পবিত্র মক্কা নগরীর ১০টি বৈশিষ্ট্য
এই সময় ডেস্ক:
কোরআন ও হাদিসের আলোকে
বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন পবিত্র কাবাঘর—যা মক্কা নগরীতে অবস্থিত। এখানে জন্ম নিয়েছেন মানবজাতির নেতা, আল্লাহর প্রিয় বন্ধু, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ভূমির রয়েছে অসংখ্য বৈশিষ্ট্য। নিচে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে মক্কা নগরীর দশটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো:
১. নামাজে সর্বোচ্চ সওয়াব
মসজিদে হারামে একটি নামাজের সওয়াব অন্য যেকোনো মসজিদের নামাজের তুলনায় এক লাখ গুণ বেশি।
হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন “অন্যান্য মসজিদের তুলনায় আমার মসজিদে নামাজ হাজার গুণ শ্রেষ্ঠ, আর মসজিদে হারামের নামাজ এক লাখ গুণ উত্তম।” —ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬
২. উত্কৃষ্ট রিজিকের নগরী
মরু অঞ্চলে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও মক্কায় পৃথিবীর সর্বোত্তম ফল-মূল ও রিজিক পৌঁছে যায়। এটি আল্লাহর বিশেষ দয়া।
আল্লাহ বলেন “আমি কি তাদের এক নিরাপদ হারাম দান করিনি, যেখানে সব ধরনের ফল-মূল আমার পক্ষ থেকে রিজিকস্বরূপ আসে?” —সূরা কাসাস: ৫৭
৩. মক্কার সম্মান রক্ষা করলে কল্যাণ নেমে আসে
মক্কার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে উম্মতের ওপর কল্যাণ বর্ষিত হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন “যত দিন এই উম্মত হারাম শরিফের যথাযোগ্য সম্মান করবে, তত দিন তারা কল্যাণে থাকবে। কিন্তু যখন তা বিনষ্ট করবে, তখন ধ্বংস হবে।” —ইবনে মাজাহ: ৩১১০
৪. বিশ্বের মুসলমানদের তীর্থভূমি
বিশ্বের সকল মুসলমান নামাজে মুখ করে থাকেন কাবাঘরের দিকে। আর হজ পালনের জন্য সমগ্র মুসলিমকে জীবনে অন্তত একবার এই নগরীতে আসতেই হয়। এটি মক্কার বৈশ্বিক মর্যাদার প্রধান নিদর্শন।
৫. এখানে প্রথম কোরআন নাজিল হয়েছে
মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কোরআনের প্রথম ওহি মক্কায় অবতীর্ণ হয়।
এমনকি অধিকাংশ সুরাই মক্কাকেন্দ্রিক ওহির মাধ্যমে নাজিল হয়েছে—যা মক্কার সম্মানকে আরও উজ্জ্বল করে।
৬. কেয়ামত পর্যন্ত শান্তির নগরী
মক্কাকে কেয়ামত পর্যন্ত শান্তির নগরী ঘোষণা করেছেন নবীজি (সা.)।
তিনি বলেন “আজকের পর কেয়ামত পর্যন্ত এখানে আর যুদ্ধ করা যাবে না।” —তিরমিজি: ১৬১১
৭. মক্কার হারাম এলাকায় প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত
এ পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের অধিকার শুধুমাত্র মুমিনদের।
আল্লাহ বলেন “নিশ্চয়ই মুশরিকরা নাপাক; তারা যেন এ বছর পর মসজিদে হারামের নিকটবর্তী না হয়।” —সূরা তাওবা: ২৮
৮. বিশেষ ইবাদতের কেন্দ্রস্থল
মক্কা ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও কিছু ইবাদত করা সম্ভব নয়। যেমন, কাবাঘরের তাওয়াফ, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বন, মাকামে ইবরাহিমে নামাজ, আরাফাতে উকুফ, মুজদালিফায় অবস্থান, জামারাতে পাথর নিক্ষেপ, হজের কোরবানি এসব ইবাদত এ নগরীর মর্যাদাকে চাঁদের মতো উজ্জ্বল করে।
৯. জমজম—পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানি
জমজম পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও বরকতময় পানি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন “ভূপৃষ্ঠের মধ্যে সর্বোত্তম পানি জমজমের পানি—এটি ক্ষুধার খাদ্য ও অসুস্থের আরোগ্য।” —তাবরানি
১০. বরকতময় ভূমি হিসেবে বিশেষ মর্যাদা
রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন “হে আল্লাহ! মক্কাতে তুমি যে বরকত দান করেছ, মদিনায় তার দ্বিগুণ বরকত দাও।”—সহিহ বোখারি: ১৮৮৫
এ দোয়া মক্কার বরকতময় হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
পরিশেষে—
পবিত্র মক্কা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু, ঈমান ও ঐক্যের প্রতীক।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বারবার পবিত্র মক্কা-মদিনায় সফরের তাওফিক দান করুন। আমিন।

