আজকের সময়ের সেরা খবর
ইলিয়াস আলী গুম: জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য, দায় এড়াতে অন্যদের দিকে ইঙ্গিত মামুন খালেদের

এইসময় ডেস্ক:

সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ-কে গ্রেপ্তারের পর বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। বর্তমানে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে তিনি দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন অন্যদের ওপর। তবে একই সঙ্গে তিনি গুমের নেপথ্য, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছে ডিবি।

‘আগেই ছিল গুমের সংকেত’

গোয়েন্দাদের কাছে শেখ মামুন খালেদ দাবি করেছেন, ইলিয়াস আলীকে গুম করার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেয়া হয়েছিল। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, টিপাইমুখ বাঁধ এবং প্রতিবেশী একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন এম ইলিয়াস আলী। এসব ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলায় তিনি তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়েন।

তার দাবি অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইলিয়াস আলীকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে গুমের নির্দেশ দেন।

র‌্যাব-ডিজিএফআইয়ের যৌথ অভিযান?

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গুমের পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে র‌্যাব-১-এর একটি বিশেষ টিম, যাদের সহযোগিতা করে ডিজিএফআইয়ের কিছু কর্মকর্তা। এ মিশনের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।

তার ভাষ্যমতে, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেয়া হয় এবং র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে নির্যাতনের পর ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে কোনো এক সময় তাকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে মরদেহ ফেলে দেয়া হতে পারে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে।

রিমান্ডে নতুন তথ্য, বাড়ছে নজরদারি

প্রথম দফায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আবারও ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে শেখ মামুন খালেদ স্বীকার করেছেন, গুমের জন্য ডিজিএফআই ও র‌্যাবের একটি বিশেষ টিম আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং সার্বিক নির্দেশনা তিনিই দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের বেশ কয়েকজন সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। তবে অভিযুক্তদের কেউ কেউ দেশত্যাগ করেছেন, কেউ গা-ঢাকা দিয়েছেন, আবার কেউ অবসর নিয়েছেন।

১৪ বছরেও অমীমাংসিত রহস্য

২০১২ সালে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ইলিয়াস আলী বেঁচে আছেন নাকি নিহত হয়েছেন—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তার পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। দীর্ঘ সময়েও এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ বিএনপি ও পরিবারের।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রশ্ন তোলেন, “আমার স্বামী ইলিয়াস আলী কোথায়?”

অপহরণের রাতের বর্ণনা

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে তৎকালীন শেরাটন হোটেল (বর্তমান ইন্টারকন্টিনেন্টাল) থেকে বৈঠক শেষে রাত ১১টার দিকে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন ইলিয়াস আলী। এসময় থেকেই তাকে অনুসরণ করা হচ্ছিল।

মহাখালী হয়ে বনানীর ২ নম্বর সড়কে পৌঁছালে তার গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে থামানো হয় এবং ড্রাইভারসহ তাকে তুলে নেয়া হয়। পরে তাদের র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিতর্কিত বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা বাতিল: মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

এইসময় ডেস্ক:

বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি-এর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অ্যাডলফ হিটলারকে প্রশংসা এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে প্রায় ১ কোটি অনুসারী থাকা এই ধর্মীয় বক্তা বিভিন্ন সময় এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন।

অস্ট্রেলিয়া সফরের অংশ হিসেবে ‘লেগাসি অব ফেইথ’ শিরোনামে একটি বক্তৃতা সিরিজে অংশ নিতে তার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ক্যানবেরা সফরের পরিকল্পনা ছিল। তবে সফর চলাকালীন সময়েই তার ভিসা বাতিল করা হয় এবং তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এর আগে তাকে যুক্তরাজ্য-এ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশেও উগ্র বক্তব্যের অভিযোগে জনসম্মুখে বক্তব্য প্রদানে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল দলের সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বলেন, আজহারির সফর নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন গোষ্ঠী সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছিল। তিনি জানান, বাংলাদেশভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজসহ একাধিক সংগঠন থেকে এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

ডেইলি মেইল এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালে আজহারি ইহুদিবিদ্বেষী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেন এবং হলোকাস্ট-সংক্রান্ত বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি অ্যাডলফ হিটলার-কে ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তিনি ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ এবং ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

বিশ্বনাথে বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলাধামের মন্দির চুরি, অভিযোগ দায়ের

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুরস্থ ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরে’ দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি মানিক লাল দে।
লিখিত অভিযোগে মানিক লাল দে উল্লেখ করেছেন, গত ২৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরের পুরোহিত ও লিখিত অভিযোগের স্বাক্ষী অনন্ত পাঠক পুজারী মন্দিরের পূজা শেষে মন্দির বন্ধ করে নিজের বাড়িতে চলে যান। পরদিন (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অভিযোগের ৩নং স্বাক্ষী রবিন্দ্র দেব নাথ ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান মন্দিরের পুরোহিত অনন্ত পাঠক পুজারীর শয়ন কক্ষের বেন্ডিলেটর ভাঙ্গা ও ভিতরের সকল দরজা খোলা এবং মন্দিরে থাকা ১টি সিলিং ফ্যান, ১টি ইলেকট্টিক কেটলি, ১টি ছরতা, ১টি পেশার মাফার মেশিন ও মন্দিরের বাহিরে থাকা স্ট্রীলের ১৯টি পানির ট্যাব, বৈদ্যুতিক ওয়ার নেই।
পরবর্তিতে মন্দিরে চুরির বিষয়টি অভিযোগের বাদী জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে এবং দেশের বাহিরে থাকা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রল্লাদ চন্দ দেব’র সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা শেষে তদন্ত সাপেক্ষে চুরির সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে বাদী নিজের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
মন্দিরে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিশ্বনাথে সম্ভাব্য পৌর মেয়র পদপ্রার্থী শাহ তাজুলের ‘কোরআন শরীফ’ বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ তাজুল ইসলামের উদ্যোগে এবং তারুণ্যদীপ্ত সামাজিক সংগঠন রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ‘প্রজেক্ট আল কোরআন বিতরণ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পৌর শহরের বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রে ৩৫ কপি নূরানী কোরআন শরীফ বিতরণ করা হয়েছে।

এর আগে সংগঠনটির উদ্যোগে ছয় ধাপে উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, কোরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও এতিমখানায় নূরানী কোরআন শরীফ বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ম ধাপে বিশ্বনাথ পৌরসভার মিয়াজানেরগাঁও গ্রামের কৃতি সন্তান ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী শাহ তাজুল ইসলামের উদ্যোগে এ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) পৌর শহরের বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক মাওলানা আমিনুল ইসলামের হাতে ৩৫ কপি নূরানী কোরআন শরীফ তুলে দেওয়া হয়।

রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সাব্বিরের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম দুলাল, সাবেক শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নাহিদ আহমেদ সুয়েব, সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান, প্রিন্ট ও মিডিয়া সম্পাদক আল হাদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে শাহ তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি আমৃত্যু ইসলামিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান। এজন্য তিনি সর্বমহলের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি কোরআন শরীফ বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।

অন্যদিকে, কোরআন শরীফ বিতরণের মতো মহতী কাজে সংগঠনকে সম্পৃক্ত রাখায় রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শাহ তাজুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

শমশেরনগরে উপবন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন, ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল সিলেট রেল যোগাযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিবেদক:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর রেলস্টেশনের অদূরে কালিপুর এলাকায় সিলেটগামী আন্তনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক যাত্রী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার শমশেরনগর এলাকার পূর্ব কালিপুর গ্রামে চলন্ত ট্রেনটির ইঞ্জিনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন থেকে মবিল পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ট্রেনটি থামানো হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন জানান, ইঞ্জিন বিকলের কারণে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে উপবন এক্সপ্রেস ছাড়াও সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর কালনি এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী মাস্টার সাগর কুমার সিংহ বলেন, সিলেট থেকে আসা ঢাকাগামী কালনি এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ব্যবহার করে আটকে পড়া উপবন এক্সপ্রেসকে উদ্ধার করে শমশেরনগর স্টেশনে আনা হয়। পরে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে সিলেট থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন এনে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যে পাঠানো হবে।

সিলেটসহ ৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টি আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

এইসময় ডেস্ক:

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সিলেটসহ ৬ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ রয়েছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।

এই পরিস্থিতিতে দেশের সব বিভাগেই আগামী কয়েক দিন অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

সতর্কতা: ঝড়ের সময় নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গণতন্ত্র, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া: সম্ভাবনা নাকি হুমকি?

এইসময় ডেস্ক:

গণতন্ত্রে গণমাধ্যমকে বলা হয় “চতুর্থ স্তম্ভ”। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মুক্ত গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা অপরিহার্য। কারণ, গণমাধ্যমই রাষ্ট্রক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে। তাই ইতিহাস বলছে, যখনই কোনো স্বৈরাচারী বা অবৈধ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখনই প্রথম আঘাত এসেছে গণমাধ্যমের ওপর—সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে।

কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব এই বাস্তবতায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। এখন তথ্যপ্রবাহ আর কেবল মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছে তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে যেসব দেশে গণতন্ত্র দুর্বল এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত, সেখানে সোশ্যাল মিডিয়াই জনগণের প্রধান তথ্যের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরব বসন্ত থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেও এর প্রভাব অনস্বীকার্য। কিন্তু এই সম্ভাবনার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ভয়াবহ এক সংকট।

সমস্যা হলো—সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যের কতটা সত্য, আর কতটা অপপ্রচার? বাস্তবতা হচ্ছে, এখন সত্যের চেয়ে মিথ্যা, তথ্যের চেয়ে গুজব এবং যুক্তির চেয়ে উত্তেজনাই বেশি ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় একটি অংশ আজ “ভিউ” ও “ভাইরাল” ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। যাচাইবাছাই ছাড়া চটকদার ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে অনেকেই অর্থ উপার্জন করছে। ফলে সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভাজন।

আজকের বাস্তবতায় সোশ্যাল মিডিয়া একদিকে যেমন তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতা দিয়েছে, অন্যদিকে এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক সহিংসতার ভার্চুয়াল মঞ্চ। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই কাউকে “দালাল”, “দেশদ্রোহী” বা “গুপ্তচর” বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, চরিত্রহনন, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য—সবই এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে নারী রাজনীতিকদের প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, তা সভ্য সমাজে অকল্পনীয়।

ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার)—সব জায়গাতেই যুক্তির জায়গা দখল করে নিচ্ছে গালাগালি। রাজনৈতিক মতবিনিময়ের জায়গা হয়ে উঠছে অপসংস্কৃতির কেন্দ্র। দলনিরপেক্ষ মত প্রকাশ করলেই প্রশ্ন ওঠে—“আপনি কোন দলে?” ভিন্নমত মানেই শত্রুতা—এমন এক অসহিষ্ণু সংস্কৃতি সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সংগঠিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই ‘ডিজিটাল বাহিনী’ মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করছে এবং সত্যকে আড়াল করছে।

মিথ্যা তথ্য বা ‘ডিসইনফরমেশন’ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে বড় হুমকি। এটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় সরাসরি সহিংসতায় রূপ নেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুজবের কারণে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বাংলাদেশেও ফেসবুকভিত্তিক গুজবের জেরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে—যা আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেলিং ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো অপরাধও বেড়ে গেছে। ভুয়া প্রোফাইল, বিকৃত ছবি বা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সামাজিক মাধ্যমে “বিচার” করার প্রবণতা তৈরি করেছে—যা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি।

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কেবল তথ্যপ্রবাহই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন হবে। সবচেয়ে বড় কথা, হুমকির মুখে পড়বে আমাদের গণতন্ত্র।

তাই এখনই সময় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার।

প্রথমত, নাগরিকদের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের অ্যালগরিদমে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং ভুয়া তথ্য দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজকে অনলাইনে সহনশীলতা ও সত্যনিষ্ঠার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
চতুর্থত, সরকারকে এমন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

গণতন্ত্র কোনো সহজলভ্য অর্জন নয়; এটি বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল। দায়িত্বহীনতা, অপপ্রচার ও ভিউ-নির্ভর সংস্কৃতির কাছে এই অর্জনকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে এর নৈরাজ্য রোধ করতেই হবে—এখনই, দৃঢ়ভাবে।

বিশ্বনাথে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় রোমান আহমদ (২০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (আজ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার বড়খুরমা এলাকায় নিজ ঘরের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আব্দুল হামিদের সর্ব কনিষ্ঠ ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১ টা পর্যন্ত রোমান আহমদের কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে তাকে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম জানান, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানায় পুলিশ।

ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন শিক্ষা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

এইসময় ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে জরুরি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তর শুরু করেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে সশরীরে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সম্প্রতি Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

এই হুমকির প্রেক্ষিতে লেবাননের American University of Beirut (এইউবি) সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইভাবে Lebanese American University-ও জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সাময়িকভাবে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ক্লাস চালাবে।

অন্যদিকে, Qatar News Agency-এর তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই কাতার সরকার দেশটির সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনলাইন শিক্ষা চালুর নির্দেশ দেয়। এর আওতায় রয়েছে Georgetown University in Qatar, Texas A&M University at Qatar এবং Virginia Commonwealth University School of the Arts in Qatar-এর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ও চলতি মাসের শুরু থেকে একই ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

আইআরজিসির সরাসরি হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা খাত এখন গভীর অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন, অনেকেই ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় অবস্থান করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষণা কার্যক্রম, ল্যাব ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়ছে।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক সংঘাতে শিক্ষাঙ্গনকে জড়িয়ে ফেলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।

তেল না পেয়ে ট্রাকচাপায় পাম্প ম্যানেজারকে হ*ত‌্যা, চালক গ্রেপ্তার

এইসময় ডেস্ক:

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুরে এক ভয়াবহ ঘটনায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সরদার ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

নিহত নাহিদ সরদার নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লী গ্রামের আকরম সরদারের ছেলে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার সঙ্গী জিহাদুল ইসলাম, তিনি তুলারামপুর গ্রামের জহুরুল মোল্যার ছেলে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পেট্রোল পাম্পের ক্যাশিয়ার মো. জসিম উদ্দীন জানান, ঘটনার আগে ট্রাকচালক সুজাত পাম্পে তেল নিতে আসে। কিন্তু পাম্পে তেল না থাকায় তাকে তেল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে পাম্প ম্যানেজার নাহিদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চালক সুজাত নাহিদকে ট্রাকচাপা দেওয়ার হুমকি দেয়।

পাম্পের অপর কর্মচারী সোহান ইসলাম বলেন, হুমকি দেওয়ার পরও সুজাত পাম্প এলাকায় অবস্থান করছিল। পরে রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের দিকে নাহিদ কাজ শেষ করে জিহাদুলকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলে সুজাত ট্রাক নিয়ে তাদের পিছু নেয়।

সন্দেহ হলে পাম্পের কর্মচারীরা মোটরসাইকেলে করে ট্রাকটির পেছনে ধাওয়া করেন। কিছু দূর যাওয়ার পর তারা দেখতে পান, সুজাত ট্রাক দিয়ে নাহিদকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদের মৃত্যু হয় এবং জিহাদুল গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে র‌্যাব যশোরের বাঘারপাড়া এলাকা থেকে ঘাতক ট্রাকচালক সুজাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।