আজকের সময়ের সেরা খবর
হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে কঠোর বার্তা, বাসিয়া নদী দখলমুক্ত করার ঘোষণা

বিশ্বনাথে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে বিশ্বনাথ পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় তিনি পৌরসভার উন্নয়ন, রাজস্ব আদায়, হোল্ডিং ট্যাক্স ও নাগরিক সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পৌর প্রশাসক বলেন, বিশ্বনাথ পৌরসভার আয়তন বড় হলেও আয় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থায় পৌর এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে যেসব হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় বকেয়াদারদের মার্কেট, বিল্ডিং বা বাড়িতে বকেয়ার তালিকা উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপনসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে পাঁচ বছরের জন্য যে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা ছিল অপরিকল্পিত। কোথাও অতিরিক্ত, কোথাও কম, আবার কোথাও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে ট্যাক্স প্রদানে অনীহা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পৌর এলাকায় আনুমানিক মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছেন। বড় একটি অংশ বকেয়ার তালিকায় রয়েছে এবং অনেক ভবন এখনও হোল্ডিংয়ের আওতার বাইরে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাসিয়া নদী প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক জানান, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে নদীর তীরে পাকা স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণ করা হবে। চলমান মামলা ও রিট নিষ্পত্তি হলেই বাসিয়া নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এর পাশাপাশি বাসিয়া নদীর উৎসমুখ পুনঃখননের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ চাইলে অগ্রিম হোল্ডিং ট্যাক্সও পরিশোধ করতে পারবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্কেটের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে ভাড়াটে দোকান মালিকরা সচেতন হলে ট্রেড লাইসেন্স নিতে গিয়ে কাউকে হয়রানির শিকার হতে হবে না। জন্ম ও মৃত্যু সনদ প্রদান বিষয়ে তিনি জানান, আবেদনকারীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সেবার স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রকৌশলী উদ্দিন আহমদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবাযের, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সাবেক সভাপতি আশিক আলী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল মুন্না, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণঞ্জয় বৈদ্য অপু, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আক্তার আহমদ শাহেদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ জামাল মিয়া, সদস্য আহমদ আলী হিরণ, সুজিত দেব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের শিক্ষানবিশ সদস্য আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জামিন পেলেন সেই নেতা

এইসময় ডেস্ক:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন।

রবিবার সকালে তাকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আদালতে তোলা হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত মাহদী হাসানের জামিন মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর এলাকা থেকে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন।

রাতভর থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা মাহদী হাসানের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে রাতেই আদালত বসিয়ে তার জামিন শুনানি গ্রহণের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা। তবে রাতে আদালত না বসায় তাদের দাবি পূরণ হয়নি। পরে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকে।

আজ সকালে মাহদী হাসানকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানে তার সমর্থক ও সহকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। জামিন পাওয়ার খবরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা দাবি করেন, মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, আদালত মামলার নথি ও শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেছেন। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বাহরাইনে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

বাহরাইন প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বাহরাইনে গায়েবানা জানাজা, খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বাহরাইনের হামাদ টাউনের আয়েশা মসজিদের হলরুমে বিএনপি বাহরাইন আহবায়ক কমিটি ও জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বাহরাইনে অবস্থানরত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। পুরো আয়োজনটি ছিল ভাবগম্ভীর ও শোকাবহ পরিবেশে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি বাহরাইনের সক্রিয় নেতৃবৃন্দ মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ মহিউদ্দিন, আবুল বাশার, মোঃ মানিক মিয়া মনির, আক্তারুজ্জামান মিয়া, আব্দুস সালাম, সিরাজুল ইসলাম চুন্নু, রবিউল ইসলাম রবি, মো: সিরাজ, জাহাংগির আলম, কামাল উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম আকন, ক্যাপ্টেন হুমায়ুন কবির,ফিরোজ আলম কিরন, মো: বেলাল হোসেন, মনির হোসেন বেপারী, মো: ফারুক হোসেন,শাহ আলম সওদাগর,সুলতান হাওলাদার, শরিফুল ইসলাম রিপন,নজরুল ইসলাম,আবুল কালাম,মো: রুবেল, আলাউদ্দিন, আব্দুল হান্নান,মো: মোশাররফ হোসেন,মো: মিজান,জাহাংগির আলম, হাফেজ শাহজাহান, মো: মফিজ,নওশাদ, এখলাজ উদ্দিন,আব্দুর রহিম মজুমদার,মো: আলম,ইউনুস হোসেন,ইমরান হোস্রন,শামসুল আলম। আবুল কাশেম,রাজু আহমেদ সহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্যরা। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য তার ত্যাগ ও অবদান স্মরণ করেন।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আয়েশা মসজিদের খতিব মাওলানা মনিরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির জন্য তার অবদান আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার জন্য বিশেষ দোয়া করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন আপোষহীন, সাহসী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীকে হারিয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কঠিন সময়েও তিনি জনগণের পক্ষে আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা, তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

বিশ্বনাথের গোয়াহরী গ্রামে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বিস্তীর্ণ বড়বিল যেন একদিনের জন্য ফিরে গিয়েছিল শত বছর আগের গ্রামীণ বাংলায়।

শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসবকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১লা জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিলপাড়ে জমে ওঠে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রকৃতির কোলে ঘেরা এই বড়বিলে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব দেখতে ও অংশ নিতে জড়ো হন হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়াহরি ও আশপাশের গ্রামের মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েন উৎসবের প্রস্তুতিতে। হাতে হাতে পলো, উড়াল জাল, টেলা জাল, টানা জাল, ছিটকি জাল ও কুচা নিয়ে নির্ধারিত সময়ে সবাই একত্রিত হন বড়বিলের পাড়ে। নির্দিষ্ট সংকেতের পর মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন পানিতে। পানির ঢেউ আর মানুষের উচ্ছ্বাসে বড়বিল যেন প্রাণ ফিরে পায়।

কয়েক ঘণ্টাব্যাপী মাছ শিকারে ধরা পড়ে নানা প্রজাতির বড় ও ছোট মাছ। কারও পলোতে ধরা পড়ে বিশাল আকৃতির বোয়াল, কারও ঝুড়ি ভরে ওঠে রুই-কাতলা আর ঘনিয়ায়। টেলা ও ছিটকি জালে আটকা পড়ে বিলে জন্ম নেওয়া সুস্বাদু বাউশ, শোলসহ নানা জাতের দেশি মাছ। মুহূর্তে মুহূর্তে আনন্দধ্বনি, উল্লাস আর হাসিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিলপাড়।

এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব দেখতে বিলের চারপাশে ভিড় জমান নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। অনেক প্রবাসী পরিবার বিশেষভাবে এই পলো বাওয়া উৎসবকে কেন্দ্র করেই দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন আর একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দে গোয়াহরি বড়বিল পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়।

পলোতে বড় বোয়াল ধরতে পেরে উচ্ছ্বসিত যুবক রাজু আহমদ বলেন, “নিজের হাতে এত বড় বোয়াল ধরতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। আজ সবাই মাছ পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য দারুণ খুশির দিন।”

উৎসব দেখতে যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রবাসী হাজী মো. তৈমুছ আলী বলেন, “গ্রামের মানুষকে একসঙ্গে আনন্দের সঙ্গে মাছ ধরতে দেখা—এই দৃশ্য দেখার জন্যই দেশে আসা। বসে বসে পলো বাওয়া উৎসব উপভোগ করছি, মনটা ভরে গেছে।”

প্রবাসী হাজী মো. আবদুল বারী ও শাহনুর হোসাইন ছাদিক বলেন, “এই উৎসব দেখার টানেই আমাদের দেশে ফেরা। গ্রামের মানুষ, ঐতিহ্য আর এই আনন্দ আমাদের কাছে পরমানন্দের মতো।”

আয়োজক কমিটির সদস্য গোলাম হোসেন মেম্বার ও ইকবাল হোসাইন বলেন, “আমাদের গোয়াহরি গ্রামের বড়বিলে প্রতিবছরই এই পলো বাওয়া উৎসব পালন করা হয়। এটি শুধু একটি মাছ ধরার আয়োজন নয়, বরং আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। যুগ যুগ ধরে আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। এই উৎসব আমাদের সংস্কৃতি ও গর্বের অংশ।”

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর মানুষের আন্তরিক মিলনে গোয়াহরি বড়বিলের পলো বাওয়া উৎসব আবারও প্রমাণ করেছে—গ্রামীণ বাংলার প্রাণ এখনও অটুট, এখনও বয়ে চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।