আজকের সময়ের সেরা খবর
মহান শহিদ দিবসে উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রী কলেজে ব্যাপক কর্মসূচি

বিশ্বনাথ প্রতিবেদক:

গভীর শ্রদ্ধা, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রী কলেজ। দিবসটি উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি তারিখ নয়; এটি বাঙালির আত্মমর্যাদা, সাহস এবং আত্মপরিচয়ের প্রতীক। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরস্ত্র ছাত্রদের আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করতে। ভাষার প্রশ্নে আপস না করার যে শিক্ষা আমরা পেয়েছি, সেটিই পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপন করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা, সৃজনশীল ব্যবহার এবং গবেষণাভিত্তিক অধ্যয়নের মাধ্যমে ভাষাকে সমৃদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

ইংরেজি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রশীদ তার বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন বৈশ্বিক স্বীকৃত একটি দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব রক্ষায় এ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে নিজের শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। বিশ্বায়নের এই যুগে বহুভাষা শেখা প্রয়োজন, তবে নিজের ভাষার মর্যাদা ও শুদ্ধতা রক্ষা করা আরও বেশি জরুরি।

সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুনিম পারভেজ বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই স্বাধীনতার চেতনার বিকাশ ঘটেছে। তিনি বলেন, ইতিহাস শুধু জানার বিষয় নয়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে গড়ে তোলার বিষয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে জাতির উন্নয়নে অবদান রাখে।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন মোস্তফা কামাল ও খায়ের আহমদ। তারা বলেন, ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতিসত্তার ভিত মজবুত করেছে। আজ প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তারা তরুণ প্রজন্মকে ভাষার বিকাশে সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া শিক্ষক আমিনুল হক, হিসাবরক্ষক আব্দুস সালাম, আশিকুর রহমান, ফখরুজ্জামান খান, জুয়েল আহমদ, রুবেল আহমদ, নন্দগোপাল দেবসহ কলেজের সর্বস্তরের শিক্ষার্থী। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।

সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশিত হয়। আবৃত্তিতে উঠে আসে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, আর সংগীতে ধ্বনিত হয় দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদার বার্তা। উপস্থিত সবার মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বক্তারা ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, একুশের চেতনা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন করে তোলার মধ্য দিয়েই শহিদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।

সার্বিকভাবে, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের আদর্শ ও চেতনা আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বিশ্বনাথ কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্থম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে দিবসের সূচনালগ্নে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নীরবতা পালন করেন এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি এমআর টুনু তালুকদার, সহসভাপতি রুহেল উদ্দিন, সাবেক সভাপতি আশিক আলী, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, যুগ্ম সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন, কার্যকরী সদস্য আক্তার আহমদ সাহেদ ও মোসাহিদ আলী।

এসময় ক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই ছিল না, এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার লড়াই। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই পরবর্তীতে স্বাধীনতার আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছে।

এসময় তারা, সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা, ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া। মহান শহীদ দিবসের চেতনা ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মাহে রমজান উপলক্ষে বিশ্বনাথে ছয় শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ‘আলহাজ্ব হুশিয়ার আলী, জমিলা বিবি এবং ছুরাব আলী (মহাজন বাড়ি) অরফান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে এলাকার ছয় শতাধিক গরিব ও অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর শহরের শরিষপুর (মিরেরচর-২) গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাহাব উদ্দিনের বাড়িতে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, ছানাসহ প্রায় ১৫ কেজি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়, যা রমজান মাসে অসচ্ছল মানুষের খাদ্যসংকট লাঘবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

এলাকার প্রবীণ মুরব্বী মাওলানা জাহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক মাওলানা ওমর ফারুক বিপ্লবীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ থানার এসআই অনিক বড়ুয়া, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মছন্দর আলী, সংগঠক হাজী আরশ আলী রেজা, আব্দুল ওয়াহিদ, বাবুল ইসলাম, সিকন্দর আলী ও মাওলানা ফখরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ তাজ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্যে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সাহাব উদ্দিন বলেন, মাহে রমজানের শিক্ষা হলো সহমর্মিতা, ত্যাগ ও মানবিকতার চর্চা। সেই চেতনাকে ধারণ করেই সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শেষে শরিষপুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফয়ছল আহমদের পরিচালনায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত বক্তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসী ব্যক্তিদের এমন উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্বনাথে ছাত্রনেতা ফাহিম আহমদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম আহমদের যুক্তরাষ্ট্র গমন উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা–পৌর যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি এম. আসকির আলী বলেন, ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে দল ও দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জনতার নেতা এম. ইলিয়াস আলী তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আপস না করায় গণআন্দোলনের বিজয় সুসংহত হয় এবং পরবর্তীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়। দল ও দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি গুমের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনার নেতৃত্বে সিলেট-২ আসনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ফাহিম নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে দীর্ঘদিন ছাত্রদলের নেতৃত্বে থেকে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পারিবারিক প্রয়োজনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হলেও তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন লামাকাজী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মামুন।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেলের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব গৌছ খান, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বশির আহমদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, যুক্তরাজ্য যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা শাহবাজ আহমদ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানিমুল ইসলাম তানিম ও ইতালি প্রবাসী শেখ শাহজাহান।

এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শামছুল ইসলাম, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আলী, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কয়েছ আহমদ সবুজ, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ বকুল, সাবেক সদস্য সচিব এ কে রাজু, বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ টিপু, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নূর উদ্দিন সামি, মামুন আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, দেওকলস ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাবের আহমদ, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, দৌলতপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রাজু, অংলকারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি নাজমুল ইসলাম, দশঘর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি আলী আহমদ, খাজাঞ্চি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম এবং এমসি কলেজ ছাত্রদল নেতা তারেক আহমদ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ছাত্রনেতা ফাহিম আহমদের সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে তার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের বাইরে থেকেও সংগঠন ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সম্মানে প্রীতি নৈশভোজ অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সম্মানে দুই যুক্তরাজ্য প্রবাসীর উদ্যোগে নির্বাচন-পরবর্তী প্রীতি নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌর শহরের পুরাণ বাজার এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ট্রাস্টি শাহাবুদ্দিন ও রুহেল মিয়া-এর সৌজন্যে এ আয়োজন করা হয়।

বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ প্রীতি নৈশভোজে অতিথিরা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটান।

নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রবাসী শাহাবুদ্দিন ও রুহেল মিয়া বলেন, বিশ্বনাথে কর্মরত সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনকল্যাণে সাহসী ভূমিকা রেখে চলেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য থেকেই এই ক্ষুদ্র আয়োজন করা হয়েছে। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ—তাদের সম্মান জানাতে পেরে তারা গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের পাশে থেকে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন আয়োজনের জন্য প্রবাসী দুই উদ্যোক্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি প্রবাসীদের এই আন্তরিকতা ও সম্মান পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব ও বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ প্রীতি নৈশভোজ সাংবাদিকদের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাগত বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে বলে উপস্থিতরা মত প্রকাশ করেন।

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, উদ্বোধন করলেন লিয়াকত শাহ ফরিদী

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন অ্যান্ড মোক্তার আলী রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোক্তার আলী-এর পক্ষ থেকে এই নিরাপত্তা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

গতকাল আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্বোধন করেন সিলেটের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক লিয়াকত শাহ ফরিদী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রবাসীরা সবসময় দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। আলহাজ্ব মোক্তার আলীও সেই ধারাবাহিকতায় নিরলসভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তিনি এই মহৎ উদ্যোগের জন্য মোক্তার আলীকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, আলহাজ্ব মোক্তার আলী বিশ্বনাথের শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সবসময় এগিয়ে আসেন। একজন মানবিক ও উদার ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করেন—এই দোয়া কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বুনন প্রকাশন রাগীব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি খালেদ উদ্দীন, কবি আলতাফ হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, ইউপি সদস্য শফিক আহমদ পিয়ারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপস্থিত বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ব্যক্তিরাও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসবেন।

বিশ্বনাথে অবসরকালীন বিদায় সংবর্ধনায় সিক্তহলেন শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদার

শিক্ষকরা নৈতিকতা ও মানবিকতার পথপ্রদর্শক : লিয়াকত শাহ ফরিদী

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ দশপাইকা আনোয়ারুল উলুম আলিম মাদরাসা-এর সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদারের অবসরকালীন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেশ-প্রবাসে অবস্থানরত মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে যেন মিলনমেলায় পরিণত হয় মাদরাসা প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ লিয়াকত শাহ ফরিদী। তিনি বলেন,“শিক্ষকতা কেবল একটি চাকরি বা জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়; এটি এক মহান ব্রত, এক পবিত্র দায়িত্ব। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই দেন না, তিনি গড়ে তোলেন একটি প্রজন্মের মনন, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনা। সমাজে যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা যায়, তা রোধে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শফিকুল ইসলাম মজুমদার সাহেবের মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকরা তাঁদের সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শিক অবস্থানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনে আলোর দিশা দেখিয়েছেন। একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসর নেন না—তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের এই সংবর্ধনা শুধু একজন শিক্ষকের বিদায় নয়; এটি একটি আদর্শ, একটি মূল্যবোধ ও একটি সময়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।”

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাগিব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপক ও ‘বুনন’ সম্পাদক কবি খালেদ উদ-দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একজন শিক্ষক সমাজের নীরব স্থপতি। তিনি শব্দহীনভাবে গড়ে তোলেন মানুষের ভিত, চরিত্র ও স্বপ্ন। শফিকুল ইসলাম মজুমদার শুধু পাঠদান করেননি, তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও আত্মমর্যাদাবোধের শিক্ষা দিয়েছেন।”

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ মো. আরব খানের সভাপতিত্বে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিক আহমদ পিয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসমাইল খান, ভুরকী দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আলতাফ হোসেন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট-এর ইসি সদস্য আবুল হোসেন মামুন এবং দৌলতপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ।

স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাইফুল আলম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ আবু তাহের মিছবাহ, সাংবাদিক আহমদ আলী হিরণ, মাওলানা শাহেদ আহমদ, নাজমুল ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন আত্তার, রবিউল আউয়াল ও উম্মে খাদিজাতুল কুবরা। বক্তারা তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের কর্মনিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা, মমত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার নানা স্মৃতি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদারের সম্মানে এক লক্ষ টাকার সম্মাননা চেক, উত্তরীয় ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তাঁর স্নেহধন্য শিক্ষার্থীরা। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আয়োজকসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি আমানতের দায়িত্ব পালন করতে। আমার শিক্ষার্থীরাই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ। তোমরা মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হও, দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করো—এটাই আমার জীবনের প্রাপ্তি।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাদরাসার শিক্ষার্থী হাফিজ কাওছার আহমদ। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সমগ্র আয়োজন জুড়ে ছিল শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মজুমদারের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান ও আবেগঘন বিদায় মুহূর্ত। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সম্মানে সিক্ত এই বিদায় অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে স্মরণীয় ও অনন্য।

তাহসিনা রুশদীর লুনার বিজয়ে বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিষ্টি বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ আনন্দঘন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয়ের উচ্ছ্বাসে তারা সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং গণমানুষের এই রায়কে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগান, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জামাল উদ্দিন ও আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আশিকুর রহমান রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ আহমদ, আব্দুল মোমিন ও শেখ আরিফ আলী, সদস্য ফারুক আহমদ, আমির আলী, আওলাদ হোসেন, তাজেখ আলী, হেলাল আহমদ, দিলাল আহমদ, ইসলাম উদ্দিন, সাইদুল ইসলাম, সাধন চন্দ্র দে সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মিষ্টি বিতরণকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বলেন, এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নয়; এটি বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরের আপামর জনসাধারণের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার বিজয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ত্যাগ ও সংগ্রামের পর জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রতি আস্থা রেখে ধানের শীষের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের এই রায় অন্যায়, অবিচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক সুস্পষ্ট প্রতিবাদ এবং ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ় প্রত্যয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তাহসিনা রুশদীর লুনা এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের অত্যন্ত আপনজন। সুখে–দুঃখে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তাঁর সুযোগ্য, দূরদর্শী ও মানবিক নেতৃত্বে অবহেলিত এই জনপদে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি খাতে বাস্তবমুখী উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপ নেবে।

তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নিখোঁজ জননেতা এম. ইলিয়াস আলী-এর অসমাপ্ত স্বপ্ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এই বিজয়ের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে। তাঁর আদর্শ, ত্যাগ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার রাজনীতিকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা হবে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারায়।

নেতারা আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—তারা বিভাজন নয়, সম্প্রীতি চায়; প্রতিহিংসা নয়, শান্তি ও উন্নয়ন চায়; দুঃশাসন নয়, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব চায়। এখন সময় ঐক্য, সহমর্মিতা ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরকে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার।

ইক্বরা মডেল একাডেমীতে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিংগেরকাছ বাজারে অবস্থিত ইক্বরা মডেল একাডেমী-তে উৎসবমুখর পরিবেশে পিঠা উৎসব, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) একাডেমি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পিঠা উৎসবকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা স্বাদের পিঠার সমারোহ। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে মোট আটটি আকর্ষণীয় পিঠা স্টল বসানো হয়, যেখানে ভাপা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধপুলি, নকশি পিঠাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ ঐতিহ্যের পিঠা প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। এতে নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির একটি অনন্য প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।

একাডেমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জুনেদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান। তিনি বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, দেশীয় সংস্কৃতি ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সুস্থ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একাডেমির সহকারী শিক্ষক হাফিজ মাওলানা রেজাউল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য ও ভোরের ডাকের বিশ্বনাথ প্রতিনিধি আহমদ আলী হিরন, সিংগেরকাছ (২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রানী আক্তার এবং একাডেমির অভিভাবক সদস্য আবুল কালাম, খছরুজ্জামান, ছাদিকুর রহমান, আইয়বুর রহমান, তামান্না মাহমুদ, তাহমিনা বেগম, হুমায়রা, মিলি, মরিয়ম, শিবলী ও রিমাসহ অনেকে।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শিশুদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে তোলা এবং দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও করতালির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় দিনব্যাপী এ বর্ণিল আয়োজন।

বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি টুনু তালুকদার ও সম্পাদক সাকী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠন বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৪ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিতে নাগরিক টিভির সিলেট ব্যুরো প্রধান এমআর টুনু তালুকদারকে সভাপতি এবং দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের উপজেলা প্রতিনিধি সালেহ আহমদ সাকীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা বলেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সত্যের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে বস্তুনিষ্ঠ, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন কমিটি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নবগঠিত কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— সহ-সভাপতি রুহেল উদ্দিন (গণমুক্তি), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন (আমার সংবাদ), কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম (ইনকিলাব) এবং দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন (ভোরের কাগজ)।

এছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম খায়ের (সমকাল), আশিক আলী (যুগান্তর), কামাল মুন্না (যায়যায়দিন), নবীন সোহেল (কালবেলা), আক্তার আহমদ শাহেদ (মানবজমিন), শুকরান আহমদ রানা (সকালের সময়), মশাহিদ আলী (বার্তা২৪) এবং আফজল হোসেন (ক্যামেরাপার্সন, এনটিভি ইউরোপ)।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বনাথের সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন, নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা বিস্তার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই হবে নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, যেকোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ এবং তরুণ সাংবাদিকদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়েও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন সম্ভাবনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দায়িত্বশীলভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে প্রেসক্লাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক অবস্থান ধরে রেখে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলেও তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।