আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সথে নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুরি’র মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বিশ্বনাথে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।

সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ মতবিনিময়ে অংশ নেন।

সভায় ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি উপজেলার অন্যতম চ্যালেঞ্জ বাসিয়া নদী দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাসিয়া নদীকে পুনরুদ্ধার করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, প্রয়োজনে নদীর উৎসমুখ খননের কর্মপরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হবে।

এ ছাড়া তিনি উপজেলা সদরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একটি সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য উপজেলা গড়তে প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন নবাগত ইউএনও।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক লেখনী প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক নেতারা ইউএনও’র উদ্যোগ ও পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্বনাথের সার্বিক উন্নয়ন কাজে প্রশাসনের সঙ্গে সবসময় সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বিজয় দিবস উদযাপনে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: সিলেটের বিশ্বনাথে আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দিবস দুটি উদযাপনে ব্যাপক আলোচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে দিবসগুলো পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির।

রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাবেক আহবায়ক গৌছ খান, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিন মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, নায়েবে আমীর মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, সেক্রেটারি মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতের আমীর এইচ এম আখতার ফারুক ও নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহান।

এছাড়াও সভায় দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশলী আবু সাঈদ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহিমা আক্তার, প্রাণীসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন আব্দুল মজিদ উজ্জ্বল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র, বিআরডিবি কর্মকর্তা ওয়ারেসাত আল আমিন ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা শোয়েব আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি’কে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ফুলেল শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বিশ্বনাথে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি’কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাস্টের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি মাফিজ খানের নেতৃত্বে ইউএনও’র দপ্তরে গিয়ে নবাগত কর্মকর্তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পদাধিকার বলে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের স্থানীয় অ্যাডভাইজার কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবিকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাস্ট নেতৃবৃন্দ বিশ্বনাথের শিক্ষা উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন ও সামাজিক সেবায় সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, বিশ্বনাথের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি এবং প্রবাসীদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা বাড়াতে ট্রাস্ট অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নবাগত ইউএনও’র দক্ষ নেতৃত্বে শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং প্রশাসন–প্রবাসী কমিউনিটির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি মাফিজ খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক আব্দুল হামিদ, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুর রহমান, ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর নিশীকান্ত পাল, রামসুন্দর অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ, একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ ও ট্রাস্টের কম্পিউটার প্রশিক্ষক সালেহ আহমদ সাকী।

নবাগত ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি বিশ্বনাথে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ট্রাস্টের ইতিবাচক অবদানকে আন্তরিকভাবে স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন—উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে ট্রাস্টের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সহযোগিতামূলক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলো।

অভ্যন্তরীণ বিরোধ উপেক্ষা করেই সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী

এইসময় ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ এবং অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একাট্টা অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে ৩৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন, সেই তালিকাতেই রয়েছে আরিফুল হকের নাম।

একই অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের আরও তিনটি আসনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে—সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নুরুল ইসলাম এবং হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়াকে। এতে সিলেট-৪ আসনকে ঘিরে চলা দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটল।

মনোনয়নকে ঘিরে তীব্র বিরোধ

গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় সিলেট-৪ আসনটি খালি রেখেছিল বিএনপি। পরে ঢাকায় বৈঠক শেষে সিলেটে এসে আরিফুল হক ঘোষণা দেন—দলের পক্ষ থেকে তাকে সিলেট-৪ আসনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দলের অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি ছিল—আরিফুল হক ‘বহিরাগত’, এই আসনে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করতে হবে।

শুধু বিএনপির নেতারাই নয়, ‘স্থানীয় প্রার্থী’ দাবি তুলেছে জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনও। বুধবার বিকেলে সিলেটটুডের আয়োজিত ‘ভোটের মাঠে’ অনুষ্ঠানে এই দাবির পুনরাবৃত্তি করেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল হাকিম চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও প্রার্থী জয়নাল আবেদিন, এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রাশেল উল আলম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সাঈদ আহমদ।

এই অনুষ্ঠানে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, “এই আসনে আমাদের মাটির সন্তানকেই মনোনয়ন দিতে হবে। বাইরের লোক এলে উন্নয়ন হয় না।”
জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদিনও বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—এই এলাকার সন্তানই এমপি হোক।”
এনসিপির রাশেল উল আলম বলেন, “মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ, চাই লোকাল প্রার্থী।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সাঈদ আহমদ মন্তব্য করেন, “দূরের কেউ হলে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না।”

আরিফুল হকের প্রতিক্রিয়া

মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি উপলক্ষ মাত্র, এই মনোনয়ন সবার। আমরা সবাই ধানের শীষের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, তিনি বহিরাগত নন—“আমি এই মাটির সন্তান। ছাত্রজীবন থেকেই সিলেটের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি ছিলাম—আমাকে বহিরাগত বলা অবান্তর।”

জাতীয় নির্বাচনে ‘বহিরাগত’ বিতর্ককে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“বেগম খালেদা জিয়া তিন আসনে প্রার্থী হয়েছেন, তারেক রহমানও চাইলে যেকোনো আসনে হতে পারতেন—তাদের কি বহিরাগত বলা হবে?”

কারা ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী?

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন—

  • কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী
  • সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সামসুজ্জামান জামান
  • সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম
  • জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী
  • যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা হেলাল উদ্দিন
  • সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী অ্যাড. জেবুন্নাহার সেলিম

বহুদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, স্থানীয় প্রার্থীর দাবি এবং জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ অতিক্রম করেই অবশেষে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে টিকিট পেলেন আরিফুল হক চৌধুরী।

বিশ্বনাথে আমন ধানের বাম্পার ফলন: সোনালি শীষে ভরে উঠেছে মাঠপ্রান্তর, কৃষকের মুখে আনন্দের ঝিলিক


সালেহ আহমদ সাকী
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এখন আনন্দ–উৎসবের আমেজ। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে বাতাসে ভাসছে নতুন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ। চারদিকে শুধু সোনালি রঙের শীষের সমাহার। হাওর, বিল, উঁচুনিচু জমি সবখানেই এখন ধানের সমারোহ। কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। ইতোমধ্যে হাওরের বিশাল অংশে ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। তবে শ্রমিক সংকট থাকার কারণে এবার কৃষকদের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে আধুনিক হারভেস্টার মেশিন। যন্ত্রের সহায়তায় তারা সময়মতো ধান কেটে বাড়িতে তুলতে পারছেন। অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকের গোলায় উঠবে এই ফসল, আর হেমন্তের আগমনে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নবান্নের আমেজ, ঘরে ঘরে চলছে নতুন ধান দিয়ে পিঠা তৈরির উৎসব।
বিশ্বনাথ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একমাত্র পৌরসভা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর আমন ধানের উৎপাদন সত্যিই বাম্পার হয়েছে। আগাম জাতের কিছু ধান পেকে যাওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যে কাটা শুরু করেছেন। তবে প্রধান আবাদি জমির ধান কাটতে আরও প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মতে, ভালো আবহাওয়া, বৃষ্টি কম হওয়া, রোগবালাই কম দেখা দেওয়া এবং কৃষকদের সময়মতো পরিচর্যা সব মিলিয়ে এ বছর ফলন অতীতের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।

Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s.


হাটবাজার গুলোতেও এখন নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। সবচেয়ে আশার খবর হলো বর্তমানে বাজারে ধানের দাম বেশ ভালো। ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়া আগাম ধান কেটে ফেলার ফলে একই জমিতে দ্রুত রবি ফসল যেমন সরিষা, সবজি, ভুট্টা ইত্যাদি আবাদ করতে পারবেন কৃষকেরা।
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট আবাদি জমি রয়েছে ১৭,২০৫ হেক্টর। তার মধ্যে সাধারণত প্রতিবছর ১৭৮ হেক্টর জমি পতিত পড়ে থাকে। রোর মৌসুমে পতিত জমি: ৬,৫২৫ হেক্টর, আমন মৌসুমে পতিত জমি: ৩,৫০০ হেক্টর, তবে এ বছর আমন চাষ হয়েছে বড় পরিসরে ১৩,২৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ৫০ হেক্টরে হাইব্রিড আমন ধান চাষ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাত: ব্রি ধান ১০৩, ব্রি ধান ৯৫, ব্রি ধান ৯৪, ব্রি ধান ৯৩, ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৪৯,বিআর ২২, বি আর ২৩, বিনা ধান ৭, বিনা ধান ১৭ উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে ব্রি ধান ১০৩ ও ব্রি ধান ৪৯ অন্যান্য ধানের তুলনায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
এ মৌসুমে ধানের গড় ফলন দাঁড়িয়েছে হেক্টরপ্রতি ২.৮০ মেট্রিক টন চাউল, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বনাথ কৃষি অফিস জানায়, উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে উপজেলায় খাদ্যঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ধান উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রামের পর গ্রামজুড়ে এখন ধান শুকানোর ব্যস্ততা। গোলা, খলা, আঙিনা, যেখানে জায়গা পাওয়া যায়, সেখানেই নতুন ধান ছড়িয়ে দিচ্ছেন কৃষাণ-কৃষাণিরা। সোনালি রঙের ধানের স্তূপ আর শুকাতে দেওয়া ধানের সারি যেন কৃষকদের বছরের পরিশ্রমের সাক্ষ বহন করছে।
দেওকলস ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক আখতার হোসেন জানান, তিনি এবার প্রায় ৪০ কেদার জমিতে আমন চাষ করেছেন, যার মধ্যে ব্রি ধান ৪৯ জাতের ধানের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে। ধান কাটার পর তিনি সরিষা চাষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কজাকাবাদ গ্রামের হাজী আবুল মনছুর খান বলেন, “এবার ফলন এমন হয়েছে যে চোখ জুড়িয়ে যায়। শ্রমিক কম থাকলেও মেশিনের সাহায্যে ঠিকমতো ধান তুলতে পারছি।”
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: বিল্লাল হোসেন বলেন, এ বছর খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও সন্তুষ্ট।
তিনি জানান, রবি মৌসুমে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,৩০০ হেক্টর। এ মৌসুমে অনাবাদি পতিত জমির পরিমাণ প্রায় ৬৮২০ হেক্টর।
এবার এসব জমিতে ধান, সরিষা, শাকসবজি, ভূট্টা এবং আরও বিভিন্ন উচ্চমূল্যের রবি ফসল আবাদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মাঠজুড়ে সোনালি শীষের সমারোহ, আকাশে ভেসে বেড়ানো ধানের গন্ধ এবং কৃষকদের ব্যস্ততা সব মিলিয়ে বিশ্বনাথ এখন এক উৎসবের উপজেলা। আমন ধানের এ বাম্পার ফলন শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বস্তিই এনে দিচ্ছে না, বরং নতুন মৌসুমে আরও ফসল চাষে তাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামনে রবি মৌসুম, কৃষকদের নতুন স্বপ্ন নতুন ফসলের পথে এই সফলতার ধারাকে ধরে রাখবে এটাই সকলের কাম্য।

সিলেট–২ আসনে উন্নয়ন আর সুশাসনের অঙ্গীকার—অধ্যাপক আব্দুল হান্নান

এই সময় ডেস্ক:

সিলেট-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বিশ্বনাথ উপজেলার কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নির্বাচন, উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনকল্যাণমূলক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জামায়াতে ইসলামী বিশ্বনাথ উপজেলার আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর ভিশন ও জনমুখী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এসময়  তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণই হবে আমার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আমার লক্ষ্য উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে বাসযোগ্য, উন্নত ও আধুনিক উপশহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই আমার একমাত্র প্রতিশ্রুতি।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে সিলেট-২ আসনের দুই উপজেলায় আধুনিকমানের দুটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, অকার্যকর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পুনরায় সচল করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রাত্যহিক জনদুর্ভোগ দূর করতে সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অধ্যাপক হান্নান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত স্থানীয় সমস্যাগুলোর দিক তুলে ধরে বলেন, “এলাকার প্রত্যেকটি সমস্যা আমি চিহ্নিত করেছি। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার টেকসই সমাধান করতে চাই। উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজের উন্নয়নের বড় শক্তি।” বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিশ্বনাথ পৌরসভার আমির মাওলানা এইচ এম আখতার ফারুক, উপজেলার নায়েবে আমির মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, পৌরসভার নায়েবে আমির ও বিশ্বনাথ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুস সোবহান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল মুকসিদ আক্তার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির উপজেলা সভাপতি আশিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্র শিবির পৌরসভার সভাপতি মতিউর রহমান ইমন, উপজেলার পশ্চিম সাথী শাখার সভাপতি শাহ হোসাইন আলী প্রমূখ।

এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, আশিক আলী, তজম্মুল আলী রাজু, প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, সালেহ আহমদ সাকী, রুহেল উদ্দিন, আব্বাস হোসেন ইমরান, মশিউর রহমান, আব্দুস সালাম, বদরুল ইসলাম মহসিন, আব্দুস সালাম মুন্না, তাউফিকুর রহমান হাবিবসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নমূলক চাহিদা ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরলে অধ্যাপক হান্নান সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে লতিফিয়া ইমাম সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে লতিফিয়া ইমাম সোসাইটির ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দৌলতপুর ইউনিয়নের দশপাইকা (পশ্চিম হাটি) জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সাবেক সভাপতি হাফেজ আব্দুল কাদির।

সভায় মাওলানা ফখরুল ইসলামকে সভাপতি, শামছুল ইসলাম জুনেদকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক এবং মাওলানা ইলিয়াস উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—
সহ সভাপতি: ক্বারী ইরশাদ হোসেন, মাওলানা হেলাল আহমদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান। সহ সাধারণ সম্পাদক: মাওলানা আব্দুল আলীম, হাফেজ আব্দুল কাদির। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: মাওলানা জয়নাল আবেদীন। অর্থ সম্পাদক: মাওলানা আব্দুল হামিদ তানজিম। প্রচার সম্পাদক: মাওলানা মুশাররফ হোসেন সিরাজী। সহ প্রচার সম্পাদক: হাফেজ নূর মিয়া
অফিস সম্পাদক: মাওলানা আমির উদ্দিন। সহ অফিস সম্পাদক: হাফেজ শাহজাহান মিয়া
সাহিত্য সম্পাদক: মাওলানা রুহুল আমিন। সহ সাহিত্য সম্পাদক: হাফেজ নাজমুল ইসলাম
সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মাওলানা সালেহ আহমদ।

সোসাইটির উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন হাফেজ আব্দুল কাদির ও মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নতুন কমিটি আগামীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও উন্নয়নমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

বিশ্বনাথে ড. ক্বাসিমীর উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ! মানবিক সহায়তায় প্রশংসায় ভাসছেন প্রবাসী এই শিক্ষাবিদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমীর পক্ষ থেকে শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার এই আয়োজনে স্থানীয় এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্বনাথ পৌর শহরের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কার্যালয়, রামপাশা ইউনিয়নের মাঝপাড়া জামে মসজিদ এবং দশঘর ইউনিয়নের পিরের বাজার এলাকায় তিন দফায় এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল—চাল, ডাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ, যা সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর জন্য বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ পৌর শাখার সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং হাফিজ হোসাইন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন নোমান আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এম. আশরাফুল হক। এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বাসিত ও ক্বারী মাওলানা কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “করোনা, বন্যা কিংবা যেকোনো দুর্যোগে প্রবাস থেকে ড. ক্বাসিমী বিপুল সহযোগিতা পাঠিয়েছেন। আমরা সেই সহায়তা নিজ হাতে পৌঁছে দিচ্ছি অসহায় মানুষের দ্বারে। মানবিকতার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে এবং আগামীতেও ইনশাআল্লাহ চলবে।”

ড. ক্বাসিমীর দীর্ঘদিনের মানবিক উদ্যোগ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এ অঞ্চলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয় অনেকেই বলেন, প্রবাসে থেকেও তিনি সবসময় দুর্গত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা সত্যিই অনুকরণীয়।

খাদ্যসামগ্রী পেয়ে সুবিধাভোগীদের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। তারা প্রবাসী এই শিক্ষাবিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার আশা ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমীর মানবিক উদ্যোগ: দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের মাঝে শীতবস্ত্র উপহার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ড. লুৎফুর ক্বাসীমী। তারই ধারাবাহিকতায় শীতার্ত ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর ) বাদ জোহর বিশ্বনাথ পৌরসভার কারীকোনা এলাকার চাদের হাট রেস্টুরেন্টে এ উপহার সামগ‌্রী বিতরণ করা হয়।
মানবিক এ উদ্যোগের পুরো আয়োজন ও ব্যয়ভার বহন করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সমাজসেবক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত পদপ্রার্থী নেতা ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমী।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কঠোর শীতের এই সময়টিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকেন ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকরা। তাদের কষ্ট লাঘব করতেই ড. ক্বাসীমীর পক্ষ থেকে এ উপহার বিতরণের আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত স্থানীয় সমাজকর্মী ও আয়োজকরা চালকদের হাতে রিকশার লোগো সম্বলিত টি–শার্ট তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী মাওলানা আশরাফুল হক। সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুল বাছিত।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস সিলেট জেলা শাখার দায়িত্বশীল হাফিজ মাওলানা রুহুল আমিন জাকারিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ হোসাইন আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, দশঘর ইউনিয়নের নির্বাহী সদস‌্য মাওলানা শেখ কামরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র খেলাফত মজলিসের সদস্য মো. নোমান আহমদসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, “ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার মানবিক সহায়তা এলাকায় প্রশংসনীয় উদাহরণ তৈরি করেছে। শীত মৌসুমে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সত্যিকারের মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।”

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের হাতে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
উপহার পেয়ে চালকরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আশরাফুল হক।

এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার—আনন্দ উদ্‌যাপন দলের মাঠপর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা

এই সময় ডেস্ক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারা দেশের মতো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা, পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের ১২ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিদ্ধান্তটি প্রকাশের পরপরই বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ উল্লাস ও দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s.

দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কারের শাস্তিতে থাকা এসব নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই কারণে বিভিন্ন সময়ে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, সাবেক আহ্বায়ক গৌছ খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম রুহেল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বসির আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হাফিজ আরব খান, মহিলা সম্পাদক স্বপ্না শাহিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মুমিন খান মুন্না, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাওছার খান এবং খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের খবরে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি তিনি সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও ‘ধানের শীষ’কে শক্তিশালী করতে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বহিষ্কার প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্তে বিশ্বনাথের বিএনপি নতুন উদ্দীপনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।