আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে অপরাধ দমনে সর্বমহলের সহযোগিতা চাইলেন ওসি

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া ও মাদক ক্রয়-বিক্রয় প্রতিরোধে সর্বমহলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে থানা কমপাউন্ডে পুলিশের উদ্যোগে স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, “আপনাদের নিজ নিজ এলাকায় যারা চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা আমাদের কাছে দিন। বিশ্বনাথকে অপরাধমুক্ত করতে পুলিশের পাশাপাশি আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় শতভাগ গোপন রাখা হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণই পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটন, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবিবুল ইসলাম মেম্বার, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাংবাদিক আশিক আলী, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণঞ্জয় বৈদ্য অপু, মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্বাস হোসেন ইমরানসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

এসময় বিশ্বনাথের বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নতুন ও পুরাণ বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ-জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্বনাথে জমজমাট ‘বিজ্ঞান মেলা’র উদ্বোধন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘বিজ্ঞান মেলা’। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি।

‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তারা ১২টি স্টলের মাধ্যমে নিজেদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প ও মডেল প্রদর্শন করে উপস্থিত দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

উদ্বোধন শেষে ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা ছাড়া আধুনিক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বদিউজ্জামান, আইসিটি কর্মকর্তা শোয়েব আখতার, একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল হামিদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, সদস্য সুজিত দেব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

মেলাটি আগামী কয়েকদিন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

বিশ্বনাথে ভক্তি-ভাবগম্ভীর পরিবেশে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন, আলোচনা সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান

বিশ্বনাথপ্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক আবহে উদযাপিত হয়েছে মহান আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেব-এর ১৯১তম আবির্ভাব তিথি ও  শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্রের ৩য় বার্ষিক উৎসব। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, ধর্মীয় পাঠ ও ভক্তিমূলক আয়োজন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিশ্বনাথ মডেল মন্দির প্রাঙ্গণে “শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্র, বিশ্বনাথ”-এর উদ্যোগে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির এলাকা। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠ, প্রার্থনা ও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন।

“শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্র, বিশ্বনাথ”-এর সদস্য সুব্রত ধর বাপ্পির সভাপতিত্বে এবং একান্ত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবা সমিতি-এর অধ্যক্ষ স্বামী বেদময়ানন্দ মহারাজ।

তিনি বলেন,“রামকৃষ্ণ পরমহংস মানবতার কথা বলেছেন, ভালোবাসার কথা বলেছেন। তাঁর জীবন ও দর্শন আমাদেরকে ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবসেবা এবং আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। বর্তমান বিশ্বে তাঁর আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।”

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে—এটাই ছিল রামকৃষ্ণের মূল বার্তা।

সম্মানিত অতিথিদের বক্তব্যে ময়মনসিংহ রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম-এর উপাধ্যক্ষ স্বামী হরিপ্রেমানন্দ মহারাজ বলেন, “রামকৃষ্ণের জীবন আমাদের দেখায় কিভাবে সরলতা ও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরপ্রাপ্তি সম্ভব। তাঁর আদর্শ তরুণ সমাজকে নৈতিকতার পথে পরিচালিত করতে পারে।” এ সময় তিনি আরো বলেন, “মানুষের সেবাই পরম ধর্ম—এই শিক্ষা ধারণ করলেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

এছাড়া সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম-এর স্বামী পরতরানন্দ মহারাজসহ অন্যান্য বক্তারা রামকৃষ্ণের জীবন, কর্ম ও দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কথামৃত পাঠচক্রের সিনিয় সদস্য শ্রী নিশী কান্ত পাল ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কথামৃত পাঠচক্রের সদস্য ঝুটন চৌধুরী,প্রমূখ।

এছাড়া বিশ্বনাথ, উসমানীনগর, জগন্নাথপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে রামকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। ভক্তদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়, যেখানে ছড়িয়ে পড়ে শান্তি, ভক্তি ও মানবতার বার্তা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন আসন্ন উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল আড়াইটার দিকে পৌর শহরের বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ রোডের একটি পার্টি সেন্টারে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি তিনি পরিবারকেও সুশিক্ষিত করেছেন। এখন ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বাইরে গিয়ে তিনি বিশ্বনাথবাসীর কল্যাণে কাজ করতে চান। এ লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও পরামর্শকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকরাই জাতির বিবেক। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়েই বিশ্বনাথকে এগিয়ে নিতে চাই।”

নিজেকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর একজন একনিষ্ঠ কর্মী দাবি করে তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর সময়কালে এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে, পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। তিনি পুনরায় উন্নয়নের সেই ধারা ফিরিয়ে আনতে চান। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানান।

মুজিবুর রহমান আরও বলেন, তিনি দৌলতপুর ইউনিয়নের পুরাণ হাবড়া বাজারে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং যুক্তরাজ্যে আরও একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা ক্রয় করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, নির্বাচিত হলে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দের শতভাগ কাজ নিশ্চিত করবেন। প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত অর্থ থেকেও উন্নয়ন কাজে ব্যয় করতে প্রস্তুত আছেন।

সভায় বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রার্থীর ঘনিষ্ঠজন আব্দুর রুপ ও মো. শফিকও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

নিজ অর্থায়নে উন্নয়ন: আমতৈল নিয়ে বড় পরিকল্পনায় শেখ মুজিবুর রহমান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি নিজের অর্থায়নেও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হিসেবে পরিচিত আমতৈল এলাকার উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বাদ মাগরিব আমতৈল বাজারে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমতৈল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। ইনশাল্লাহ আগামীতে এই অপবাদ আর থাকবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে যেকোনো মূল্যে এ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করব।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বনাথ একটি প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হওয়ায় এর উন্নয়নের সম্ভাবনা অনেক বেশি। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের মাধ্যমে এই উপজেলাকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব। সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান বলে জানান।

বৃহত্তর আমতৈল পঞ্চায়েতের সভাপতি বাবুল মিয়ার সভাপতিত্বে এবং যুবদল নেতা গৌছ মিয়া ও হুমায়ুন রশিদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন রামপাশা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার বাদুল্লা মিয়া, যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন, যুবদলের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি আলাউদ্দিন, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি হুশিয়ার আলী, ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুল কাইয়ুম, লাল মিয়া, আব্দুর রব, তালেব আলী, আতিক মিয়া, ফয়জুল হোসেন, খছরু মিয়া, শাবাজ উদ্দিন, নানু মিয়া প্রমুখ।

সভায় বক্তারা শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়নমুখী পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

বিশ্বনাথে বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলাধামের মন্দির চুরি, অভিযোগ দায়ের

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুরস্থ ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরে’ দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি মানিক লাল দে।
লিখিত অভিযোগে মানিক লাল দে উল্লেখ করেছেন, গত ২৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরের পুরোহিত ও লিখিত অভিযোগের স্বাক্ষী অনন্ত পাঠক পুজারী মন্দিরের পূজা শেষে মন্দির বন্ধ করে নিজের বাড়িতে চলে যান। পরদিন (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অভিযোগের ৩নং স্বাক্ষী রবিন্দ্র দেব নাথ ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান মন্দিরের পুরোহিত অনন্ত পাঠক পুজারীর শয়ন কক্ষের বেন্ডিলেটর ভাঙ্গা ও ভিতরের সকল দরজা খোলা এবং মন্দিরে থাকা ১টি সিলিং ফ্যান, ১টি ইলেকট্টিক কেটলি, ১টি ছরতা, ১টি পেশার মাফার মেশিন ও মন্দিরের বাহিরে থাকা স্ট্রীলের ১৯টি পানির ট্যাব, বৈদ্যুতিক ওয়ার নেই।
পরবর্তিতে মন্দিরে চুরির বিষয়টি অভিযোগের বাদী জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে এবং দেশের বাহিরে থাকা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রল্লাদ চন্দ দেব’র সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা শেষে তদন্ত সাপেক্ষে চুরির সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে বাদী নিজের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
মন্দিরে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিশ্বনাথে সম্ভাব্য পৌর মেয়র পদপ্রার্থী শাহ তাজুলের ‘কোরআন শরীফ’ বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ তাজুল ইসলামের উদ্যোগে এবং তারুণ্যদীপ্ত সামাজিক সংগঠন রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ‘প্রজেক্ট আল কোরআন বিতরণ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পৌর শহরের বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রে ৩৫ কপি নূরানী কোরআন শরীফ বিতরণ করা হয়েছে।

এর আগে সংগঠনটির উদ্যোগে ছয় ধাপে উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, কোরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও এতিমখানায় নূরানী কোরআন শরীফ বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ম ধাপে বিশ্বনাথ পৌরসভার মিয়াজানেরগাঁও গ্রামের কৃতি সন্তান ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী শাহ তাজুল ইসলামের উদ্যোগে এ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) পৌর শহরের বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক মাওলানা আমিনুল ইসলামের হাতে ৩৫ কপি নূরানী কোরআন শরীফ তুলে দেওয়া হয়।

রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সাব্বিরের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম দুলাল, সাবেক শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নাহিদ আহমেদ সুয়েব, সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান, প্রিন্ট ও মিডিয়া সম্পাদক আল হাদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে শাহ তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি আমৃত্যু ইসলামিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান। এজন্য তিনি সর্বমহলের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি কোরআন শরীফ বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।

অন্যদিকে, কোরআন শরীফ বিতরণের মতো মহতী কাজে সংগঠনকে সম্পৃক্ত রাখায় রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শাহ তাজুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

শমশেরনগরে উপবন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন, ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল সিলেট রেল যোগাযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিবেদক:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর রেলস্টেশনের অদূরে কালিপুর এলাকায় সিলেটগামী আন্তনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক যাত্রী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার শমশেরনগর এলাকার পূর্ব কালিপুর গ্রামে চলন্ত ট্রেনটির ইঞ্জিনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন থেকে মবিল পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ট্রেনটি থামানো হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন জানান, ইঞ্জিন বিকলের কারণে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে উপবন এক্সপ্রেস ছাড়াও সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর কালনি এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী মাস্টার সাগর কুমার সিংহ বলেন, সিলেট থেকে আসা ঢাকাগামী কালনি এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ব্যবহার করে আটকে পড়া উপবন এক্সপ্রেসকে উদ্ধার করে শমশেরনগর স্টেশনে আনা হয়। পরে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে সিলেট থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন এনে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যে পাঠানো হবে।

বিশ্বনাথে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় রোমান আহমদ (২০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (আজ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার বড়খুরমা এলাকায় নিজ ঘরের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আব্দুল হামিদের সর্ব কনিষ্ঠ ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১ টা পর্যন্ত রোমান আহমদের কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে তাকে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম জানান, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানায় পুলিশ।

বিশ্বনাথে হযরত খাজা পীর শাহ্ আহমদ আলী চিশতী (রাহ.)-এর ৭৭তম ওরস মোবারক সম্পন্ন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হয়েছে ওলীয়ে কামিল হযরত খাজা পীর শাহ্ আহমদ আলী চিশতী (রাহ.)-এর ৭৭তম বার্ষিক পবিত্র ওরস মোবারক।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) চিশতিয়া দরবার শরিফ তেলীকোনা পীর বাড়ী প্রাঙ্গণে এ ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ও সার্বিক সহযোগিতায় এবং গ্রাম ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দিনভর ও রাতব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভক্ত-আশেকান, সুফি সাধক, পীর-মাশায়েখ, আলেম-উলামা, ফকির-মাস্তান ও বাউলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ভক্তদের উপস্থিতিতে দরবার শরিফ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে ধর্মীয় আবহে।

ওরস উপলক্ষে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, জিকির-আজকার, হামদ-নাত ও তসবিহ-তাহলিলের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে পরদিন ফজর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানমালা অব্যাহত থাকে।

আয়োজকরা জানান, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সফলভাবে শেষ হয়েছে এবারের ওরস মোবারক।