আজকের সময়ের সেরা খবর
ওসমানীনগরে দোয়া ও ইফতার মাহফিল: উন্নয়ন ও শান্তির জনপদ গড়তে ঐক্যের আহ্বান এমপি তাহসিনা রুশদীর

এইসময় ডেস্ক:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য নিখোঁজ এম. ইলিয়াস আলী–এর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর বলেছেন, উন্নয়ন ও শান্তির নিরাপদ জনপদ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে তাজপুর মঙ্গলচন্ডী হাইস্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাহসিনা রুশদীর বলেন, জনগণের ভোট ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করা তাঁদের দায়িত্ব। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই শান্তি সম্ভব নয়। তিনি এমন একটি সমাজ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে, তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানি ছাড়া সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

এর আগে বিকেলে তিনি ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকটের বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। একটি উন্নত জনপদ গড়তে স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

দোয়া মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং নিখোঁজ এম. ইলিয়াস আলীর সুস্থ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও এম. ইলিয়াস আলীর সহোদর এম. আসকির আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মইনুল হক চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সদস্য ও ইলিয়াসপুত্র ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ মিছবাহ’র পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি নেতা চেরাগ আলী চেয়ারম্যান, আতাউর রহমান মানিক, আবদুল হাকিম, উপজেলা বিএনপি নেতা শাহ এহিয়া, কয়েছ আহমদ চৌধুরী, আলী আজগর ফয়েজ, রায়হান আহমদ, উপজেলা জামায়তের নায়েবে আমীর রেজওয়ানুর রহমান চৌধুরী শাহিন, তাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর জাহেদ আহমদ, উপজেলা আল-ইসলাহ সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মঈন উদ্দিন, সহ সভাপতি আব্দুস সালাম, যুবদল নেতা ফজল আহমদ জনি, ইসলাম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রকিব আলী, ছাত্রদল নেতা জুবের আহমদ।

ইফতার মাহফিলে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষাংশে দেশব্যাপী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিখোঁজ এম. ইলিয়াস আলীর সন্ধান কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বিশ্বনাথে দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় প্রবাসী সমাজসেবক মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মাদ্রাসার হলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি চানপুর গ্রামের কৃতিসন্তান এবং আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন ও মোক্তার আলী রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হাফিজ ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মৌলভী হেলাল আহমদের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম‌্যান হাফিজ আরব খান। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোক্তার আলী বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। প্রবাসে থেকেও দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত থাকতে পারা তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও তিনি এই মাদ্রাসাসহ এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাশিম আলী। এছাড়াও বক্তব্য দেন দশপাইকা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা লুতফুর রহমান বাবুল, মাওলানা আব্দুল মোছাব্বির এবং অভিভাবক সদস্য বকুল খান। বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের সহযোগিতায় এই মাদ্রাসাসহ বিশ্বনাথের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারা প্রবাসী সমাজসেবকদের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন, এলাকার মুরুব্বি হাজী রাশিদ আলী, সুন্দর আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আলহাজ্ব মোক্তার আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সকলের মাঝে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রবাসীদের কল্যাণ, মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মহান রবের দরবারে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

বাহরাইন প্রতিনিধি:

যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগম্ভীরতা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস।

মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) সকাল ৯টায় বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি।

এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রদূত মো: রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি তাঁর বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নেতৃবৃন্দ, বীর শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভ্রমহারা দুই লক্ষ মা-বোনদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার ও সনদপত্র বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সকল পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে বিশ্বনাথে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নারী শান্তি সহায়ক দল (ওয়েভ) বিশ্বনাথ এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন শেষে কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি বেগম স্বপ্না শাহীনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাজেরা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ পিএফজির পিস-অ্যাম্বাসেডর আফিয়া রশিদ।

তিনি বলেন, “নারীবান্ধব সমাজ গঠনে বৈষম্য ও সহিংসতা দূর করতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা জরুরি। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ আজ বৈশ্বিক আন্দোলন, আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়।”

তিনি আরও জানান, ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রতিনিধি কুদরত পাশা।

মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল মোনিম, প্রভাষক সালমা আক্তার, বিশ্বনাথ পিএফজির নারী অ্যাম্বাসেডর নাসরিন জাহান, কো-অর্ডিনেটর ও সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, ইয়ুথ ফোরামের শাহ টিপু, আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’: সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি, উত্তাল সাগরে ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

এই সময় ডেস্ক:

দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-এ রূপ নিয়েছে। দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) প্রকাশিত আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নং–৩–এ এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আজ দুপুর ১২টার অবস্থান অনুযায়ী চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার বেগে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের আশপাশের সাগর অত্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং ঢেউয়ের উচ্চতা ক্রমশ বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে আগে দেখানো ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়াও উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে আবহাওয়া বিভাগ। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলোর জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ যদি আরও শক্তিশালী হয়, তবে এর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সময়োপযোগী সব নির্দেশনা প্রচারের আশ্বাস দিয়েছে।

ভূমিকম্প: যেভাবে পাল্টে দিতে পারে পৃথিবীর

এই সময় ডেস্ক:

ভূমিকম্প এক প্রাকৃতিক শক্তি, যা মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর ভূত্বককে বদলে দিতে সক্ষম। ভূত্বকের ভেতরে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফলে সৃষ্ট এই কম্পন কখনও ভূমিতে সৃষ্টি করে গভীর ফাটল, কখনও ঘটায় ভয়াবহ ভূমিধস। অনুকূল পরিস্থিতিতে এর প্রভাবে মাটির তরলীকরণও দেখা দিতে পারে, যা সমতল ভূমির স্থিতিশীলতাকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষই ভূমিকম্পের মূল উৎস। দুটি প্লেট যখন একে অপরের দিকে সরে আসে, তখন ভূত্বকের গভীরে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। এই চাপ নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে শিলাস্তর ভেঙে যায় বা ভাঁজ হয়ে ওপরে উঠে আসে। ঠিক এই ভাঁজ প্রক্রিয়া থেকেই সৃষ্টি হয় ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণী। ফলে ভূমিকম্পকে শুধু ধ্বংস নয়, নতুন ভূ-আকার সৃষ্টিরও অনুঘটক বলা যায়।

ভূমিকম্পের শক্তি ভূ-উপরিস্থ রূপ বদলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রভাব ফেলে জলভাগেও। শক্তিশালী ভূকম্পনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে, এমনকি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায়ও দেখা দিতে পারে ওঠানামা। আর সমুদ্রের নিচে বড় ধাক্কা তৈরি হলে সেখান থেকে উৎপন্ন হতে পারে ভয়াবহ সুনামি, যা অল্প সময়েই উপকূলীয় জনপদকে প্লাবিত করে দিতে সক্ষম।

শহরাঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বড় মাত্রার ভূকম্পনে ধসে পড়ে ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতু, সড়ক ও নানান অবকাঠামো। বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় মানুষের জীবনযাত্রায়। যেমন—একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাশিয়ায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছিল।

স্বল্প সময়ের এই বিপর্যয় দীর্ঘমেয়াদে রেখে যায় গভীর প্রভাব—সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত সব ক্ষেত্রেই। তাই ভূমিকম্পকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, পৃথিবীর দীর্ঘকালীন রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হয়। ধ্বংসের মধ্য দিয়েই পৃথিবী কখনো কখনো পায় নতুন ভূ-রূপ।