আজকের সময়ের সেরা খবর
সিলেট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী দিচ্ছে না, খেলাফত মজলিসকে সমর্থন

এইসময় ডেস্ক:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) সংসদীয় আসনে প্রার্থী দিচ্ছে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দশ দলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে এই আসনটি ছেড়ে দিয়ে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে দলটি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-২ আসনটি বিরোধী রাজনীতির একটি আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বিএনপির প্রভাব ও ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় আসনটি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় রয়েছে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসীনা রুশদীর লুনা। তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। ২০১৭ সালে ইলিয়াস আলীর রহস্যজনক নিখোঁজের পর থেকেই সিলেট-২ আসনটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ইলিয়াস আলীর আসন’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এখনো তার সন্ধান না মেলায় এ আসনটি রাজনৈতিক ও আবেগী গুরুত্ব বহন করছে।

উল্লেখ্য, সিলেট-২ আসন থেকে জামায়াত ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সোমবার সিলেটের বাকি পাঁচটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে তিনিও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পরবর্তীতে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা উত্তরের আমীর ও সিলেট-৬ আসনে দলটির প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই সিলেট-২ আসনটি খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর ঐক্য ও আন্দোলনের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “সিলেট অঞ্চলের অন্যান্য আসনগুলোতে ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার ফলে সিলেট-২ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জামায়াতের সমর্থন পাওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শক্ত অবস্থানে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক আবেগ ও জনসমর্থনও এই আসনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।

মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মধ্যেই এগোচ্ছে নির্বাচন: তাহসিনা রুশদীর লুনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি গভীর অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপপ্রচার।

তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকেই এসব তথ্য যাচাই না করেই বিশ্বাস করছেন।” এমন পরিস্থিতিতে মূলধারার গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীরা যদি প্রতিটি মিথ্যা সংবাদের বিপরীতে সত্য তুলে ধরে কাউন্টার নিউজ করেন, তাহলে জনগণ উপকৃত হবে।”

লুনা আরও বলেন, “ফেসবুক ও ইউটিউবজুড়ে যেভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা যাচাই করার ক্ষেত্রে জনগণের একমাত্র ভরসা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। তাই মূলধারার সাংবাদিকদের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, সাংবাদিকরা সাধারণত নির্ভীকভাবে সত্য প্রচারে অটল থাকেন। তবে সাংবাদিকতার সঙ্গে দলীয়করণ যুক্ত হলে সত্য প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করেছে। এমনকি বিচার বিভাগকেও দলীয়করণ করায় গত ১৫ বছর দেশবাসী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল।”

আগামী নির্বাচনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “সিলেট-২ আসনে বিএনপি আমাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। আমি মাঠে থেকে মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। দেশবাসী জানেন, আমার স্বামী এম. ইলিয়াস আলীর সাহসী ভূমিকা, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার তাঁকে গুম করে রেখেছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আমি এম. ইলিয়াস আলীর প্রতিনিধি হয়ে আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গঠনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্পষ্ট ভিশন ঘোষণা করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ভিশন বাস্তবায়ন করা হবে। কারণ প্রকৃত উন্নয়নের একমাত্র রাজনৈতিক দল হলো বিএনপি।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোনায়েম খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গৌছ খান, যুক্তরাজ্যস্থ নিউহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিন খান মুন্না, দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।