদের আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র, যুব ও নারী সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ আলোচনা সভা ও স্মরণসভা আয়োজন করছে।

নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রস্তুত বিএনপি: মির্জা ফখরুল

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করায় বিএনপি আশাবাদী। তিনি জানান, সামনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে জানাবেন এবং নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আগামী নির্বাচনে যদি জনগণ সমর্থন দেয়, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কারণ দলটির সরকারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুযোগ পেলে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বিএনপি।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন তিনি।

রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়ার বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত সংস্কার কমিশনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো যে সনদে স্বাক্ষর করেছিল, বিএনপি সেই অঙ্গীকার নিয়ে এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রেজা কিবরিয়ার যোগদান শুধু তার নিজ এলাকায় নয়, পুরো দেশেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মেধা ও দক্ষতা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।