আজকের সময়ের সেরা খবর
নরশিংপুরে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের ফলাফল প্রকাশ, পুরস্কার বিতরণ ও বিদায়ী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

নরশিংপুর সাজ্জাদুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শাখায় দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট কর্তৃক অনুমোদিত জামাতে সূরা থেকে জামাতে ছালিছ পর্যন্ত ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল এবং জামাতে রাবে শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ ও বিদায়ী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৬মার্চ) বিকেল ২টায় অনুষ্ঠিত বিদায়ী অনুষ্ঠানে অত্র শাখা কেন্দ্রের সহকারী হাফিজ তোফায়েল আহমেদ জাবেরের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি হাজী আব্দুল মজিদ সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

শুরুতেই পবিত্র আল-কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন রাবে জামাতের ছাত্র মারুফ হুসাইন। এরপর কসিদা পরিবেশন করেন ছাত্রী ফাহিমা বেগম, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন রাবে জামাতের ছাত্রী সাদিয়া আহমদ ফারজানা।

প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে একটি আলোকিত সমাজ গঠন সম্ভব। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোরআনের আলোকে জীবন গড়ার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারলে সমাজ থেকে অনেক অনৈতিকতা দূর হবে এবং একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

নরশিংপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও অত্র শাখার সহ-সভাপতি মো. বশির মিয়া তার বক্তব্যে বলেন, “শিশুদের কোরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে এবং তাদেরকে ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রাণিত করে।”

অত্র শাখার নাজিম মাওলানা ফারুক আহমদ বলেন, “দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

নরশিংপুর মাজের জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছালিক আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, “কোরআনের শিক্ষাই মানবজাতির জন্য মুক্তির পথ। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কোরআনের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।”

এছাড়া হাফিজ মুয়নুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান এবং অত্র শাখার প্রধান কারী হাফিজ শামছুর রহমান লিমন তাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্বনাথ পৌর তালামীজের সভাপতি ক্বারী আওয়াল হোসেন পারভেজ, নরশিংপুর গ্রামের মুরব্বী মইয়ব আলী, আখলুছ আলী, তেরাব আলীসহ অত্র শাখা কেন্দ্রের শিক্ষক-কারীগণ, ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে উপস্থিত সকল অতিথি, এলাকাবাসী, মুসল্লি ও দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আয়োজকরা বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পরামর্শ ও সহযোগিতার ফলেই এ ধরনের সফল আয়োজন সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর পক্ষ থেকে গরিব ও অসহায় আড়াই শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) উপজেলার মিয়াজানেরগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে এই বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তজম্মুল আলী রাজুর পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর গর্ভধারিণী মা আঙ্গুরা বেগম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, মিয়াজানেরগাঁও গ্রামের মুরব্বি রব্বান আলী, খালেদ মিয়া, সায়েস্থা মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, জুয়েল মিয়া, ইমাম উদ্দিন, তাজুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, আব্দুল মুতলিব, আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, সমাজের বিত্তবানদের উচিত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিশেষ করে ঈদের মতো আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেয় এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। তারা শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া পরিচালনা করেন হাফিজ মুমিনুর রহমান। পরে অসহায় মানুষের হাতে ঈদের বস্ত্র তুলে দেন আঙ্গুরা বেগম চৌধুরী।

এ সময় আঙ্গুরা বেগম চৌধুরী আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, মহান আল্লাহ তাদের পরিবারকে অনেক কিছু দিয়েছেন, এজন্য তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, তার ছেলে শেখ মুজিবুর রহমান চৌধুরী সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমার ছেলে যদি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে এবং সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।”

তিনি উপস্থিত সকলের কাছে তার ছেলের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং আগামী দিনে তাকে মানুষের সেবা করার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

বস্ত্র পেয়ে উপকারভোগী অসহায় মানুষদের মাঝে আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ লক্ষ্য করা যায়। তারা এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দোয়া করেন যেন এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকে।