আজকের সময়ের সেরা খবর
সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার—আনন্দ উদ্‌যাপন দলের মাঠপর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা

এই সময় ডেস্ক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারা দেশের মতো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা, পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের ১২ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিদ্ধান্তটি প্রকাশের পরপরই বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ উল্লাস ও দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

01

দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কারের শাস্তিতে থাকা এসব নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই কারণে বিভিন্ন সময়ে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, সাবেক আহ্বায়ক গৌছ খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম রুহেল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বসির আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হাফিজ আরব খান, মহিলা সম্পাদক স্বপ্না শাহিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মুমিন খান মুন্না, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাওছার খান এবং খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের খবরে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি তিনি সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও ‘ধানের শীষ’কে শক্তিশালী করতে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বহিষ্কার প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্তে বিশ্বনাথের বিএনপি নতুন উদ্দীপনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।

হাসিনাকে ফেরাতে বাংলাদেশের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত—রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ

এই সময় ডেস্ক:

হাসিনাকে ফেরাতে বাংলাদেশের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত—রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ঢাকা থেকে পাঠানো অনুরোধ পর্যালোচনায় নিয়েছে ভারত। বুধবার (২৬ নভেম্বর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে বাংলাদেশ কোনো অনুরোধ পাঠিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়সওয়াল বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা অনুরোধ পেয়েছি এবং সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে গঠনমূলকভাবে সব পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকব।’

এদিকে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে বাংলাদেশ দুই দফায় চিঠি পাঠালেও ভারত থেকে এখনো কোনো জবাব মেলেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (২৬ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নোট ভারবাল আমাদের মিশনের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো উত্তর আসেনি, এত দ্রুত উত্তর আসার প্রত্যাশাও করি না।’

অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঘোষিত দণ্ডাদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছেন, রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আসামিদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এ সময়সীমার মধ্যে তাদের স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে আপিল করতে হবে। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ ইতোমধ্যে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলেও উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের সড়ক পরিবহনে দীর্ঘদিনের স্থায়ী সমস্যা ‘চাঁদাবাজি’ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও ইতোমধ্যে তা উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। সড়কে অতিরিক্ত চাপ, অবৈধ দাবি এবং বিশৃঙ্খলা রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।’ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিখাতে সারের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে সার মজুত করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সারের ডিলারশিপ প্রদান কোনোভাবেই রাজনৈতিক বিবেচনায় হবে না; এটি সম্পূর্ণভাবে নীতিমালার আওতায় দেওয়া হবে।

সবজি ও নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। বাজারে দাম কমে এসেছে। কিছু ব্যবসায়ী আমদানির জন্য চাপ সৃষ্টি করলেও আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই পথে হাঁটিনি। দেশের বাজারে মুড়ি কাটা নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় চাপ আরও কমবে,’—বলেন তিনি।

আলুর বাজার নিয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আগে আলুর ন্যায্যমূল্য পাননি। বর্তমানে দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা কৃষকের জন্য ইতিবাচক। ডিসেম্বর পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে এবং কৃষকেরা সঠিক দাম পেতে পারেন।’

পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, এসপি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবিসি তিনটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে, যাতে প্রার্থীদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও কর্মসম্পাদন অনুযায়ী ন্যায়সংগত মূল্যায়ন করা যায়। তিনি বলেন, ‘৬৪ জেলার মধ্যে প্রথম ধাপে ১৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ায় মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েননি।’

সিলেট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইর সম্ভাবনা

তৌফিকুর রহমান হাবিব:

সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। বাকি দুই আসনের একটি নিয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ওই আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ নিজ মতো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপর আসনটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জোটসঙ্গী জমিয়ত উল উলামাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে জোরালো হয়েছে। ফলে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি-জামায়াত এবং আরও একটিতে জমিয়ত-জামায়াত মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর), যা বিএনপির গুম হওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখনো এ আসনের সাধারণ মানুষের কাছে ইলিয়াস আলী একটি আবেগের নাম। তাঁর সেই জনপ্রিয়তা ও স্মৃতিকে ধারণ করে বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লুনাকে ঘিরে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এই আসনে লুনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান। মাঠপর্যায়ে তার ছাত্র এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সমর্থকরা মনে করেন, এলাকায় হান্নানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্ত অবস্থানে দাঁড় করাবে।

একই আসনে তৃতীয় শক্তি হিসেবে লড়াই করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলেম ও গবেষক ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী। তিনি রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় শিক্ষা এবং প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করে ক্বাসিমী নিজস্ব জনভিত্তি গড়ে তুলেছেন। বিশ্বনাথ উপজেলা রাজনগর গ্রামের সন্তান ক্বাসিমী একটি সম্মানিত ধর্মীয় পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব মৌলভী আলতাফুর রহমান এবং বড় ভাই মাওলানা শায়েখ হাবিবুর রহমান ফারুক্ব—উভয়েই জামেয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল ছিলেন।

সব মিলিয়ে সিলেট-২ আসনে তিন প্রার্থীর উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই ত্রিমুখী আকার নিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আড্ডা—সব স্থানেই এখন আলোচনায় লুনা, হান্নান এবং ক্বাসিমীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ভোটযুদ্ধ।

শীত এলেই পিঠা–পুলির মৌসুম, ভেজাল গুড়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

এই সময় ডেস্ক:

পৌষ–মাঘ মানেই বাঙালির ঘরে পিঠা–পুলির উৎসব। শীতের আমেজে নানারকম পিঠার স্বাদ নিতে চান সবাই। আর পিঠার নাম আসলেই চলে আসে খেজুরের গুড়ের কথা। কিন্তু বাজারে ভেজালের ছড়াছড়ির কারণে খাঁটি গুড় পাওয়া এখন বেশ কষ্টসাধ্য। আর ভেজাল গুড় খেলে হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা—এমনই সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গুড়ে কী কী ভেজাল মেশানো হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল গুড়ে মেশানো হয় অতিরিক্ত চিনি, বিভিন্ন কৃত্রিম রং এবং কেমিক্যাল। চিনি দিয়ে স্বাদ বাড়ানো হলেও বড় বিপদ আসে রং এবং রাসায়নিক পদার্থ থেকে। এসব ক্ষতিকর উপাদান শরীরে জমে যেতে পারে নানা জটিলতার কারণ।

এছাড়া ওজন বাড়াতে ব্যবহার করা হয় ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, আর চকচকে দেখাতে মেশানো হয় সোডিয়াম বাইকার্বোনেট। ফলে ভেজাল গুড় হয় হলদেটে বা সাদা স্তরযুক্ত, যা আসল গুড়ের প্রাকৃতিক রঙের সঙ্গে মেলে না।

ভেজাল গুড় খেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে

ভেজাল গুড়ে থাকা রাসায়নিক উপাদান স্নায়ুতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত খেলে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকিও।

এ ছাড়া—

  • পেটে গ্যাস, অম্বল, অ্যাসিডিটি
  • বমি, ডায়রিয়া
  • লিভার ও হজমতন্ত্রে জটিলতা

এসব সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কীভাবে চেনবেন আসল গুড়?

বাজারে ভেজালের ভিড়ে খাঁটি গুড় চিনতে কিছু সহজ উপায় রয়েছে—

১. স্বাদ পরীক্ষা
খাঁটি গুড় অত্যন্ত মিষ্টি হয়। ভেজাল গুড়ে থাকে খানিকটা নোনতা বা তেতো স্বাদ। কেনার আগে সামান্য চেখে দেখলে পার্থক্য বুঝে নেওয়া যায়।

২. আঙুলে চেপে দেখুন
আসল গুড় বাইরের দিক থেকে শক্ত লাগলেও ভেতরে নরম ও রসালো হয়। আর ভেজাল গুড় হয় শক্ত, কম নরমাল ও রুক্ষ।

৩. পানির পরীক্ষা
এক গ্লাস স্বচ্ছ পানিতে সামান্য গুড় ফেললে খাঁটি গুড় ধীরে ধীরে গলে যাবে। কিন্তু ভেজাল গুড় পানিতে ফেলে দিলে কেমিক্যাল–মেশানো অংশ তলানিতে জমে থাকবে।

আসল গুড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতাও কম নয়

খাঁটি খেজুরের গুড় শুধু স্বাদেই অনন্য নয়, বরং আয়রন, মিনারেল এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। সঠিক মানের গুড় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।


সতর্কতা: বাজার থেকে গুড় কেনার সময় রঙ, গন্ধ, স্বাদ ও গঠনের দিকে লক্ষ্য রাখুন। পিঠা–পুলির আনন্দ নিশ্চিন্ত রাখতে খাঁটি ও ভালো মানের গুড় বেছে নিন।

সিলেটে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল শিগ্রই শুরু হচ্ছে

এই সময় ডেস্ক:

সিলেট সদর উপজেলার শেষপ্রান্তে ছালিয়া গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে উঠছে অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। সিলেট–কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে কাঁচা-ভাঙাচোরা সড়ক পেরুতেই চোখে পড়ে লাল টিনের সারিবদ্ধ একতলা দৃষ্টিনন্দন ভবন—যেখানে বাস্তবায়িত হচ্ছে সামাজিক সংগঠন ‘ক্যাপ ফাউন্ডেশন’ এর মানবিক উদ্যোগ ক্যাপ ফাউন্ডেশন ভিলেজ দ্য গার্ডিয়ানস’।

১৫০ শতক জায়গাজুড়ে নির্মিত এই শিক্ষা কমপ্লেক্সে ব্রিটিশ কারিকুলামে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শুধু তাই নয়, এখানকার সব শিক্ষার্থীই থাকবে আবাসিক সুবিধায়—থাকা, খাওয়া, শিক্ষা ও পরিচর্যা সবই ফ্রি। প্রথম ধাপে ১০০ জন এতিম শিশুকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাছাই করে ভর্তি করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার ও সিইও আব্দুল নূর হুমায়ুন জানান, এখানে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হবে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা যেন উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সেজন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বৃত্তি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে চাকরি বা কর্মসংস্থানের দিকেও নজর দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষা কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে তিনটি ডরমিটরি, একাডেমিক ভবন, মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন, ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স, স্টাফ হাউস, মসজিদ, দৃষ্টিনন্দন একটি লেক ও প্রশস্ত খেলার মাঠ।
প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর এখন প্রায় শেষের পথে। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যদিও আরও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি আছে।

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের চিফ প্যাট্রন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর জানান, ‘এটি একটি পাইলট প্রকল্প। এই উদ্যোগ সফল হলে আরও কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।’

ক্যাপ ফাউন্ডেশন ২০১২ সাল থেকে সিলেটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির মতো বিষয়ে কাজ করে আসছে। এনজিও ব্যুরো অনুমোদিত এ প্রতিষ্ঠান এবার শিক্ষা ও মানবিক সহায়তায় নতুন দিগন্ত খুলতে যাচ্ছে।


প্রকল্প পরিদর্শনে পর্তুগিজ রাজপরিবারের তিন সদস্য

গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ‘ক্যাপ ফাউন্ডেশন ভিলেজ দ্য গার্ডিয়ানস’ পরিদর্শনে আসেন পর্তুগিজ রাজপরিবারের তিন সদস্য। তাঁরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং লেকের উদ্বোধন করেন। স্মৃতি হিসেবে শিক্ষাপ্রাঙ্গণে তিনটি গাছও রোপণ করেন অতিথিরা।

পরিদর্শনে আসা রাজপরিবারের সদস্যরা হলেন, এইচআরএইচ দ্যুম ডুয়ার্থ পিই ডি ব্রাগানজা,এইচআরএইচ ইসাবেল ইনেস ডি কাস্ত্রো সি. ডি হেরেডিয়া ডি ব্রাগানজা, এইচআরএইচ আফোন্সো ডি সান্তা মারিয়া ডি ব্রাগানজা।

তারা এই উদ্যোগকে ‘অসাধারণ ও মানবিক প্রয়াস’ বলে উল্লেখ করেন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রমে পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের চিফ প্যাট্রন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর, লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম ও সিইও আব্দুল নূর হুমায়ুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিন দাবিতে তিন দিনের কর্মবিরতিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা

এই সময় ডেস্ক:
একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার থেকে ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’–এর ব্যানারে গঠিত বারোটি শিক্ষক সংগঠনের এই কর্মসূচি চলছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহীনুর আল আমিন জানান,
“১১তম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ পদোন্নতির নিশ্চয়তার জন্য সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় রোববার ও সোমবার অর্ধদিবস কর্মবিরতির পর আজ থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।”

ঢাকার কেরানিগঞ্জের বাঘাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরান ঢাকার সুরীটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

ঐক্য পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন,
২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না এলে ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন শুরু করা হবে।

সিলেট, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কর্মবিরতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে ‘দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এখনো ক্লাস চালু রেখেছে

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দাবিতে আন্দোলনকারী আরেক মোর্চা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’–এর শিক্ষকরা এখনও কর্মবিরতি পালন করেননি।

নোয়াখালী সদর উপজেলার ত্রিপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মাসুদ জানান,
“সরকার ১১তম গ্রেডের বিষয়ে অগ্রগতির আশ্বাস দিয়েছে। এজন্য আমরা ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। দাবি আদায় না হলে ৩০ নভেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করব।”

এই মোর্চার শিক্ষকরা গত ৮ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শাহবাগ এলাকায় পুলিশের বাধা, জলকামান, কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। পরে ১০ নভেম্বর সরকারের আশ্বাসের পর তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

আগের কর্মসূচি ও আলোচনার প্রেক্ষাপট

ঐক্য পরিষদের শিক্ষকরা গত মে মাসে ধারাবাহিকভাবে কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। সরকার আলোচনা শুরু করলে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত হয়। পরবর্তীতে শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ ও আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণাও হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সরকারের অনুরোধে স্থগিত রাখা হয়।

১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের উদ্যোগ চলছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চালু আছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান,
“সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তারা বিষয়টি বেতন কমিশনে পাঠিয়েছে। আমরা কেবিনেট ডিভিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় নিয়মিত তদবির করছি।”

দেশজুড়ে ভূমিকম্পে আতঙ্ক— করণীয় জানালো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স

এই সময় ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মাত্র একদিন পর শনিবার (২২ নভেম্বর) আরও তিন দফা হালকা কম্পন অনুভূত হয়। পর্যায়ক্রমে ভূকম্পন অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। ভূমিকম্পের সময় নিজের ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে।

ভূমিকম্পের সময় করণীয়

১. আতঙ্কিত না হয়ে ধীরস্থির থাকুন

ভূকম্পন শুরু হলে প্রথমেই মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। ভবনের নিচতলায় থাকলে দ্রুত নিরাপদ খোলা এলাকায় বের হয়ে যান। ভিড় এড়িয়ে চলুন।

২. বহুতল ভবনে Drop–Cover–Hold পদ্ধতি অনুসরণ করুন

  • নিচু হয়ে বসুন
  • শক্ত টেবিল/ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন
  • টেবিলের খুঁটি শক্ত করে ধরে রাখুন
    এ ছাড়া কলাম বা বিমের নিচে গিয়ে মাথা বাঁচাতে বালিশ, কুশন বা নরম বস্তু ব্যবহার করুন।

৩. লিফট ব্যবহার করবেন না

ভূমিকম্প চলাকালে লিফটে ওঠা বা নামা ঝুঁকিপূর্ণ। কম্পন থেমে গেলে দ্রুত বৈদ্যুতিক সংযোগ ও গ্যাস লাইন বন্ধ করুন।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসপত্র থেকে দূরে থাকুন

বারান্দা, ব্যালকনি, জানালা, আলমারি, বুকশেলফ বা কোনো ঝুলন্ত ভারী জিনিসের কাছ থেকে দূরে অবস্থান করুন। টর্চলাইট, হেলমেট, জরুরি ওষুধ, প্রথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বাঁশি হাতের কাছে রাখুন।

৫. বাইরে থাকলে খোলা স্থানে আশ্রয় নিন

গাছ, উঁচু ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা দেয়ালচাপা পড়তে পারে এমন যেকোনো জায়গা এড়িয়ে চলুন।

৬. গাড়িতে থাকলে নিরাপদ স্থানে থামুন

ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ, বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামান এবং কম্পন শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ির মধ্যেই থাকুন।

৭. আফটারশকের জন্য সতর্ক থাকুন

প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর আবারও কম্পন অনুভূত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ব্রিজ, দেয়াল বা দুর্বল স্থাপনা থেকে দূরে থাকুন, কারণ পরবর্তী কম্পনে এগুলো ধসে পড়তে পারে।

৮. সম্মিলিত সচেতনতাই ক্ষতি কমাতে পারে

নিজে সচেতন থাকার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষকেও সতর্ক করুন। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হটলাইন ১০২ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বনাথে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শীতকালীন সময়ে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পৌর শহরের নতুন বাজার টিএনটি রোড এলাকায় স্তুপ হয়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাসিয়া নদীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সুরমা নদীর সঙ্গে বাসিয়া নদীর সংযোগমুখ পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী দয়াল উদ্দিন তালুকদার এবং গ্রাম আদালতের উপজেলা সমন্বয়কারী সৈয়দ বদরুছ ছালেকীন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবিবুল ইসলাম মেম্বার, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আশিক আলী, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের আহবায়ক মশিউর রহমান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুব, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বদরুন নাহার, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ, ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আক্রামুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নদী সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

সচেতনতা ও দক্ষতা ছাড়া বিদেশযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ: বিশ্বনাথে ইউএনও সুনন্দা রায়

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেছেন, “সচেতনতা ও দক্ষতা ছাড়া বিদেশে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যায় না। বিদেশে যাওয়ার আগে দক্ষতা অর্জন, ভাষা শিক্ষা এবং আইন-কানুন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায়েই ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, বিশেষ করে নারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা—সবার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা বিআরডিবি মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ-ফেরতদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্ট্রিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ইউএনও সুনন্দা রায় আরও বলেন, “বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে ব্র্যাকের গৃহীত মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন প্রবণ এলাকায় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে—যা প্রশংসার দাবি রাখে।”

ব্র্যাকের সিলেট জেলা সমন্বয়কারী মোঃ আরিফ এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রোগ্রাম অর্গানাইজার আনহার আলী এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন—উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল শহিদ হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বদরুন নাহার, দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের রিজিওনাল এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর আরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সৌদি আরব ফেরত লুকসানা বেগম ও লিবিয়া ফেরত রবিউল ইসলাম বিদেশে থাকার সময় নির্যাতন ও দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরেন; যা উপস্থিতদের মধ্যে গভীর আলোচনার জন্ম দেয়।

পরিশেষে ইউএনও সুনন্দা রায় ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের অধীনে বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন।