বিশ্বনাথে উরসকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মসজিদে হামলা- উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ
প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে উরসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় দিনব্যাপী উত্তেজনা বিরাজ করে, তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর গ্রামের ইব্রাহিম শাহ মাস্তানের মাজারে উরস উপলক্ষে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসী। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের চেষ্টা করলে একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে স্থানীয়রা উরসের গানের মঞ্চ ভাঙচুর করেন।
এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার ভোরে উরসে অংশ নিতে আসা কিছু ভক্ত শ্রীপুর জামে মসজিদে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মসজিদের ব্যাপক ক্ষয়,ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা নুর মিয়া ও কাঁচা মিয়াসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে উরসের নামে অশ্লীল নৃত্য, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং অবাধে মাদক সেবন ও বিক্রি চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানালেও মাজার কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
অন্যদিকে, মাজারের খাদেম দুদু মিয়া বলেন, উরসের আয়োজন নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই স্থানীয়রা আকস্মিক ভাঙচুর চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, মসজিদে হামলার ঘটনায় মাজার সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত নয়। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজেই শ্রীপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী ও ক্যাশিয়ার।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উরস অনুষ্ঠান সন্ধ্যার আগেই বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




