আজকের সময়ের সেরা খবর
মা-বাবাই শিশুর প্রথম শিক্ষক: বিশ্বনাথে প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ২৫তম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবি ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, মা-বাবাই হচ্ছেন শিশুদের জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক। শৈশব থেকেই যদি সন্তানদের শিক্ষা ও নৈতিক গঠনে পরিবার যথাযথ গুরুত্ব দেয়, তবে সেই শিশুর ভবিষ্যৎ অনেক বেশি আলোকিত হয়। তিনি বলেন, শিক্ষিত ও সচেতন পরিবারই একটি জাতির মেরুদণ্ড গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থেই সৌভাগ্যবান। কারণ, তাদের পাশে রয়েছে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের মতো একটি মানবিক ও দূরদর্শী সংগঠন, যা আজ থেকে প্রায় ৩২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিরলসভাবে শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে এই ট্রাস্ট যে অবদান রেখে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া (কামিল) মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ২৫তম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে চলতি বছরে ১০টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৬৬ জন শিক্ষার্থীকে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নগদ বৃত্তি প্রদান করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ট্রাস্ট শিক্ষা বিস্তারে যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা বিশ্বনাথসহ পুরো অঞ্চলের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মো. মাফিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর। তিনি বলেন, প্রতি বছর গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট যদি বোর্ড পরীক্ষার আগে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক দিয়ে বিশেষ কোচিং বা ক্লাস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে কৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি গোলজার খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রঞ্জু এবং প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা মো. খায়রুল ইসলাম। প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি মাওলানা আশরাফুর রহমান। অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ‌্যাপক ড. মুজিবুর রহমান, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ মেম্বার আবুল হোসেন মামুন ও গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া বক্তব্য ও উপস্থিতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সিনিয়র ট্রাস্টি হাজী মো. রইছ আলী, আব্দুল মজিদ, বসির উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, গৌছ আলী, গৌছ খান, মাকরাম আলী আফরোজ ডিএল, মাসুক মিয়া, আব্দুন নূর, আজহার আলী, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল কুদ্দুছ, মনির আহমদ, আব্দুল গফুর, সানাম মিয়া আতিক, ফারুক মিয়া, শাহ নুরুল আলম, আলা উদ্দিন, ডাক্তার শানুর আলী মামুন, বাবরুল হোসেন বাবুল, আবুল কাশেম, মো. ইয়াহইয়া, নেছার আহমদ, নুরুল ইসলাম, আবুল কালাম, সেবুল মিয়া, এখলাছুর রহমান, ফজলুর রহমান, রুহেল মিয়া, সায়েস্থা মিয়া, শাহ সাহিদুন নুর ইসলাম, এম. এ মতিন, মো. হরুফ মিয়া, সাজিদ আলী, আব্দুর রব, রফিক মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মিজান রহমান, শেখ হারুনুর রশীদ, এনামুর রহমান, আবুল বাসির খান, আনহার মিয়া, আব্দুল খালিক গাফফার, আব্দুল বাছিত, মিজানুর রহমান, আবুল বাসার মিয়া, মুমিন খান মুন্না, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং বিশিষ্ট মুরব্বী গোলাব খান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফিল্ড অফিসার আব্দুল হামিদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের ও সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সদস্য, স্থানীয় অফিসের দায়িত্বশীলরা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অতিথিরা।

বিশ্বনাথে জমির আহমদ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে আলহাজ্ব মোক্তার আলী সংবর্ধিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের কৃতি সন্তান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন এবং মোক্তার আলী রিসোর্টের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোক্তার আলীর সম্মানে এক সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বিদ্যাপীঠ আলহাজ্ব জমির আহমদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন-এর সঞ্চালনায় এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র দেব-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন ইবনে হক এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন একই শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশ্রী দেব অনন্যা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত অতিথি আলহাজ্ব মোক্তার আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“আমি এই এলাকার সন্তান। আজ আপনাদের ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে আমি গর্বিত। প্রবাসে থেকেও দেশের মাটি ও মানুষের কথা সবসময় হৃদয়ে ধারণ করি। শিক্ষা, মানবসেবা ও এলাকার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র দেব। তিনি বলেন, “আলহাজ্ব মোক্তার আলী একজন মানবিক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। তাঁর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহী মোঃ গোলাম মোস্তফা, কৃষ্ণধন বৈষ্ণব, মোঃ নাজমুল ইসলাম, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য আহমদ আলী হিরণ, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সম্মানিত অভিভাবক সদস্য মোঃ আবুল কালাম, ইউকে ইয়ুথের সম্মানিত শিক্ষক সিতাব আলী এবং বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ আব্দুল হান্নান।

বক্তারা আলহাজ্ব মোক্তার আলীর প্রবাসজীবনে অর্জিত সাফল্য, সমাজসেবা ও শিক্ষাবান্ধব কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।

সংবর্ধনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রোকসানা ইয়াসমিন, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ আলমগীর হোসেন, মোঃ শাফিদুল হক, সুব্রত কুমার, মোঃ ছাইদুল ইসলাম, মোঃ আবু রাইয়ুব, অভিভাবক আব্দুর রকিব, কাওছার আহমদসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত, সুশৃঙ্খল ও আবেগঘন।

বনার্ঢ্য আয়োজনে শিক্ষার্থীদের ভালবাসায়সিক্ত হলেন শিক্ষক জালাল উদ্দীন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি


সিলেটের বিশ্বনাথে বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন আয়োজনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হলেন পৌর শহরের ভোগশাইল গ্রামস্থ শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ২৭ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসরে যাওয়া এই গুণী শিক্ষককে সম্মান জানাতে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিশাল বিদায় সংবর্ধনার।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয় সম্মুখ মাঠে নানা কর্মসূচি ও হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশের মধ্য দিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে সম্পন্ন হয় সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা। জানা যায়, মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি ১৯৯৮ সালের ১৮ জুলাই শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করে টানা ২৭ বছর ৫ মাস ১৩ দিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে শিক্ষকতা করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে গণিতের পাশাপাশি জীবনবোধ ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান দেয়, কিন্তু সেই জ্ঞানকে আলোকিত ও অর্থবহ করে তোলে মূল্যবোধ, নীতিবোধ ও মানবিক শিক্ষা। আর এই মহান দায়িত্বটি যুগ যুগ ধরে পালন করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা, যারা প্রকৃত অর্থে মানুষ গড়ার কারিগর।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা নয়। বরং দেশপ্রেম, সততা, মানবিকতা ও নৈতিকতার আলোকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আজ আমরা এমন এক সময় পার করছি, যখন সমাজে নীতি-নৈতিকতার অভাব আমাদের অগ্রগতিকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে। দুর্নীতি, স্বার্থপরতা ও অন্যায়ের প্রতিযোগিতা সমাজের গভীরে শিকড় গেড়ে বসেছে। এই সংকটময় সময়ে শিক্ষকরা হচ্ছেন আলোর দিশারি। তরুণ প্রজন্মকে বুঝতে হবে, বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও প্রকৃত শক্তি অর্জিত হয় সুশিক্ষা ও যোগ্যতার মাধ্যমে। নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারলেই বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে বিদায়ী গণিত শিক্ষক মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এই ভালোবাসার সংবর্ধনা আমাকে আজীবনের ঋণে আবদ্ধ করেছে। আপনাদের এই সম্মান আমি কোনো দিন ভুলব না। আমি শিক্ষকতা জীবনে কখনও জেনে-শুনে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করিনি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কখনও কঠোর হয়েছি, আবার কখনও সন্তানের মতো আগলে রেখেছি।

তিনি বলেন, আজ আমি সবচেয়ে বেশি গর্ব অনুভব করছি এই কারণে যে আমার অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশে-বিদেশে স্ব-স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। তাদের সাফল্যই আমার শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমাদের প্রিয় শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়কে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য আলহাজ্ব লেচু মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, মো. আনছার আলী ও সহকারী শিক্ষক মোছা. ফিরোজা খাতুনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গৌছ খান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান, সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, রাগীব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বুনন সম্পাদক কবি খালেদ উদ্দীন, উত্তর বিশ্বনাথ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন খান, শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. মনির মিয়া মঈনুল এবং ভোগশাইল কে আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ সামিয়া বেগম।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন হাবিবুল্লাহ মিসবাহ। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষার্থী সামিরা বেগম ও তাবাসসুম জান্নাত মাঈশা। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন ছিদ্দিকুর রহমান এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানভীর আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. আরিবুর রহমান আরিফ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। সবশেষে দোয়া পরিচালনা করেন ভোগশাইল বায়তুর জান্নাত জামে মসজিদের ইমাম লায়েক আহমদ লতিফি।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।

বিশ্বনাথে ‘মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশনট্রাস্ট’র উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ‘মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এই মহতী উদ্যোগে উপকৃত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের কালীজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে ‘বাগিছা বাজার প্রগতি পাঠাগার’-এর আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। শিক্ষা উপকরণের মধ্যে ছিল খাতা, কলম, পেন্সিল, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী।

শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে উপকরণ তুলে দেন চান্দভরাং উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন মামুন। তিনি বলেন, “শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্ট যে দায়িত্ববোধ থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”

সভায় বক্তারা আরও বলেন, শিশুরা যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেজন্য অভিভাবকদের সদা সচেতন থাকতে হবে। শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষা নয়, এর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক আচরণ শেখানো জরুরি। লেখাপড়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখলে তাদের মন-মানসিকতা থাকবে প্রফুল্ল এবং সুস্থ।

মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টি হাজী আব্দুল হাসিমের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক কদর আলী ও প্রবীর দে’র যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আমির আলী, ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার লায়েক আহমদ, ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আংঙ্গুর মিয়া, ভল্লবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্টু কান্ত দে, রায়খেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ, কালীজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছু উদ্দিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজী মঈন উদ্দিন, শিক্ষানুরাগী হাজী গয়াছ উদ্দিন, সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মিয়া, বাগিছা বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কামরুজ্জামান নেছার এবং মানবাধিকার কর্মী আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বাগিছা বাজার দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালীজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সঞ্জিব দে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দোয়া পরিচালনা করেন বাগিছা বাজার দারুল উলুম মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক মৌলানা সিদ্দিকুর রহমান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সঞ্চিত আচার্য্য, কোকিল দাশ, সইবুর মিয়া, ফজল মাহমুদ, রুমেল আলী, সুবির দে, লিটু মিয়া, রতন বৈদ্য, মানিক বৈদ্য, আব্দুন নূর, ফুজেল মিয়া, চয়ন দে, রিয়াজ আহমদ, রনি দাস, গুলকর মিয়া, সিরাজ মিয়া, হাবিবুর মিয়া, নাঈম হাসিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্ট এ ধরনের শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং শিক্ষার প্রসারে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বনাথে দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় প্রবাসী সমাজসেবক মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মাদ্রাসার হলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি চানপুর গ্রামের কৃতিসন্তান এবং আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন ও মোক্তার আলী রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হাফিজ ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মৌলভী হেলাল আহমদের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম‌্যান হাফিজ আরব খান। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোক্তার আলী বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। প্রবাসে থেকেও দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত থাকতে পারা তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও তিনি এই মাদ্রাসাসহ এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাশিম আলী। এছাড়াও বক্তব্য দেন দশপাইকা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা লুতফুর রহমান বাবুল, মাওলানা আব্দুল মোছাব্বির এবং অভিভাবক সদস্য বকুল খান। বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের সহযোগিতায় এই মাদ্রাসাসহ বিশ্বনাথের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারা প্রবাসী সমাজসেবকদের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন, এলাকার মুরুব্বি হাজী রাশিদ আলী, সুন্দর আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আলহাজ্ব মোক্তার আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সকলের মাঝে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রবাসীদের কল্যাণ, মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মহান রবের দরবারে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

বিশ্বনাথ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

বিশ্বনাথ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদসহ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার গন্দরকাপন গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম কয়ছর আলী (৩৫)। সে গন্দরকাপন গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হাজী ইউসুফ আলীর পুত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ভোররাতে কয়ছর আলীর নিজ বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তার বসতঘরের কাঠের নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ১০৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে রয়েছে,৪০ বোতল আইস বুটকা, ১৮ বোতল ম্যাকডুয়েল, ৪৮ বোতল ব্ল্যাক মদ।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কয়ছর আলী সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় মদ সংগ্রহ করে এলাকায় বিক্রি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে মাদকসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

বিশ্বনাথ থানার এসআই শামসুল ইসলাম সুমন ও এসআই মোতাহের আলী-এর নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন কনস্টেবল সুযোগ হাসনাত। সফল এই যৌথ অভিযানে আসামিকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধারকৃত মদ জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ,সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিপূর্ণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার রক্ষার এক অবিস্মরণীয় নেত্রী। তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ, সংগ্রাম, আপসহীনতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিপূর্ণ। জাতির এই ক্রান্তিকালে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি বলেন, আগামীর একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে হলে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে হবে। কারণ একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে বিএনপির বিকল্প কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে উপজেলা মহিলা দলের উদ্যোগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাহসিনা রুশদীর লুনা আরও বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। বারবার নির্যাতন, কারাবরণ ও গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও তিনি কখনো দেশের জনগণের অধিকার প্রশ্নে আপোস করেননি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকা দেশের রাজনীতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ ও নেতৃত্ব আগামী দিনের রাজনীতিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী বিলকিছ আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিন মামুন, যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন, কবির উদ্দিন মেম্বার, সাইদুর রহমান, ধনাই মিয়া, মাসুক মিয়া, নজরুল ইসলাম, গোলাম আকবর, জেলা মহিলা দলের নেত্রী বেগম স্বপ্না শাহীন, পৌর মহিলা দলের নেত্রী নুরুন নাহার ইয়াসমিন, উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী জলি বেগম, রিমা বেগমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শোকসভা শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন খাজাঞ্চী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বশর মো. ফারুক। এসময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

বিশ্বনাথে ছহিফাগঞ্জ সুলতানিয়া আলিম মাদ্রাসার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মহা-মিলনমেলা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্জী ইউনিয়নের নিরিবিলি গ্রামাঞ্চলে সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শতবছরের প্রাচীন ছহিফাগঞ্জ সুলতানিয়া আলিম মাদ্রাসার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী মহা-মিলনমেলা আনন্দঘন পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল রোববার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ তাজ উদ্দিন এবং সিলেট-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, একটি মানুষকে হত্যা করা মানে পুরো মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল। মানুষের জীবন শুধু এই দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। এই উপলব্ধি থেকে শিক্ষার্থীদেরকে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ইসলামের আলোকে জীবন পরিচালনা করতে হবে। কারণ পরকালে আমাদের আরেকটি জীবনের হিসাব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হলেও ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে ইসলামী কোনো বিভাগ নেই। এ বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং শিগগিরই সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন, জীবনের সায়াহ্নে এসে আমি আল্লাহ তায়ালার দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তিনি আমাকে আমার নিজ এলাকার শিক্ষা ও উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সৌভাগ্য সবার জীবনে আসে না। সমাজের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্বারী হাফেজ মাওলানা নাসিম আহমদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুর রউফ। দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে হামদ-নাত, অতিথিদের বক্তব্য, স্মৃতিচারণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ফয়ছল আহমদ সুবাহদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ হাসমত উল্লাহ, মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি তাহেরা নুসরাত জাহান চৌধুরী, কামালবাজার ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মাওলানা বুরহান হোসেন, সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম মনোত্তর আলী, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া, ওল্ডহাম বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংবাদিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বিশ্বনাথ ও ছাতকের এতিম শিক্ষার্থীসহ ৩৫০ হতদরিদ্রের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ ও ছাতকের ৩টি মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীসহ দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আরও ৩৫০জন অসহায় শীতার্তদের মধ্যে উন্নতমানের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ছাতকের খাগহাটা খানবাড়ির বাসিন্দা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী, লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য, খাগহাটাস্থ হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার খসরু মোহাম্মদ খান ও ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি একাউন্টেন্ট কবির খানের পক্ষ থেকে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

সোমবার (৫জানুয়ারি) দিনব্যাপী পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে খাগহাটা খান-বাড়িতে হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী, খাগহাটা ও আশপাশ গ্রাম, বুরাইয়া বাজার, বুরাইয়া মাওলানা শামছুল হক (রহ) সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও বুরাইয়া এলাকা, যোগলনগর মুহাম্মদিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও বিশ্বনাথ বজারের অসহায় ছিন্নমুল শীতার্ত মানুষদের মধ্যে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় খাগহাটা খান-বাড়িতে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরনের উদ্বোধন করা হয়। এসময় হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, খাগহাটা ও আশপাশ গ্রামের অসহায় হতদরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এরপর দুপুর ১২টায় খানবাড়ির বাসিন্দা ও ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার সুলতান খানের নেতৃত্বে দু’টি সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে বুরাইয়া বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এরপর দুপুর ১টায় বুরাইয়া মাওলানা শামছুল হক (রহ) সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও বুরাইয়া এলাকায় এবং দুপুর ২টায় যোগলনগর মুহাম্মদিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। সর্বশেষ বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বিশ্বনাথ বাজারের অসহায় ছিন্নমূল মানুষের

মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দোলারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আলম, হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার সুলতান খান, যোগলনগর মুহাম্মদিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুল মানিক মেম্বার, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মাহবুবুল হক, মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বুরাইয়া মাওলানা শামছুল হক (রহ) সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফিজ ফজলুর রহমান, ও হাজী তোতাব খান এন্ড সুফিয়া খাতুন হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষক হাফিজ মো. বজলুর রশিদ।

এদিকে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানে বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলী আহমদ, সাদ খান, করিম খান, মাদ্রাসা শিক্ষক হাফিজ আব্দুল আলী, ব্যবসায়ী ইউছুফ খান, শাকিল খানসহ আরও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট ও আশপাশে ভোররাতে মৃদু ভূকম্পন, আতঙ্কে ঘুম ভাঙে মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভোররাতে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠে। এতে ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেক মানুষ।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সংশ্লিষ্টরা ভূমিকম্পের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করে কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক এবং আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ তার ফেসবুক পোস্টে জানান, বাংলাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পটি ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে সংঘটিত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গোয়াহাটির নিকটবর্তী মরিগাঁও এলাকায়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১ এবং এটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এখানে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্প বিষয়ে সতর্কতা ও সচেতনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।