আজকের সময়ের সেরা খবর
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালু করতে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এইসময় ডেক্স:

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক ও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় জানানো হয় যে, একাধিক দেশি ও বিদেশি বেসরকারি কোম্পানি এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা এখন সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিশ্বনাথে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে চারা বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাওছার খান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপকারভোগীদের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন।

হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই -এমপি লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, সনাতন ধর্মালম্বীরা সংখ্যালঘু নন, আমাদের সকলের পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশী। আপনারা নিজেদেরকে ছোট করে না দেখে আসুন হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আমরা

স্বাধীনভাবে নিজেরা নিজেদের ধর্ম পালন করব এবং সকল ভালো কাজে একে অপরকে হযোগীতা করব, আর আইন মেনে অপরাধীদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে সবাই সবাইকে সহযোগীতা করব। তিনি আরোও বলেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ৮ দফা দাবী’সহ সনাতন ধর্মালম্বীদের সকল দাবী আদায়ের ব্যাপারে আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। আর বিএনপি যেহেতু উন্নয়নবান্ধব সরকার, সেহেতু পর্যায়ক্রমে দেশের অবহেলিত ও বঞ্চিত জনসাধারণকে তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে।

তিনি শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা বলেন, স্বাধীন এই দেশে আমরা সংখ্যালঘুরা নিজেদের নিরাপত্তা চাই। সমঅধিকার ও সমমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকলে পারলেই আমাদের চলবে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে থাকা আমাদের ৮ দফা দাবী সঠিকভাবে পূরণ করা হলে এদেশে সংখ্যালঘুদের আর কোন দাবী থাকবে না। আর এটি বাস্তবায়নে সরকারের সু-দৃষ্টিকামনা করছি।

বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুনিল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে এবং সদস্য কাজল মালাকার ও গোবিন্দ মালাকারের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নবেন্দু জ্যোতি দে, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সিলেট মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব, সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য নিশি কান্ত পাল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মানিক লাল দে, বিশ্বনাথ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সহ সভাপতি রুপক কুমার দেব।

বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কানু রঞ্জন দেব, পূজা বিষয়ক সম্পাদক বিজয় দেব, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য মাস্টার অজিত দেব, জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সহ সভাপতি বাবুল কান্তি দাশ মেঘল, হিন্দু কমিউনিটি নেতা ঝলক আচার্য্য।

অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা থেকে পাঠ করেন বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সহ সভাপতি দেবব্রত চক্রবর্তী দেবু ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. বিভাংশু গুন বিভু।

দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে সুনিল কান্তি দে’কে সভাপতি, কানু রঞ্জন দেব’কে সাধারণ সম্পাদক, গোবিন্দ মালাকার ও কাজল মালাকার যুগ্ম সম্পাদক এবং সুমন দেব’কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্র ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মঈনুল হক, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম, উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোনায়েম খান, কাওছার খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জলিল, নানু মিয়া, মোঃ শাহজাহান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন মামুন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান রিপন, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা সেবুল মিয়া, মোমিন খান মুন্না, পৌর কৃষক দলের আহবায়ক নূর আলী, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সামছুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহবায়ক শাহ আমির উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক ওয়াসিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেল, যুগ্ম আহবায়ক রাসেল আহমদ, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মজিদ বকুল, উপজেলা ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখসহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথে ব্রাইট ফিউচার স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা-কলম বিতরণ

আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ উপহার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ব্রাইট ফিউচার স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে খাতা ও কলম বিতরণ করেছে আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্কুলের সকল শিক্ষার্থীর হাতে খাতা ও কলম তুলে দেন আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক আহমদ আলী হিরণ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মকবুল আলী, স্কুল বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা মফিজ আলী, সভাপতি আবদুল করিম, সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ, কোষাধ্যক্ষ শাহ কয়েছ আহমদ এবং প্রচার সম্পাদক এরশাদ আলী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমদ আলী হিরণ বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দক্ষ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তাদের লেখাপড়ার পথকে আরও সহজ ও উৎসাহব্যঞ্জক করতে আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি। তাই সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু খাতা-কলম বিতরণ নয়, সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা বিস্তারে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

খাতা-কলম পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে এবং আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দও এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে।

বিশ্বনাথে ৭০ উপকারভোগীর হাতে সরকারি অনুদান

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, চলবে ধারাবাহিক উন্নয়ন: হুমায়ুন কবির

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি:

জনগণের কাছে দেওয়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ঘোষিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অনুদানসহ সব ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রায় জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে গেলে সিলেটের পাশাপাশি বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

বুধবার (১ জুলাই) সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সরকারি স্বেচ্ছাধীন তহবিলের আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৭০ জন অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত উপকারভোগীর হাতে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে সরকারি আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেমের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা যুবদল নেতা রুমেল আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ দাশ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্বাস আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, যুগ্ম সম্পাদক মনির আহমদ, লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন (ধলা মিয়া), বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল, দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খায়রুল আমীন আজাদ, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন, বাদশা মিয়া, কৃষকদল নেতা আব্দুস সালাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুসলিম আলী, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন সজিব, যুবদল নেতা সৌরভ আহমদ লাকি ও জাহাঙ্গীর আলম, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাজ্জাদ আলী শিপলু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তাজুল ইসলাম সাজু, বিশ্বনাথ পুরান বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আহমদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠিানে বক্তারা বলেন, সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি সমাজের অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদেরসম্মেলন ৩ জুলাই, প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পথচলা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন আগামী ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনের সম্মেলন সফল, স্বার্থক ও উৎসব মুখর পরিবেশে সম্মন্ন করার লক্ষ্যে শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে পৌর শহরের পুরাণ বাজার এলাকায় এক প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করা হয়েছে।
সভায় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে নানাবিধ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এতে উপজেলার সর্বমহলের নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেছেন নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সুনিল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে ও সদস্য কাজল মালাকারের পরিচালনায় প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য নিশি কান্ত পাল, বিশ্বনাথ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি পিনাক চক্রবর্তী, সাবেক সহ সভাপতি রুপক কুমার দে, বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেস্টা মন্ডলীর সদস্য রনজিত ধর রণ, জ্যোতির্ময় দে মতি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. বিভাংশু গুন বিভু, সাবেক প্রচার সম্পাদক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু।
বক্তব্য রাখেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য দেবব্রত চক্রবর্তী দেবু, বিজয় দেব, কানু রঞ্জন দে, মাস্টার অজিত দেব, নিশি কান্ত পাল, মিন্টু মালাকার, সাংবাদিক অজিত দেব, দিলীপ কুমার দাস, অজয় দেব, অকিল বৈদ্য, বিভাস দেব, প্রবীর কান্ত দে, মঞ্জু বিশ্বাস, বিজয় চন্দ্র দে, সুমন দেব, অমিত দেব।
পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দের পক্ষে বক্তব্য রাখেন উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি বিদ্যাভূষণ চক্রবর্তী, দেওকলস ইউনিয়ন শাখার সভাপতি শশাংক বৈদ্য, অলংকারী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাত সরকার, দশঘর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক নকুল বর্ধন।

নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, জুলাই থেকে শুরু বাস্তবায়ন

বেতন বাড়তে পারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, নিম্ন গ্রেডে শতভাগ বৃদ্ধিরও ভাবনা

এইসময় অনলাইন ডেস্ক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এ পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (২৪ জুন) পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট সুপারিশগুলো চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুতই আরও একটি সভার মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হতে পারে।

সভা সূত্র জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির হার ও ধাপসংক্রান্ত বিষয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রথম প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সুপারিশ রয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্প অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া তৃতীয় বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অবসর-পূর্ব ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যদিও জুলাই থেকে পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা, তবে বর্ধিত বেতনের অর্থ সরকারি চাকরিজীবীদের হাতে পৌঁছাতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নবম পে স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪ বাংলাদেশির

এইসময় ডেস্ক:

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ৬১৭ জন বাংলাদেশি হাজি। বুধবার পর্যন্ত ১৭২টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে হজ বুলেটিন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রকাশিত হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৬০ হাজার ২৯৮ জন রয়েছেন।

এদিকে, চলতি বছরের হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে পবিত্র মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হজের গুরুত্বপূর্ণ স্থান মিনা ও মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৯১টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

এয়ারলাইনসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৮১টি ফ্লাইটে ২৯ হাজার ২৯৯ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে ২২ হাজার ৪৫৯ জন, ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ৪ হাজার ১৮৭ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট হাজিরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্যে জানা গেছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এছাড়া সৌদি মেডিক্যাল সেন্টারগুলো মোট ৬৬ হাজার ৯৬৩ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। অন্যদিকে মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩৬০ জন হাজিকে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজযাত্রা শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের সুযোগ পান।

বিশ্বনাথে মানবপাচারের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের বিচার দাবি

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :
সিলেটের বিশ্বনাথে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্তর দশপাইকা গ্রামের আজিম খান (২৩) লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলার লহরী গ্রামের ভুক্তভোগী কাউসারের পিতা আইন উদ্দিন (৭৫), লহরী নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল জলিল (৬০), লহরী গ্রামের মোস্তাব আলী (৩৫), বালাগঞ্জ উপজেলার রিফাতপুর গ্রামের ভুক্তভোগীর চাচা রিয়াজ উদ্দিন (৫২), মজলিশপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (২৫), ওসমানীনগর উপজেলার খয়েরপুর গ্রামের মো. সেবুল মিয়া (৪৫), তাজপুর গ্রামের শাহান আলী (২৪), বিশ্বনাথ উপজেলার পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের জিল্লুর রহমান (৩৭), জগদ্বীশপুর গ্রামের আল আমিন (৩০) এবং দশঘর নোয়াগাঁও গ্রামের জুনাব আলী (৪৫)।

লিখিত বক্তব্যে আজিম খান অভিযোগ করেন, বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আজবর আলী (৪৬), তার সৌদি প্রবাসী ভাই আছকির আলী (৫৫), রাজনা বেগম (৩৫), আছিয়া বেগম (৪৫) ও ফাহাদ আলী (২৫) সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের আরটিজিএস ও নগদে মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত ড্রাইভিং ভিসার পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদি অন্য একটি ভিসার পিডিএফ কপি দিয়ে মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও প্রশিক্ষণের নামে সম্পূর্ণ টাকা আদায় করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে তাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র, সৌদি ৫০০ রিয়াল এবং বাংলাদেশি ৬-৭ হাজার টাকা রেখে দিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আরও ভুক্তভোগীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে গত ৮ মার্চ দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খানের কাছে পাসপোর্ট ও টাকা ফেরতের দাবিতে বিচার প্রার্থনা করেন। চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে ১৫ এপ্রিল, ৩ মে ও ৯ জুন তিন দফা নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে তারা বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত, সিলেটে বিশ্বনাথ সি.আর. মামলা নং-২৪৯/২০২৬ দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা মানবপাচারকারী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

এব্যাপারে দশঘর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ খানের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, অভিযুক্তদের কোন সাড়া না পেয়ে আদালতের স্বরনাপন্ন হওয়ার জন্যে তিনি প্রত্যয়ন দিয়েছেন।  

এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্বনাথে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর যৌথ সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠনের উদ্যোগে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভায় বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সাংবাদিকতার মৌলিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা, অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের হয়রানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ এবং পেশাগত মানোন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া সাংবাদিক সমাজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভবিষ্যতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে মতৈক্য প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ।

বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি এম. আর টুনু তালুকদার, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মশিউর রহমান, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তজম্মুল আলী রাজু, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আশিক আলী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য আব্দুস সালাম মুন্না, সমুজ আহমদ সায়মন, মোস্তাক আহমদ মোস্তফা, জাহান মিয়া, মাজহারুল ইসলাম সাব্বির, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সদস্য আফজল মিয়া এবং বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য কামরুল হাসান, হাবিবুর রহমান ও আব্দুল্লাহ।

সভা শেষে সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।