আজকের সময়ের সেরা খবর
হবিগঞ্জের প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন উন্নয়ন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব: সচিব জাবের


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেছেন, হবিগঞ্জ জেলার প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এ অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের লীলাভূমি হবিগঞ্জে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে, তেমনি গড়ে উঠছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে এ জেলার সম্ভাবনা আরো প্রসারিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সিলেট মহানগরীতে বসবাসরত হবিগঞ্জবাসীর প্রাণের সংগঠন ‘হবিগঞ্জ সমিতি সিলেট’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সম্প্রীতি, মানবতা ও সমাজকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে সুনিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান সচিব জাবের।

হবিগঞ্জ সমিতি সিলেটের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও ‘খোয়াই নদীর বাঁকে’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর দরগাগেইটস্থ হোটেল স্টার প্যাসিফিকের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ সমিতি সিলেটের নবনির্বাচিত সভাপতি, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী অধ্যাপক ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী।

সমিতির সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল, ঢাকা হবিগঞ্জ সমিতির সভাপতি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান তরফদার, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী।

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা ড. মো. শাহাব উদ্দিন, ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কালাম, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. এসএম হাবিবউল্লাহ সেলিম, আবু মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মো. আবুল ফজল এবং সমিতির সাবেক সভাপতি ও সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মাহমুদুল আলম মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা শফিউল আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন গাজী আব্দুল মাবুদ মমশাদ, অ্যাডভোকেট জোৎস্না ইসলাম, মহানগর হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ আহমদ, মো. আবু সালেহ আহমদ ও মো. আব্দুল আউয়াল।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বারবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে সিলেট: ২৩ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনের

এই সময় ডেস্ক:

ভূমিকম্পে বারবার কেঁপে উঠছে সিলেট। কখনো সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি ফল্ট, কখনো আবার উৎপত্তিস্থল সিলেট বিভাগের ভেতরেই। এমনকি ঢাকাকেন্দ্রিক ভূমিকম্পও অনুভূত হচ্ছে সিলেটে। একের পর এক কম্পনে আতঙ্কে দিন কাটছে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা স্থানীয় ফল্টগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় ভূমিকম্পের হার দ্রুত বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে ‘ডেঞ্জার জোন’-এ থাকা সিলেটে বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকিও তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শহরের বহু পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে ‘যমদূতের মতো’ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বড় ভূমিকম্প হলে এসব ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, নগরীর ২৩টি বিপজ্জনক ভবন ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো খুব শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের ভবনই রয়েছে। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই এসব ভবন অপসারণের কাজ শুরু হবে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, নগরীর বহু পুরনো ভবনের নকশায় ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি নেই। তীব্র ভূকম্পনে এসব ভবনেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা। ঝুঁকির মধ্যে থাকা ভবনগুলোয় রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও আবাসিক ভবন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন দফা ভূমিকম্পের পর সিলেটসহ আশপাশের জেলাগুলোর মানুষ আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প (৩.৭ ও ৪.৩ মাত্রা) এবং সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়।
এর ঠিক আগের দিন শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দুই শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় কয়েকশ মানুষ।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, “চিহ্নিত ভবনগুলোতে এখনো অনেকে বসবাস করছে বা ব্যবসা পরিচালনা করছে। দ্রুত অপসারণ না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নাগরিকদের সুরক্ষার জন্যই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা শহরের সংকীর্ণ রাস্তা—ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে না পারলে রেসকিউ কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

২০১৯ সালে সিসিক নগরীর মোট ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করেছিল। এর মধ্যে ৬টি সংস্কার করে ঝুঁকিমুক্ত করা হলেও ১৮টি ভবন এখনো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে—সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মধুবন মার্কেট, সুরমা মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন, নবপুষ্প-২৬/এ, আজমীর হোটেলসহ বেশ কিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন।

এ ছাড়া পূর্বের তালিকা থেকে কালেক্টরেট ভবন-৩, বন্দরবাজার সিটি সুপার মার্কেটের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ, কিবরিয়া লজ, বনকলাপাড়ার নূরানী-১৪, ধোপাদিঘীর পাড়ের পৌর শপিং সেন্টারসহ কয়েকটি ভবন অপসারণ বা সংস্কার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চিহ্নিত ভবনগুলোতে বড় বড় ফাটল, হেলে পড়া দেয়াল, নড়বড়ে সিঁড়ি—সব মিলিয়ে বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সিলেট ও মেঘালয় অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল একাধিকবার সিলেট বিভাগই ছিল, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছাতকে হাজী মদরিছ আলী একাডেমীতে বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ছাতক প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সোনালী বাংলাবাজারে অবস্থিত হাজী মদরিছ আলী একাডেমীতে হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় ছাতক ও বিশ্বনাথ উপজেলার মোট ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে পুরো পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল উৎসবমুখর।

পরীক্ষা চলাকালে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হল পরিদর্শনে যান হাজী মদরিছ আলী একাডেমীর পরিচালক আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি আছলম আলী, হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সদস‌্য সালেহ আহমদ সাকী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাদ্দাম হোসেন জুনেদ, অভিভাবক ডা. বিভাংশু গুন বিভু, সাংবাদিক আহমদ আলী হিরন। তারা পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং পরিচালকদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরীক্ষা পরিচালনায় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এসময় দায়িত্ব পালন করেন হাজী মদরিছ আলী একাডেমীর প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফাহমিদ আক্তার মিশু, সহকারী শিক্ষক এখলাছ আলী, মোছা. সুমাইয়া আক্তার, শিফা বেগম, মোছা. লাভলী বেগম, ছাইমা বেগম এবং আকলিমা বেগম। তাদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাকেন্দ্র জুড়ে ছিল শৃঙ্খলা ও মনোযোগী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

হাজী মদরিছ আলী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছরই এই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফাউন্ডেশনের কর্তারা জানান, ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পরীক্ষা আয়োজন এলাকাবাসীর মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এতে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

রিপনের ম্যাজিক সুপার ওভারে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে বাংলাদেশ ‘এ’ দল

এই সময় ডেস্ক:

দোহায় এক নাটকীয় লড়াইয়ের পর এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস তথা এমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। নির্ধারিত ওভারে একের পর এক ক্যাচ মিস, ফিল্ডিং ভুল ও শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হারতে বসা ম্যাচটি ভারতের সঙ্গে টাই হওয়ার পর গড়ায় সুপার ওভারে। আর সেই সুপার ওভারেই লাল-সবুজদের নায়ক হয়ে ওঠেন পেসার রিপন ম-ল। দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১ রানের লক্ষ্য দেন তিনি, যা শেষে নিশ্চিত করে টাইগারদের স্মরণীয় জয়।

সুপার ওভারের নায়ক রিপন

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে নেওয়া রিপন সুপার ওভারে প্রথম বলেই ইয়র্কারে বোল্ড করেন জিতেশ শর্মাকে। দ্বিতীয় বলেও প্রায় একই লেংথে ডেলিভারি করে তুলে মারতে বাধ্য করেন আশুতোষকে; বলটি অফে ধরা পড়লে ভারত হারায় দ্বিতীয় উইকেট। নিয়ম অনুযায়ী দুই উইকেট পড়ায় ভারত বাকি বল খেলতে পারেনি। টাইগারদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১ রান।

তবে এখানেও তৈরি হয়েছিল অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা। ইয়াসির আলী প্রয়োজনীয় ১ রান নেয়ার বদলে প্রথম বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলার সুয়াশ শর্মার একটি ওয়াইড বল Bangladesh ‘A’ দলকে এনে দেয় জয়ের নিশ্চয়তা।

শেষ ওভারের নাটকীয়তা

এর আগে নির্ধারিত ২০ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের ভুলে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া করেই ফেলেছিল। ৫ উইকেটে ১৭৯ রান করা ভারতের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। বল হাতে আসেন রাকিবুল হাসান। প্রথম দুই বলে দুই সিঙ্গেল নিলেও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান আশুতোষ। চতুর্থ বলে সোজা ফিল্ডারের হাতে যাওয়া বলটি তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন জিসান আলম; বরং হাত ফস্কে বাউন্ডারি হয়ে যায়। শেষ দুই বলে দরকার পড়ে ৪ রানের।

রাকিবুল পঞ্চম বলে ইয়র্কারে বোল্ড করেন আশুতোষকে। শেষ বলে ব্যাটে-বলে ঠিকভাবে সংযোগ করতে না পারলেও দুই প্রান্ত বদল করে নেয় ভারত। এরপর ফিল্ডারের থ্রো স্টাম্পে লাগাতে গিয়ে ভুল করেন অধিনায়ক আকবর আলী। এক রানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত ম্যাচ সমতায় আনে।
একটি সহজ থ্রো হাতে ধরে রাখলে জয় নিশ্চিত হতো বাংলাদেশ দলের।

বাংলাদেশের ইনিংস

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। জিসান আলমকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৪.২ ওভারে ৪৩ রানের জুটি গড়েন হাবিবুর রহমান সোহান। জিসান ২৬ রানে আউট হলেও সোহান একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলেন ৪৬ বলে ৬৫ রানের ইনিংস।

মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপ পড়ে বাংলাদেশে। তবে মেহরবের ঝোড়ো ব্যাটিং এবং শেষ দিকে ইয়াসির রাব্বির কার্যকরী ইনিংসে দল দাঁড় করায় চ্যালেঞ্জিং ১৯৪ রান।

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ

সেমিফাইনালের এই রোমাঞ্চকর জয় বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস/এমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে তুলেছে। আগামীকাল ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে পাকিস্তান অথবা শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের।

বিশ্বনাথে ‘বিলাতের বৃষ্টি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

বহুল প্রতীক্ষিত গ্রন্থ ‘বিলাতের বৃষ্টি’ অনাড়ম্বর ও বর্ণিল অনুষ্ঠানের মাধ‌্যমে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ প্রকাশনা উৎসব।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নানা শ্রেণি–পেশার সাহিত্যপ্রেমী, গবেষক, লেখক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রন্থটি রচনা করেছেন প্রবাসী লেখক ও গবেষক সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি কবি মোঃ রহমত আলী। যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিলাতের সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রবাসজীবনের বাস্তবতা নিয়ে লেখালেখি করছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মোঃ আশরাফুজ্জামান পিপিএম-সেবা। তিনি বলেন, “আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, প্রবাস জীবনের সংগ্রাম এবং আগামীর সম্ভাবনাকে অত্যন্ত সুন্দর, মার্জিত ও বাস্তবধর্মী লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। ‘বিলাতের বৃষ্টি’ কেবল একটি গ্রন্থ নয়, এটি প্রবাসী জীবনের জীবন্ত দলিল।” বইটির ভাষা ও উপস্থাপনাকে তিনি সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার মতো বলেও মন্তব্য করেন।

গ্রন্থের লেখক কবি মোঃ রহমত আলী বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও অনুভূতির বাস্তব রূপ হলো ‘বিলাতের বৃষ্টি’। বইটির প্রতিটি লেখায় চেষ্টা করেছি প্রবাসজীবনের আনন্দ–দুঃখ, সংগ্রাম–সাফল্য এবং স্মৃতি-বেদনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে। এসময় তিনি বলেন,মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার মতো কিছু রেখে যেতে চাই। এসময় তিনি পাঠকদের ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের এবং সঞ্চালনা করেন তরুণ উপস্থাপিকা সুইটি আক্তার রুনা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী দয়াল উদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশ পয়েন্টস ক্লাবের সভাপতি কবি মুস্তাফিজুর রহমান, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তজম্মুল আলী রাজু। লেখকের জীবনী পাঠ করেন কবি জুবের আহমদ সার্জন। অনুষ্ঠানে এলাকার সাংবাদিক, লেখক, সংগঠকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র মক্কা নগরীর ১০টি বৈশিষ্ট্য

এই সময় ডেস্ক:

কোরআন ও হাদিসের আলোকে

বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন পবিত্র কাবাঘর—যা মক্কা নগরীতে অবস্থিত। এখানে জন্ম নিয়েছেন মানবজাতির নেতা, আল্লাহর প্রিয় বন্ধু, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ভূমির রয়েছে অসংখ্য বৈশিষ্ট্য। নিচে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে মক্কা নগরীর দশটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো:

১. নামাজে সর্বোচ্চ সওয়াব

মসজিদে হারামে একটি নামাজের সওয়াব অন্য যেকোনো মসজিদের নামাজের তুলনায় এক লাখ গুণ বেশি।
হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন “অন্যান্য মসজিদের তুলনায় আমার মসজিদে নামাজ হাজার গুণ শ্রেষ্ঠ, আর মসজিদে হারামের নামাজ এক লাখ গুণ উত্তম।” —ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬

২. উত্কৃষ্ট রিজিকের নগরী

মরু অঞ্চলে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও মক্কায় পৃথিবীর সর্বোত্তম ফল-মূল ও রিজিক পৌঁছে যায়। এটি আল্লাহর বিশেষ দয়া।
আল্লাহ বলেন “আমি কি তাদের এক নিরাপদ হারাম দান করিনি, যেখানে সব ধরনের ফল-মূল আমার পক্ষ থেকে রিজিকস্বরূপ আসে?” —সূরা কাসাস: ৫৭

৩. মক্কার সম্মান রক্ষা করলে কল্যাণ নেমে আসে

মক্কার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে উম্মতের ওপর কল্যাণ বর্ষিত হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন “যত দিন এই উম্মত হারাম শরিফের যথাযোগ্য সম্মান করবে, তত দিন তারা কল্যাণে থাকবে। কিন্তু যখন তা বিনষ্ট করবে, তখন ধ্বংস হবে।” —ইবনে মাজাহ: ৩১১০

৪. বিশ্বের মুসলমানদের তীর্থভূমি

বিশ্বের সকল মুসলমান নামাজে মুখ করে থাকেন কাবাঘরের দিকে। আর হজ পালনের জন্য সমগ্র মুসলিমকে জীবনে অন্তত একবার এই নগরীতে আসতেই হয়। এটি মক্কার বৈশ্বিক মর্যাদার প্রধান নিদর্শন।

৫. এখানে প্রথম কোরআন নাজিল হয়েছে

মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কোরআনের প্রথম ওহি মক্কায় অবতীর্ণ হয়।
এমনকি অধিকাংশ সুরাই মক্কাকেন্দ্রিক ওহির মাধ্যমে নাজিল হয়েছে—যা মক্কার সম্মানকে আরও উজ্জ্বল করে।

৬. কেয়ামত পর্যন্ত শান্তির নগরী

মক্কাকে কেয়ামত পর্যন্ত শান্তির নগরী ঘোষণা করেছেন নবীজি (সা.)।
তিনি বলেন “আজকের পর কেয়ামত পর্যন্ত এখানে আর যুদ্ধ করা যাবে না।” —তিরমিজি: ১৬১১

৭. মক্কার হারাম এলাকায় প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত

এ পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের অধিকার শুধুমাত্র মুমিনদের।
আল্লাহ বলেন “নিশ্চয়ই মুশরিকরা নাপাক; তারা যেন এ বছর পর মসজিদে হারামের নিকটবর্তী না হয়।” —সূরা তাওবা: ২৮

৮. বিশেষ ইবাদতের কেন্দ্রস্থল

মক্কা ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও কিছু ইবাদত করা সম্ভব নয়। যেমন, কাবাঘরের তাওয়াফ, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বন, মাকামে ইবরাহিমে নামাজ, আরাফাতে উকুফ, মুজদালিফায় অবস্থান, জামারাতে পাথর নিক্ষেপ, হজের কোরবানি এসব ইবাদত এ নগরীর মর্যাদাকে চাঁদের মতো উজ্জ্বল করে।

৯. জমজম—পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানি

জমজম পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও বরকতময় পানি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন “ভূপৃষ্ঠের মধ্যে সর্বোত্তম পানি জমজমের পানি—এটি ক্ষুধার খাদ্য ও অসুস্থের আরোগ্য।” —তাবরানি

১০. বরকতময় ভূমি হিসেবে বিশেষ মর্যাদা

রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন “হে আল্লাহ! মক্কাতে তুমি যে বরকত দান করেছ, মদিনায় তার দ্বিগুণ বরকত দাও।”—সহিহ বোখারি: ১৮৮৫

এ দোয়া মক্কার বরকতময় হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

পরিশেষে—

পবিত্র মক্কা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু, ঈমান ও ঐক্যের প্রতীক।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বারবার পবিত্র মক্কা-মদিনায় সফরের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সিলেটসহ সারা দেশে ভূমিকম্প : রাজধানীর বংশালে রেলিং ভেঙে ৩ পথচারীর মৃত্যু, নিহত নরসিংদীতেও

এই সময় ডেস্ক:

সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবন কেঁপে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে ছুটে রাস্তায় নেমে আসেন।

ভূমিকম্পের শক্ত ধাক্কায় রাজধানীর বংশালে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে তিন পথচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। শুক্রবার বংশালের কসাইটুলি এলাকার ২০/সি কেপি ঘোষ স্ট্রিটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল হোসেন দুপুর সোয়া ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে নিহত তিনজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দল তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পরপরই ৫ তলা ভবনের রেলিং হঠাৎ নিচে ভেঙে পড়ে। এসময় রাস্তায় হাঁটছিলেন তিন পথচারী—যারা রেলিং চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর পরই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বংশাল থানার ডিউটি অফিসার আশীষ কুমার ঘোষ বলেন, “ভূমিকম্পের সময় ভবনের রেলিং ধসে তিন পথচারী নিহত হয়েছেন। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

নরসিংদীতে মাটির দেয়ালধসে প্রাণ গেল আরও একজনের

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে। সেখানে কম্পনের সময় পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির দেয়াল ধসে চাপা পড়ে কাজম আলী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ মারা যান।

দেশজুড়ে আতঙ্ক : আহত ৫৫ জন

এদিন ভূমিকম্পে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে গিয়ে অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রেলিং ভেঙে নিহত ৩ জনসহ বহু জায়গায় ছোটখাটো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সিলেট ও আশপাশের জেলাগুলোতেও ভূমিকম্পের প্রভাবে বহু বাড়ি ও ভবনের দেয়ালে ছোট ছোট ফাটল দেখা গেছে। তবে বড় কোনো ভবন ধসের ঘটনা ঘটেনি বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

মানুষ এখনো আতঙ্কে

ক্ষয়ক্ষতি সীমিত হলেও সকাল থেকে মানুষজন আতঙ্কে রয়েছে। অনেকে ভবনের বাইরে অবস্থান করছেন। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকতে এবং ভবনের কাঠামোগত ঝুঁকি পর্যালোচনা করার পর ঘরে প্রবেশের পরামর্শ দিয়েছে।

সবসময় অজু অবস্থায় থাকা: কুরআন ও হাদিসের আলোকে পবিত্রতার এক অনন্য সাধনা

ইসলামে পবিত্রতার ধারণা অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীর। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বারবার মুমিনদের পরিচ্ছন্নতা, শুচিতা ও আত্মিক পবিত্রতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ইবাদতের পূর্বশর্ত হিসেবে অজুর বিধান রাখার মাধ্যমে ইসলাম মুসলমানের জীবনযাত্রাকে সুসংগঠিত, পরিচ্ছন্ন এবং সময়ানুবর্তী করে তুলেছে। সেই পবিত্রতার ধারাবাহিকতায় বহু আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব সবসময় অজু অবস্থায় থাকার অভ্যাস তৈরি করেছেন। এই অভ্যাস আত্মার পরিশুদ্ধি, নৈতিকতা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।

কুরআনের আলোকে অজুর গুরুত্ব

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।”
—সূরা বাকারা (২:২২২)

এই আয়াত প্রমাণ করে যে শারীরিক ও আত্মিক পবিত্রতা আল্লাহর ভালোবাসা লাভের একটি পথ।

আরো বলা হয়েছে—
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন সালাতের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধুয়ে নাও।”
—সূরা মায়েদা (৫:৬)

ইসলামের এই সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রমাণ করে, অজু শুধু ইবাদতের জন্য নয়; বরং পবিত্রতার একটি ধারাবাহিক মান বজায় রাখার নির্দেশনা।

হাদিসের আলোকে অজুর স্থায়ী অভ্যাসের ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সা.) অজুকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। অসংখ্য সহিহ হাদিসে অজুর ফজিলত, পাপ মোচন এবং সবসময় অজুতে থাকার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

১️⃣ পাপ মোচনের মাধ্যম
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“যখন একজন মুমিন অজু করে, তখন তার চোখ, হাত, পা দিয়ে যে গুনাহ হয়েছে, অজুর পানির সঙ্গে তা ঝরে যায়।”
—সহিহ মুসলিম

২️⃣ ঘুমানোর সময় অজু অবস্থায় থাকার ফজিলত
রাসুল (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (অজু করে) রাত কাটায়, তার সাথে এক ফেরেশতা থাকে। সে ব্যক্তি রাতে জেগে উঠলে ফেরেশতা বলে— ‘হে আল্লাহ! এ বান্দাকে তুমি ক্ষমা করো, কারণ সে পবিত্র অবস্থায় ঘুমিয়েছে।’”
—সহিহ ইবন হিব্বান

৩️⃣ অজু অবস্থায় মৃত্যুবরণ
মহানবী (সা.) বলেন—
“যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (অজু সহ) দিন-রাত কাটাতে থাকে এবং অজুর ওপর অজু গ্রহণ করে, সে মুমিনদের তালিকায় লেখা হয়।”
—তিরমিজি

৪️⃣ অজু রাখা ঈমানের অংশ
রাসুল (সা.) বলেন—
“পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক।”
—সহিহ মুসলিম

এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে, অজু শুধু ইবাদত নয়; বরং চরিত্র, নৈতিকতা, আচরণ ও ঈমানকে পরিশুদ্ধ রাখার প্রশিক্ষণ।

সবসময় অজু অবস্থায় থাকার বাস্তব ও আধ্যাত্মিক উপকার

১. সর্বদা আল্লাহর স্মরণে থাকা

অজু মানুষকে আল্লাহর উপস্থিতি ও পবিত্রতার কথা স্মরণ করায়। অজু রাখা মানে নিজের জীবনকে আল্লাহর পথে নিয়োজিত রাখা।

২. পাপ থেকে দূরে থাকার প্রেরণা

অজু অবস্থায় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই পাপ করতে লজ্জা পায়। মনে থাকে– “আমি এখন পবিত্র অবস্থায় আছি, আল্লাহ আমাকে দেখছেন।”

৩. মানসিক প্রশান্তি ও সতেজতা

বিজ্ঞান বলছে, নিয়মিত পানির স্পর্শ মানুষকে মনস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়। ইসলামের অজু সেই প্রক্রিয়াকে আরও শান্তিময় করে।

৪. স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

মুখ, হাত, নাক, পা নিয়মিত ধোয়ার মাধ্যমে জীবাণু কমে, রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৫. অতিরিক্ত সওয়াব ও ফেরেশতাদের দোয়া

অজুতে থাকা মানুষের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন। রাসুল (সা.) বলেছেন যে, অজু করার পর দুই রাকাত নামাজ পড়লে পূর্বের ছোট গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়।

আচার–আচরণে শুদ্ধতার প্রতিচ্ছবি

অজু অবস্থায় থাকা মানুষ—

  • কথা বলায় সংযমী হন
  • মনকে খারাপ চিন্তা থেকে বিরত রাখেন
  • দেহ–মন উভয়ই পরিচ্ছন্ন রাখেন
  • ইবাদত সহজ হয়ে যায়
  • আকস্মিক মৃত্যু হলেও পবিত্র অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার সম্ভাবনা থাকে— যা বিশাল সৌভাগ্য

সবসময় অজু অবস্থায় থাকা—একজন মুসলমানের জীবনে সাফল্যের পথ

অজুকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা এই শুচিতা ও পবিত্রতা একজন মুসলমানের জীবনমান, নৈতিকতা, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতা সবকিছুকেই প্রভাবিত করে। দৈনন্দিন অভ্যাসে যদি একজন মানুষ অজু রাখেন—
তাঁর জীবনে:

  • আল্লাহর ভালোবাসা,
  • বারাকাহ,
  • মন শান্তি,
  • গুনাহ দূর হওয়া
    সবকিছুই একে একে বর্ষিত হয়।
ক্ষমতায় গেলে মানুষের দুঃখ–দুর্দশা দূর হবে, সকলেই পাবেন ন্যায়বিচার-অধ্যাপক আব্দুল হান্নান

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বলেছেন, “আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এই দেশের মানুষের দুঃখ–দুর্দশা দূর হবে। সকল ধর্মের মানুষই সমানভাবে ন্যায়বিচার পাবেন। ক্ষমতায় না গেলেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত কাজ করে যাবে—যেমনটি করেছে করোনাকালীন সংকটে।”

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের সমসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘দেওকলস ইউনিয়ন ও ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়ন’ জামায়াতে ইসলামীর যৌথ উদ্যোগে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ও ‘তাঁর’–এর সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক হান্নান বলেন, “করোনা মহামারির সময় দেশের মানুষ যখন চরম অনিশ্চয়তায় ছিল, তখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অনেকেই নিজেকে নিরাপদ রাখতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সেবায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। জামায়াত কখনো কাউকে খুশি করার রাজনীতি করে না—জামায়াত কাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোন কর্মী কখনো মানুষের সম্পদ বা হক আত্মসাৎ করবে না। আমাদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে পাঁচ বছর পরও তাঁদের অবস্থা আগের মতোই থাকবে—সম্পদ বাড়বে না, বরং কমতেও পারে। যারা নির্বাচিত হবেন, তারা কেবল জামায়াতের এমপি নন; তারা হবেন নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধি।”
এসময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দেওকলস ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আব্দুর রহিম এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি শামীম আহমদ মেম্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, বিশ্বনাথ উপজেলা আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, পৌর আমীর এইচ এম আক্তার ফারুক, ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমীর রেদওয়ানুর রহমান চৌধুরী শাহীন, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি শাফির আহমদ, তাজপুর ইউনিয়ন আমীর জাহেদ আহমদ, জেলা উলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা সাদিক সিকান্দার, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজিজুর রহমান জিলু, শাহ নেছাওর আলী, শাহ রেদুয়ান খানসহ আরও অনেকে।

সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য আলমগীর হোসেন এবং ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন আব্দুল মতিন ও জসিম উদ্দিন কাওছার। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী–পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।