আজকের সময়ের সেরা খবর
বাসিয়া নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর সদরে প্রবাহিত বাসিয়া নদীর দুই তীর দখলমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক মহলেও প্রতিবাদ চলছিল। এরই প্রেক্ষাপটে অবশেষে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান দেখা গেছে।

নদীর দক্ষিণ পাড়ের টিএনটি রোড এলাকায় সম্প্রতি টিনসেডের দুটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীর দখল করে এমন স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জানা যায়, দৌলতপুর ইউনিয়নের হাসনাজী গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী নুরুল ইসলাম (৬৫) এবং পৌরসভার মুফতিরগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া (৬০) পৃথকভাবে এই দুটি টিনসেডের দোকানঘর নির্মাণ করেন। তবে দখল করে নির্মিত স্থাপনা শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে পারেননি তারা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত দুটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং দখলকৃত জায়গা মুক্ত করা হয়।

অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নদীর তীর বা সরকারি জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বাসিয়া নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রভাব বা পরিচয়ের জোরে সরকারি সম্পত্তি দখল করতে পারবে না বলেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।

এদিকে সচেতন মহল প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, নদী রক্ষা শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলে বাসিয়া নদী তার আগের রূপ ও প্রবাহ ফিরে পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের দাবি হামলায় ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত

এইসময় ডেস্ক:

আফগানিস্তান সীমান্তে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এসেছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলছে, এখন পর্যন্ত ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩১৪ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, সীমান্তে সামরিক অভিযানে তালেবানের ৭৪টি চৌকি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ১৮টি চৌকি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, পাকিস্তানের হামলা ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষে ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ হিসাবে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি করছে সামরিক বাহিনী।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি এবং দুটি ঘাঁটি দখল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

সীমান্তের এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বিপরীতমুখী তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে এখনো হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, টানা উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্বনাথের উন্নয়নে নতুন বার্তা, মেয়র প্রার্থী হতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ আবুল কালাম

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজনীতিক শাহ আবুল কালাম। তিনি সদ্য বিলুপ্ত যুক্তরাজ্যের ওল্ডহ্যাম বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

শৈশব থেকেই পারিবারিকভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। বাবার হাত ধরেই সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন। প্রবাসে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে নিয়মিতভাবে আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার বিষয়টিকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন।

বিশ্বনাথ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মসুলা (জানাইয়া) গ্রামের কৃতি সন্তান শাহ আবুল কালাম শাহ হাজী জামশেদ আলীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি শাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু দুর্যোগকালেই নয়, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা এবং অসহায়দের নানামুখী সহযোগিতায় নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দেশে অবস্থানকালে তিনি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে জনসচেতনতা ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।

বর্তমানে তিনি বিশ্বনাথ সোসাইটি ইউকের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে ও প্রবাসে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে প্রবাসে অবস্থান করেও মোবাইল ফোন ও অনলাইন মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। প্রবাসে অনুষ্ঠিত সভা-সমাবেশ ও কমিউনিটি কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে কমিউনিটির সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে সক্রিয় সম্পৃক্ততার কারণে দেশে ও বিদেশে বাঙালি সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে শক্ত অবস্থান তৈরি করায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে শাহ আবুল কালাম বলেন, “বিশ্বনাথ পৌরবাসীর আন্তরিক ভালোবাসা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অনুপ্রেরণায় আমি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। আমার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়ন, সুশাসন ও জবাবদিহিতাভিত্তিক একটি আধুনিক পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”

বিশ্বনাথে আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা

দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করলে ছাড় নয়: এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, নিখোঁজ সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলী-এর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা স্পষ্ট করে বলেছেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না। দখলদারি, চাঁদাবাজি কিংবা মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা দলের কেউ হতে পারে না। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। দলীয় পদ-পদবী দেখিয়ে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ পাবে না। আইন মানতে হবে, আইনকে সম্মান করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে অনিয়ম করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

এমপি লুনা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অত্যাচার ও দুর্নীতির কারণে দেশ উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে। এখন আর কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাই জনগণ যেন হয়রানির শিকার না হয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীরা দেশে এসে যেন কোনো ধরনের ঝামেলা বা দৌড়ঝাঁপ ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেন, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস শহিদ এবং থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও মতামত তুলে ধরেন।

সভার শুরুতে নবনির্বাচিত এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় প্রশাসন। পরে তিনি উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল খননের বিকল্প নেই: তাহসিনা রুশদী লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও নিখোঁজ সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলী-এর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদী লুনা বলেছেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের রাজার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই মহৎ উদ্যোগ থেমে যায়। খাল-নদী ভরাট ও দখলের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়েছে। এতে কৃষি ও পরিবেশ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাল পুনঃখনন করা হলে সারা বছর পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে, অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে এবং কৃষক তার উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবে।

লুনা আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে খাল খননকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এটি কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনর্জাগরণের একটি কার্যকর উদ্যোগ। খাল বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নয়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। প্রত্যেকটি উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের সম্পদ। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই এগিয়ে এলে একটি অঞ্চল বদলে দেওয়া সম্ভব।

ইলিয়াসপত্নী লুনা স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে এম. ইলিয়াস আলীকে ভোট দিয়ে মানুষ উন্নয়নের সুফল পেয়েছিলেন। ইনশাআল্লাহ, আগামীতেও ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও শান্তির জনপদে রূপান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম রুবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএডিসি সেচ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া এবং দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সেচ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, শপথ ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

:
সিলেটের বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সংগঠন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব-এর নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে দুইটি অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়েরের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীন সোহেলের পরিচালনায় নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় বিদায়ী আহ্বায়ক নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথে পেশাগত নৈতিকতা, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে নবগঠিত কমিটির সভাপতি এম আর টুনু তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং গণমানুষের কথা নির্ভয়ে প্রকাশ করাই একজন সাংবাদিকের প্রধান কর্তব্য। সংগঠনের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রেসক্লাবকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় বক্তব্য দেন বিদায়ী আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি রোহেল উদ্দিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল হোসেন মুন্না, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীন সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন এবং নির্বাহী সদস্য মোশাহিদ আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।

প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনসার-ভিডিপি, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র বিশ্বনাথ জোনাল অফিস, বিশ্বনাথ পিএফজি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি-এর সভাপতিত্বে এবং প্রকৌশলী আবু সাঈদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগই বাঙালির স্বাধীনতার ভিত্তি রচনা করে। বিশ্বনাথ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, থানার অফিসার ইন-চার্জ গাজী মাহবুবুর রহমান, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. আব্দুল মজিদ উজ্জ্বল, সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুবসহ অন্যান্য বক্তারা ভাষা শহীদদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বক্তারা বলেন, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুধু একটি ভাষার প্রশ্ন ছিল না, এটি ছিল আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন। বর্তমান প্রজন্মকে ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে বাংলা ভাষার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে ভাষার আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগেও পৃথকভাবে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

সার্বিকভাবে, বিশ্বনাথে পালিত শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ছিল শ্রদ্ধা, চেতনা ও অঙ্গীকারের এক তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ই ছিল দিনের মূল বার্তা।

মাতৃভাষা দিবসে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য ইকবাল হাসান টুকুর

এইসময় ডেস্ক:

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও জাতীয় চেতনা নিয়ে সরব মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলা ভাষাকে ধারণ করতে হলে এবং একে সত্যিকার অর্থে মাতৃভাষা হিসেবে মর্যাদা দিতে হলে ভাষার ক্ষেত্রে আপস করা যাবে না।

তিনি বলেন, “বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয় তাহলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না। এই শব্দ ও স্লোগানগুলোর সঙ্গে বাংলার আত্মিক সম্পর্ক নেই। ‘ইনকিলাব’ অন্য ভাষার শব্দ, যে শক্তি একসময় আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। আজ সেটাই আমাদের তরুণদের মুখের ভাষা হয়ে গেছে। এটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা।”

মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম সমাজ বদলানোর জন্য। এখন দেখছি সমাজ উল্টো পথে হাঁটছে,” বলেন তিনি।

নিজের অবস্থান নিয়ে সমালোচনার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন টুকু। তিনি বলেন, “এ কথা বললে আমাকে ভারতের দালাল বলা হতে পারে। তবুও বলব। কারণ আদর্শের জায়গা থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি, সেই বিশ্বাস থেকেই আজও কথা বলি।”

বক্তব্যে তিনি উপনিবেশিক শাসনের প্রভাবের কথাও স্মরণ করেন। তার মতে, ব্রিটিশ শাসন এ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। ভাষা ও সাংস্কৃতিক দমননীতি থেকেই প্রতিরোধের বীজ রোপিত হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে।

তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভাষা ও জাতীয় চেতনার প্রশ্নে সচেতন না হলে চরমপন্থী প্রবণতা সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। “নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ শক্তভাবে গড়ে ওঠেনি,” মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, “নিজের ভাষা ও নিজের দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। অন্য কেউ এসে আমাদের দায়িত্ব নেবে না।”

১২ মার্চের মধ্যে বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নতুন সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এ অধিবেশনের মাধ্যমে।

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশসমূহ এ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সংসদের রীতিনীতি অনুসারে শোক প্রস্তাবও উত্থাপন করা হবে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর চেয়ারম্যান। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শফিকুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির।

রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন অধিবেশনেই নতুন সংসদের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন

.বাহরাইন প্রতিনিধি:

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে দূতাবাস প্রাঙ্গণে কর্মসূচির সূচনা হয়।

দিবসের শুরুতেই বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মহান শহিদ দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়। বাণীসমূহ পাঠ করেন প্রথম সচিব (ভিসা ও পাসপোর্ট) ইলিয়াসুর রহমান, প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মাহফুজুর রহমান, প্রথম সচিব (ভিসা ও পাসপোর্ট) মোহাম্মদ সোহাগ হোসেন এবং তৃতীয় সচিব মামুনুর রশীদ তালুকদার।

রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার তাঁর বক্তব্যে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সেই সংগ্রাম কেবল ভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল জাতির আত্মমর্যাদা, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন শোয়েব হোসেন। ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের অব্যাহত অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন দূতাবাসের আইন সহকারী ড. নাজমুল হাসান।

এ সময় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কবিতা আবৃত্তি করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি বাংলাদেশ স্কুল বাহরাইন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

সার্বিকভাবে, প্রবাসের মাটিতে ভাষা শহিদদের স্মরণে আয়োজিত এ কর্মসূচি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশপ্রেম, ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও জাতীয় চেতনা আরও সুদৃঢ় করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেন।