আজকের সময়ের সেরা খবর
নতুন করে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রক্ষার অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের

এই সময় ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহল নতুন করে হত্যাকাণ্ডের পথে হাঁটছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সামনে আরও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে, যা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শনিবার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আবারও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করা এবং জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।

তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তাদের আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র, যুব ও নারী সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ আলোচনা সভা ও স্মরণসভা আয়োজন করছে।

“তারেক রহমান দেশে ফিরলে সারা বাংলাদেশ কেঁপে উঠবে” — মির্জা ফখরুল

এই সময় ডেস্ক:


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “তারেক রহমান যেদিন বাংলাদেশে পা দেবেন, সেদিন যেন সারা দেশ কেঁপে ওঠে—সেদিনই বদলে যাবে বাংলাদেশের চেহারা।”

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে নানা বাধা-বিপত্তি ও প্রচারণা চললেও দল কখনও পরাজিত হয়নি। “বিএনপি জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল। আমাদের সাফল্য আসবে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী দর্শন থেকে,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আজ নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। জনগণের অংশগ্রহণে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তার নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।

দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের দৃঢ় মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন নয়; এটি সত্যিকারের নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করেই বিএনপিকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।”

মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাদের অযথা উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন সময় এসেছে জনগণের সামনে বিএনপি কী দেবে, তা তুলে ধরার। তরুণদের করা সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বিএনপিই দেশে বড় বড় সংস্কারের জন্ম দিয়েছে।

এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, খালেদা জিয়ার সময় নারীর শিক্ষা বিস্তার, যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ এবং অর্থনীতির আধুনিকায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ অন্যান্য নেতারা।

ঐক্যবদ্ধ না হলে সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি—নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন তারেক রহমান

এই সময় ডেস্ক:
ঐক্যবদ্ধ হতে ব্যর্থ হলে দলের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কতা দেন।

দলের ভেতর মনোনয়নকে ঘিরে ক্ষোভ–অসন্তোষের বিষয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যা ভালো মনে হয়েছে, সেটাই করা হয়েছে। তোমার এলাকায় যে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে, তাকে হয়তো তুমি চেনো না— কিন্তু তুমি তো কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, কাজ করছ দলের জন্য, ধানের শীষের জন্য। এখানে প্রার্থী মুখ্য নয়; মুখ্য দল, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, মুখ্য ধানের শীষ।”

তিনি আরও বলেন, “সামনের লড়াই অত্যন্ত কঠিন। ঐক্যবদ্ধ না হতে পারলে সামনে ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে। আন্দোলনের সময় যেমন জনগণকে বোঝাতে পেরেছ, তেমনি দেশ গড়ার পরিকল্পনাও তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”

আগামী দুই মাসের কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। আমরা আজ সে প্রতিশ্রুতিই করছি। আশা করি, তোমরা বিশেষ করে ছাত্রদল নেতারা এটি বাস্তবায়নে সফল হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

গণহত্যার অভিযোগে জয়–পলকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এইসময় ডেস্ক:

গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা সংগঠনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

এদিন একইসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ট্রাইব্যুনালের কাছে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তার আবেদনের ভিত্তিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মঞ্জুর করেন আদালত। অন্যদিকে, পলক, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান আগেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন বলে শুনানিতে জানানো হয়।

এর আগে তদন্ত সংস্থা অভিযোগ–সংবলিত প্রতিবেদন প্রধান কৌঁসুলির দপ্তরে দাখিল করে। পরে প্রসিকিউশন আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। প্রক্রিয়া অনুসারে অভিযোগ গ্রহণের পরবর্তী ধাপ হিসেবে অভিযোগ গঠন করা হবে এবং এরপরই মামলার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আদালত জানায়।

নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রস্তুত বিএনপি: মির্জা ফখরুল

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করায় বিএনপি আশাবাদী। তিনি জানান, সামনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে জানাবেন এবং নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আগামী নির্বাচনে যদি জনগণ সমর্থন দেয়, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কারণ দলটির সরকারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুযোগ পেলে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বিএনপি।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন তিনি।

রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়ার বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত সংস্কার কমিশনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো যে সনদে স্বাক্ষর করেছিল, বিএনপি সেই অঙ্গীকার নিয়ে এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রেজা কিবরিয়ার যোগদান শুধু তার নিজ এলাকায় নয়, পুরো দেশেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মেধা ও দক্ষতা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

শুরুতেই ভেঙে পড়ার শঙ্কা: নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ স্থগিত

এই সময় ডেস্ক:

শুরুতেই বড় ধরনের হোঁচট খেল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির নেতৃত্বে গঠনের উদ্যোগ থাকা নতুন রাজনৈতিক জোট। বহু প্রত্যাশিত এই জোটটির গতকাল আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা আর হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে জোটের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হঠাৎই স্থগিত করা হয়।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চার দলের এই জোট গঠনের আলোচনা বেশ জোরদার হয়েছিল। এনসিপি, এবি পার্টি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এই চারটি রাজনৈতিক দল মিলে নতুন একটি বিকল্প ধারা তৈরি করতে চাইছিল। সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলেও শেষ মুহূর্তে এনসিপির আপত্তির মুখে আপ বাংলাদেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। ফলে প্রত্যাশিত জোট গঠনের উদ্যোগ অনিশ্চয়তায় পড়ে স্থগিত হয়ে যায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জোট গঠন প্রক্রিয়া আপাতত পিছিয়েছে। কিছুদিন পর জোটের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে আমরা গণমাধ্যমকে জানাব।’

সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জরুরি বৈঠকে আপ বাংলাদেশকে নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। দলের একটি বড় অংশ আপ বাংলাদেশকে নতুন জোটে নিতে রাজি হয়নি। বৈঠকে বিষয়টি গৃহীত না হওয়ায় এনসিপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়—তারা আপ বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে জোট গঠন করতে আগ্রহী নয়। এই অবস্থায় বাকি দলগুলোও নতুন করে চিন্তায় পড়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা আপ বাংলাদেশকে নিয়ে জোট গঠনকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। তাদের মতে, আপ বাংলাদেশকে রেখে জোট করলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে আপ বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অন্য তিন দল যদি আপ বাংলাদেশ ছাড়া জোটে যেতে রাজি না হয়, তাহলে পুরো জোটই অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে। সেই আলোচনা এখনো চলছে।

ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, ‘জোট গঠনের প্রক্রিয়া পিছিয়েছে। আলোচনা অব্যাহত আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।’ তবে এনসিপি আপ বাংলাদেশকে জোটে নিতে চাইছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এনসিপির পক্ষ থেকে এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।’

সব মিলিয়ে, নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ আপাতত স্থগিত। আলোচনার অগ্রগতি এবং দলগুলোর পারস্পরিক সহমত ছাড়া জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা

এই সময় ডেস্ক:

এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাতে সোমবার গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

ডা. জাহিদ হোসেন জানান, গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড প্রতিদিনই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় সব আধুনিক চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে মনিটর করছেন। চেয়ারপারসন দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন মহান আল্লাহ তাঁকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং সুস্থতার সঙ্গে আবারও জনগণের মাঝে ফিরে আসার তৌফিক দেন।”

এদিকে, রবিবার গভীর রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নেত্রী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে তাঁর সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ইউনিটগুলোও মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখনও গুরুতর পর্যবেক্ষণে থাকলেও চিকিৎসকরা আশাবাদী। তবে তাঁরা বলেছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। তাঁর শারীরিক সুস্থতা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।