আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলাধামের মন্দির চুরি, অভিযোগ দায়ের

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুরস্থ ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরে’ দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি মানিক লাল দে।
লিখিত অভিযোগে মানিক লাল দে উল্লেখ করেছেন, গত ২৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরের পুরোহিত ও লিখিত অভিযোগের স্বাক্ষী অনন্ত পাঠক পুজারী মন্দিরের পূজা শেষে মন্দির বন্ধ করে নিজের বাড়িতে চলে যান। পরদিন (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অভিযোগের ৩নং স্বাক্ষী রবিন্দ্র দেব নাথ ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান মন্দিরের পুরোহিত অনন্ত পাঠক পুজারীর শয়ন কক্ষের বেন্ডিলেটর ভাঙ্গা ও ভিতরের সকল দরজা খোলা এবং মন্দিরে থাকা ১টি সিলিং ফ্যান, ১টি ইলেকট্টিক কেটলি, ১টি ছরতা, ১টি পেশার মাফার মেশিন ও মন্দিরের বাহিরে থাকা স্ট্রীলের ১৯টি পানির ট্যাব, বৈদ্যুতিক ওয়ার নেই।
পরবর্তিতে মন্দিরে চুরির বিষয়টি অভিযোগের বাদী জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে এবং দেশের বাহিরে থাকা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রল্লাদ চন্দ দেব’র সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা শেষে তদন্ত সাপেক্ষে চুরির সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে বাদী নিজের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
মন্দিরে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিশ্বনাথে সম্ভাব্য পৌর মেয়র পদপ্রার্থী শাহ তাজুলের ‘কোরআন শরীফ’ বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ তাজুল ইসলামের উদ্যোগে এবং তারুণ্যদীপ্ত সামাজিক সংগঠন রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ‘প্রজেক্ট আল কোরআন বিতরণ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পৌর শহরের বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রে ৩৫ কপি নূরানী কোরআন শরীফ বিতরণ করা হয়েছে।

এর আগে সংগঠনটির উদ্যোগে ছয় ধাপে উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, কোরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও এতিমখানায় নূরানী কোরআন শরীফ বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ম ধাপে বিশ্বনাথ পৌরসভার মিয়াজানেরগাঁও গ্রামের কৃতি সন্তান ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী শাহ তাজুল ইসলামের উদ্যোগে এ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) পৌর শহরের বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক মাওলানা আমিনুল ইসলামের হাতে ৩৫ কপি নূরানী কোরআন শরীফ তুলে দেওয়া হয়।

রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সাব্বিরের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম দুলাল, সাবেক শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নাহিদ আহমেদ সুয়েব, সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান, প্রিন্ট ও মিডিয়া সম্পাদক আল হাদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে শাহ তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি আমৃত্যু ইসলামিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান। এজন্য তিনি সর্বমহলের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি কোরআন শরীফ বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।

অন্যদিকে, কোরআন শরীফ বিতরণের মতো মহতী কাজে সংগঠনকে সম্পৃক্ত রাখায় রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শাহ তাজুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

শমশেরনগরে উপবন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন, ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল সিলেট রেল যোগাযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিবেদক:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর রেলস্টেশনের অদূরে কালিপুর এলাকায় সিলেটগামী আন্তনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক যাত্রী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার শমশেরনগর এলাকার পূর্ব কালিপুর গ্রামে চলন্ত ট্রেনটির ইঞ্জিনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন থেকে মবিল পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ট্রেনটি থামানো হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন জানান, ইঞ্জিন বিকলের কারণে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে উপবন এক্সপ্রেস ছাড়াও সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর কালনি এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী মাস্টার সাগর কুমার সিংহ বলেন, সিলেট থেকে আসা ঢাকাগামী কালনি এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ব্যবহার করে আটকে পড়া উপবন এক্সপ্রেসকে উদ্ধার করে শমশেরনগর স্টেশনে আনা হয়। পরে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে সিলেট থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন এনে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যে পাঠানো হবে।

সিলেটসহ ৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টি আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

এইসময় ডেস্ক:

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সিলেটসহ ৬ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ রয়েছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।

এই পরিস্থিতিতে দেশের সব বিভাগেই আগামী কয়েক দিন অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

সতর্কতা: ঝড়ের সময় নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গণতন্ত্র, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া: সম্ভাবনা নাকি হুমকি?

এইসময় ডেস্ক:

গণতন্ত্রে গণমাধ্যমকে বলা হয় “চতুর্থ স্তম্ভ”। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মুক্ত গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা অপরিহার্য। কারণ, গণমাধ্যমই রাষ্ট্রক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে। তাই ইতিহাস বলছে, যখনই কোনো স্বৈরাচারী বা অবৈধ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখনই প্রথম আঘাত এসেছে গণমাধ্যমের ওপর—সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে।

কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব এই বাস্তবতায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। এখন তথ্যপ্রবাহ আর কেবল মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছে তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে যেসব দেশে গণতন্ত্র দুর্বল এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত, সেখানে সোশ্যাল মিডিয়াই জনগণের প্রধান তথ্যের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরব বসন্ত থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেও এর প্রভাব অনস্বীকার্য। কিন্তু এই সম্ভাবনার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ভয়াবহ এক সংকট।

সমস্যা হলো—সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যের কতটা সত্য, আর কতটা অপপ্রচার? বাস্তবতা হচ্ছে, এখন সত্যের চেয়ে মিথ্যা, তথ্যের চেয়ে গুজব এবং যুক্তির চেয়ে উত্তেজনাই বেশি ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় একটি অংশ আজ “ভিউ” ও “ভাইরাল” ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। যাচাইবাছাই ছাড়া চটকদার ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে অনেকেই অর্থ উপার্জন করছে। ফলে সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভাজন।

আজকের বাস্তবতায় সোশ্যাল মিডিয়া একদিকে যেমন তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতা দিয়েছে, অন্যদিকে এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক সহিংসতার ভার্চুয়াল মঞ্চ। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই কাউকে “দালাল”, “দেশদ্রোহী” বা “গুপ্তচর” বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, চরিত্রহনন, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য—সবই এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে নারী রাজনীতিকদের প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, তা সভ্য সমাজে অকল্পনীয়।

ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার)—সব জায়গাতেই যুক্তির জায়গা দখল করে নিচ্ছে গালাগালি। রাজনৈতিক মতবিনিময়ের জায়গা হয়ে উঠছে অপসংস্কৃতির কেন্দ্র। দলনিরপেক্ষ মত প্রকাশ করলেই প্রশ্ন ওঠে—“আপনি কোন দলে?” ভিন্নমত মানেই শত্রুতা—এমন এক অসহিষ্ণু সংস্কৃতি সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সংগঠিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই ‘ডিজিটাল বাহিনী’ মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করছে এবং সত্যকে আড়াল করছে।

মিথ্যা তথ্য বা ‘ডিসইনফরমেশন’ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে বড় হুমকি। এটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় সরাসরি সহিংসতায় রূপ নেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুজবের কারণে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বাংলাদেশেও ফেসবুকভিত্তিক গুজবের জেরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে—যা আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেলিং ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো অপরাধও বেড়ে গেছে। ভুয়া প্রোফাইল, বিকৃত ছবি বা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সামাজিক মাধ্যমে “বিচার” করার প্রবণতা তৈরি করেছে—যা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি।

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কেবল তথ্যপ্রবাহই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন হবে। সবচেয়ে বড় কথা, হুমকির মুখে পড়বে আমাদের গণতন্ত্র।

তাই এখনই সময় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার।

প্রথমত, নাগরিকদের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের অ্যালগরিদমে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং ভুয়া তথ্য দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজকে অনলাইনে সহনশীলতা ও সত্যনিষ্ঠার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
চতুর্থত, সরকারকে এমন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

গণতন্ত্র কোনো সহজলভ্য অর্জন নয়; এটি বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল। দায়িত্বহীনতা, অপপ্রচার ও ভিউ-নির্ভর সংস্কৃতির কাছে এই অর্জনকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে এর নৈরাজ্য রোধ করতেই হবে—এখনই, দৃঢ়ভাবে।