আজকের সময়ের সেরা খবর
তিন দাবিতে তিন দিনের কর্মবিরতিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা

এই সময় ডেস্ক:
একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার থেকে ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’–এর ব্যানারে গঠিত বারোটি শিক্ষক সংগঠনের এই কর্মসূচি চলছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহীনুর আল আমিন জানান,
“১১তম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ পদোন্নতির নিশ্চয়তার জন্য সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় রোববার ও সোমবার অর্ধদিবস কর্মবিরতির পর আজ থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।”

ঢাকার কেরানিগঞ্জের বাঘাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরান ঢাকার সুরীটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

ঐক্য পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন,
২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না এলে ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন শুরু করা হবে।

সিলেট, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কর্মবিরতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে ‘দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এখনো ক্লাস চালু রেখেছে

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দাবিতে আন্দোলনকারী আরেক মোর্চা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’–এর শিক্ষকরা এখনও কর্মবিরতি পালন করেননি।

নোয়াখালী সদর উপজেলার ত্রিপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মাসুদ জানান,
“সরকার ১১তম গ্রেডের বিষয়ে অগ্রগতির আশ্বাস দিয়েছে। এজন্য আমরা ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। দাবি আদায় না হলে ৩০ নভেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করব।”

এই মোর্চার শিক্ষকরা গত ৮ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শাহবাগ এলাকায় পুলিশের বাধা, জলকামান, কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। পরে ১০ নভেম্বর সরকারের আশ্বাসের পর তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

আগের কর্মসূচি ও আলোচনার প্রেক্ষাপট

ঐক্য পরিষদের শিক্ষকরা গত মে মাসে ধারাবাহিকভাবে কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। সরকার আলোচনা শুরু করলে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত হয়। পরবর্তীতে শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ ও আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণাও হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সরকারের অনুরোধে স্থগিত রাখা হয়।

১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের উদ্যোগ চলছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চালু আছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান,
“সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তারা বিষয়টি বেতন কমিশনে পাঠিয়েছে। আমরা কেবিনেট ডিভিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় নিয়মিত তদবির করছি।”

দেশজুড়ে ভূমিকম্পে আতঙ্ক— করণীয় জানালো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স

এই সময় ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মাত্র একদিন পর শনিবার (২২ নভেম্বর) আরও তিন দফা হালকা কম্পন অনুভূত হয়। পর্যায়ক্রমে ভূকম্পন অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। ভূমিকম্পের সময় নিজের ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে।

ভূমিকম্পের সময় করণীয়

১. আতঙ্কিত না হয়ে ধীরস্থির থাকুন

ভূকম্পন শুরু হলে প্রথমেই মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। ভবনের নিচতলায় থাকলে দ্রুত নিরাপদ খোলা এলাকায় বের হয়ে যান। ভিড় এড়িয়ে চলুন।

২. বহুতল ভবনে Drop–Cover–Hold পদ্ধতি অনুসরণ করুন

  • নিচু হয়ে বসুন
  • শক্ত টেবিল/ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন
  • টেবিলের খুঁটি শক্ত করে ধরে রাখুন
    এ ছাড়া কলাম বা বিমের নিচে গিয়ে মাথা বাঁচাতে বালিশ, কুশন বা নরম বস্তু ব্যবহার করুন।

৩. লিফট ব্যবহার করবেন না

ভূমিকম্প চলাকালে লিফটে ওঠা বা নামা ঝুঁকিপূর্ণ। কম্পন থেমে গেলে দ্রুত বৈদ্যুতিক সংযোগ ও গ্যাস লাইন বন্ধ করুন।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসপত্র থেকে দূরে থাকুন

বারান্দা, ব্যালকনি, জানালা, আলমারি, বুকশেলফ বা কোনো ঝুলন্ত ভারী জিনিসের কাছ থেকে দূরে অবস্থান করুন। টর্চলাইট, হেলমেট, জরুরি ওষুধ, প্রথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বাঁশি হাতের কাছে রাখুন।

৫. বাইরে থাকলে খোলা স্থানে আশ্রয় নিন

গাছ, উঁচু ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা দেয়ালচাপা পড়তে পারে এমন যেকোনো জায়গা এড়িয়ে চলুন।

৬. গাড়িতে থাকলে নিরাপদ স্থানে থামুন

ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ, বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামান এবং কম্পন শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ির মধ্যেই থাকুন।

৭. আফটারশকের জন্য সতর্ক থাকুন

প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর আবারও কম্পন অনুভূত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ব্রিজ, দেয়াল বা দুর্বল স্থাপনা থেকে দূরে থাকুন, কারণ পরবর্তী কম্পনে এগুলো ধসে পড়তে পারে।

৮. সম্মিলিত সচেতনতাই ক্ষতি কমাতে পারে

নিজে সচেতন থাকার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষকেও সতর্ক করুন। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হটলাইন ১০২ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার: মির্জা ফখরুল

এই সময় ডেস্ক:

বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যম সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত ‘মিডিয়া সংস্কার প্রতিবেদনের পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের প্রতিশ্রুতি খুবই পরিষ্কার। ৩১ দফায় আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি—স্বাধীন গণমাধ্যম গড়তে চাই। সে লক্ষ্যে কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।”

তিনি জানান, কমিশন ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং এর প্রতিবেদনও প্রস্তুত। তবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “রিপোর্টটি পরে কোনো আলোচনায় আসেনি। জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আমরা বিষয়টি অগ্রাধিকার দেব।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেই গণমাধ্যমের উন্নয়নে বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সময়ের অধিকাংশ টেলিভিশন চ্যানেলের উন্নয়ন কার্যক্রমও বিএনপির সময়েই শুরু হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “সাংবাদিক সংগঠনগুলো এখন বিভাজিত। রাজনৈতিক দলগুলো সাংবাদিকদের নিজেদের সুবিধায় নিতে চায়। সাংবাদিকরা যদি দলীয় হয়ে পড়েন, তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণমাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “এই সময়ে গণমাধ্যম ফ্যাসিবাদ লালন করেছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এখনই সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া দরকার।”

ভারতের কাছে শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পুনরায় পাঠালো বাংলাদেশ সরকার

এই সময় ডেস্ক:

চব্বিশের জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

রবিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত পরশু (শুক্রবার) দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ নোট পাঠানো হয়।”

এর আগেও ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনার জন্য নয়াদিল্লিকে চিঠি দিয়েছিল সরকার। সে বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “আগের চিঠির জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের সাজা ঘোষণা করেছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিও রয়েছে। ফলে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে।”

গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠিত হয়। চলতি বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উভয়কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

বাংলাদেশ সরকারের নতুন করে পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্দামান সাগরে লঘুচাপ ঘনীভূত, উত্তর বঙ্গোপসাগরে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

এই সময় ডেস্ক:

দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে আজ সকাল ৬টায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি একই এলাকায় অবস্থান করছে এবং পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পরিস্থিতি যেহেতু দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই সমুদ্রবন্দরের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হলো।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জাতিসংঘের

এই সময় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে মুসলিম রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে, যেখানে ১০৫টি দেশ যৌথ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনে গভীর উদ্বেগ

২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর গৃহীত এ প্রস্তাবে এবারও রাখাইন রাজ্যে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে নিপীড়ন, মানবিক সহায়তায় বাধা এবং বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশে রোহিঙ্গাদের অব্যাহত অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সম্পৃক্ততার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের হতাশা প্রকাশ

প্রস্তাব গ্রহণের পর বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানালেও গত আট বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ জানায়, ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে চলা বাংলাদেশের পক্ষে আর সম্ভব নয়।
অতএব, রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে ফেরাতে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ এখনই প্রয়োজন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত: ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করল আপিল বিভাগ

এই সময় ডেস্ক:


বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পূর্বের রায়কে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত বলেন, “আপিল বিভাগের পূর্বের রায়টি একাধিক ত্রুটিতে ত্রুটিপূর্ণ বলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ রায়টি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো।”

এছাড়া আদালত উল্লেখ করেন, সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছদ ২(ক)–এর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কিত বিধানাবলী, যা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত হয়েছিল, আজকের রায়ের মাধ্যমে তা পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্বহাল হলো।

তবে আদালত স্পষ্ট করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কেবল ভবিষ্যতের নির্বাচনসমূহে প্রয়োগযোগ্য থাকবে।

পুনর্বিবেচনার প্রেক্ষাপট

এর আগে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে গত ২৭ আগস্ট আপিলের অনুমতি দেন আদালত। পরে শুনানি সম্পন্ন করে আজ ২০ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল, এবং নির্ধারিত সময়েই পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে।

দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এমন এই রায়কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনা আপিলের রায় কাল

এই সময় ডেস্ক:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিষয়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন থেকে সৃষ্ট আপিলের রায় আগামী কাল (২০ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। গত ১১ নভেম্বর টানা দশ দিনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ আজকের দিনটিকে রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন।

বহুল আলোচিত এই মামলায় বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামী’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন। ওই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সংযুক্ত করে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০১১ সালের ৩০ জুন এবং একই বছরের ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক এবং আরও একজন ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। ওই রিভিউ আবেদন থেকেই সৃষ্ট আপিল শুনানির জন্য আদালত গত ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন।

এদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সংঘর্ষপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করেন।

আজকের রায় দেশের রাজনৈতিক ও সংবিধানিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


সূত্র: বাসস

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

এই সময় ডেস্ক:

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) অডিটোরিয়ামে কোর্স–২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের তরুণ সামরিক অফিসারদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, “দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি।”

তিনি জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং আমি তাদের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করি।”

এবারের কোর্সে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ ২৪টি দেশের মোট ৩১১ জন তরুণ সামরিক অফিসার অংশ নেন। কোর্স সম্পন্নকারী অফিসাররা জানান, অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে তাদেরকে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশি এক অফিসার বলেন, “ডিএসসিএসসির নেতৃত্ব ও কৌশল প্রশিক্ষণ আমাদেরকে দেশ-বিদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করেছে। বিশেষ করে জাতীয় সংকটে এ জ্ঞান প্রয়োগে আমরা প্রস্তুত।”

চীনের এক অফিসার মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। বিভিন্ন দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করেছে।”

বাংলাদেশি আরেক অফিসার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। দেশ রক্ষায় এবং প্রয়োজনে সুষ্ঠু নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে ভূমিকা রাখব।”

দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির

এই সময় ডেস্ক:
জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দণ্ডিত ও পলাতক আসামিদের বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA)। সোমবার রাতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এজেন্সির মতে, এসব বক্তব্যে সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার মতো মন্তব্য রয়েছে, এমনকি সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি উসকানি বা আহ্বানও দেখা যাচ্ছে।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডিত ও পলাতক আসামিদের এ ধরনের বক্তব্য প্রচার আইনসম্মত নয় বলে উল্লেখ করে এজেন্সি জানায়—অধ্যাদেশের ধারা ৮(২) অনুযায়ী, দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী তথ্য ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশ হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা অপসারণ বা ব্লক করতে পারে।

এছাড়া, ধারা ২৬ (১) অনুযায়ী, ছদ্ম পরিচয় বা অবৈধ উপায়ে ঘৃণা, জাতিগত বিদ্বেষ বা সহিংসতা প্ররোচনাকারী বক্তব্য প্রচার করা অপরাধ। ধারা ২৬ (২)-তে এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দশ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকতা ও ব্যক্তির স্বাধীনতাকে সম্মান জানালেও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার গণমাধ্যমের জন্য আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই গণমাধ্যমকে সতর্ক থেকে এ ধরনের কনটেন্ট প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি।