আজকের সময়ের সেরা খবর
বিশ্বনাথে আমন ধানের বাম্পার ফলন: সোনালি শীষে ভরে উঠেছে মাঠপ্রান্তর, কৃষকের মুখে আনন্দের ঝিলিক


সালেহ আহমদ সাকী
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এখন আনন্দ–উৎসবের আমেজ। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে বাতাসে ভাসছে নতুন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ। চারদিকে শুধু সোনালি রঙের শীষের সমাহার। হাওর, বিল, উঁচুনিচু জমি সবখানেই এখন ধানের সমারোহ। কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। ইতোমধ্যে হাওরের বিশাল অংশে ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। তবে শ্রমিক সংকট থাকার কারণে এবার কৃষকদের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে আধুনিক হারভেস্টার মেশিন। যন্ত্রের সহায়তায় তারা সময়মতো ধান কেটে বাড়িতে তুলতে পারছেন। অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকের গোলায় উঠবে এই ফসল, আর হেমন্তের আগমনে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নবান্নের আমেজ, ঘরে ঘরে চলছে নতুন ধান দিয়ে পিঠা তৈরির উৎসব।
বিশ্বনাথ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একমাত্র পৌরসভা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর আমন ধানের উৎপাদন সত্যিই বাম্পার হয়েছে। আগাম জাতের কিছু ধান পেকে যাওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যে কাটা শুরু করেছেন। তবে প্রধান আবাদি জমির ধান কাটতে আরও প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মতে, ভালো আবহাওয়া, বৃষ্টি কম হওয়া, রোগবালাই কম দেখা দেওয়া এবং কৃষকদের সময়মতো পরিচর্যা সব মিলিয়ে এ বছর ফলন অতীতের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।

Biswanath Pic 03


হাটবাজার গুলোতেও এখন নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। সবচেয়ে আশার খবর হলো বর্তমানে বাজারে ধানের দাম বেশ ভালো। ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়া আগাম ধান কেটে ফেলার ফলে একই জমিতে দ্রুত রবি ফসল যেমন সরিষা, সবজি, ভুট্টা ইত্যাদি আবাদ করতে পারবেন কৃষকেরা।
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট আবাদি জমি রয়েছে ১৭,২০৫ হেক্টর। তার মধ্যে সাধারণত প্রতিবছর ১৭৮ হেক্টর জমি পতিত পড়ে থাকে। রোর মৌসুমে পতিত জমি: ৬,৫২৫ হেক্টর, আমন মৌসুমে পতিত জমি: ৩,৫০০ হেক্টর, তবে এ বছর আমন চাষ হয়েছে বড় পরিসরে ১৩,২৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ৫০ হেক্টরে হাইব্রিড আমন ধান চাষ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাত: ব্রি ধান ১০৩, ব্রি ধান ৯৫, ব্রি ধান ৯৪, ব্রি ধান ৯৩, ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৪৯,বিআর ২২, বি আর ২৩, বিনা ধান ৭, বিনা ধান ১৭ উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে ব্রি ধান ১০৩ ও ব্রি ধান ৪৯ অন্যান্য ধানের তুলনায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
এ মৌসুমে ধানের গড় ফলন দাঁড়িয়েছে হেক্টরপ্রতি ২.৮০ মেট্রিক টন চাউল, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বনাথ কৃষি অফিস জানায়, উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে উপজেলায় খাদ্যঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ধান উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রামের পর গ্রামজুড়ে এখন ধান শুকানোর ব্যস্ততা। গোলা, খলা, আঙিনা, যেখানে জায়গা পাওয়া যায়, সেখানেই নতুন ধান ছড়িয়ে দিচ্ছেন কৃষাণ-কৃষাণিরা। সোনালি রঙের ধানের স্তূপ আর শুকাতে দেওয়া ধানের সারি যেন কৃষকদের বছরের পরিশ্রমের সাক্ষ বহন করছে।
দেওকলস ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক আখতার হোসেন জানান, তিনি এবার প্রায় ৪০ কেদার জমিতে আমন চাষ করেছেন, যার মধ্যে ব্রি ধান ৪৯ জাতের ধানের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে। ধান কাটার পর তিনি সরিষা চাষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কজাকাবাদ গ্রামের হাজী আবুল মনছুর খান বলেন, “এবার ফলন এমন হয়েছে যে চোখ জুড়িয়ে যায়। শ্রমিক কম থাকলেও মেশিনের সাহায্যে ঠিকমতো ধান তুলতে পারছি।”
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: বিল্লাল হোসেন বলেন, এ বছর খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও সন্তুষ্ট।
তিনি জানান, রবি মৌসুমে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,৩০০ হেক্টর। এ মৌসুমে অনাবাদি পতিত জমির পরিমাণ প্রায় ৬৮২০ হেক্টর।
এবার এসব জমিতে ধান, সরিষা, শাকসবজি, ভূট্টা এবং আরও বিভিন্ন উচ্চমূল্যের রবি ফসল আবাদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মাঠজুড়ে সোনালি শীষের সমারোহ, আকাশে ভেসে বেড়ানো ধানের গন্ধ এবং কৃষকদের ব্যস্ততা সব মিলিয়ে বিশ্বনাথ এখন এক উৎসবের উপজেলা। আমন ধানের এ বাম্পার ফলন শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বস্তিই এনে দিচ্ছে না, বরং নতুন মৌসুমে আরও ফসল চাষে তাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামনে রবি মৌসুম, কৃষকদের নতুন স্বপ্ন নতুন ফসলের পথে এই সফলতার ধারাকে ধরে রাখবে এটাই সকলের কাম্য।

সিলেট–২ আসনে উন্নয়ন আর সুশাসনের অঙ্গীকার—অধ্যাপক আব্দুল হান্নান

এই সময় ডেস্ক:

সিলেট-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বিশ্বনাথ উপজেলার কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নির্বাচন, উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনকল্যাণমূলক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জামায়াতে ইসলামী বিশ্বনাথ উপজেলার আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর ভিশন ও জনমুখী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এসময়  তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণই হবে আমার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আমার লক্ষ্য উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে বাসযোগ্য, উন্নত ও আধুনিক উপশহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই আমার একমাত্র প্রতিশ্রুতি।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে সিলেট-২ আসনের দুই উপজেলায় আধুনিকমানের দুটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, অকার্যকর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পুনরায় সচল করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রাত্যহিক জনদুর্ভোগ দূর করতে সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অধ্যাপক হান্নান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত স্থানীয় সমস্যাগুলোর দিক তুলে ধরে বলেন, “এলাকার প্রত্যেকটি সমস্যা আমি চিহ্নিত করেছি। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার টেকসই সমাধান করতে চাই। উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজের উন্নয়নের বড় শক্তি।” বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিশ্বনাথ পৌরসভার আমির মাওলানা এইচ এম আখতার ফারুক, উপজেলার নায়েবে আমির মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, পৌরসভার নায়েবে আমির ও বিশ্বনাথ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুস সোবহান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল মুকসিদ আক্তার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির উপজেলা সভাপতি আশিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্র শিবির পৌরসভার সভাপতি মতিউর রহমান ইমন, উপজেলার পশ্চিম সাথী শাখার সভাপতি শাহ হোসাইন আলী প্রমূখ।

এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, আশিক আলী, তজম্মুল আলী রাজু, প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, সালেহ আহমদ সাকী, রুহেল উদ্দিন, আব্বাস হোসেন ইমরান, মশিউর রহমান, আব্দুস সালাম, বদরুল ইসলাম মহসিন, আব্দুস সালাম মুন্না, তাউফিকুর রহমান হাবিবসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নমূলক চাহিদা ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরলে অধ্যাপক হান্নান সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমীর মানবিক উদ্যোগ: দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের মাঝে শীতবস্ত্র উপহার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ড. লুৎফুর ক্বাসীমী। তারই ধারাবাহিকতায় শীতার্ত ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর ) বাদ জোহর বিশ্বনাথ পৌরসভার কারীকোনা এলাকার চাদের হাট রেস্টুরেন্টে এ উপহার সামগ‌্রী বিতরণ করা হয়।
মানবিক এ উদ্যোগের পুরো আয়োজন ও ব্যয়ভার বহন করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সমাজসেবক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত পদপ্রার্থী নেতা ড. লুৎফুর রহমান ক্বাসীমী।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কঠোর শীতের এই সময়টিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকেন ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকরা। তাদের কষ্ট লাঘব করতেই ড. ক্বাসীমীর পক্ষ থেকে এ উপহার বিতরণের আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত স্থানীয় সমাজকর্মী ও আয়োজকরা চালকদের হাতে রিকশার লোগো সম্বলিত টি–শার্ট তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী মাওলানা আশরাফুল হক। সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুল বাছিত।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস সিলেট জেলা শাখার দায়িত্বশীল হাফিজ মাওলানা রুহুল আমিন জাকারিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ হোসাইন আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, দশঘর ইউনিয়নের নির্বাহী সদস‌্য মাওলানা শেখ কামরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র খেলাফত মজলিসের সদস্য মো. নোমান আহমদসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, “ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার মানবিক সহায়তা এলাকায় প্রশংসনীয় উদাহরণ তৈরি করেছে। শীত মৌসুমে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সত্যিকারের মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।”

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় দুই শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকের হাতে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
উপহার পেয়ে চালকরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. লুফুর রহমান ক্বাসীমীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আশরাফুল হক।

এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার—আনন্দ উদ্‌যাপন দলের মাঠপর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা

এই সময় ডেস্ক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারা দেশের মতো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা, পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের ১২ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিদ্ধান্তটি প্রকাশের পরপরই বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ উল্লাস ও দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

01

দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কারের শাস্তিতে থাকা এসব নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই কারণে বিভিন্ন সময়ে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, সাবেক আহ্বায়ক গৌছ খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম রুহেল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বসির আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হাফিজ আরব খান, মহিলা সম্পাদক স্বপ্না শাহিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মুমিন খান মুন্না, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাওছার খান এবং খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের খবরে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি তিনি সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও ‘ধানের শীষ’কে শক্তিশালী করতে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বহিষ্কার প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্তে বিশ্বনাথের বিএনপি নতুন উদ্দীপনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।

জুলাই বিপ্লব-২০২৪ নিয়ে বিশ্বনাথে মতবিনিময়

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এর গুরুত্ব, প্রবাসীদের অবদান এবং আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্কের সাধারণ সম্পাদক ও টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা কানাডা প্রবাসী এম আর আজিজ।

রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় তার নিজ বাসভবনে এই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এম আর আজিজ বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব-২০২৪’ কোনো রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়; এটি সমগ্র বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, ঐক্য ও সাহসিকতার ফসল। তিনি বিশেষভাবে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশে-বিদেশে একই সময়ে গণআন্দোলনের ঢেউ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মানববন্ধন, আন্দোলন, লবি, প্রচারণা ও গণতন্ত্র সচেতনতা তৈরিতে নিরন্তর কাজ করেছেন। এসময় এম আর আজিজ বলেন, “জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এ প্রবাসীদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে”।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা শুধু আন্দোলনের সময় নয়, যেকোনো জাতীয় সংকটে প্রথমেই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ান। সিলেট বিভাগের মানুষকে নিয়ে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণে মানবিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। করোনা মহামারি, ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা যেকোনো দুর্যোগে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করেছে। তিনি জানান, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেও, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তারা দেশে-বিদেশে ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছেন।

এম আর আজিজ বলেন, টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডা-র মাধ্যমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠিত করা হচ্ছে। নতুন কেউ কানাডায় গেলে তাদের থাকার জায়গা, তথ্য-উপাত্ত, চাকরি অনুসন্ধানসহ সব ধরণের সহায়তা প্রবাসীরা একাত্মতার ভিত্তিতে দিয়ে থাকেন। “দেশকে নিয়ে আমাদের টান আজীবন”।

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এটি হবে একটি স্মরণীয় ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দেশের মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।” তিনি আরও ঘোষণা দেন, জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হলে পরবর্তী স্থানীয় নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে চান। বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা সভায় প্রকাশ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রফিজ আলী। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ছাতকে হাজী মদরিছ আলী একাডেমীতে বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ছাতক প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সোনালী বাংলাবাজারে অবস্থিত হাজী মদরিছ আলী একাডেমীতে হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় ছাতক ও বিশ্বনাথ উপজেলার মোট ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে পুরো পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল উৎসবমুখর।

পরীক্ষা চলাকালে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হল পরিদর্শনে যান হাজী মদরিছ আলী একাডেমীর পরিচালক আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি আছলম আলী, হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সদস‌্য সালেহ আহমদ সাকী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাদ্দাম হোসেন জুনেদ, অভিভাবক ডা. বিভাংশু গুন বিভু, সাংবাদিক আহমদ আলী হিরন। তারা পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং পরিচালকদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরীক্ষা পরিচালনায় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এসময় দায়িত্ব পালন করেন হাজী মদরিছ আলী একাডেমীর প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফাহমিদ আক্তার মিশু, সহকারী শিক্ষক এখলাছ আলী, মোছা. সুমাইয়া আক্তার, শিফা বেগম, মোছা. লাভলী বেগম, ছাইমা বেগম এবং আকলিমা বেগম। তাদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাকেন্দ্র জুড়ে ছিল শৃঙ্খলা ও মনোযোগী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছরই এই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফাউন্ডেশনের কর্তারা জানান, ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পরীক্ষা আয়োজন এলাকাবাসীর মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এতে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বনাথে ‘বিলাতের বৃষ্টি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

বহুল প্রতীক্ষিত গ্রন্থ ‘বিলাতের বৃষ্টি’ অনাড়ম্বর ও বর্ণিল অনুষ্ঠানের মাধ‌্যমে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ প্রকাশনা উৎসব।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নানা শ্রেণি–পেশার সাহিত্যপ্রেমী, গবেষক, লেখক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রন্থটি রচনা করেছেন প্রবাসী লেখক ও গবেষক সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি কবি মোঃ রহমত আলী। যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিলাতের সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রবাসজীবনের বাস্তবতা নিয়ে লেখালেখি করছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মোঃ আশরাফুজ্জামান পিপিএম-সেবা। তিনি বলেন, “আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, প্রবাস জীবনের সংগ্রাম এবং আগামীর সম্ভাবনাকে অত্যন্ত সুন্দর, মার্জিত ও বাস্তবধর্মী লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। ‘বিলাতের বৃষ্টি’ কেবল একটি গ্রন্থ নয়, এটি প্রবাসী জীবনের জীবন্ত দলিল।” বইটির ভাষা ও উপস্থাপনাকে তিনি সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার মতো বলেও মন্তব্য করেন।

গ্রন্থের লেখক কবি মোঃ রহমত আলী বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও অনুভূতির বাস্তব রূপ হলো ‘বিলাতের বৃষ্টি’। বইটির প্রতিটি লেখায় চেষ্টা করেছি প্রবাসজীবনের আনন্দ–দুঃখ, সংগ্রাম–সাফল্য এবং স্মৃতি-বেদনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে। এসময় তিনি বলেন,মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার মতো কিছু রেখে যেতে চাই। এসময় তিনি পাঠকদের ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের এবং সঞ্চালনা করেন তরুণ উপস্থাপিকা সুইটি আক্তার রুনা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী দয়াল উদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশ পয়েন্টস ক্লাবের সভাপতি কবি মুস্তাফিজুর রহমান, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তজম্মুল আলী রাজু। লেখকের জীবনী পাঠ করেন কবি জুবের আহমদ সার্জন। অনুষ্ঠানে এলাকার সাংবাদিক, লেখক, সংগঠকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।