আজকের সময়ের সেরা খবর
জগন্নাথপুরে শিক্ষিকার অভিযোগে শিক্ষক স্বামী কারাগারে

এই সময় ডেস্ক:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শিক্ষিকা বন্যা রানী দাশের ওপর যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তার স্বামী সহকারী শিক্ষক দ্বিপক দাশকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) জগন্নাথপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দ্বিপক দাশ কচুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্যা রানী দাশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জগন্নাথপুর থানায় মামলা (নং–৮/২০২৫) দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অসিত দাশ বলেন, “আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ন্যায়বিচারের সঠিক প্রতিফলন।”

রসুলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বন্যা রানী দাশ বলেন, “আমি সঠিক বিচার পেয়েছি। আমার ওপর বহু নির্যাতন করা হয়েছে। আমার সন্তান নষ্ট হয়েছে। আদালত আমাকে ন্যায়বিচার দিয়েছেন।”

কৈলাশটিলা-১ কূপে নতুন গ্যাসস্তর, শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে দৈনিক ৫ এমএমসিএফটি

এই সময় ডেস্ক:

সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ডের ১ নম্বর কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শেষে নতুন করে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। খুব শিগগিরই এই কূপ থেকে দৈনিক পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রে মোট ৯টি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬১ সালে ১ নম্বর কূপে প্রথম গ্যাস আবিষ্কৃত হয় এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন অব্যাহত ছিল। পুরোনো কূপগুলোকে সক্রিয় করতে বাপেক্স ২০২৩ সাল থেকে সারাদেশে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শুরু করে। সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের আওতাধীন ১৪টি কূপের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতটির কাজ শেষ হয়েছে—সব কটিতেই নতুন গ্যাসস্তর শনাক্ত হয়েছে।

কৈলাশটিলা-১ কূপে গ্যাস মজুদ নিশ্চিত করে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে গ্যাস পাওয়া গেছে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। কাজ শেষ হলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন।’

সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের সূত্র জানায়, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কূপটিকে উৎপাদনে আনা সম্ভব হবে। প্রায় চার মাস ধরে চলা ওয়ার্কওভার কার্যক্রমে কূপের প্রায় ২২ হাজার ফুট গভীরে নতুন গ্যাসস্তর পাওয়া যায়।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রশিদপুর গ্যাসফিল্ডের ৩ নম্বর পুরোনো কূপ পুনঃচালুর মাধ্যমে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের কূপগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

গত বছরের ২২ অক্টোবর হরিপুর গ্যাসফিল্ডের ৭ নম্বর কূপে খনন শেষে দৈনিক ৭–৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান মেলে। তারও আগে ওই বছরের ২৪ মে কৈলাশটিলা-৮ কূপে পাওয়া যায় ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেট গ্যাসফিল্ডের বিভিন্ন কূপে চলমান অনুসন্ধান ও ওয়ার্কওভার কাজ দ্রুত শেষ হলে শুধুমাত্র এ কোম্পানি থেকেই দৈনিক ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান রয়েছে এসব প্রকল্প।

গত বছর রশিদপুর-২ কূপে ১৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাসস্তরের সন্ধান মিলেছিল। তারও আগে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর হরিপুরের ১০ নম্বর কূপে এবং ২২ নভেম্বর কৈলাশটিলা-২ পরিত্যক্ত কূপ পুনঃচালু করার পর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় গ্যাস আবিষ্কৃত হয়।

উল্লেখ্য, দেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র হরিপুরে ১৯৫৫ সালে গ্যাস পাওয়া যায়। বর্তমানে সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে—হরিপুর, রশিদপুর, ছাতক, কৈলাশটিলা এবং বিয়ানীবাজার; এর মধ্যে ছাতক গ্যাসফিল্ড পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জাতিসংঘের

এই সময় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে মুসলিম রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে, যেখানে ১০৫টি দেশ যৌথ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনে গভীর উদ্বেগ

২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর গৃহীত এ প্রস্তাবে এবারও রাখাইন রাজ্যে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে নিপীড়ন, মানবিক সহায়তায় বাধা এবং বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশে রোহিঙ্গাদের অব্যাহত অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সম্পৃক্ততার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের হতাশা প্রকাশ

প্রস্তাব গ্রহণের পর বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানালেও গত আট বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ জানায়, ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে চলা বাংলাদেশের পক্ষে আর সম্ভব নয়।
অতএব, রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে ফেরাতে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ এখনই প্রয়োজন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত: ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করল আপিল বিভাগ

এই সময় ডেস্ক:


বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পূর্বের রায়কে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত বলেন, “আপিল বিভাগের পূর্বের রায়টি একাধিক ত্রুটিতে ত্রুটিপূর্ণ বলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ রায়টি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো।”

এছাড়া আদালত উল্লেখ করেন, সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছদ ২(ক)–এর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কিত বিধানাবলী, যা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত হয়েছিল, আজকের রায়ের মাধ্যমে তা পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্বহাল হলো।

তবে আদালত স্পষ্ট করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কেবল ভবিষ্যতের নির্বাচনসমূহে প্রয়োগযোগ্য থাকবে।

পুনর্বিবেচনার প্রেক্ষাপট

এর আগে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে গত ২৭ আগস্ট আপিলের অনুমতি দেন আদালত। পরে শুনানি সম্পন্ন করে আজ ২০ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল, এবং নির্ধারিত সময়েই পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে।

দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এমন এই রায়কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনা আপিলের রায় কাল

এই সময় ডেস্ক:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিষয়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন থেকে সৃষ্ট আপিলের রায় আগামী কাল (২০ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। গত ১১ নভেম্বর টানা দশ দিনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ আজকের দিনটিকে রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন।

বহুল আলোচিত এই মামলায় বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামী’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন। ওই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সংযুক্ত করে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০১১ সালের ৩০ জুন এবং একই বছরের ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক এবং আরও একজন ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। ওই রিভিউ আবেদন থেকেই সৃষ্ট আপিল শুনানির জন্য আদালত গত ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন।

এদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সংঘর্ষপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করেন।

আজকের রায় দেশের রাজনৈতিক ও সংবিধানিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


সূত্র: বাসস

ভারতীয় ব্যবসায়িক ভিসা পুনরায় চালু: জরুরি আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াকরণ

এই সময় ডেস্ক:
সীমিত জনবল ও সক্ষমতার মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যু কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে ভারতীয় হাইকমিশন। জরুরি প্রয়োজনের আবেদনের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময় অনুষ্ঠান ‘ফার্মা কানেক্ট’–এ তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তারা অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ভিসা পেতে যে জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা দ্রুত দূর করার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সড়কপথে পণ্য পরিবহন আরও সহজীকরণের দাবি তোলেন অংশগ্রহণকারীরা।

ভারতের আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল মেলা সিপিএইচআই–পিএমইসি ইন্ডিয়া ২০২৫–এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়। আগামী ২৫-২৭ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রদর্শনী।

হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে বর্তমানে সীমিত জনবল দিয়ে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিসা পুনরায় ইস্যু করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ব্যবসায়িক ভিসা এখন আবার ইস্যু করা হচ্ছে এবং জরুরি আবেদনগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে আবেদনকারীরা হাইকমিশনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সুবিধা পাবেন বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ফার্মা কানেক্টের মতো উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা সহযোগিতা ও সাপ্লাই চেইন সংযুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, বাংলাদেশে কাঁচামাল শিল্প বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর ভারত এ ক্ষেত্রে আরও অগ্রসর। স্থলসীমান্ত থাকার কারণে ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানি করলে বাংলাদেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে।

অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. জাকির হোসেন বলেন, ভিসা জটিলতার কারণে এ বছর সিপিএইচআই–পিএমইসি প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ থেকে খুব কমসংখ্যক প্রতিনিধি যাচ্ছেন। সাধারণত কয়েকশ পেশাজীবী অংশ নিলেও এবার মাত্র ৮৩ জন আবেদন করেছেন। ব্যবসায়িক ভিসার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আবেদনকারীদের বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ বিদু‌্যত উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরীর আবেদন

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীন রাজস্ব খাতভুক্ত ‘সাহায্যকারী’ পদে ১ হাজার ৫৯৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হবে ২৪ নভেম্বর।

চাকরির বিবরণ

পদের নাম: সাহায্যকারী

পদসংখ্যা: ১৫৯৬

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি/সমমান বা সরকার অনুমোদিত কারিগরি ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি সমমানের কারিগরি ট্রেড কোর্স পাস। কোনো পরীক্ষাতেই দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণি/সমমানের জিপিএ/সিজিপিএর নিচে নয়।

গ্রেড: ১৯

বেতন স্কেল: ৮,৫০০-২০,৫৭০ টাকা।

বয়সসীমা

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ১৮-৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম

পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি এই লিংকে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন।

আবেদন ফি

পরীক্ষার ফি বাবদ বাবদ ৫০ টাকা, টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬ টাকাসহ মোট ৫৬ টাকা।

আবেদনের সময়সীমা

*আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০টা।

*আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫টা।

শর্তগুলো

১. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে নিয়োগের পর ২ বছর সময়ের মধ্যে তারা নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। ওই প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচিতে অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী তাঁদের সাহায্যকারীর শূন্য পদের বিপরীতে নিয়মিত নিয়োগ প্রদান করা হবে।

২. প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে কোনো কাগজপত্র প্রেরণ করতে হবে না। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদির মূল কপি ও ১ সেট সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।

৩. লিখিত, ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে না।

*বিজ্ঞপ্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইট www.bpdb.gov.bd এবং http://bpdb.teletalk.com.bd এ দেখা যাবে।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

এই সময় ডেস্ক:

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) অডিটোরিয়ামে কোর্স–২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের তরুণ সামরিক অফিসারদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, “দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি।”

তিনি জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং আমি তাদের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করি।”

এবারের কোর্সে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ ২৪টি দেশের মোট ৩১১ জন তরুণ সামরিক অফিসার অংশ নেন। কোর্স সম্পন্নকারী অফিসাররা জানান, অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে তাদেরকে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশি এক অফিসার বলেন, “ডিএসসিএসসির নেতৃত্ব ও কৌশল প্রশিক্ষণ আমাদেরকে দেশ-বিদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করেছে। বিশেষ করে জাতীয় সংকটে এ জ্ঞান প্রয়োগে আমরা প্রস্তুত।”

চীনের এক অফিসার মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। বিভিন্ন দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করেছে।”

বাংলাদেশি আরেক অফিসার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। দেশ রক্ষায় এবং প্রয়োজনে সুষ্ঠু নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে ভূমিকা রাখব।”

ধ্বংসের মুখে হাছন রাজার বাড়ি, পুনর্গঠনে উদ্যোগ নিয়েছেন উত্তরাধিকারীরা

সালেহ আহমদ সাকী
‘লোকে বলে, বলেরে ঘর-বাড়ি ভালা না আমার, জানতো যদি হাছন রাজা বাঁচব কতদিন, বানাইতো দালান-কোঠা করিয়া রঙিন।’
মরমি কবি হাছন রাজার এই অমর পঙ্ক্তি যেন আজ বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁরই জন্মভিটায়। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সেই বাড়িটি আজো রয়েছে জরাজীর্ণ ও ভগ্নদশায়।
বিলুপ্তির পথে হাছন রাজার শতবর্ষ পুরনো এই বাড়ি এখনো টানে হাজারো পর্যটককে। কিন্তু ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় থাকা বাড়িটি দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান অনেকে। তবে এবার আশার আলো দেখাচ্ছেন হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ । তারা আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর আয়োজনে ‘হাছন উৎসব’ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এব্যপারে হাছন রাজার উত্তরাধিকারী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরীও
হাছন রাজার বাড়িটি সংস্কার করে লাইব্রেরি, মিউজিয়াম ও সুফিবাদ দর্শনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এতে হাছন রাজার দর্শন, জীবনবোধ ও লোকসংগীতচর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্ম নেন মরমি কবি হাছন রাজা। ১৮৬৯ সালে তার পিতা আলী রাজার মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তার বড় ভাই ওবায়দুর রেজা মারা যান। পিতা ও ভাইয়ের জমিদারিস্থল রামপাশায় মাত্র ১৫ বছর বয়সেই হাছন জমিদারিতে অভিষিক্ত হয়েছিলেন। অপরিপক্ব বয়সে লক্ষনশ্রী ও রামপাশার বিশাল জমিদারির একক আধিপত্য পেয়ে হাছন রাজা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। যৌবনে তিনি ছিলেন ভোগ-বিলাসী এক শৌখিন জমিদার। বর্ষায় বজরা নৌকা সাজিয়ে গান-বাজনায় ঘুরে বেড়াতেন। বিলাসী জীবনের মাঝে আধ্যাত্মিক বোধের জন্ম নেয় তার মনে। জমিদারির বিলাসী পোশাক ছেড়ে নেন সাধারণ পোশাক। তিনি জমিদার থেকে হয়ে ওঠেন এক সুফি সাধক । বাউল জীবন বেছে নিয়ে একের পর এক গান রচনা করতে থাকেন। তাঁর গান আজও বাঙালির হৃদয়ে অনুরণিত।
সরেজমিন দেখা যায়, রামপাশার ঐতিহাসিক বাড়িটিতে এখন ধ্বংসাবশেষ ছাড়া তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। আগাছায় ঢাকা জায়গায় রয়েছে দুটি জরাজীর্ণ কক্ষ, একটি ছাদবিহীন ঘর ও লতাগুল্মে ঘেরা ভাঙা দেয়াল। রয়েছে জমিদার আমলের বিশাল দীঘি ও রাজপরিবারের পুরনো কবরস্থান।
বছরজুড়ে দেশ-বিদেশ থেকে হাছন অনুরাগীরা বাড়িটি দেখতে এলেও, সংরক্ষণের অভাবে সেটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ হাছন রাজার শেষ স্মৃতিচিহ্নটি রক্ষায় কার্যকর কোনো সরকারি উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি।

হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী বলেন, “হাছন রাজার সুফিবাদ ও মরমি দর্শন, সৃষ্টিকর্তা ও পরকালকেন্দ্রীক দর্শনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আমরা আয়োজন করছি হাছন স্মরণোৎসব। এটি হবে বাঙালি লোকসংস্কৃতির এক নবজাগরণের উৎসব।”
এব্যপারে হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোলেমান হোসেন চুন্নু বলেন “হাছন রাজার গান, ভাবনা ও দার্শনিক চেতনা গবেষণা, চর্চা ও প্রকাশে সরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। গ্রামীণ সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলোতে হাছনের গান নিয়মিত পরিবেশিত হোক, যাতে নতুন প্রজন্ম নিজের শিকড়কে চিনতে পারে।”

বিশ্বনাথ থিয়েটারের সভাপতি ও চাউলধনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আনহার আলী বলেন, “লোকসংগীতের মূল সূর, হাছনের ভাব ও তাঁর সহজ সরল জীবনের দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। হাছন উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি সংস্কৃতি জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠবে।”


যে কবি নিজেই বলেছিলেন, ‘ঘরবাড়ি ভালা না আমার’, শত বছর পর তাঁর সেই কথাই যেন বাস্তবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তবে উত্তরসূরি ও সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে যদি এবার সংস্কারের কাজ সফল হয়, তবে হয়তো আবারও রামপাশা গ্রাম ভরে উঠবে হাছনের গানে, দর্শনে ও লোকসংস্কৃতির আলোয়।

জাপানের ওইতায় ভয়াবহ অ গ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেল ১৭০টির বেশি ভবন, নিখোঁজ ১

এই সময় ডেস্ক:
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ওইতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭০টিরও বেশি ভবন পুড়ে গেছে। আগুন রাতভর জ্বলতে থাকার পরও স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় অগ্নি নির্বাপণ সংস্থা। বুধবার (১৯ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

জাতীয় অগ্নি নির্বাপণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওইতা শহরের সাগানোসেকি এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৭৫ বাসিন্দাকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এখনো একজন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে—শহরজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া, পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ এবং আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের ছুটোছুটি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওইতা প্রিফেকচারের অনুরোধে একটি সামরিক অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

কিউশু দ্বীপে অবস্থিত পাহাড়ঘেরা উপকূলীয় শহর ওইতা রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি সাগানোসেকি মৎস্যবন্দর এবং উচ্চমানের ম্যাকারেল মাছের উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।