আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে জমজমাট ‘বিজ্ঞান মেলা’র উদ্বোধন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘বিজ্ঞান মেলা’। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি।

‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তারা ১২টি স্টলের মাধ্যমে নিজেদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প ও মডেল প্রদর্শন করে উপস্থিত দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

উদ্বোধন শেষে ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা ছাড়া আধুনিক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বদিউজ্জামান, আইসিটি কর্মকর্তা শোয়েব আখতার, একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল হামিদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, সদস্য সুজিত দেব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

মেলাটি আগামী কয়েকদিন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

সংসদে আল্টিমেটাম নয়, রাজপথে দিন—স্পিকারের কড়া বার্তা

এইসময় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদে আল্টিমেটাম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়। এখানে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আলোচনা করা হচ্ছে।”

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান-কে উদ্দেশ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রফিকুল ইসলাম খান। তিনি দাবি জানান, অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যেই মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

জবাবে স্পিকার বলেন, বিষয়টি ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এর মধ্যে পড়ে না। তবে এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সংসদের ভেতরে এমন উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বনাথে ভক্তি-ভাবগম্ভীর পরিবেশে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন, আলোচনা সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান

বিশ্বনাথপ্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক আবহে উদযাপিত হয়েছে মহান আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেব-এর ১৯১তম আবির্ভাব তিথি ও  শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্রের ৩য় বার্ষিক উৎসব। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, ধর্মীয় পাঠ ও ভক্তিমূলক আয়োজন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিশ্বনাথ মডেল মন্দির প্রাঙ্গণে “শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্র, বিশ্বনাথ”-এর উদ্যোগে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির এলাকা। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠ, প্রার্থনা ও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন।

“শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠচক্র, বিশ্বনাথ”-এর সদস্য সুব্রত ধর বাপ্পির সভাপতিত্বে এবং একান্ত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবা সমিতি-এর অধ্যক্ষ স্বামী বেদময়ানন্দ মহারাজ।

তিনি বলেন,“রামকৃষ্ণ পরমহংস মানবতার কথা বলেছেন, ভালোবাসার কথা বলেছেন। তাঁর জীবন ও দর্শন আমাদেরকে ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবসেবা এবং আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। বর্তমান বিশ্বে তাঁর আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।”

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে—এটাই ছিল রামকৃষ্ণের মূল বার্তা।

সম্মানিত অতিথিদের বক্তব্যে ময়মনসিংহ রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম-এর উপাধ্যক্ষ স্বামী হরিপ্রেমানন্দ মহারাজ বলেন, “রামকৃষ্ণের জীবন আমাদের দেখায় কিভাবে সরলতা ও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরপ্রাপ্তি সম্ভব। তাঁর আদর্শ তরুণ সমাজকে নৈতিকতার পথে পরিচালিত করতে পারে।” এ সময় তিনি আরো বলেন, “মানুষের সেবাই পরম ধর্ম—এই শিক্ষা ধারণ করলেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

এছাড়া সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম-এর স্বামী পরতরানন্দ মহারাজসহ অন্যান্য বক্তারা রামকৃষ্ণের জীবন, কর্ম ও দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কথামৃত পাঠচক্রের সিনিয় সদস্য শ্রী নিশী কান্ত পাল ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কথামৃত পাঠচক্রের সদস্য ঝুটন চৌধুরী,প্রমূখ।

এছাড়া বিশ্বনাথ, উসমানীনগর, জগন্নাথপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে রামকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। ভক্তদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়, যেখানে ছড়িয়ে পড়ে শান্তি, ভক্তি ও মানবতার বার্তা।

হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ধসে পড়ল ভবন, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ, চলছে প্রাণপণ উদ্ধার অভিযান

এই সময় ডেস্ক:

ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠেছে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা। হামলার সরাসরি আঘাতে একটি পাঁচতলা ভবন মুহূর্তেই ধসে পড়ে, আর তাতেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে যান বহু মানুষ। ঘটনাস্থলে শুরু হয়েছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবন বাঁচানোর মরিয়া লড়াই।

ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের এক কর্মকর্তার বরাতে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে ‘আপ্রাণ চেষ্টা’ চালাচ্ছেন। ভারী কংক্রিট আর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করতে চলছে টানা অভিযান।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল একের পর এক হামলার মুখে পড়ছে। তবে সাম্প্রতিক এই হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করেছে।

ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইয়োদিয়থ আহরোনাথ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা—আর প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠছে বাঁচা-মরার লড়াই।

ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবি: নিখোঁজ অন্তত ৭০ অভিবাসন প্রত্যাশী

এইসময় ডেস্ক:

ভূমধ্যসাগরে একটি নৌযান ডুবির ঘটনায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইতালীয় এনজিও মেডিটেরিনিয়া সেভিং হিউম্যান।

সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানায়, শনিবার বিকেলে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ (সার) জোনে একটি কাঠের নৌযান ডুবে যায়। নৌযানটি তাজাউর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং এতে শিশু, নারী ও পুরুষসহ মোট ১০৫ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে লিবিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে, বৌরি অয়েল ফিল্ড-এর নিকটবর্তী এলাকায়।

এনজিওটির তথ্য অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া নৌযান থেকে ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃতদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায়-তে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এক্সবার্তা-এর বরাতে জানা গেছে, জীবিতদের দাবি অনুযায়ী নৌযানটিতে মোট ১৮০ জন আরোহী ছিলেন এবং কোস্টগার্ড পৌঁছানোর আগেই প্রায় ৮০ জন সাগরে ডুবে যান।

নিখোঁজদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসননীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন আসন্ন উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল আড়াইটার দিকে পৌর শহরের বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ রোডের একটি পার্টি সেন্টারে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি তিনি পরিবারকেও সুশিক্ষিত করেছেন। এখন ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বাইরে গিয়ে তিনি বিশ্বনাথবাসীর কল্যাণে কাজ করতে চান। এ লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও পরামর্শকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকরাই জাতির বিবেক। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়েই বিশ্বনাথকে এগিয়ে নিতে চাই।”

নিজেকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর একজন একনিষ্ঠ কর্মী দাবি করে তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর সময়কালে এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে, পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। তিনি পুনরায় উন্নয়নের সেই ধারা ফিরিয়ে আনতে চান। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানান।

মুজিবুর রহমান আরও বলেন, তিনি দৌলতপুর ইউনিয়নের পুরাণ হাবড়া বাজারে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং যুক্তরাজ্যে আরও একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা ক্রয় করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, নির্বাচিত হলে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দের শতভাগ কাজ নিশ্চিত করবেন। প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত অর্থ থেকেও উন্নয়ন কাজে ব্যয় করতে প্রস্তুত আছেন।

সভায় বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রার্থীর ঘনিষ্ঠজন আব্দুর রুপ ও মো. শফিকও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

নিজ অর্থায়নে উন্নয়ন: আমতৈল নিয়ে বড় পরিকল্পনায় শেখ মুজিবুর রহমান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি নিজের অর্থায়নেও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হিসেবে পরিচিত আমতৈল এলাকার উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বাদ মাগরিব আমতৈল বাজারে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমতৈল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। ইনশাল্লাহ আগামীতে এই অপবাদ আর থাকবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে যেকোনো মূল্যে এ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করব।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বনাথ একটি প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হওয়ায় এর উন্নয়নের সম্ভাবনা অনেক বেশি। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের মাধ্যমে এই উপজেলাকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব। সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান বলে জানান।

বৃহত্তর আমতৈল পঞ্চায়েতের সভাপতি বাবুল মিয়ার সভাপতিত্বে এবং যুবদল নেতা গৌছ মিয়া ও হুমায়ুন রশিদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন রামপাশা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার বাদুল্লা মিয়া, যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন, যুবদলের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি আলাউদ্দিন, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি হুশিয়ার আলী, ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুল কাইয়ুম, লাল মিয়া, আব্দুর রব, তালেব আলী, আতিক মিয়া, ফয়জুল হোসেন, খছরু মিয়া, শাবাজ উদ্দিন, নানু মিয়া প্রমুখ।

সভায় বক্তারা শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়নমুখী পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

ইলিয়াস আলী গুম: জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য, দায় এড়াতে অন্যদের দিকে ইঙ্গিত মামুন খালেদের

এইসময় ডেস্ক:

সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ-কে গ্রেপ্তারের পর বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। বর্তমানে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে তিনি দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন অন্যদের ওপর। তবে একই সঙ্গে তিনি গুমের নেপথ্য, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছে ডিবি।

‘আগেই ছিল গুমের সংকেত’

গোয়েন্দাদের কাছে শেখ মামুন খালেদ দাবি করেছেন, ইলিয়াস আলীকে গুম করার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেয়া হয়েছিল। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, টিপাইমুখ বাঁধ এবং প্রতিবেশী একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন এম ইলিয়াস আলী। এসব ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলায় তিনি তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়েন।

তার দাবি অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইলিয়াস আলীকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে গুমের নির্দেশ দেন।

র‌্যাব-ডিজিএফআইয়ের যৌথ অভিযান?

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গুমের পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে র‌্যাব-১-এর একটি বিশেষ টিম, যাদের সহযোগিতা করে ডিজিএফআইয়ের কিছু কর্মকর্তা। এ মিশনের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।

তার ভাষ্যমতে, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেয়া হয় এবং র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে নির্যাতনের পর ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে কোনো এক সময় তাকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে মরদেহ ফেলে দেয়া হতে পারে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে।

রিমান্ডে নতুন তথ্য, বাড়ছে নজরদারি

প্রথম দফায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আবারও ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে শেখ মামুন খালেদ স্বীকার করেছেন, গুমের জন্য ডিজিএফআই ও র‌্যাবের একটি বিশেষ টিম আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং সার্বিক নির্দেশনা তিনিই দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের বেশ কয়েকজন সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। তবে অভিযুক্তদের কেউ কেউ দেশত্যাগ করেছেন, কেউ গা-ঢাকা দিয়েছেন, আবার কেউ অবসর নিয়েছেন।

১৪ বছরেও অমীমাংসিত রহস্য

২০১২ সালে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ইলিয়াস আলী বেঁচে আছেন নাকি নিহত হয়েছেন—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তার পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। দীর্ঘ সময়েও এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ বিএনপি ও পরিবারের।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রশ্ন তোলেন, “আমার স্বামী ইলিয়াস আলী কোথায়?”

অপহরণের রাতের বর্ণনা

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে তৎকালীন শেরাটন হোটেল (বর্তমান ইন্টারকন্টিনেন্টাল) থেকে বৈঠক শেষে রাত ১১টার দিকে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন ইলিয়াস আলী। এসময় থেকেই তাকে অনুসরণ করা হচ্ছিল।

মহাখালী হয়ে বনানীর ২ নম্বর সড়কে পৌঁছালে তার গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে থামানো হয় এবং ড্রাইভারসহ তাকে তুলে নেয়া হয়। পরে তাদের র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিতর্কিত বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা বাতিল: মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

এইসময় ডেস্ক:

বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি-এর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অ্যাডলফ হিটলারকে প্রশংসা এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে প্রায় ১ কোটি অনুসারী থাকা এই ধর্মীয় বক্তা বিভিন্ন সময় এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন।

অস্ট্রেলিয়া সফরের অংশ হিসেবে ‘লেগাসি অব ফেইথ’ শিরোনামে একটি বক্তৃতা সিরিজে অংশ নিতে তার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ক্যানবেরা সফরের পরিকল্পনা ছিল। তবে সফর চলাকালীন সময়েই তার ভিসা বাতিল করা হয় এবং তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এর আগে তাকে যুক্তরাজ্য-এ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশেও উগ্র বক্তব্যের অভিযোগে জনসম্মুখে বক্তব্য প্রদানে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল দলের সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বলেন, আজহারির সফর নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন গোষ্ঠী সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছিল। তিনি জানান, বাংলাদেশভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজসহ একাধিক সংগঠন থেকে এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

ডেইলি মেইল এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালে আজহারি ইহুদিবিদ্বেষী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেন এবং হলোকাস্ট-সংক্রান্ত বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি অ্যাডলফ হিটলার-কে ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তিনি ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ এবং ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

বিশ্বনাথে বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলাধামের মন্দির চুরি, অভিযোগ দায়ের

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুরস্থ ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরে’ দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি মানিক লাল দে।
লিখিত অভিযোগে মানিক লাল দে উল্লেখ করেছেন, গত ২৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দিরের পুরোহিত ও লিখিত অভিযোগের স্বাক্ষী অনন্ত পাঠক পুজারী মন্দিরের পূজা শেষে মন্দির বন্ধ করে নিজের বাড়িতে চলে যান। পরদিন (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অভিযোগের ৩নং স্বাক্ষী রবিন্দ্র দেব নাথ ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান মন্দিরের পুরোহিত অনন্ত পাঠক পুজারীর শয়ন কক্ষের বেন্ডিলেটর ভাঙ্গা ও ভিতরের সকল দরজা খোলা এবং মন্দিরে থাকা ১টি সিলিং ফ্যান, ১টি ইলেকট্টিক কেটলি, ১টি ছরতা, ১টি পেশার মাফার মেশিন ও মন্দিরের বাহিরে থাকা স্ট্রীলের ১৯টি পানির ট্যাব, বৈদ্যুতিক ওয়ার নেই।
পরবর্তিতে মন্দিরে চুরির বিষয়টি অভিযোগের বাদী জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে এবং দেশের বাহিরে থাকা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রল্লাদ চন্দ দেব’র সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা শেষে তদন্ত সাপেক্ষে চুরির সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে বাদী নিজের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
মন্দিরে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।