আজকের সময়ের সেরা খবর
সিলেটের ছয় আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা: পাঁচটিতে বিএনপি, একটিতে খেলাফত মজলিস

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-মনোনীত প্রার্থীরা। অন্যদিকে একটি আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর নেতা মুফতি আবুল হাসান, যিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ২টার দিকে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে; পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত যাচাই শেষে সরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

আসনভিত্তিক ফলাফল

সিলেট-১ আসন:
বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মাওলানা হাবীবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন ৩১৪, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মাহমুদুল হাসান ২ হাজার ৭০১, বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল ১ হাজার ১১৩, সিপিবির আনোয়ার হোসেন সুমন ৯০৮ এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাস ৮০১ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-২ আসন:
বিএনপির তাহসীনা রুশদির লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুনতাসির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।

সিলেট-৩ আসন:
বিএনপির এম এ মালিক পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট।

সিলেট-৪ আসন:
বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদিন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।

সিলেট-৫ আসন:
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৬১৪ ভোট।

সিলেট-৬ আসন:
বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ১০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৫৯ ভোট।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব কেন্দ্রের ফল সংগ্রহ শেষে এ বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ধানের শীষে ভোট চাইলেন লুনা

বিশ্বনাথে শেষ জনসভায় নেতাকর্মীদের ঢল

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, এই নির্বাচন কেবল একটি আসনের নির্বাচন নয়; এটি দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। ধানের শীষ কোনো সাধারণ প্রতীক নয়—ধানের শীষ মানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার শক্তি। তিনি বলেন, আজ জনগণের ভোটাধিকার হুমকির মুখে। ভয়কে জয় করে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসাই এখন সময়ের দাবি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে লুনা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিতেই অন্যায়, দমন-পীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের একটি ভোটই ইতিহাস বদলে দিতে পারে। ধানের শীষে একটি ভোট দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেবে। ইলিয়াস আলীর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও কোনো প্রকার উসকানিতে পা না দেওয়ার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এসময় তিনি আরও বলেন, সিলেট-২ আসনের প্রতিটি এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রথম বছরেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের নতুন বাজার প্রবাসী চত্বর সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া ও যুবদল আহ্বায়ক সামসুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ইলিয়াস আলীর সহোদর এম. আসকির আলী, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব এবং ছোট ছেলে লাবীব শারার।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ও উপস্হিত ছিলেন,জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক মো,ময়নুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক গৌছ খান, সাবেক সহ-সভাপতি আব্বাস আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, আব্দুল কুদ্দুছ, সেবুল মিয়া, মুমিন খান মুন্না, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, ইসমাইল খান, শিহাব আহমদ, আনিসুজ্জামান খান, আলতাব আলী, আব্দুস সহিদ, পৌর কৃষক দলের আহবায়ক নুর আলী, পৌর যুবদলের আহবায়ক শাহ আমির উদ্দিন, যুগ্ন সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, শাহজাহান আহমদ, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুমন আহমদ, সেচ্ছসেবক দলের আহবায়ক নুরুজ্জামান, সদস্য সচিব আহমেদ দুলাল, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকির হোসেন ইমন, কলেজ ছাত্রদল নেতা মুন্না।

দুপুর থেকেই পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্রসহ মিছিল নিয়ে সভাস্থলে যোগ দেন। প্রবাসী নেতাদের জন্য মূল মঞ্চের পাশে পৃথক মঞ্চ তৈরি করা হয়। শতাধিক প্রবাসী এবং হাজারো নেতাকর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে—“ইলিয়াস ভাই, ইলিয়াস ভাই” ও “ধানের শীষে ভোট দিন” ধ্বনিতে জনসভা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বিশ্বনাথে প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের ভুলের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন—এখানে অন্য কিছুর সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবির সভাপতিত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশ্বনাথ ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনতিসার শামসাদ এবং সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশা সামাজিকভাবে সম্মানজনক হলেও বাস্তবতায় এটি সবচেয়ে কম আয়ের ও কষ্টসাধ্য পেশাগুলোর একটি। তবুও যারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তারা কেবল জীবিকা নির্বাহের জন্য নয়; সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং এক ধরনের গভীর নেশা থেকেই সাংবাদিকতা করেন। তিনি বলেন, যাদের প্রধান লক্ষ্য বেশি অর্থ উপার্জন, তাদের জন্য সাংবাদিকতা উপযুক্ত পেশা নয়। কারণ এই পেশায় ত্যাগ, ধৈর্য, সততা ও আদর্শকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক বিভক্তি ও অনৈক্যের কারণে সামগ্রিকভাবে পেশাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাও ব্যাহত হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা একাধিক প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনকে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক সমাজ গড়ে তুলতে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, এই ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তিনি সিলেট থেকেই শুরু করতে চান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের ৪র্থ অভ্যন্তরীণ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হাত থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা পুরস্কার গ্রহণ করেন।

‘গাফলা’ খেলায় চ্যাম্পিয়ন হন প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু এবং রানারআপ সুজিত দেব। ক্যারাম প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন তজম্মুল আলী রাজু ও রানারআপ প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু। লুডু খেলায় চ্যাম্পিয়ন নূর উদ্দিন এবং রানারআপ মাজহারুল ইসলাম সাব্বির। ক্রিকেট ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন জামাল মিয়া এবং ফুটবল ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন সমুজ আহমদ সায়মন।

বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য আবুল কালাম এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান এমএস হাউজিংয়ের পরিচালক মাসুক মিয়া ও আশিক মিয়া। এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও তজম্মুল আলী রাজু।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ নূর উদ্দিন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ শহিদুর রহমান, জামাল মিয়া, সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, আহমদ আলী হিরণ, আব্দুস সালাম মুন্না, সমুজ আহমদ সায়মন, সুজিত দেব, ফারুক আহমদ, মাজহারুল ইসলাম সাব্বির, শিক্ষানবিস সদস্য মোস্তাক আহমদ মোস্তফা, জাহান মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ট্রাস্টের কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মাফিজ খানের সভাপতিত্বে এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের শিক্ষক সালেহ আহমদ সাকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল গোলজার খান, ভাইস চেয়ারপার্সন মিসবাহ উদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রঞ্জু, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি শরিফ উদ্দিন, সাবেক কো-অর্ডিনেটর ও ট্রাস্টি অধ্যাপক আব্দুল মতিন, ট্রাস্টি ফারুক মিয়া, বাবুল আলী এবং অভিভাবক বিলকিছ আক্তার।

সভাপতির বক্তব্যে মাফিজ খান বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রবাসীদের সহযোগিতায় এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
সেক্রেটারি জেনারেল গোলজার খান বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা অর্জনে এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে কম্পিউটার শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের অগ্রগতিতে সহায়ক হবে।
অন্যান্য বক্তারাও শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রশিক্ষণার্থী শাবলু মিয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর নিশী কান্ত পাল। প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মাসুমা জাহান মুক্তা ও জাবেদুল ইসলাম জাবেদ।

শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।

সিলেট-২ আসনে লুনার সমর্থনে প্রবাসীদের মতবিনিময় সভা, ধানের শীষের বিজয়ে অঙ্গীকার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এবং নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনার সমর্থনে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানকে ধারণ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রায় দুইশত প্রবাসীর অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সিলেট-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এনআরবি এলাইন্স এ বিশেষ সভার আয়োজন করে।

সভায় নির্বাচনের উদ্দেশ্যে দেশে আগত যুক্তরাজ্য বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অন্যতম চালিকাশক্তি। সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ইলিয়াস আলীর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ এবং বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন জনপদে রূপ দিতে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীদের শক্তিই হবে এ বিজয়ের মূল প্রেরণা।”

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, নিরাপদ রেমিট্যান্স প্রবাহ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশে ফিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিএনপি সরকার অতীতে আন্তরিক ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী কল্যাণে বাস্তবমুখী পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলজার খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি আফজল হোসেন, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ খান, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা বশির আহমদ, আবদুল মজিদ, আবদুল কুদ্দুছ, জামাল আহমদ, সিরাজুল ইসলাম, মুমিন খান মুন্না, সেবুল মিয়া, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, আবদুল বাছিত বকুল, মাফিজ খান, বাছির খান, অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে ঘরে ঘরে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, সিলেটের উন্নয়ন, প্রবাসীবান্ধব নীতি এবং ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নে তাহসিনা রুশদীর লুনাই সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। তাঁদের মতে, বিগত সময়ে এ আসনের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি; ফলে জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের প্রতীক ধানের শীষ।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা এবং এম. ইলিয়াস আলীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে আসন্ন নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ধানের শীষের বিজয় কামনা করা হয়।

প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, আবেগঘন বক্তব্য এবং ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সিলেট-২ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাঁদের মতে, প্রবাসী অধ্যুষিত এ আসনে এনআরবি কমিউনিটির সক্রিয় অবস্থান নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান লুনার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, প্রবাসীরা মনের টানে ও নাড়ীর টানে দেশে এসে নির্বাচনে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ভোটারদের উপস্থিতি বাড়িয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ গেইটের সামনে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ধানের শীষের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লুনা বলেন, সিলেট-২ আসনটি এম. ইলিয়াস আলীর আসন এবং এ এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার নির্দেশনা তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে পেয়েছেন। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দেওয়ার এখনই সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য তারেক রহমান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি দেশের নেতৃত্বে এলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনিও সে বাস্তবায়নের অংশীদার হতে চান।

তিনি আরও বলেন, একটি মহল নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ভোটের দিন ফজরের নামাজ আদায় করে কেন্দ্রভিত্তিক অবস্থান নেওয়া এবং ফলাফল ঘোষণার পর কেন্দ্র ত্যাগ করার জন্য বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এলাকার প্রবীণ মুরব্বী মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং যুবদল নেতা রুমেল মিয়া ও আমির আলীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্বাস আলী, সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম রুহেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া চেয়ারম্যান, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খায়রুল আমিন আজাদ, উপজেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন নেতা, স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।
জনসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রায়হান আহমদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল আহমদ।

নেপালকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ ভারত

এইসময ডেস্ক:

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত ছন্দে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার নেপালের পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক নেপালকে ৪–০ গোলে পরাজিত করে অর্পিতা-মুনকিদের দল। টানা তিন জয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের কিশোরীরা।

একই দিনে ভুটানকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত। ফলে আগামী শনিবার একই ভেন্যুতে শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। তৃতীয় মিনিটে মামনি চাকমার নেওয়া কর্নার থেকে নিখুঁত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন প্রতিমা মুন্ডা। দ্রুত গোল হজমের পর নেপাল রক্ষণ মজবুত করার চেষ্টা করলেও বিরতির আগমুহূর্তে আবারও আঘাত হানে বাংলাদেশ। যোগ করা সময়ে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলপি আক্তার।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও ধারালো হয়ে ওঠে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ। ৬৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে একক নৈপুণ্যে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলপি। এরপর ৮২ মিনিটে ক্রানুসিং মারমার ক্রস জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। চলতি টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে আলপির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে, যা তাকে আসরের অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।

এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুবার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ, আর দুইবারই প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। ২০২৪ আসরে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে শিরোপা জেতে, আর ২০২১ সালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এবারও সেই পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে আরেকটি শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামবে লাল-সবুজের কিশোরীরা।

ভোটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নামছেন ১,০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

এইসময় ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে দায়িত্ব পালনের জন্য ১,০৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকির পাশাপাশি তাঁরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং বিশেষ করে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্সকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন এবং ৭ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কার্যালয়ে যোগদান করবেন। দায়িত্ব পালনের আগে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯–এর ধারা ৫ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা বহাল রাখবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এলাকা নির্ধারণ করবেন। পাশাপাশি প্রতিদিনের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।

বিশ্বনাথে ভোগশাইল দ্বৈত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা (সিজন–৩) সম্পন্ন

চাচা-ভাতিজা জুটি চ্যাম্পিয়ন

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের ভোগশাইল গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভোগশাইল দ্বৈত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা (সিজন–৩)’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে।

রোমাঞ্চকর ফাইনাল খেলায় চাচা-ভাতিজা জুটি (টুকেরকান্দি) ২–০ সেটে জেবিন-জেরিন জুটি (সরুয়ালা)’কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে একই মাঠে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

ফাইনাল ম্যাচে চাচা-ভাতিজা জুটি (টুকেরকান্দি)’র পক্ষে ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় চ্যাম্পিয়ন জুটির খেলোয়াড় নাঈম-নিজাম এবং জেবিন-জেরিন জুটি (সরুয়ালা)’র পক্ষে বর্তমান রানার্সআপ জুটির তানভির-গৌরব অংশ নেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই খেলায় চাচা-ভাতিজা জুটির নাঈম ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচিত হন।

ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ক্রীড়ানুরাগী আব্দুর রব। উদ্বোধকের বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ক্রীড়ানুরাগী রুহেল মিয়া।

ভোগশাইল দ্বৈত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা (সিজন–৩) বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সোহেল আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খালেদুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জালাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ক্রীড়ানুরাগী ফারুক মিয়া এবং লিলু মিয়া।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোগশাইল দ্বৈত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা (সিজন–৩) বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মাহবুব হোসেন, সুহেব মিয়া, শাহাবুদ্দিন বাবলু, রুপম মিয়া, আক্তার হোসেন, শেরওয়ান আহমদ, রুমন মিয়া, এমন আহমদ, মিহাদ আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চা ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোগশাইল গ্রামবাসীর এই আয়োজন প্রশংসা কুড়িয়েছে।