আজকের সময়ের সেরা খবর
হাজী মদরিছ আলী একাডেমির প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্র রাহাতের সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হাজী মদরিছ আলী একাডেমি এন্ড হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্র মোহাম্মদ রাহাত মিয়া রাজা কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে সফলভাবে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তিনি সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

মোহাম্মদ রাহাত মিয়া রাজা হাজী মদরিছ আলী একাডেমির পরিচালক এবং সাতপাড়া গ্রামের আব্দুর রশীদের একমাত্র পুত্র। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী ছিলেন। বর্তমানে তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিলান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে পেশাগতভাবে কাজ করছেন।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার এই অর্জন ও অগ্রযাত্রায় এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

রাহাত মিয়া রাজার এ সাফল্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি হাজী মদরিছ আলী একাডেমি এন্ড হাই স্কুলের পক্ষ থেকেও তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও তিনি দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন।

পোস্টার বিহীন ডিজিটাল প্রচারণায় সংসদ নির্বাচন

এইসময় ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১৬ দিন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এবার দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার নেই, নেই মাইকের গগনভেদী শব্দ। বদলে গেছে প্রচারের চেহারা। পোস্টার ও মাইকের জায়গা দখল করেছে স্মার্টফোনের স্ক্রিন। মাঠের চেয়ে বড় লড়াই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।

ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী গান, শর্ট ভিডিও ও গ্রাফিক কনটেন্ট। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, স্লোগান আর বক্তব্যে ভরে উঠেছে নিউজফিড। তবে এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া বক্তব্য, বিকৃত ভিডিও ও বিদ্বেষমূলক কনটেন্টও ছড়াচ্ছে দ্রুত, যা বাড়িয়ে তুলছে রাজনৈতিক উত্তেজনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নির্বাচনী পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রভাবিত করতেই এসব কনটেন্ট বেশি তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকেই ডিজিটাল প্রচারের জন্য আলাদা টিম গঠন করেছেন। ফেসবুক বুস্টিং, ইউটিউব বিজ্ঞাপন ও টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ে ঢালা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা আমাদের সময়কে বলেন, ডিজিটাল প্রচারণা দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে সামাজিক মাধ্যম এখন ভোটের প্রচারে এক ধরনের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ভেরিফায়েড অ্যাড লাইব্রেরি, রিয়েল-টাইম মনিটরিং ও স্বচ্ছতা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুয়া কনটেন্ট দ্রুত টেকডাউন, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি, এআই ও ডিপফেক শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর ডিটেকশন টুল, ওয়াটারমার্কিং ও সোর্স অথেনটিকেশন কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত ফ্যাক্ট-চেকিং ও আইনি জবাবদিহিও নিশ্চিত করা দরকার।

ডিজিটাল মার্কেটিং বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণ ভোটারদের টার্গেট করে তৈরি ভিডিওগুলোতে আবেগ, ট্রেন্ডিং মিউজিক ও নাটকীয় উপস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রচারণাতেও তরুণদের আকৃষ্ট করতে ট্রেন্ডিং মিউজিক ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনী গানকে কেন্দ্র করে নাচ ও অঙ্গভঙ্গিসহ তৈরি হচ্ছে টিকটক ভিডিও, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ছে।

ফার্মগেটের ব্যবসায়ী লিয়াকত হোসেন বলেন, ফেসবুক খুললেই নির্বাচনী গান আর প্রচার চোখে পড়ে। তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করেই এসব করা হচ্ছে। চোখের সামনে বারবার একজন প্রার্থীর প্রচার এলে তার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে সত্য হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। এতে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়াচ্ছে, বাড়ছে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সামাজিক বিভাজন।

সামাজিক মাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী নির্বাচনী প্রচারে পারস্পরিক বিদ্বেষকে অস্বস্তিকর বলছেন। ঢাকার বাড্ডার স্কুলশিক্ষক আব্দুল গফুর খান আমাদের সময়কে বলেন, ফেসবুক খুললেই পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণ দেখা যায়। সম্প্রতি ভোট চাইতে যাওয়া এক নারীকে ভয়ংকর হুমকি দেওয়ার ভিডিও দেখে মন খারাপ হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমকে অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্র মনে হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তরুণ ভোটাররা। টিকটক, রিলস ও শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মে তরুণদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় দলগুলো সেখানেই সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে। সহজ ভাষা, স্লোগানধর্মী বার্তা ও আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়ালে তরুণদের আবেগে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, আগে রাজনীতি ছিল হাটে-মাঠে-ঘাটে। এখন রাজনীতি বেশি দেখি নিউজফিডে। কে কী বলছে, যাচাই করার সুযোগ অনেক সময় থাকে না।

সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিজের মতের সঙ্গে মিললেই মানুষ যাচাই না করে ভিডিও ও ছবি শেয়ার করছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ভাইরাল হয়, যা ফ্যাক্ট চেকে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

দেশে প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে তাদের থিম সং, গান ও ভিডিও প্রচার করছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আসনের ভোটারদের লক্ষ্য করে ফেসবুক ও ইউটিউবে আলাদা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই দিয়ে তৈরি ডিপফেক ভিডিও বা ভুয়া অডিও সাধারণ মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশে এ ধরনের অপপ্রচার ঠেকাতে নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তারা জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল ফ্যাক্ট-চেকিং ফ্রেমওয়ার্ক, সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও আইনি সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, এআই ব্যবহার করে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা মোকাবিলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ জানায়, ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে একটি টিম সার্বক্ষণিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাঠের প্রচারণার গুরুত্ব এখনও কমেনি। যারা মাঠ ও অনলাইন—দুই জায়গাতেই ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবে।

ধানের শীষে ভোট দিলে জনগণের বিজয় হবে: তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, নিখোঁজ নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, জননেতা এম. ইলিয়াস আলীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও তাঁর ওপর চালানো নির্যাতনের কথা স্মরণ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন।

তিনি বলেন, আপনাদের ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হলে সেটি হবে জনগণের বিজয়, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিজয়। বিএনপি জনগণের দল, উন্নয়নের দল। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথে প্রতীক বরাদ্দের পর ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত প্রথম প্রচার মিছিল শেষে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার প্রবাসী চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলার সামনে থেকে প্রচার মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে সওজের ডাকবাংলার সামনে জড়ো হয়।

ধানের শীষের প্রচার মিছিল ও পথসভায় প্রতীকী ধানের শীষ হাতে নিয়ে মায়ের সঙ্গে উপস্থিত থেকে ভোট চান ‘ইলিয়াস-লুনা’ দম্পতির দুই পুত্র ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব ও লাবীব শারার। এ সময় মায়ের সঙ্গে ছাদখোলা গাড়িতে ছিলেন তাঁদের একমাত্র কন্যা সায়ারা নাওয়াল।

প্রচার মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম. আছকির আলী।

বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়ার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রচার মিছিল ও পথসভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, প্রবাসী বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দোষারোপের রাজনীতি ছাড়তে তরুণদের পরামর্শ চান তারেক রহমান

এইসময় ডেস্ক:

দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ গড়তে তরুণদের পরামর্শ চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে আয়োজিত ‘পলিসি টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে সরে এসে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের ভাবনা ও প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তরুণদের পরামর্শ নিয়ে বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা হবে।

তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সময় অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

জলাবদ্ধতা ও পানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, খাল খননের মাধ্যমে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির মজুত বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে ক্ষমতায় গেলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা না করলে রাজনৈতিক দলের কোনো লাভ নেই। জনগণ তখন সেই দলের পাশে দাঁড়ায় না।

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। চাঁদাবাজির মতো সমস্যা সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, তাহলে এসব অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।

ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে বৈশ্বিকভাবে কোন কোন ভোকেশনাল দক্ষতার চাহিদা বাড়বে, তা চিহ্নিত করে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানো গেলে মানসম্মত শ্রমশক্তি রফতানি সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তিনি বলেন, শুধু জেলায় জেলায় হাসপাতাল নির্মাণ করলেই টেকসই সমাধান আসে না। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগে। বরং হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।

শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্কুলগুলোকে অডিও-ভিজ্যুয়াল সংযোগের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা শিক্ষকদের পাঠদান নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক ডিভাইস সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মা-বাবাই শিশুর প্রথম শিক্ষক: বিশ্বনাথে প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ২৫তম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবি ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, মা-বাবাই হচ্ছেন শিশুদের জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক। শৈশব থেকেই যদি সন্তানদের শিক্ষা ও নৈতিক গঠনে পরিবার যথাযথ গুরুত্ব দেয়, তবে সেই শিশুর ভবিষ্যৎ অনেক বেশি আলোকিত হয়। তিনি বলেন, শিক্ষিত ও সচেতন পরিবারই একটি জাতির মেরুদণ্ড গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থেই সৌভাগ্যবান। কারণ, তাদের পাশে রয়েছে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের মতো একটি মানবিক ও দূরদর্শী সংগঠন, যা আজ থেকে প্রায় ৩২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিরলসভাবে শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে এই ট্রাস্ট যে অবদান রেখে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া (কামিল) মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ২৫তম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে চলতি বছরে ১০টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৬৬ জন শিক্ষার্থীকে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নগদ বৃত্তি প্রদান করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ট্রাস্ট শিক্ষা বিস্তারে যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা বিশ্বনাথসহ পুরো অঞ্চলের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের চেয়ারপার্সন মো. মাফিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর। তিনি বলেন, প্রতি বছর গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট যদি বোর্ড পরীক্ষার আগে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক দিয়ে বিশেষ কোচিং বা ক্লাস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে কৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি গোলজার খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রঞ্জু এবং প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা মো. খায়রুল ইসলাম। প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি মাওলানা আশরাফুর রহমান। অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ‌্যাপক ড. মুজিবুর রহমান, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ মেম্বার আবুল হোসেন মামুন ও গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া বক্তব্য ও উপস্থিতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সিনিয়র ট্রাস্টি হাজী মো. রইছ আলী, আব্দুল মজিদ, বসির উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, গৌছ আলী, গৌছ খান, মাকরাম আলী আফরোজ ডিএল, মাসুক মিয়া, আব্দুন নূর, আজহার আলী, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল কুদ্দুছ, মনির আহমদ, আব্দুল গফুর, সানাম মিয়া আতিক, ফারুক মিয়া, শাহ নুরুল আলম, আলা উদ্দিন, ডাক্তার শানুর আলী মামুন, বাবরুল হোসেন বাবুল, আবুল কাশেম, মো. ইয়াহইয়া, নেছার আহমদ, নুরুল ইসলাম, আবুল কালাম, সেবুল মিয়া, এখলাছুর রহমান, ফজলুর রহমান, রুহেল মিয়া, সায়েস্থা মিয়া, শাহ সাহিদুন নুর ইসলাম, এম. এ মতিন, মো. হরুফ মিয়া, সাজিদ আলী, আব্দুর রব, রফিক মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মিজান রহমান, শেখ হারুনুর রশীদ, এনামুর রহমান, আবুল বাসির খান, আনহার মিয়া, আব্দুল খালিক গাফফার, আব্দুল বাছিত, মিজানুর রহমান, আবুল বাসার মিয়া, মুমিন খান মুন্না, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং বিশিষ্ট মুরব্বী গোলাব খান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফিল্ড অফিসার আব্দুল হামিদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের ও সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সদস্য, স্থানীয় অফিসের দায়িত্বশীলরা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অতিথিরা।

বিশ্বনাথে জমির আহমদ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে আলহাজ্ব মোক্তার আলী সংবর্ধিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের কৃতি সন্তান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন এবং মোক্তার আলী রিসোর্টের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোক্তার আলীর সম্মানে এক সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বিদ্যাপীঠ আলহাজ্ব জমির আহমদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন-এর সঞ্চালনায় এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র দেব-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন ইবনে হক এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন একই শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশ্রী দেব অনন্যা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত অতিথি আলহাজ্ব মোক্তার আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“আমি এই এলাকার সন্তান। আজ আপনাদের ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে আমি গর্বিত। প্রবাসে থেকেও দেশের মাটি ও মানুষের কথা সবসময় হৃদয়ে ধারণ করি। শিক্ষা, মানবসেবা ও এলাকার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র দেব। তিনি বলেন, “আলহাজ্ব মোক্তার আলী একজন মানবিক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। তাঁর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহী মোঃ গোলাম মোস্তফা, কৃষ্ণধন বৈষ্ণব, মোঃ নাজমুল ইসলাম, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য আহমদ আলী হিরণ, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সম্মানিত অভিভাবক সদস্য মোঃ আবুল কালাম, ইউকে ইয়ুথের সম্মানিত শিক্ষক সিতাব আলী এবং বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ আব্দুল হান্নান।

বক্তারা আলহাজ্ব মোক্তার আলীর প্রবাসজীবনে অর্জিত সাফল্য, সমাজসেবা ও শিক্ষাবান্ধব কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।

সংবর্ধনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রোকসানা ইয়াসমিন, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ আলমগীর হোসেন, মোঃ শাফিদুল হক, সুব্রত কুমার, মোঃ ছাইদুল ইসলাম, মোঃ আবু রাইয়ুব, অভিভাবক আব্দুর রকিব, কাওছার আহমদসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত, সুশৃঙ্খল ও আবেগঘন।

শাহজালাল-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন

এই সময় ডেস্ক:

আগামী ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সিলেট সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন।

শনিবার বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিন ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ভোটের প্রচার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সামনে নির্বাচন। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ জানুয়ারি থেকে আমাদের সব ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।

তবে নির্বাচনী প্রচারের কৌশল ও কর্মসূচির বিস্তারিত তিনি এ সময় জানাননি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে সব দলের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা। এর অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান সিলেটে হযরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণার সূচনা করবেন।

জিয়ারত শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনসভায় অংশ নেবেন। কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় তিনি মৌলভীবাজারে একটি জনসভায় যোগ দেবেন এবং শ্রীমঙ্গলে একটি নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখবেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি ঐতিহ্যগতভাবেই হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করে থাকে।

এর আগে শুক্রবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই বৈঠকে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, উত্তরবঙ্গ সফর সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সফরের নতুন সময়সূচি জানানো হবে।

বনার্ঢ্য আয়োজনে শিক্ষার্থীদের ভালবাসায়সিক্ত হলেন শিক্ষক জালাল উদ্দীন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি


সিলেটের বিশ্বনাথে বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন আয়োজনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হলেন পৌর শহরের ভোগশাইল গ্রামস্থ শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ২৭ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসরে যাওয়া এই গুণী শিক্ষককে সম্মান জানাতে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিশাল বিদায় সংবর্ধনার।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয় সম্মুখ মাঠে নানা কর্মসূচি ও হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশের মধ্য দিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে সম্পন্ন হয় সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা। জানা যায়, মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি ১৯৯৮ সালের ১৮ জুলাই শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করে টানা ২৭ বছর ৫ মাস ১৩ দিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে শিক্ষকতা করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে গণিতের পাশাপাশি জীবনবোধ ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান দেয়, কিন্তু সেই জ্ঞানকে আলোকিত ও অর্থবহ করে তোলে মূল্যবোধ, নীতিবোধ ও মানবিক শিক্ষা। আর এই মহান দায়িত্বটি যুগ যুগ ধরে পালন করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা, যারা প্রকৃত অর্থে মানুষ গড়ার কারিগর।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা নয়। বরং দেশপ্রেম, সততা, মানবিকতা ও নৈতিকতার আলোকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আজ আমরা এমন এক সময় পার করছি, যখন সমাজে নীতি-নৈতিকতার অভাব আমাদের অগ্রগতিকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে। দুর্নীতি, স্বার্থপরতা ও অন্যায়ের প্রতিযোগিতা সমাজের গভীরে শিকড় গেড়ে বসেছে। এই সংকটময় সময়ে শিক্ষকরা হচ্ছেন আলোর দিশারি। তরুণ প্রজন্মকে বুঝতে হবে, বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও প্রকৃত শক্তি অর্জিত হয় সুশিক্ষা ও যোগ্যতার মাধ্যমে। নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারলেই বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে বিদায়ী গণিত শিক্ষক মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এই ভালোবাসার সংবর্ধনা আমাকে আজীবনের ঋণে আবদ্ধ করেছে। আপনাদের এই সম্মান আমি কোনো দিন ভুলব না। আমি শিক্ষকতা জীবনে কখনও জেনে-শুনে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করিনি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কখনও কঠোর হয়েছি, আবার কখনও সন্তানের মতো আগলে রেখেছি।

তিনি বলেন, আজ আমি সবচেয়ে বেশি গর্ব অনুভব করছি এই কারণে যে আমার অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশে-বিদেশে স্ব-স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। তাদের সাফল্যই আমার শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমাদের প্রিয় শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়কে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য আলহাজ্ব লেচু মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, মো. আনছার আলী ও সহকারী শিক্ষক মোছা. ফিরোজা খাতুনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গৌছ খান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান, সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, রাগীব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বুনন সম্পাদক কবি খালেদ উদ্দীন, উত্তর বিশ্বনাথ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন খান, শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. মনির মিয়া মঈনুল এবং ভোগশাইল কে আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ সামিয়া বেগম।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন হাবিবুল্লাহ মিসবাহ। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষার্থী সামিরা বেগম ও তাবাসসুম জান্নাত মাঈশা। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন ছিদ্দিকুর রহমান এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানভীর আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. আরিবুর রহমান আরিফ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। সবশেষে দোয়া পরিচালনা করেন ভোগশাইল বায়তুর জান্নাত জামে মসজিদের ইমাম লায়েক আহমদ লতিফি।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।

বিশ্বনাথে ‘মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশনট্রাস্ট’র উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ‘মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এই মহতী উদ্যোগে উপকৃত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের কালীজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে ‘বাগিছা বাজার প্রগতি পাঠাগার’-এর আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। শিক্ষা উপকরণের মধ্যে ছিল খাতা, কলম, পেন্সিল, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী।

শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে উপকরণ তুলে দেন চান্দভরাং উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন মামুন। তিনি বলেন, “শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্ট যে দায়িত্ববোধ থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”

সভায় বক্তারা আরও বলেন, শিশুরা যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেজন্য অভিভাবকদের সদা সচেতন থাকতে হবে। শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষা নয়, এর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক আচরণ শেখানো জরুরি। লেখাপড়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখলে তাদের মন-মানসিকতা থাকবে প্রফুল্ল এবং সুস্থ।

মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টি হাজী আব্দুল হাসিমের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক কদর আলী ও প্রবীর দে’র যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আমির আলী, ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার লায়েক আহমদ, ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আংঙ্গুর মিয়া, ভল্লবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্টু কান্ত দে, রায়খেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ, কালীজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছু উদ্দিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজী মঈন উদ্দিন, শিক্ষানুরাগী হাজী গয়াছ উদ্দিন, সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মিয়া, বাগিছা বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কামরুজ্জামান নেছার এবং মানবাধিকার কর্মী আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বাগিছা বাজার দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালীজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সঞ্জিব দে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দোয়া পরিচালনা করেন বাগিছা বাজার দারুল উলুম মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক মৌলানা সিদ্দিকুর রহমান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সঞ্চিত আচার্য্য, কোকিল দাশ, সইবুর মিয়া, ফজল মাহমুদ, রুমেল আলী, সুবির দে, লিটু মিয়া, রতন বৈদ্য, মানিক বৈদ্য, আব্দুন নূর, ফুজেল মিয়া, চয়ন দে, রিয়াজ আহমদ, রনি দাস, গুলকর মিয়া, সিরাজ মিয়া, হাবিবুর মিয়া, নাঈম হাসিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও মরহুম বরকত উল্লাহ এডুকেশন ট্রাস্ট এ ধরনের শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং শিক্ষার প্রসারে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বনাথে দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় প্রবাসী সমাজসেবক মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ দশপাইকা আলিম মাদ্রাসায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোক্তার আলীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মাদ্রাসার হলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি চানপুর গ্রামের কৃতিসন্তান এবং আলহাজ্ব মোক্তার আলী ফাউন্ডেশন ও মোক্তার আলী রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হাফিজ ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মৌলভী হেলাল আহমদের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম‌্যান হাফিজ আরব খান। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোক্তার আলী বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। প্রবাসে থেকেও দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত থাকতে পারা তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও তিনি এই মাদ্রাসাসহ এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাশিম আলী। এছাড়াও বক্তব্য দেন দশপাইকা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা লুতফুর রহমান বাবুল, মাওলানা আব্দুল মোছাব্বির এবং অভিভাবক সদস্য বকুল খান। বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের সহযোগিতায় এই মাদ্রাসাসহ বিশ্বনাথের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারা প্রবাসী সমাজসেবকদের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন, এলাকার মুরুব্বি হাজী রাশিদ আলী, সুন্দর আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আলহাজ্ব মোক্তার আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সকলের মাঝে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রবাসীদের কল্যাণ, মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মহান রবের দরবারে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।