শীত সময়ে লাইফস্টাইল: সুস্থতা, ফ্যাশন ও দৈনন্দিন যত্ন
সালেহ আহমদ সাকী
শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যসচেতনতার অভ্যাসে। এ সময় আবহাওয়ার ঠান্ডা প্রকৃতি যেমন আনন্দ এনে দেয়, তেমনি বাড়িয়ে দেয় স্বাস্থ্যঝুঁকিও। তাই শীতকালে লাইফস্টাইলকে একটু সচেতনভাবে সাজানো প্রয়োজন—যাতে সুস্থ থাকা যায়, আবার ফ্যাশনেও থাকে স্টাইলের ছোঁয়া।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি—শীতে যত্ন সবচেয়ে জরুরি
শীতের শুষ্ক আবহাওয়া শরীরে পানির ঘাটতি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পানি পান করা এবং ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অপরিহার্য। গরম স্যুপ, খিচুড়ি, ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল, খেজুর, বাদাম ও মৌসুমি সবজি শরীরকে উষ্ণ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
এ সময় সর্দি-কাশি, ফ্লু ও ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ ধোয়া, ভিড় এড়ানো এবং যথাযথ বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি।
ত্বক ও চুলের যত্ন—শীতে দরকার বাড়তি মনোযোগ
শীতে সবচেয়ে ভোগান্তি হয় ত্বকের। ঠান্ডার কারণে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, গরম পানিতে কম সময় গোসল এবং অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
চুলেও পড়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব। তাই সপ্তাহে এক-দু’বার হালকা গরম তেল ম্যাসাজ ও মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার চুলকে রাখে নরম ও সুরক্ষিত।
শীতের ফ্যাশন—আরাম ও স্টাইল একসঙ্গে
শীতকাল নিজের মতো করে সাজার দারুণ সময়। হুডি, জ্যাকেট, সোয়েটার, লং–কোট বা শাল—সবই দেয় আরাম ও আনে স্টাইলিশ লুক। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেয়ারিং স্টাইল (একাধিক পোশাক পরা) শীতে যেমন চমৎকার দেখায়, তেমনি আরামদায়কও।
উষ্ণ মোজা, গ্লাভস ও টুপি যোগ করলে শুধু ফ্যাশনই নয়, নিশ্চিত হয় সুরক্ষা।
জীবনযাপন—পরিবর্তিত রুটিনে বাড়ুক স্বস্তি
শীতের সকালগুলো বেশ মন্থর হলেও এই সময়টায় নিয়মিত ব্যায়াম শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রোদ পাওয়া গেলে রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করে।
সন্ধ্যার ঠান্ডায় ঘরকে আরামদায়ক রাখতে হালকা গরম পানীয়, উষ্ণ কম্বল ও আরামদায়ক পরিবেশ ঘুমকে গভীর করে এবং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে।
শেষকথা
শীত এমন একটি ঋতু, যা আনন্দও দেয়, আবার যত্নহীনতায় অসুস্থও করে দিতে পারে। তাই শীতকালীন লাইফস্টাইলে সচেতনতা, স্বাস্থ্য, ফ্যাশন ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই ঋতুটি হবে আরও উপভোগ্য।

