আজকের সময়ের সেরা খবর
সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার—আনন্দ উদ্‌যাপন দলের মাঠপর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা

এই সময় ডেস্ক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারা দেশের মতো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা, পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের ১২ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিদ্ধান্তটি প্রকাশের পরপরই বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ উল্লাস ও দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

01

দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কারের শাস্তিতে থাকা এসব নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই কারণে বিভিন্ন সময়ে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, সাবেক আহ্বায়ক গৌছ খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম রুহেল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বসির আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হাফিজ আরব খান, মহিলা সম্পাদক স্বপ্না শাহিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মুমিন খান মুন্না, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাওছার খান এবং খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের খবরে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি তিনি সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও ‘ধানের শীষ’কে শক্তিশালী করতে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বহিষ্কার প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্তে বিশ্বনাথের বিএনপি নতুন উদ্দীপনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।

সিলেট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইর সম্ভাবনা

তৌফিকুর রহমান হাবিব:

সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। বাকি দুই আসনের একটি নিয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ওই আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ নিজ মতো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপর আসনটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জোটসঙ্গী জমিয়ত উল উলামাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে জোরালো হয়েছে। ফলে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি-জামায়াত এবং আরও একটিতে জমিয়ত-জামায়াত মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর), যা বিএনপির গুম হওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখনো এ আসনের সাধারণ মানুষের কাছে ইলিয়াস আলী একটি আবেগের নাম। তাঁর সেই জনপ্রিয়তা ও স্মৃতিকে ধারণ করে বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লুনাকে ঘিরে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এই আসনে লুনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান। মাঠপর্যায়ে তার ছাত্র এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সমর্থকরা মনে করেন, এলাকায় হান্নানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্ত অবস্থানে দাঁড় করাবে।

একই আসনে তৃতীয় শক্তি হিসেবে লড়াই করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলেম ও গবেষক ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী। তিনি রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় শিক্ষা এবং প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করে ক্বাসিমী নিজস্ব জনভিত্তি গড়ে তুলেছেন। বিশ্বনাথ উপজেলা রাজনগর গ্রামের সন্তান ক্বাসিমী একটি সম্মানিত ধর্মীয় পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব মৌলভী আলতাফুর রহমান এবং বড় ভাই মাওলানা শায়েখ হাবিবুর রহমান ফারুক্ব—উভয়েই জামেয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল ছিলেন।

সব মিলিয়ে সিলেট-২ আসনে তিন প্রার্থীর উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই ত্রিমুখী আকার নিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আড্ডা—সব স্থানেই এখন আলোচনায় লুনা, হান্নান এবং ক্বাসিমীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ভোটযুদ্ধ।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনা আপিলের রায় কাল

এই সময় ডেস্ক:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিষয়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন থেকে সৃষ্ট আপিলের রায় আগামী কাল (২০ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। গত ১১ নভেম্বর টানা দশ দিনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ আজকের দিনটিকে রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন।

বহুল আলোচিত এই মামলায় বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামী’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন। ওই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সংযুক্ত করে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০১১ সালের ৩০ জুন এবং একই বছরের ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক এবং আরও একজন ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। ওই রিভিউ আবেদন থেকেই সৃষ্ট আপিল শুনানির জন্য আদালত গত ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন।

এদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সংঘর্ষপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করেন।

আজকের রায় দেশের রাজনৈতিক ও সংবিধানিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


সূত্র: বাসস