আজকের সময়ের সেরা খবর
লিবিয়ায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে

এইসময় ডেস্ক:

লিবিয়ার সাবেক একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি (৫৩) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গত এক দশক ধরে জিনতান শহরেই অবস্থান করছিলেন। তবে কী কারণে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আল জাজিরা আরবির লিবিয়া সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সাইফ গাদ্দাফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সন্তানদের মধ্যে সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী। ২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও লিবিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালান, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যু লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বরিশালে বাড়ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল, বেলস পার্কে জনসমাগমে উৎসবের আমেজ

এই সময় ডেস্ক:

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল আগমনকে ঘিরে নগরজুড়ে বাড়ছে নেতাকর্মীদের ঢল। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম ক্রমেই বাড়তে থাকে। সড়ক ও নৌপথে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন।

মাঠজুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। বেলুন, ধানের শীষ প্রতীক ও দলীয় রঙে সাজানো হয়েছে পুরো বেলস পার্ক মাঠ। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে আশপাশের এলাকা।

বুধবার দুপুর ১২টায় এখানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। দলীয় সূত্র জানায়, এ জনসভায় বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন।

ভোর থেকেই নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। অনেকেই ফজরের নামাজ আদায় করে মাঠে অবস্থান নেন। নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগান নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন।

ঝালকাঠি থেকে আসা ছাত্রনেতা আসিফ আল ইমরান বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমাদের নেতা বরিশালে আসছেন। আজকের এই জনসমাগম তরুণদের প্রত্যাশারই প্রতিফলন।”

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে নৌপথে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মজিবর মোল্লা বলেন, “কষ্ট হলেও গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সবাই মাঠে রয়েছে।”

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া থেকে আসা মহিলা দলের কর্মী নাজমা বেগম বলেন, “নারীরাও এই আন্দোলনের অংশ। শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়েই আমরা সমাবেশে এসেছি।”

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মাঠের উত্তর পাশে বড় মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নারী নেতাকর্মীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা বসার ব্যবস্থা। পুরো এলাকা তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সুশোভিত করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “তারেক রহমানের বরিশাল আগমন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে তারা পরিবর্তন ও গণতন্ত্র চায়।”

উল্লেখ্য, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেলস পার্ক মাঠে সর্বশেষ ২০০৮ সালে নির্বাচনী জনসভা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৬ বছর পর একই মাঠে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

‘আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও—কেড়ে নিতে এলে হাত গুঁড়িয়ে দেবো’—ডা. শফিকুর রহমান

এইসময় ডেস্ক:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ডাকসু দিয়ে শুরু হয়ে জকসুতে এসে যে পরিবর্তনের বার্তা দেখা গেছে, তা আপাতত থামেনি, বরং নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দেশ। আগামী ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।

মঞ্চে উঠে প্রথমেই চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের আঞ্চলিক ভাষায় কুশল বিনিময় করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘অনারা গম আছন নি?’—এই আন্তরিক প্রশ্নে মুহূর্তেই জনতার সঙ্গে এক আবেগঘন সংযোগ তৈরি হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক সময় ফ্যাসিবাদের স্লোগান ছিল—আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো। সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার। আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও। কিন্তু কেউ যদি আমার ভোট কেড়ে নিতে আসে, তাহলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। ভোটের অধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, দেশের মা-বোনেরা আমাদের মাথার তাজ। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। সম্প্রতি কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে। কিন্তু এতে তাদের কোনো লাভ হবে না, বরং তারা নিজেরাই বিপদে পড়বে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলেই তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমি বিশ্বাস করি বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে জানে। আমরা, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করি না। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, ক্ষমতায় আসবে ১৮ কোটি মানুষ। আমরা চাই রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা ন্যায়ভিত্তিকভাবে জনগণের মধ্যে বণ্টন করতে।

তিনি আরও বলেন, যারা ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান, যারা ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চান, তারা ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনবেন। এই জোট ক্ষমতায় গেলে কোনো দলীয় রাজত্ব কায়েম হবে না, পরিবারতন্ত্র চলবে না।

গত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থা নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ সময় দেশে কিছুই হয়নি—এ কথা বলা ঠিক হবে না। উন্নয়ন হয়েছে। তবে যতটা উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। কারণ, যারা ভোটের আগে মানুষের কাছে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেছে, ভোট শেষ হওয়ার পর তারাই সুর পাল্টে ফেলেছে।

তিনি বলেন, জুলাই মাসে রাজপথে যে স্লোগান শোনা গেছে—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, সেটাই আজও জনগণের মূল দাবি। তোমার পাওনা তুমি নাও, আমার পাওনা আমাকে দাও—এই ন্যায়বিচারের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালিত হতে হবে।

ভোট কেনাবেচার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায়, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে—আমরা চাঁদাবাজদের পক্ষে নেই, আমরা দুর্নীতির রাজনীতি চাই না।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা দলীয় সরকারের রাজত্ব কায়েম করতে চাই না, পরিবারতন্ত্রে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়।

বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াতে ইসলামীর আমির চট্টগ্রাম উত্তরের সাতটি সংসদীয় আসনে দল ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ী করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সুত্র: বাসস

যশোরে জনসভায় ‘ভোট গণনায় দেরি’র গল্প জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র—তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:

‘এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে’—এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ইদানীং একটি নতুন গল্প শোনা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, এবার নাকি ভোট গণনায় অনেক বেশি সময় লাগবে। এই গল্প জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার একটি অপচেষ্টা।

সোমবার যশোরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সফরে এসে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, এ দেশের মানুষ গত এক যুগ ধরে ভোট দিতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই—এ কথা ঠিক নয়। ১৯৯১ সালে মানুষ ভোট দিয়েছে, ১৯৯৬ সালে ভোট দিয়েছে, ২০০১ সালেও ভোট দিয়েছে। ভোট গণনায় কত সময় লাগে, তা বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালোভাবেই জানে।

তিনি বলেন, যদি কেউ ভোট গণনায় দেরির অজুহাত তুলে কোনো ধরনের সুযোগ নিতে চায়, তাহলে জনগণকেই সেই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক দলের নয়, এই দায়িত্ব দেশের প্রতিটি নাগরিকের।

যশোর জেলা বিএনপির উদ্যোগে দুপুরে উপশহর কলেজ মাঠে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই জনসভাস্থল, পাশের ঈদগাহ মাঠ, বাদশা ফয়সল স্কুল মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলো বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। খুলনার নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ শেষে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে যশোরের উপশহর কলেজ মাঠের পাশে অবতরণ করেন। বেলা আড়াইটার দিকে মঞ্চে ওঠেন তিনি এবং ২টা ৩৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

এক ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত যশোর সফরের শেষাংশে তারেক রহমান যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলা—যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার বিএনপি মনোনীত ২২ জন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানান, এসব প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি পক্ষ এখন তাদের লোকজনকে মা-বোনদের কাছে পাঠাচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের জন্য। তারা দাবি করছে, নাকি তারা সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে। অথচ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো অসৎ প্রস্তাব দিয়েই যদি কাজ শুরু হয়, তাহলে কীভাবে তারা সৎ শাসনের কথা বলে—সেটাই বড় প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে তারা মিথ্যা দাবি করেছে যে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। অথচ বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, সেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। শুধু নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য তারা এখন একের পর এক মিথ্যা কথা বলছে। যারা নির্বাচনের আগেই জনগণের সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারে, তারা নির্বাচনের পর কী করবে, তা সহজেই অনুমেয়।

তারেক রহমান বলেন, আজকে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়।

বক্তব্যে দেশ পুনর্গঠনে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়েও নানা প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে যশোরের ফুল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে এই অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি লাভবান হবেন। একই সঙ্গে তিনি আখ চাষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো আবার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, যশোরের উলাসী খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন জিয়াউর রহমান নিজেই। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তিনি নিজেও খাল কাটতে যশোরে আসবেন বলে ঘোষণা দেন এবং সেই কাজে সকলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রকল্প আবারও সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নারী সমাজ নিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা যায়, সে ধরনের চিন্তাভাবনার কথা বলছে। সম্প্রতি সেই দলের এক নেতা কর্মজীবী মা-বোনদের সম্পর্কে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা শুধু অশালীনই নয়, কলঙ্কজনকও।

তিনি হযরত বিবি খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন, হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। ইসলামের ইতিহাসেই নারীর কর্মজীবনের এই দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাই কর্মজীবী নারীদের অপমান করার কোনো অধিকার কারও নেই।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা ধরে নিয়েছিলাম, দেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন এসেছে। আশা করেছিলাম, রাজনীতিতে শালীনতা ও জনগণের মর্যাদা রক্ষার ধারা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, একটি রাজনৈতিক দল আবারও মা-বোনদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করেছে এবং তাদের ঘরের ভেতর আটকে রাখার চিন্তা সামনে আনছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশ পুনর্গঠন ও এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা আরও সহজ হবে।

এছাড়া দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেন।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

পূর্ণার্থীদের ঢলে বিশ্বনাথে শ্রীশ্রী ঠাকুরবৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসব সম্পন্ন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পূর্ণার্থীদের ঢলে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের মিয়ারবাজারের নিকটস্থ বিষ্ণুপুর সিদ্ধ বকুলতলা ধামে শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের ৩ দিনব্যাপী (৩১ জানুয়ারী, ১ ও ২ ফেব্রুয়ারী) অন্তর্ধান মহোৎসব সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শত শত বছর পূর্ব থেকে প্রতি বছরের মাঘী পূূর্ণিমা তিথিতে ওই মহোৎসব পালন করে আসছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীরা।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসবে সনাতন ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মালম্বী লোকজনের উপস্থিতিতে মহোৎসব এক মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সনাতন ধর্মালম্বীরা এসে ওই মহোৎসবে যোগদান করেছেন। মনবাসনাপূরণের জন্য অনেক পূর্ণাথীই আদায় করেন নিজেদের মানস, অনেকেই আবার নতুন করে মানস করে গেছেন মহোৎসব থেকে।
জানা গেছে, চৌষট্টি মোহান্তের অন্যতম শ্রীল নারায়ন বাচস্পতির পুত্র শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় প্রায় সাড়ে ৫শত বছর পূর্বে গৌরভূমি শ্রীহট্টে আসিয়া বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে শ্রীপাট স্থাপন করে শ্রীভূমির তাপিত মানুষকে শ্রীচৈতন্যের নাম ও প্রেমের পথে সঞ্জীবিত করিয়া মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে সিদ্ধ বকুল বৃক্ষে লীন হন। তাই শত শত বছর পূর্ব থেকে প্রতি বছরের মাঘী পূূর্ণিমা তিথিতে ওই অন্তর্ধান মহোৎসব পালন হয়ে আসছে।
মহোৎসবস্থল পরিদর্শন করেন ও বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ আসনে ‘ধানের শীষের’ কান্ডারী তাহসিনা রুশদীর লুনার দেবর ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহোদর এবং জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এম. আছকির আলী, সিলেট-২ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত ‘লাঙ্গল’প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ও গণফোরাম মনোনীত ‘উদিয়মান সূর্য’ মুজিবুল হক, বিশ্বনাথ পৌর শহরস্থ রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নবেন্দ্যু জ্যোতি দে, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মানিক লাল
দে, মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রদীপ কুমার দেব, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য নিশি কান্ত পাল, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিভাংশু গুন বিভু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের অন্তর্ধান মহোৎসব ‘সরকার ও প্রশাসন’সহ সমাজের সর্বমহলের সার্বিক সহযোগীতা ও উপস্থিতিতে সুষ্ট, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় সিদ্ধ বকুলতলা ধাম সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রহলাদ চন্দ্র দেব ও সাধারণ সম্পাদক শংকর দাস শংকু।
উল্লেখ্য, শনিবার (৩১ জানুয়ারী) সকাল ৯টায় শ্রীশ্রী কালাচাঁদের অর্চ্চনার মাধ্যমে মহোৎসব শুরু হয়ে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টায় শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন সমর্পন (পুর্ণা)’র মাধ্যমে শেষ হয়। রোববার (১ ফেব্রুয়ারী) ব্রাক্ষমুহুর্ত থেকে শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন পরিবেশন এবং দুপুর ২টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ শুরু হয়। মহোৎসবে শ্রীশ্রী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তন পরিবেশন করেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলার শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য সংঘের নিরঞ্জন দাস, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শ্রীশ্রী ব্রজবালক সম্প্রদায়ের বিদ্যুৎ দাস (পুলিশ), সিলেটের
বালাগঞ্জ উপজেলার মজলিসপুরের শ্রীশ্রী গোপাল সম্প্রদায়ের রুপম ধর, সিটি কর্পোরেশনের দাড়িয়াপাড়ার শ্রী চৈতন্য সম্প্রদায়ের নিশিকান্ত তালুকদার ও বিশ্বনাথ উপজেলার মদনপুরের সোনার গৌর সম্প্রদায়ের বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী।

সিলেট-২ আসনে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তাহসিনা রুশদীর লুনার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল একটি ভোটের লড়াই নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। এই লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে এবং ভোটের অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা জানি একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। একটি অদৃশ্য শক্তি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলার একমাত্র পথ হলো ভোটের দিন সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ভোট নিজে দেওয়া এবং ভোটের ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ না করা। শুধু ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, ভোটের মর্যাদা রক্ষাও আমাদের দায়িত্ব।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় বিশ্বনাথ পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ধানের শীষের সমর্থনে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কালিগঞ্জ বাজারে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইলিয়াসপত্নী লুনা বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে এম. ইলিয়াস আলীকে ভালোবেসে অনেক ভোটার ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। অনেক কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এবার সেই ভয় ভেঙে দিতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের মানুষ এম. ইলিয়াস আলীকে কতটা ভালোবাসে এবং তাঁর আদর্শকে কতটা ধারণ করে।

তিনি আরও বলেন, এম. ইলিয়াস আলী মাত্র পাঁচ বছরে যে উন্নয়ন করেছিলেন, সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বিগত ১৭ বছরে কেউ রক্ষা করতে পারেনি। ইলিয়াস আলীর রাজনীতির মূল দর্শন ছিল কথা নয়, কাজ। উন্নয়নের জন্য আলাদা করে বলতে হয় না, মানুষের প্রয়োজন বুঝে উন্নয়ন আপনাআপনি হয়। সেই পরিকল্পনা আমাদের প্রস্তুত আছে। ইতোমধ্যে বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ-সিংগেরকাছ সড়কসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকার অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়েছে। অনেক সড়কের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, বাকিগুলোও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ও এম. ইলিয়াস আলীর সহোদর এম. আছকির আলী। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর প্রতিকূল ও দমন-পীড়নের পরিবেশেও আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আর আপনারাও আমাদের পাশে ছিলেন। এম. ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর দল-মত নির্বিশেষে এই জনপদের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এম. ইলিয়াস আলী এই জনপদকে শান্তি ও উন্নয়নের জনপদে পরিণত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে আমরা আপনাদের সামনে তাঁরই প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনাকে নিয়ে এসেছি। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে জয়যুক্ত করুন। জয়ী হলে এই অঞ্চলে আবারও শান্তি ফিরবে, সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।

বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম. আসকির আলী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরু, সাবেক সহ-সভাপতি তৈমূছ আলী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গুলজার খান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া, এম. ইলিয়াস আলী ও তাহসিনা রুশদীর লুনা দম্পতির ছোট ছেলে লাবীব শারার, মো. ময়নুল হক, গউচ খান, নিউহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিন খান মুন্না, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান সুমেদ, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জহুরা জেসমিন এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা এটিএম হেলাল উদ্দিন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব সুমন আহমদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহ আমির উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আলী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেল, সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা শাহজাহান, এনামুল ইসলাম, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জলিল, মুহিবুর রহমান বাচ্চু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আহমেদ দুলাল, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, প্রচার সম্পাদক দবিরুল ইসলাম মেম্বার ও দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ।

বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কেবল কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে-লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিবেদক:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, বিএনপি মানেই উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কেবল কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বেগমপুর বাজারে ধানের শীষের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, সিলেট-২ আসন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। ভাঙাচোরা রাস্তা, উন্নয়নের নামে বৈষম্য আর অসমতা এই জনপদের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চিত্র আর দেখতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই এলাকার প্রতিটি রাস্তা হবে টেকসই ও মানসম্মত। গ্রাম থেকে শুরু করে হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষাখাতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করা হবে, পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে। যুবসমাজকে আর বেকার হয়ে ঘরে বসে থাকতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কাজ ও মর্যাদা।

এম. ইলিয়াস আলীর স্মৃতিচারণ করে লুনা বলেন, তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি এই এলাকার ভালোবাসার নাম এবং প্রতিবাদের প্রতীক। তিনি বলেন, আজ তিনি ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী হিসেবে নয়, বরং এই এলাকার একজন সন্তান হিসেবে ভোটারদের সামনে দাঁড়িয়েছেন। ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে অন্যায়, দুঃশাসন ও অবিচারের বিরুদ্ধে শক্ত জবাব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভয় কিংবা লোভ নয়, ভোট দিন বিবেক দিয়ে। ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। বিজয় সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।

জনসভায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ আহমদের সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা রাজা মিয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মঈনুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. ময়নূল হকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথে ২৯তম টি-২০ ক্রিকেট লীগে চ্যাম্পিয়ন মিয়ার বাজার ক্রীড়া সংস্থা

বিশ্বনাথ প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এবং বিশ্বনাথ স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকে’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ২৯তম টি-২০ ক্রিকেট লীগ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ পৌরসভার জানাইয়া গ্রামের শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থা ৪ উইকেটে পুষ্পকলি স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি হাজী রইছ আলী।

কৃষিজমি সংস্কার করে তৈরি করা মাঠে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচে বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার খালেদ আহমদ এবং সাবেক জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের অংশগ্রহণ। তাদের উপস্থিতিতে পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠে ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।

ফাইনাল ম্যাচে ম্যান অব দ্য ফাইনাল ও গেম চেঞ্জার নির্বাচিত হন মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার সায়েম। ম্যাচসেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হন মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার তুহিন এবং ম্যাচসেরা বোলার নির্বাচিত হন পুষ্পকলি স্পোর্টিং ক্লাবের অর্ক।

এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার সুহেল। সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পুষ্পকলি স্পোর্টিং ক্লাবের ইকবাল, সেরা বোলার হিসেবে মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার সুহেল, সেরা উইকেটকিপার হিসেবে পুষ্পকলি স্পোর্টিং ক্লাবের ইব্রাহিম মিয়া, সেরা ফিল্ডার হিসেবে মিয়ারবাজার ক্রীড়া সংস্থার রাফি এবং সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে রাজু এন্ড জেরিন স্পোর্টিং ক্লাবের রাহী নির্বাচিত হন।

বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি আমির হামজা রুকেলের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সাব্বির ও ধারাভাষ্যকার মোহাম্মদ আলী লিটনের যৌথ পরিচালনায় ফাইনাল খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গৌছ খান, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ট্রাস্টি ও বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সেবুল মিয়া এবং বিশ্বনাথ স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকে’র সহকারী মিডিয়া অ্যাডভাইজার জামির হোসাইন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শাহজাহান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ, প্রবাসী মানিক মিয়া, ইরফান আলী সোহান, বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ টিপু, বিশ্বনাথ স্পোর্টস অর্গানাইজেশন ইউকে’র বাংলাদেশ সমন্বয় কমিটির সদস্য দেলওয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের টুর্নামেন্ট স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলছে এবং বিশ্বনাথে ক্রিকেটের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের উদ‌্যোগে ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও ভালোবাসার মিলনে একদিনের আনন্দভ্রমণ

সালেহ আহমদ সাকী

ব্যস্ত জীবন, প্রবাসের কর্মচাপ আর নানামুখী দায়িত্বের ভিড় ঠেলে একটি দিন নিজের করে নেওয়ার সুযোগ সবসময় আসে না। সেই সুযোগটিকেই স্মরণীয় করে রাখতে নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী আনন্দভ্রমণ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ থেকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলো প্রাঙ্গণে এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন করা হয়।

এই আনন্দ ভ্রমণের  আয়োজন করেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকশেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি বৃন্দ।  ভ্রমণে অংশগ্রহণে করেন বাংলাদেশ শাখার উপদেষ্টা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজনরা। প্রকৃতি, ইতিহাস আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মেলবন্ধনে দিনটি পরিণত হয় এক অনন্য স্মৃতির পাতায়।

ইতিহাসের ছোঁয়ায় ভ্রমণের শুরু

সবুজে ঘেরা তেলিয়াপাড়া চা বাগানে পৌঁছেই যেন ভ্রমণকারীদের মন ছুঁয়ে যায় ইতিহাসের আবহ। কারণ এখানেই অবস্থিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেনা সদর দপ্তর। আনন্দ ভ্রমণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা এই ঐতিহাসিক স্থান, স্মৃতিসৌধ এবং চা বাগান এলাকা পরিদর্শন করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সেই ভূমিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই নীরবে শ্রদ্ধা জানান জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ইতিহাস আর প্রকৃতির এই যুগল উপস্থিতি ভ্রমণকে দেয় ভিন্নমাত্রা।

যাত্রার শুরুতেই আনন্দভ্রমণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। আবুল কালামের সুললিত কন্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত সকলের হৃদয় ছোয়ে যায়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রাণবন্ত উৎসবে। অংশগ্রহণকারীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দ, কৌতূহল আর পারস্পরিক বন্ধনের উষ্ণতা।

দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মোট ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্ট। এসব প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল কোরআন তেলাওয়াত, কুইজ, সংগীত, অভিনয়, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, চেয়ার দৌড়, হাঁড়ি ভাঙা, বেলুন ফুলানো, বোতল নিক্ষেপ এবং বোতলে পানি ভরা।

আনন্দ ভ্রমণের আসল  চমক দেখান সদর ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার্ পরপর তিনিটি গান পরিবেশন করে সকলের নজর কাড়েন। বয়স, পদবি কিংবা অবস্থানের কোনো ভেদাভেদ না রেখে সবাই অংশ নেন খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে। কখনো হাসিতে, কখনো উৎসাহে, আবার কখনো প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো চা বাগান এলাকা।

প্রতিটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপদের জন্য ছিল দৃষ্টিনন্দন ক্রেস্ট। বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মাঝেও ছিল সমান আনন্দ, কারণ এখানে হারজিতের চেয়ে অংশগ্রহণই ছিল বড় বিষয়।

আনন্দভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ ছিল রাফেল ড্র। এই ড্রতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের জন্য ছিল নগদ অর্থ পুরস্কার। রাফেল ড্র ঘোষণার সময় একে একে নাম ডাকা হলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। ছোট এই আয়োজন সবার মুখে এনে দেয় প্রশান্ত হাসি।

দুপুরে আয়োজন করা হয় পাঁচ রকমের মুখরোচক খাবারে পরিপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজ। সবুজ চা বাগানের বাংলো প্রাঙ্গণে একসাথে বসে খাবার গ্রহণের মুহূর্তগুলো ছিল ভ্রমণের অন্যতম সুন্দর অধ্যায়। খাবারের টেবিলে চলতে থাকে গল্প, স্মৃতিচারণ আর প্রবাসজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি।

এই আনন্দভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মোঃ মাফিজ খান, ভাইস চেয়ারপার্সন মিসবাহ উদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী আব্দুর রহিম রঞ্জু, প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারী শরিফুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ মেম্বার আবুল হোসেন মামুন ও গয়াছ মিয়া।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মুজিব আহমদ মনির, ট্রাস্টের ট্রাস্টি বশির উদ্দিন, হাজী ফারুক মিয়া, বাবরুল হোসেন বাবুল, মোহাম্মদ ফারুক মিয়া, ফয়জুর রহমান, লিলু মিয়া, আব্দুর রব, রফিক মিয়া, মোঃ আবুল কালাম, রুহেল মিয়া।

বাংলাদেশ শাখার কো-অর্ডিনেটর নিশি কান্ত পাল, এডভাইজারী কমিটির সদস্য দয়াল উদ্দিন তালুকদার, রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, কাজী মোঃ জামাল উদ্দিন, মতিউর রহমান, তজম্মুল আলী রাজু, ফখরুল ইসলাম, নবীন সুহেল, শিক্ষক মনোয়ার হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রহমান, বাবুল হোসেন, আইটি শিক্ষক সালেহ আহমদ সাকী ও অফিস সহকারী আল আমিনও এই আনন্দঘন আয়োজনে অংশ নেন।

নানান আয়োজন, খেলাধুলা, ইতিহাস পরিদর্শন আর পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে কাটানো এই দিনটি অংশগ্রহণকারীদের মনে রেখে গেছে গভীর ছাপ। এই আনন্দভ্রমণ শুধু একটি ভ্রমণই নয়, বরং প্রবাস ও দেশের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, ঐক্য ও দায়িত্ববোধের এক জীবন্ত প্রতিফলন।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—একটি দিনও যদি আন্তরিকভাবে কাটানো যায়, তা হয়ে উঠতে পারে আজীবনের স্মৃতি।