আজকের সময়ের সেরা খবর
নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

এইসময় ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনীতিকদের জন্য আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের গৃহীত হালনাগাদ প্রস্তুতি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়। বিভিন্ন দেশকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণও জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ব্রিফিংয়ে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ জন কূটনীতিক অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের পরামর্শ অগ্রহণযোগ্য: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

এইসময় ডেস্ক:
বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের কোনো পরামর্শ ঢাকা প্রত্যাশা করে না বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে—এ বিষয়ে প্রতিবেশী কোনো দেশের পরামর্শ আমরা চাই না।”

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত একাধিক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের সময় ভারত নীরব ভূমিকা পালন করেছে। অথচ এখন, যখন বাংলাদেশ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন হঠাৎ করে পরামর্শ আসছে—যা তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য এসেছে, অন্তর্বর্তী সরকার তা প্রয়োজনীয় মনে করে না। “এখন আমরা একটি ভালো নির্বাচনের পথে রয়েছি। এই সময়ে হঠাৎ করে পরামর্শ দেওয়া যুক্তিসংগত নয়,” বলেন তিনি।

তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টির অঙ্গীকার করে আসছে, যেখানে নাগরিকরা মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন—যে পরিবেশ গত ১৫ বছর ধরে অনুপস্থিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় ভারত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা ব্যাপক সমালোচনার বিষয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন

এইসময় ডেস্ক:

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

বুধবার রাতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সেদিন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান দেখতে যান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে টেলিফোনে হাদির সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় তিনি জানান, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জরুরি অস্ত্রোপচার করেন।

পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

ভীতি ছড়াতেই হামলা, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চক্রান্তের জবাব দেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

এইসময় ডেস্ক:

তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এ ধরনের হীন, কাপুরুষোচিত ও চক্রান্তমূলক আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি নির্বাচনমুখী হচ্ছে, ততই একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনের পরিবেশকে ভীতিকর করে তুলতে সহিংসতা ও আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছে। জনগণ যেন আতঙ্কে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে সরে আসে—সে লক্ষ্যেই এসব অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের গণমাধ্যম প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। যদিও গণমাধ্যম বরাবরই গণতন্ত্র চর্চায় একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে এসেছে, তবে ওই সময় সঠিক তথ্য জনগণের সামনে আসেনি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তথ্য প্রচার করা যায়নি, কিংবা প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তথ্য অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে, কোনোভাবেই বিকৃত বা খণ্ডিত নয়। সরকার একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও গণমুখী গণমাধ্যম দেখতে চায়। তথ্য উপস্থাপনায় যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয় এবং জনগণ সঠিক সত্য জানতে পারে—সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

অজামিনযোগ্য মামলায় অপরাধীদের জামিন প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আইনের আওতায় বিচারকের স্বাধীনতা রয়েছে। বিচারক পরিস্থিতি ও মামলার প্রকৃতি বিবেচনায় জামিন দিতে পারেন কিংবা আসামিকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি বলেন, একদিকে বলা হয় বিনা বিচারে মানুষকে কারাগারে রাখা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে জামিন দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

আজ ইসির বৈঠকে তফসিল চূড়ান্তের সম্ভাবনা: ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সংশয়

এইসময় ডেস্ক:

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জটিলতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আজ তফসিল নির্ধারণে বৈঠকে বসছে, সম্ভবত আজই চূড়ান্ত হবে ভোটের তারিখ। তবে রাজনৈতিক মহলে শঙ্কা—উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের সরকারি আশ্বাসের মধ্যেও ভেতরে ভেতরে কিছু মহল নির্বাচন পেছানো বা বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে গণভোট—দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বারবার বলেছেন যে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকারের পরামর্শক পরিমণ্ডলের একটি অংশ এতে অনাগ্রহী বলে একাধিক সূত্রের দাবি। প্রথমবার ক্ষমতার সুযোগ পাওয়া কিছু ব্যক্তি ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চান বলেও মত রয়েছে বিশ্লেষকদের।

জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি করে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত নিয়ে গণভোট কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। “সহজ প্রশ্ন–কঠিন উত্তর”—এ ধরনের প্রশ্নে তৃণমূল জনগণ কতটা সাড়া দেবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই মাসের প্রস্তুতিতে গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনমনে পৌঁছে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দল, সরকার বা ইসির পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে দৃশ্যমান প্রচার-প্রসার বা প্রস্তুতি নেই।

এরই মধ্যে কয়েকটি দল গণভোটে ‘ইতিবাচক রায়’ মিলবে কি না, সে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, গণভোটকে কেন্দ্র করেই কিছু মহল নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নতুন সমীকরণ তৈরি করছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। উন্নত চিকিৎসায় দ্রুত লন্ডনে নেওয়া হতে পারে তাঁকে। এই পরিস্থিতিকে উল্লেখ করে নতুন একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছে, একই দিনে আদালতেও এ নিয়ে আবেদন করা হয়েছে। এমন সময়ে বিএনপি ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, যা বিএনপির সমমনা জোটগুলোর মধ্যে ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়নি।

তাদের বক্তব্য, আগামী কয়েক দিন দেশের রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সময় পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

দেশি-বিদেশি প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা, জটিলতা ও শক্তির লড়াই দেখা যায়। দেশি-বিদেশি স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা যেমন থাকে, তেমনি সরকারের ভেতরেও একাধিক পাসপোর্টধারী কিছু ব্যক্তি নির্বাচন বিলম্বের পক্ষে সক্রিয় থাকতে পারেন। কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ অভিযোগ তুললেও এখনো নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ করেনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি এবং সম্ভাব্য সংকট

১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেন—জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট একই দিনে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু যদি তিনি নির্ধারিত সময়সূচি ধরে রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় ব্যবসায়ীদের কারণ দর্শানোর নোটিস:

এইসময় ডেস্ক:

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই একতরফাভাবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় বস্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়িতে বস্ত্র অধিদপ্তর আয়োজিত কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নিজ সিদ্ধান্তে তেলের দাম বাড়িয়েছে। আমরা তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করেছি এবং একই সঙ্গে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে একটি সভায় উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বোতলের সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি ৬ টাকা এবং খোলা তেলের লিটারপ্রতি ৮ টাকা দাম বৃদ্ধি করে। তবে তার আগের দিন থেকেই বাজারে বোতলের সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৮ টাকা এবং খোলা তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়তে শুরু করে।

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই এ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “তারা আমাদের না জানিয়ে বাজারে দাম বাড়িয়েছে। এটা পুরোপুরি অযৌক্তিক পদক্ষেপ। গতকালই আমরা তাদের কাছ থেকে ৫০ লাখ লিটার তেল টেন্ডারের মাধ্যমে ২০ টাকা কম দামে কিনেছি। যখন সরকার কম দামে তেল কিনতে পারে, তখন বাজারে বেশি দামে বিক্রির যৌক্তিকতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি গতকালই স্পষ্ট করে বলেছি—ব্যবসায়ীদের এ একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


‘নীতিগত ত্রুটি, অদক্ষতা ও দুর্নীতিতে ধ্বংস হয়েছিল পাট শিল্প’

কর্মশালায় দেশের পাট শিল্পের অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, পাটখাত ধ্বংস হওয়ার পেছনে নীতিগত ভুল, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি বড় ভূমিকা রেখেছে।

তিনি জানান, কোনো ধরনের আগাম প্রস্তুতি ছাড়াই পাট শিল্প জাতীয়করণ করা হয়েছিল, যা উদ্যোক্তাদের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জাতীয়করণের পর রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পরিচালিত হয় সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে, যা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “অদক্ষ, অযোগ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাপনায় পাটকলগুলো পরিচালিত হয়েছিল। পাটকে বৈচিত্র্যময় করার যথাযথ পরিকল্পনা ছিল না। উচ্চ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়, যা শিল্পটির পতন ডেকে আনে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পাটখাত নিয়ে আগের ভুল আর হবে না। “আমরা রঙিন স্বপ্ন দেখাতে চাই না। দেশের ৭১টি টেক্সটাইল কলেজ-ইনস্টিটিউটের গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে নিয়ে রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছি, যার ৮৫ শতাংশ আসবে বস্ত্র খাত থেকে।”


বেসরকারিকরণে স্বচ্ছতা: ১৪টি শিল্প ছেড়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে ১৪টি রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এগুলো ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা বহাল: হাইকোর্টের রায় সমর্থন করল আপিল বিভাগ

এইসময় ডেস্ক:

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে করা লিভ টু আপিল খারিজ হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। আদেশের সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ। ইন্টারভেনর হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয় গত মঙ্গলবার। শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই রাষ্ট্রীয় বৈধতার মূলভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সমর্থন থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে, গত ১২ নভেম্বর শুনানিতে আদালত সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেদনে আইনজীবী মহসীন রশিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আসে। পরে আপিল বিভাগ তার কাছে ব্যাখ্যা চান।

গত বছরের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন আইনজীবী মহসীন রশিদ। হাইকোর্ট রিট খারিজ করে মন্তব্য করেন, দেশের জনগণ বৈধতা প্রদান করায় এই সরকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। পরে তিনি আপিল বিভাগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন, যা আজ খারিজ হয়ে যায়।

ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে: নির্বাচন কমিশন

এই সময় ডেস্ক:

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সময়সীমার ইঙ্গিত দেন এবং সম্ভাব্য তারিখও উল্লেখ করেন।

ইসি আনোয়ারুল ইসলামের দেওয়া ইঙ্গিতে জানা যায়, নির্বাচনটি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে হতে পারে। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির সেকেন্ড উইক। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমস্যা নেই।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে এই সময়সীমার এক-দুদিন আগে কিংবা পরে ভোটগ্রহণ হতে পারে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি যেকোনো সময় ভোটের দিন নির্ধারণ করা হতে পারে।

এদিকে, নির্বাচন তফসিল ঘোষণা ও ভোটের তারিখ নির্ধারণে আগামী ৭ ডিসেম্বর কমিশন সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই তফসিলসহ সব গুরুত্বপূর্ণ তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। সম্ভাবনা রয়েছে, দু-তিন দিন ব্যবধানে বা ১১ ডিসেম্বরের দিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একদিনে আয়োজনের কারণে ভোটগ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েও ভাবছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভোটারদের চাপ সামলাতে গোপন কক্ষের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে; এটি বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি বলেন, “যেহেতু একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, তাই ভোটগ্রহণ আরও নির্বিঘ্ন করতে সময় বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথা ভাবছে কমিশন।”

নির্বাচন কমিশনের এসব প্রস্তুতি ও সময়সূচির ইঙ্গিতের মধ্যেই সারাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী আলোচনা আরও তীব্র হচ্ছে।

টঙ্গীতে পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা শুরু শুরায়ে নেজামের তত্ত্বাবধানে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি

এই সময় ডেস্ক:

টঙ্গীর তুরাগ নদীর পূর্ব তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) থেকে শুরায়ে নেজামের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে তাবলীগ জামাতের পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা। মূল বিশ্ব ইজতেমা শুরুর প্রায় ৪০ দিন আগে অনুষ্ঠিত এই জোড় ইজতেমাকে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগামী মঙ্গলবার এ প্রস্তুতিমূলক ইজতেমার সমাপ্তি হবে।

প্রতিবছরই শুরায়ে নেজাম (মাওলানা জোবায়ের আহমেদ অনুসারী) বিশ্ব ইজতেমার আগেই এই বিশেষ আয়োজন করে আসছে। এতে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার তাবলীগ সাথী অংশ নেন এবং বছরের দাওয়াতি কাজের মূল্যায়নসহ পরবর্তী বছরের করণীয় নির্ধারণ করেন।

শুরায়ে নেজামের গণমাধ্যম মুখপাত্র ও সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান,
“বছরের দাওয়াতি কাজের মূল্যায়ন, নির্দেশনা গ্রহণ এবং আগামীর কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে জোড় ইজতেমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আয়োজন।”

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকে আগত তাবলীগ সাথীরা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠের উত্তর–পূর্ব কোণে, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত টিনশেড মসজিদ এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেছেন। সেখানে স্থাপিত মিম্বার থেকে শুরায়ের মুরব্বিরা ধারাবাহিকভাবে বয়ান, নসিহত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

আয়োজকরা জানান, জোড় ইজতেমাকে ঘিরে থাকা-খাওয়া, নামাজ, খুৎবা, বয়ান, যাতায়াত ও নিরাপত্তাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জোড় ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন শুধুমাত্র ৩ চিল্লার সাথী এবং কমপক্ষে এক চিল্লা সময় লাগানো আলেমরা। এতে করে এর স্বতন্ত্র মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় থাকে।

জোড় ইজতেমার মাধ্যমে তাবলীগ সাথীরা সারাবছরের দাওয়াতি কাজের হিসাব পেশ করেন এবং প্রবীণ মুরব্বিদের কাছ থেকে রাহবারী নেয়ার সুযোগ পান। দাঈদের আমল, দাওয়াতের পদ্ধতি, তরতিব এবং দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয়–নিষ্করণীয় বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বয়ান উপস্থাপন করা হয়।

এদিকে, টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান,
মাওলানা জোবায়ের অনুসারীদের এ জোড় ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচন শেষে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রধান পর্ব আয়োজন করা হবে।

প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন সৌদিসহ সাত দেশে স্থগিত, সঠিক ঠিকানার ঘাটতি দায়ী

এই সময় ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না দেওয়ায় সৌদি আরবসহ সাত দেশের প্রবাসীদের নিবন্ধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি–এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালীম আহমাদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিবন্ধনের সময় প্রবাসীরা পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা প্রদান না করায় বাহরাইন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে পোস্টাল ভোট নিবন্ধন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সঠিক ঠিকানা ছাড়া ভোটারদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন ছাড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫০০ জন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন করছে কমিশন। গত ১৯ নভেম্বর থেকে প্রবাসীদের জন্য অ্যাপ-ভিত্তিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এদিকে যেসব দেশে নিবন্ধন স্বাভাবিকভাবে চলছে, তার মধ্যে রয়েছে— দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিশর, মোজাম্বিক, লিবিয়া, মরিশাস, হংকং, ব্রাজিল, উগান্ডা, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, চিলি, সিয়েরা লিওন, ইকুয়েডর, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও বেশ কিছু দেশ।

বাংলাদেশে অবস্থানরত ভোটারদের মধ্যে যারা ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন, সরকারি চাকরিজীবী বা কারাবন্দী— তারা আগামী ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।