আজকের সময়ের সেরা খবর
বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা

এই সময় ডেস্ক:

এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাতে সোমবার গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

ডা. জাহিদ হোসেন জানান, গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড প্রতিদিনই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় সব আধুনিক চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে মনিটর করছেন। চেয়ারপারসন দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন মহান আল্লাহ তাঁকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং সুস্থতার সঙ্গে আবারও জনগণের মাঝে ফিরে আসার তৌফিক দেন।”

এদিকে, রবিবার গভীর রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নেত্রী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে তাঁর সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ইউনিটগুলোও মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখনও গুরুতর পর্যবেক্ষণে থাকলেও চিকিৎসকরা আশাবাদী। তবে তাঁরা বলেছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। তাঁর শারীরিক সুস্থতা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শীত সময়ে লাইফস্টাইল: সুস্থতা, ফ্যাশন ও দৈনন্দিন যত্ন

সালেহ আহমদ সাকী

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যসচেতনতার অভ্যাসে। এ সময় আবহাওয়ার ঠান্ডা প্রকৃতি যেমন আনন্দ এনে দেয়, তেমনি বাড়িয়ে দেয় স্বাস্থ্যঝুঁকিও। তাই শীতকালে লাইফস্টাইলকে একটু সচেতনভাবে সাজানো প্রয়োজন—যাতে সুস্থ থাকা যায়, আবার ফ্যাশনেও থাকে স্টাইলের ছোঁয়া।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টি—শীতে যত্ন সবচেয়ে জরুরি

শীতের শুষ্ক আবহাওয়া শরীরে পানির ঘাটতি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পানি পান করা এবং ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অপরিহার্য। গরম স্যুপ, খিচুড়ি, ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল, খেজুর, বাদাম ও মৌসুমি সবজি শরীরকে উষ্ণ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
এ সময় সর্দি-কাশি, ফ্লু ও ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ ধোয়া, ভিড় এড়ানো এবং যথাযথ বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি।

ত্বক ও চুলের যত্ন—শীতে দরকার বাড়তি মনোযোগ

শীতে সবচেয়ে ভোগান্তি হয় ত্বকের। ঠান্ডার কারণে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, গরম পানিতে কম সময় গোসল এবং অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
চুলেও পড়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব। তাই সপ্তাহে এক-দু’বার হালকা গরম তেল ম্যাসাজ ও মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার চুলকে রাখে নরম ও সুরক্ষিত।

শীতের ফ্যাশন—আরাম ও স্টাইল একসঙ্গে

শীতকাল নিজের মতো করে সাজার দারুণ সময়। হুডি, জ্যাকেট, সোয়েটার, লং–কোট বা শাল—সবই দেয় আরাম ও আনে স্টাইলিশ লুক। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেয়ারিং স্টাইল (একাধিক পোশাক পরা) শীতে যেমন চমৎকার দেখায়, তেমনি আরামদায়কও।
উষ্ণ মোজা, গ্লাভস ও টুপি যোগ করলে শুধু ফ্যাশনই নয়, নিশ্চিত হয় সুরক্ষা।

জীবনযাপন—পরিবর্তিত রুটিনে বাড়ুক স্বস্তি

শীতের সকালগুলো বেশ মন্থর হলেও এই সময়টায় নিয়মিত ব্যায়াম শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রোদ পাওয়া গেলে রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করে।
সন্ধ্যার ঠান্ডায় ঘরকে আরামদায়ক রাখতে হালকা গরম পানীয়, উষ্ণ কম্বল ও আরামদায়ক পরিবেশ ঘুমকে গভীর করে এবং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে।

শেষকথা

শীত এমন একটি ঋতু, যা আনন্দও দেয়, আবার যত্নহীনতায় অসুস্থও করে দিতে পারে। তাই শীতকালীন লাইফস্টাইলে সচেতনতা, স্বাস্থ্য, ফ্যাশন ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই ঋতুটি হবে আরও উপভোগ্য।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার: মির্জা ফখরুল

এই সময় ডেস্ক:

বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যম সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত ‘মিডিয়া সংস্কার প্রতিবেদনের পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের প্রতিশ্রুতি খুবই পরিষ্কার। ৩১ দফায় আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি—স্বাধীন গণমাধ্যম গড়তে চাই। সে লক্ষ্যে কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।”

তিনি জানান, কমিশন ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং এর প্রতিবেদনও প্রস্তুত। তবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “রিপোর্টটি পরে কোনো আলোচনায় আসেনি। জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আমরা বিষয়টি অগ্রাধিকার দেব।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেই গণমাধ্যমের উন্নয়নে বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সময়ের অধিকাংশ টেলিভিশন চ্যানেলের উন্নয়ন কার্যক্রমও বিএনপির সময়েই শুরু হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “সাংবাদিক সংগঠনগুলো এখন বিভাজিত। রাজনৈতিক দলগুলো সাংবাদিকদের নিজেদের সুবিধায় নিতে চায়। সাংবাদিকরা যদি দলীয় হয়ে পড়েন, তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণমাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “এই সময়ে গণমাধ্যম ফ্যাসিবাদ লালন করেছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এখনই সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া দরকার।”

ভূমিকম্প: যেভাবে পাল্টে দিতে পারে পৃথিবীর

এই সময় ডেস্ক:

ভূমিকম্প এক প্রাকৃতিক শক্তি, যা মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর ভূত্বককে বদলে দিতে সক্ষম। ভূত্বকের ভেতরে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফলে সৃষ্ট এই কম্পন কখনও ভূমিতে সৃষ্টি করে গভীর ফাটল, কখনও ঘটায় ভয়াবহ ভূমিধস। অনুকূল পরিস্থিতিতে এর প্রভাবে মাটির তরলীকরণও দেখা দিতে পারে, যা সমতল ভূমির স্থিতিশীলতাকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষই ভূমিকম্পের মূল উৎস। দুটি প্লেট যখন একে অপরের দিকে সরে আসে, তখন ভূত্বকের গভীরে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। এই চাপ নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে শিলাস্তর ভেঙে যায় বা ভাঁজ হয়ে ওপরে উঠে আসে। ঠিক এই ভাঁজ প্রক্রিয়া থেকেই সৃষ্টি হয় ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণী। ফলে ভূমিকম্পকে শুধু ধ্বংস নয়, নতুন ভূ-আকার সৃষ্টিরও অনুঘটক বলা যায়।

ভূমিকম্পের শক্তি ভূ-উপরিস্থ রূপ বদলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রভাব ফেলে জলভাগেও। শক্তিশালী ভূকম্পনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে, এমনকি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায়ও দেখা দিতে পারে ওঠানামা। আর সমুদ্রের নিচে বড় ধাক্কা তৈরি হলে সেখান থেকে উৎপন্ন হতে পারে ভয়াবহ সুনামি, যা অল্প সময়েই উপকূলীয় জনপদকে প্লাবিত করে দিতে সক্ষম।

শহরাঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বড় মাত্রার ভূকম্পনে ধসে পড়ে ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতু, সড়ক ও নানান অবকাঠামো। বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় মানুষের জীবনযাত্রায়। যেমন—একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাশিয়ায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছিল।

স্বল্প সময়ের এই বিপর্যয় দীর্ঘমেয়াদে রেখে যায় গভীর প্রভাব—সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত সব ক্ষেত্রেই। তাই ভূমিকম্পকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, পৃথিবীর দীর্ঘকালীন রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হয়। ধ্বংসের মধ্য দিয়েই পৃথিবী কখনো কখনো পায় নতুন ভূ-রূপ।

ভারতের কাছে শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পুনরায় পাঠালো বাংলাদেশ সরকার

এই সময় ডেস্ক:

চব্বিশের জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

রবিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত পরশু (শুক্রবার) দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ নোট পাঠানো হয়।”

এর আগেও ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনার জন্য নয়াদিল্লিকে চিঠি দিয়েছিল সরকার। সে বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “আগের চিঠির জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের সাজা ঘোষণা করেছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিও রয়েছে। ফলে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে।”

গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠিত হয়। চলতি বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উভয়কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

বাংলাদেশ সরকারের নতুন করে পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্বনাথে প্রবাসী গোলাম রাব্বানীর উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
রাব্বানী ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইন্কের প্রতিষ্ঠাতা ও আমেরিকা প্রবাসী গোলাম রাব্বানী-র উদ্যোগে সিলেটের বিশ্বনাথে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে লামাকাজী ইউনিয়নের কোনাউরা গ্রামস্থ প্রবাসীর নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে এলাকার ২৭ জন কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ১ কেজি ধানের বীজ ও ৩ কেজি সার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল পাল। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য মানুষকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। কৃষিখাতে সাফল্য আনতে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসী, সমাজসেবক ও বৃত্তবানদের স্বেচ্ছাসেবামূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি যাতে অনাবাদি না থাকে, এজন্য ধানের পাশাপাশি ‘সরিষা, ভূট্টা, পরাস’সহ বিভিন্ন শস্য ও সবজি চাষ বাড়াতে হবে। জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি। কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় প্রস্তুত—“কৃষক হাসলে দেশ হাসবে”—যোগ করেন বুলবুল পাল।

সমাজসেবক মুরব্বী আমির উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে এবং ধারাভাষ্যকার জয়নাল আবেদীন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘বীজ ও সার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক সমুজ মিয়া ও কবির উদ্দিন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কাওছার আহমদ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে এলাকাবাসী আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় এবং প্রবাসী গোলাম রাব্বানীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

জুলাই বিপ্লব-২০২৪ নিয়ে বিশ্বনাথে মতবিনিময়

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এর গুরুত্ব, প্রবাসীদের অবদান এবং আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্কের সাধারণ সম্পাদক ও টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা কানাডা প্রবাসী এম আর আজিজ।

রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় তার নিজ বাসভবনে এই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এম আর আজিজ বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব-২০২৪’ কোনো রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়; এটি সমগ্র বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, ঐক্য ও সাহসিকতার ফসল। তিনি বিশেষভাবে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশে-বিদেশে একই সময়ে গণআন্দোলনের ঢেউ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মানববন্ধন, আন্দোলন, লবি, প্রচারণা ও গণতন্ত্র সচেতনতা তৈরিতে নিরন্তর কাজ করেছেন। এসময় এম আর আজিজ বলেন, “জুলাই বিপ্লব-২০২৪–এ প্রবাসীদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে”।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা শুধু আন্দোলনের সময় নয়, যেকোনো জাতীয় সংকটে প্রথমেই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ান। সিলেট বিভাগের মানুষকে নিয়ে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশন জিটিএ ইন্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণে মানবিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। করোনা মহামারি, ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা যেকোনো দুর্যোগে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করেছে। তিনি জানান, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেও, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তারা দেশে-বিদেশে ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছেন।

এম আর আজিজ বলেন, টরন্টো বাংলা পাড়া ক্লাব কানাডা-র মাধ্যমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠিত করা হচ্ছে। নতুন কেউ কানাডায় গেলে তাদের থাকার জায়গা, তথ্য-উপাত্ত, চাকরি অনুসন্ধানসহ সব ধরণের সহায়তা প্রবাসীরা একাত্মতার ভিত্তিতে দিয়ে থাকেন। “দেশকে নিয়ে আমাদের টান আজীবন”।

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এটি হবে একটি স্মরণীয় ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দেশের মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।” তিনি আরও ঘোষণা দেন, জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হলে পরবর্তী স্থানীয় নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে চান। বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা সভায় প্রকাশ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রফিজ আলী। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আন্দামান সাগরে লঘুচাপ ঘনীভূত, উত্তর বঙ্গোপসাগরে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

এই সময় ডেস্ক:

দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে আজ সকাল ৬টায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি একই এলাকায় অবস্থান করছে এবং পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পরিস্থিতি যেহেতু দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই সমুদ্রবন্দরের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হলো।